Skip to main content

Full text of "Gunjan August 2021 PC Version"

See other formats


অগাস্ট মাসটি শুধু ভারতবর্ষ নয়, 
বাংলাদেশের ইতিহাসেও.. এক চির 
স্মরণীয় সময়। যদিও অতীতে দুইটি 
দেশের কাছে এই মাসটি সম্পূর্ণ ভিন্ন 
ধরণের বার্তা বহন করে এনেছিল - 
একদিকে ছিল মুক্তির আনন্দ, অন্যদিকে 
হারানোর বিষাদ; তবুও আজও-বিদেশী- 
দের হাতে নির্মম ভাবে দ্বিখপ্তিত বাঙালি 
জাতির কাছে এই মাসটি রয়ে গেছে 
শুধুই স্মৃতি চারণের আর শ্রদ্ধা জ্ঞাপনের 
ক্ষণ হয়ে। বাঙালির শিল্প-সাহিত্য-সংস্কৃতি 
চিরকালের জন্যই অখণ্ড এবং আদ্রুট... 


কলম হাতে 

ডাঃ অমিত চৌধুরী, দীপঙ্কর সরকার, 
দ্রালান জাহান, গোবিন্দ মোদক, কাজী 
এবং পার্ুলিপির অন্যান্য সদস্যরা... 


প্রকাশনা 
পা্জুলিপি (গল্প, কবিতা, গান, গদ্য ও 
নাটকের আসর) 


বি.দ্র লিটল ম্যাগাজিন হিসাবে মুদ্রিত এই 
পত্রিকাটির প্রথম প্রকাশ হয় ইং ১৯৭৭ সালে... 


গুঞন 
গুন 
গুন 
গুঞ্জন 


মাসিক ই-পত্রিকা 
বর্ষ ৩, সংখ্যা ৩ 


অগাস্ট ২০২১ 


ওটি ও স্বাধীনতা সংকট 


95817901101 


যোগাযোগের ই-মেলঃ ০01018005870011010)571911.001 






ধীনতা শব্দটি মাত্র চার অক্ষরের হলেও, এর 
মধ্যে অন্তর্নিহিতভাবে রয়েছে অজন্র আবেগ- 
অনুভূতি, অনেক প্রাপ্তি অপ্রাপ্তি, অফুরন্ত হারানো 
আর ফিরে পাওয়ার গল্প । ভাবতে খুব অবাক লাগে যে - আজ 
স্বাধীনতা শব্দটির সংজ্ঞাই বদলে ফেলছেন। 

এই সুখের চাবিকাঠি হাতে পেতে কত রক্ত ঝরেছে, তার 
হিসাব নেই। সেই সব মহানৃভব মহাপুরুষদের সুদৃঢ় সংকল্প 
ও বলিদানকে কি বর্তমান সমাজ মনে রেখেছে? নাকি শুধুই 
জাতীয় দিবসগুলিতে শ্রদ্ধার্ঘ জ্ঞাপনের আড়ালে আতিশয্য ও 
বাহুল্যতাই প্রদর্শিত হয় আজকাল? আমরা স্বাধীনতা পেলেও 
সত্যিই কি এখন প্রকৃত অর্থে স্বাধীন? 

একটা দেশ তথা একটি জাতি তখনই স্বাধীন হয়, যখন 
সেই দেশ বা জাতির অন্তর্গত মানুষদের মধ্যে গোষ্ঠীগত 
বিরোধ থাকেনা, নিজমত প্রকাশ করতে গেলে পরিণতি স্বরূপ 
মৃত্যু ঘটেনা, থাকেনা রাজনৈতিক দলাদলি কিংবা গোষ্ঠীগত 
ভেদীভেদ। মানুষকে প্রাণভয়ে গৃহহারা হয়ে থাকতে হয়না 

প্রকৃত স্বাধীন দেশে থাকে শুধু সামাজিক, অর্থনৈতিক, 
সাংস্কৃতিক, শৈল্পিক, ত্রীড়া-বিষয়ক, বৈজ্ঞানিক এবং চিকিৎসা 
বিজ্ঞানের উন্নতি সাধনের বিপুল প্রয়াস। সর্বোপরি একতা । 

সময় এসেছে, ব্যক্তিস্বার্থের ক্ষুদ্র গণ্তির বাইরে এসে জাতীয় 
স্বার্থের দিকে তাকানোর । চোখ খুলে দেখুন, ভাবুন... 


বিনীতঃ প্রশান্তকুমার চট্টোপাধ্যায় (পিকে), নির্বাহী সম্পাদক, গুঞ্জন 
২ গুঞ্জন - অগাস্ট ২০২১ 


05557 








আঠাগায় 





রহস্য গল্পের - প্রাপ্তবয়স্ক পাঠকদের জন্য আর একটি 
অবশ্য পণনীয় গ্রন্থ “রহস্যের: ৬ অধ্যায়” প্রকাশিত 
১০05555555-757455555959 
পিসি আর সেই 


রচনা। কলকাতার কলেজ ৭ 'অরণ্যমন'এর স্টল 


থেকে বইটি সংগ্রহ-করতে ভুলবেন না। 


বিলাল বক সুতি অহ, 


কলম হাতে 


আমাদের কথা - পায়ে পায়ে 
প্রশান্তকুমার চট্টোপাধ্যায় (পি কে) 
হস্তাঙ্কন - আমার ভারত... 
রিত্বিকা চ্যাটার্জি 
পরিক্রমা - শিব দুহিতা নর্মদা 
ডাঃ অমিত চৌধুরী 
হস্তাঙ্কন - রাখি বন্ধন 

রিত্বিকা চ্যাটার্জী 

ধারাবাহিক উপন্যাস - শিকড়... 
দীপঙ্কর সরকার বোংলাদেশ) 
কবিতা - স্বাধীনতা তুমি 
কাজী আনারকলি (বাংলাদেশ) 
আলোকচিত্র - জলদাপাড়ায় শুড়ি 
পথে, নীলাম্বরী 

শুভাশীষ মুখাজী 

কবিতা - স্বাধীনতার স্বাদ-গন্ধ 
সামিমা খাতুন 
কবিতা - স্বাধীনতা তুমি 
গোবিন্দ মোদক 

গল্প - বেঁচে থাকা 

নট ভট্টাচার্য 
কবিতা - খোদার কাছে... 
দালান জাহান (বাংলাদেশ) 

গল্প - বেঁচে থাকা 

রিয়া মিত্র 


৪ 


পৃষ্ঠা ০২, 


৩৩ 


পৃষ্ঠা ০৫ 
পৃষ্ঠা ০৬ 
পৃষ্ঠা ০৯ 
পৃষ্ঠা ১০ 
পৃষ্ঠা ১৬ 
পৃষ্ঠা ১৮, 


১৯ 


পৃষ্ঠা ২০ 
পৃষ্ঠা ২২ 
পৃষ্ঠা ২৬ 
পৃষ্ঠা ৩২ 
পৃষ্ঠা ৩৮ 















শাশুত 





্ঃ 


ূ না [৯ 


/ ্ 











সবাই জানাবেন এই উদীয়মান শিল্পীর ছবিটি কেমন লাগল... 





০ 

না 1 7 
্ 

£১)১ 


(নিঃশুক্ক) 





1১ 
৮$171/৮৮712 সম 7 ৮ 
[৮5] হু টি চিএ, রি 


0৮৮1৮৮৮8120 
)1111111 চে ৬. 


৮৮৮৮ / 
সি / 


 টাস্ছি ৫৯ চ স্ম ₹* 11 
১) স্ট &-) ] 4 স। ০ ] ৮ 
ডি 4 ১ 


ক.) 
_. নমামি দেবী নর্মদে 


৪৯ বু টং 
চতুর্থ পর্যায় (৬) 






জ ২০১৬ সালের ২৯ শে অক্টোবর শনিবার 
(কালী পুজো। সকাল সাড়ে সাতটার মধো 


: ৪4 এদের প্রধান ১ | ্ 








_ নমামি দেবী নর্মদে 


সমদেিধিদেন তি এখানে থেকে যাওয়ার 
পরামর্শ দিলেন। যদিও আমাদের ট্রেন পরশুদিন তাই 
আগামীকাল পর্যন্ত আমাদের চলার কথা । কিন্তু আমার 
শারীরিক অবস্থা দেখে সবাই আজই পরিক্রমা শেষ করার 
ন। নর্মদা তীরে এই পর্যায়ের মতো পরিক্রমা 











টি কে সব সময বি মধ্যে রাখো। তা রঃ 
425 তোমাকে প্রতি নিয়ত স্মরণ করব। সুখে থাকলে তোমাকে ৰং 


ভুলে যাব।” 














_ নমামি দেবী নর্মদে 
কথা। বহু কষ্টে বাসে উঠে বসে আছি, কিন্তু বাস ছাড়ল. 
সকাল সাড়ে দশটায়। আজ দেওয়ালী ৩০শে অক্টোবর, 
সওয়ারী না হওয়ার জন্য বাস ছাড়তে দেরী হল। গত 
বছরও আমরা দেওয়ালীর দিন পরমার পথে ছিলাম 
অমরকণ্টক থেকে সহম্তরধারা। 
লামটঢার বাসে করে এলাম সোহাগপুর ৷ 
ঃ একটি বাস - গন্তব্য হোসেঙ্গাবাদ। দুরত্ব 
“| মটার। প্রায় দুটো নাগাদ হোসেঙ্গাবাদ বাস 


এ স্টপেজ থেকে এলাম শেরনী ঘাটে। কোঠারী প্যাটেলজীর 
্ ২৮ 











শিল্পীঃ রিত্বিকা চ্যাটাজী + বয়সঃ ১৪ বছর 


9 শিল্পীর লিখিত অনুমোদনে গৃহীত। নকল করা বারণ। 





উৎস 


শিকড় (গাঁ গেরামের গপ্পো) 


(৯ম পর্ব) 
দীপঙ্কর সরকার (বাংলাদেশ) 


ত্রে আমের মুকুলে ছেয়ে যায় পল্লীগ্রাম। যেন 
আমগাছটি আইবুড়োর অভিশাপ কাটিয়ে 
নববধূর সাজে বিয়ের পিঁড়িতে বসে। ছোট 
ছেলেরা অপেক্ষা করছে কবে ঝড়বৃষ্টি আসবে; আমপাকা 
পোকা ডাকবে। বোধ করি গাছ থেকে আম পাড়াতে যে সুখ 
তার চেয়ে ঝড়বৃষ্টিতে আম কুড়ানোতে দ্বিগুণ সুখ। হঠাৎ 
পশ্চিম কোণে মেঘ জমে। নিমেষের ঝড়ে যেন প্রকৃতি 
কালীর মতো রুদ্দ্রমূর্তি ধারণ করে উগ্রচত্তীবেশে মর্ত্যলোকে 
আবির্ভীতা হন। কয়েক মিনিটের ঝড়ে সব লগুভগু হয়ে 
যায়। মুহূর্তেই বউ সেজে থাকা আমের গাছটি যেন লাল 
শাড়ি ছেড়ে সাদা শাড়ি. পরে। বধূর অকাল স্বামী বিয়োগ 
বিধবার বসনে প্রকৃতি যেন তার স্বীয় সৌন্দর্য হারায়। 

ঝড়ে নিরঞ্জনের মায়ের পেঁপের গাছটা উপড়ে পড়ে; ওর 
ওঠে। হাউমাউ. করে কাঁদায়-যেন শান্তি নেই; সুর করে না 
কাদলে তৃপ্তি মেলে না।তাই ঝড় থামার পর নিরঞ্জনের মা 
সুর করে কাঁদছেন।.দু-একজন এসে সাত্বনা দিচ্ছে আর 





১০ গুঞ্জন _ অগাস্ট ২০২১ 


উৎস 


আফসোস করে বলছে, ইশ্‌ু আর কদিন পরেই ফল দিতো; 
এমন করে গাছটা উপড়ে পড়লো! অথচ নিরঞ্জনের মায়ের 
এ হেন দুঃখে প্রতিবেশীর মুখেও হালকা হাসির ঝলক। 
গাছটা এমন তরতর করে বেড়ে উঠছিল ওদের একটু 
হিংসে হবেই বৈ কি! 

এরকম গল্প করতে করতে আমরা দাদু নাতি মিলে 
নদীর ঘাটের কাছাকাছি পৌঁছে গেলাম। নদীর এমন মুমূর্ষু 
অবস্থা দেখে দাদু চোখের জলকে সংবরণ করতে পারলেন 
না। আমাকে বললেন, “জানো দীপু কত কোলাহল ছিল এই 
গ্রাম বাংলার নদীতে? উচ্ছল তরঙ্গে খেলে যেত সেসব ছোট 
ছোট টেউ। বরষার মৌসুম নদী কানায় কানায় পরিপূর্ণ 
হত। জল নেমে যাওয়ার প্রারস্তে এই নদীতে চলত 

“বাউচলি কি দাদু?” 
তবে-আমার মনে হয়-এই “বাউচলি” শব্দটির উৎপত্তি হতে 
পারে “বেয়ে চলি” ধারণা থেকে ।” 

“শোন. তাহলে, জল নেমে যাওয়ার -আগে বিভিন্ন গ্রাম 
হতে. “বাউচলি'.বের হয়। “বাউচলি”. একটি আঞ্চলিক শব্দ। 
তবে এর. নাগরিক অর্থ দাঁড় করালে বলা যায় -_ 
'প্রমোদতরী ।” ভরা নদী কিন্তু ঢেউয়ের সেই উচ্ছুলতা নেই। 


গুঞ্জন _. অগাস্ট ২০২১ ১১ 


উৎস 


বন্যার পানি কমতে থাকলেও নদী তখনও ভরপেটে জল 
ধারণ করছে এমন সময় বাউচলিতে বের হওয়ার উৎকৃষ্ট 
সময়। নৌকায় মাইক সেট করা হয়; গান বাজনা চলতে 
থাকে। নৌকার ভিতরে মেয়ে কিংবা কমন জেন্ডার নিয়ে 
নাচগান হয়। সেই গানের শব্দ কানে এলে গ্রামের সকলে 
নদীর পাড়ে ছুটে যায়। ছোট ছোট ছেলেমেয়েরা বাউচলির 
এক সময়। দৌড়ানো চলতেই থাকে; দৌড়াতে দৌড়াতে 
ওরা বুঝতে পারে _ বাউচলিকে ধরা সম্ভব নয়। ফলে 
সেখানেই থেমে যেতে হয়। জীবনের পথেও যখন চলতে 
শুরু করি তখনও দৌড়াতে হয়; দৌড়াতেই হয়। থেমে 
থাকার নাম জীবন নয়। তবে কখনো কখনো বিরতির 
প্রয়োজন হয় তখন থেমে যেতে হয় কিছুক্ষণের জন্য।” 

“বাউচলি আনন্দের হলেও এমন বর্ষায় তো -কৃষকের 
দুর্দশার অন্ত থাকে না। তাই না দাদু?” 

“তা বটে। বন্যার জল টান দিতে শুরু করে। প্রাণের 
স্পন্দন জাগে পল্লীগ্রামে। ভাঙা গড়ার: খেলায় সৃষ্টির এক 
স্বপ্িল আনন্দ কৃষকের মুখে হাসি ফোটায়। কতদিন পর 
মাঠে যেতে পারবে সেই আনন্দ কৃষক-মনকে নতুন করে 
আশা জাগায় । জীবন. যেখানে যেমন সেখানে জীবন সেভাবে 
না চললে বড়ই বেমানান বোধ হয়; অনেকটা “বন্যরা বনে 
সুন্দর, শিশুরা মাতৃক্রোড়ে''-এর মতো । ভোরের লাল 


১২ গুঞ্জন _ অগাস্ট ২০২১ 


উৎস 


টকটকে সূর্যটা বেলা বেড়ে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে প্রখর হতে 
অধিক প্রখররূপে আবির্ভূত হয়। তবুও কৃষকের পিঠ তা 
ভেদ করতে পারে না। সর্বংসহার মতো সয়ে যায় ওরা। না 
সয়েই বা উপায় কি! “যে সহে সে রহে' কথাটা মনে হয় 
ওদের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য । 

এদেশ সোনালী আঁশের দেশ। বর্ষার সময়ে গ্রাম বাংলা; 
গেলে তার নমুনা চোখে পড়ে। চারদিকে একটা আঁশটে 
গন্ধের আঁচ পাওয়া যায়। পাট পঁচানোর ফলে একটু আধটু 
গন্ধ হয় বৈ কি! তা হোক; এই গন্ধে মিশে থাকে কৃষকের 
স্বপ্ন। এই পাট বিক্রি করে সংসার চালানো; ছেলেমেয়ের 
পড়াশ্তনোর খরচ চালাতে হবে __ সেই স্বপ্নের কাছে এই 
গন্ধ মামুলি ব্যাপার। 

পাট পচানোর জন্য জলের নিচে জাগ দিতে হয়। পাট 
হতে সোনালী আঁশ ছাড়াতে কৃষকেরা ব্যস্ত সময় পার.করে। 
যে রাস্তাটা জলের নীচে তলিয়ে গিয়েছিল; সেটাও - শুকিয়ে 
যায়। মাছ মারার চটকা তখনও গুছিয়ে রাখা হয়নি । চটকা 
কি জানো তো দাদুভাই?” 

“এইটুকু জানবো না!” 

“চটকা হল মাছ: মারার. এক ধরণের. ব্যবস্থা যেখান 
চারটে বাঁশের ফালি দিয়ে জালকে আটকে একটি বড় 
রাঁশের সাহায্যে জালকে জল ফেলতে হয়-আবার জল থেকে 


গুঞ্জন _. অগাস্ট ২০২১ ১৩ 


উৎস 


তুলতে হয়। এই পদ্ধতিতে মাছ শিকার করা হয়।” 

ঠিক তাই।” 

“শোন, বর্ধার সেইসব দিনের কথা বলি। সপ্তাহখানেক 
রোদে শুকানো হবে। তারপর পাটকাঠিও রোদে শুকিয়ে তার 
গায়ে যে আঁশ লেগে থাকে সেগ্তলো আগুনে পোড়ানো হবে। 
ছোট ছেলেমেয়েরা পাটকাঠির গাড়ি বানিয়ে খেলা করে।” 

“তুমিও পাটকাঠির গাড়ি নিয়ে খেলা করেছিলে?” 

“আলবত ।” 

“কত রকমের সংস্কার-কুসংস্কার আছে এই পাটকাঠি 
নিয়ে। একজন বাচ্চা আর একজনকে পাটকাঠি দিয়ে সহজে 
মারতে চায় না; এমনকি ঝগড়ার সময়ও না। যুগ যুগ ধরে 
কথিত আছে, পাটকাঠি দিয়ে কাউকে মারলে যাকে মারা 
হবে তার বড়সড় কোন রোগ হবার আশঙ্কা আছে। তবে 
ভুলক্রমে পাটকাঠি দিয়ে মারলে এই বড়সড় রোগ: হতে 
পরিত্রাণের অভিনব উপায়ও আছে। পাটকাঠি দিয়ে মারার 
পর দাঁত দিয়ে পাটকাঠিটা কামড়ে দিলে সব বিপদ কেটে 
যায়। আহা! কি কার্যকরী সমাধান!” 

আর.দু'একদিনের মধ্যে মাঠ হতে সমস্ত জল নেমে 
যাবে। সম্ভবত. সবগুলো ধানের চারা নষ্ট হয়েছে; পাটের 
আশ ছড়ানো শেষ হতে না হতেই আবার নতুন করে 
ধান লাগাতে হবে। প্রতিটা বন্যার পর নতুন আশায় বুক 


১৪ গুঞ্জন - অগাস্ট ২০২৯ 


৪ প্র , তারি । 
. রা  পসি ৃ রি ৮৮ ৮ রা এরি এ সে এলেরি। . 
৮৮, দুর রান্না নি £ 
রঃ . , . রা 7 এ একি ॥ , ্ 
. ্ রা রঃ 
] ৮ া টুল ) ্ 
ন। "4৫৮ রগ ২ 
৯৮ ঢা ড রি . / 
ূ | . 7. . 
৮ - % 
রা ঢা ৬ টি রর রর € টি 
্ রে 


_ বাঁধেন গ্রাম বাংল রত রন এখানে নিষ্ঠুর বটে 
তবে একমুঠো ধানের ছে সেই নিষ্ঠুরতা তুচ্ছ। এখানে 
ঘামের দাম সস্তা বটে, ত তবে সে ঘাম দেশের মানুষের মুখে 
অন্ন যোগায়। 

তা যেমন (বে জীবন পরিচিতি ূ 
না হলে জীবন মাথা ঠুকে মরে। সেই আর্তনাদ আমাদের 
কানে আসে না; সেই বোবাকান্না আমাদের নাগরিক 
হারিয়ে যায়। কারণ গ্রামের সেই চেনা পথ মানুষকে টানে 
নিজের দিকে । গ্রাম হল দেশের শিকড়। মানুষ! আহা রে 
মানুষ _ ফিরে যেতে চায় তার শিকড়ের কাছে। শিকড়হীন 
নাগরিক জীবনের বিতৃষ্তা মানুষকে শান্তি তো দিয়েছে ঠিকই 
তবে স্বস্তি দিতে পারেনি। 0 এন্রমশ 

















কাজী আনারকলি (বাংলাদেশ) 


ধীনতা তুমি, নীল আকাশের পূর্ণিমা চাঁদ, 

ঝড় ঝঞ্চার বজ্র কঠিন অশরীরী হাত। 

গঙ্গার বুকে ঢেউ উচ্ছ্বাস স্বর্ণ কমল, 
ফেরারী পাখির ঈন্সিত জয়, বায়ু নির্মল। 


স্বাধীনতা তুমি, জাতির পিতার হৃদয়ের মাঠ, 
বনের সেঁজুতি ফুল, সুবাসিত চন্দন কাঠ। 
গগনের নীচে উদাসী স্বপ্ন; উড়ন্ত চিল! 


স্বাধীনতা তুমি, শ্রাবণের ঢল, বসন্ত রাগ, 
ঝর্নার তান, নদী আনচান, সমুদ্র শাঁখ। 
নবান্ন সুখ, কাঠ ফাটা রোদ, চৈতালী খেলা, 
বারো মাসে তেরো পার্বণ আর বৈশাখী মেলা। 








1৬101011510: +০71 79860867665 04 





ডি পথে... 


শু 


ছবির নামঃ জলদাপাড়ায় 


: 
ৃ 


ত। নকল করা বারণ। 


9 শিল্পীর লিখিত অনুমোদনে গৃহ 





১1551055855191540010855 81 


৮স্খাট্্র, 











স্বাধীনতার স্বাদ-গন্ধ 
সামিমা খাতুন 


ধীনতার গন্ধে ভরুক সকলেরই মন, 
শিকল ভেঙে মুক্ত হোক সকল বন্ধন। 
ভাগ্যের হাতে জীবন-রেখা, 

ভুলে নিয়মের খেলা, 

নয়তো সহজ স্বপ্ন দেখা, 

কঠিন এগিয়ে চলা। 





স্বাধীনতার স্বাদ পায় কি সেই অভাজন, 
বেকারত্বের জ্বালা যাকে করছে দংশন! 
দেওয়াল কথা বলে? 
যখন সবই বিফলে। 


স্বাধীনতার অর্থ বোঝে কি সেই মেয়েটি, 
দশভুজা গিনি হয়ে ফেলে খেলনা-বাটি! 
কারো কাছে পুতুল হাতের, 

কারো কাছে দাসী, 

আট হয় আশি। 


২০ 8৪০10109010 7617010 0/ ০০010101010 0) 7590915 গুঞজন নস অগাস্ট ২০২৯ 








১ ০৮-1:18৮1:54)9 
1৮1 2-৩, 2০08০15140810808 


১০০10058511 ০০511515 16101 854 
২) বানান ও যতি চিহ্ের যথাযথ প্রয়োগ প্রত্যাশিত। 
৩) পাতুলিপি ভিন্ন অন্যান্য জায়গায় প্রকাশিত লেখা “গুঞ্জন, এর 


01555495100 





বাস্তব 


স্বাধীনতা তুমি 


গোবিন্দ মোদক 






ধীনতা তুমি এককালে ছিলে পরম আকাঙ্ার, 
স্বাধীনতা তুমি দামাল ছেলের রক্ত দুর্নিবার! 
স্বাধীনতা তুমি বঞ্চনা, ক্ষোভ, পরাধীনতার জ্বালা, 
স্বাধীনতা তুমি শহীদ-রক্তে গেথেছো বরনমালা! 
স্বাধীনতা মানে অগ্নি-শপথ, জীবন-মরণ পণ, 

স্বাধীনতা মানে দেশের জন্য আত্ম-নিবেদন! 

স্বাধীনতা মানে, প্রতিবাদী মন, মুষ্টিবদ্ধ হাত, 

স্বাধীনতা মানে অমানিশা শেষে নতুন সু-প্রভাত! 

স্বাধীনতা তাই নয়কো কান্না, নয়কো দীর্ঘশ্বাস, 

স্বাধীনতা তাই জীবনের বলি, হয়ে যাওয়া ইতিহাস! 
স্বাধীনতা তাই দৃপ্ত শ্লোগান, আত্মত্যাগ, তিতিক্ষা, 
স্বাধীনতা তাই উন্নত শির, জাতীয়তাবাদে দীক্ষা! 
স্বাধীনতা মানে নেতাজি সুভাষ, বিনয়-বাদল-দীনেশ, 
স্বাধীনতা মানে ক্ষুদিরাম কত, গণনার নেই শেষ! 
স্বাধীনতা মানে সূর্যসেন, প্রীতিলতা, মাতঙ্গিনী, 

স্বাধীনতা মানে নতুন ভারত এদের কাছেই খণী! 
স্বাধীনতা সেই শাসকশ্রেণীর বিরুদ্ধে প্রতিবাদ, 
স্বাধীনতা সেই দেশমৃত্তিকার ক্ষয়ে যাওয়া সোনা-চাঁদ! 


৯৬৯২ 73801500100 217000 09 070100 1779591 01) [011501991) গুর্জন লি অগাস্ট ২০২ 


বাস্তব 


স্বাধীনতা সেই স্বপ্ন-স্বরাজ, নিজেরই অধিকার, 
স্বাধীনতা সেই চেতনা-সূর্য, হারিয়েছে বার বার! 
তবু স্বাধীনতা নিজের মনেই প্রশ্ন চিহ্ন আকে, 
চোখের কোণেতে ব্যথার কাজল থমকিয়ে যেন থাকে! 
পতপত্‌ ওড়ে তেরঙা নিশান, রং হয়ে যায় ফিকে, 
অবক্ষয়ের কালো মেঘ যেন ছেয়ে থাকে চারিদিকে! দ্র 





| £1111117 


| 
| 


1100://011111)5-1111)117711-১:20 11100://017111/-1111011117)1-:00 


17/0555111/56170/ 117 /05181/2072৬ / 


1110100://01)0111701111)1111))1-১:00 11170://010111)6,1111)1111701-১,00 
0 


10/05551771/10 (21774 10/0575511/1501/ 


1000://010111)2-111101010171100 101000://01711185-1111)1)01011:00 


10/0555101/ 5114 117/055511/0017/ 


পাঠকদের সুবিধার্থে নিঃশুক্ক 
বাংলা অনলাইন সাহিত্য 
পত্রিকা “গুঞ্জন'এর ২০১৯ এ 
116009://0711172.1111)17101)1-3,50 ১411 ০১৯1১104] 
1/05511/7)55/ ই-লিঙ্ক ৮৫65178১118 


১০৯ ব্যস্ত স্টক স্স্সাস্্্প 
2 ছার. 





গুঞ্জন টি অগাস্ট ২০২০ 78015008100. চ17000 05 00010 10958 010 [01751019517 ৩ 


প্রকাশিত সংখ্যা - ২০২০ 





176010://0101109,011101700115,00107/055 





18/10১/ 





17010://010117.01110170015.0017/055 





10/111)// 





1700://0171109.01101701715.0000/055 
101/117)0/ 








1700://0171109.01101707015.00107/055 
10/0905/ 








170005://010117.01101707715.0017/09 
£10/189/ 











170105://0101179.011)1700715.0017/05 
519/150// 











1760105://01011079.0111)1700115,0017/05 
314/58 ্ রি 





ফান, গড ও ৯" 





170005:// টা মি 00917/095 
510/555%1/ 











170005:// 0111716-117701015,0071/ 05 
518/11)51/ 











170005://017117.010)1107115.00177/05 





519/501717/ 








170005://0101179.01101701715,0017/05 
510/0027/ 











110005://0171112.11110111115.00177 


055101/111/0/ 


পাঠকদের সুবিধার্থে নিঃশুক্ক 
-105 
পত্রিকা গুঞ্জন'এর ২০২০ তে 
401 2500501 
ই-লিঙ্ক এখানে দেওয়া হল। 


ওজন গড়ান ৪ 





1700105://৬1৬/%.811182,010.10/510/0101- 
150175/8194223695/1675010-0110-75৬/7170091671077284001701 








1017-19৬ 





ঠিকানাঃ আদি নাথ ব্রাদার্স, শ্যামাচরণ দে স্ট্রিট 
কলকাতা - ৭০০০৭৩ গু দূরভাষঃ +৯১ ৩৩ ২২৪১ ৯১৮৩ 





জীবন 
বেচে থাকা 
পল্টু ভট্টাচার্য 


তরে পা দিয়েও পাঁচুদা আজও একা, তাই বলে 
মনে কোনো ক্ষোভ নেই। বরাবরই মনকে সান্তনা 
দিয়েছেন এই বলে যে - রোজগার কম, বেশি 
দায়-দায়িত্ব নিতে গেলে চটকে চুয়াল্লিশ হয়ে যাবেন। তাই 
এতগুলো বছর বেশ আরামে কাটিয়ে দিলেন। বাড়ি, 
বংশলতা, জমিজমা সবই একে একে বন্ধক হল, শেষমেষ 
এক প্রোমোটারের ক্ষমা-ঘেননায় একটা চারশো বর্গফুটের 
গ্যারেজে জীবন কাটাচ্ছেন তিনি । 

জানি না অদূর ভবিষ্যতে গাড়িরা থাকলে পীাঁচুদার গতি 
দেখভাল করে। পাঁচুদাও এইসব সাহচর্য খুব আনন্দের সাথে 
উপভোগ করেন। তবে কোথা থেকে এক ঝোড়ো মেঘের 
মতো হাজির হলো কোভিদ। 

সব সুখ, আনন্দ, পরিতোষ, অশন, বসন শিকেয় উঠল, 
কারণ দেখা যাচ্ছে দূরত্ব বিধি মানতে গিয়ে কেউ আর 
কারোর মুখোমুখি হয় না। যে কোনো জিনিসকে চোদ্দবার 
ধুয়ে মুছে পাঁটুদার সামনে হাজির করে সবাই । বুক ফেটে 





২৬ গুঞ্জন - অগাস্ট ২০২১ 


জীবন 


কান্না আসে খিদে পেলে, খাবার আসতে আসতে খিদে মরে 
যায়। অনেক সময় মরে যাবার উপক্রমও হয়, কারণ বিধির 
বিধানে আগের মত বললেই তো আর খাবার আসবে না। 
তাই চতুর্দিকের ঝামেলা সামলে খাবার মুখে দিতে হয়। 

যাক, “হোয়েন ইউ আর ইন রোম, বিহেভ লাইক এ 
রোমান।, মাঝদুপুরে বা রাতে, ত্যান্থুলেলের সাইরেনে 
পাঁচুদার ঘুম ভেঙে যায়। বেলায় খবর আসে পরিচিত কারুর 
মৃত্যুর। মন ভেঙ্গে যায়, তবু মনের জোর ঠিক রাখতে, 
পাঁচুদা বহু পুরানো দিন বা ছোটবেলার কথা খুব স্মরণ 
করে। বাস্তব ছেড়ে তারা স্বপ্নতে বেশি ভিড় করে, ফলে 
মনটা ভাল-মন্দের মাঝামাঝি নাচানাচি করে । সেদিন বিকেল 
বেলায় মন্টুর মা কয়েকটা আলুর চপ দিয়ে গেলেন। খুব 
মৌতাতে পাঁচুদা সেগুলো খেলেন। পরে যখন চা দিতে 
এলেন বৌদি, তখন পাঁচুদা বললেন - জবাব নেই বৌদি, 
আপনি তো দ্রৌপদী। মন্টুর মা বললেন - দাদা ওই 
অভিশাপটা আর দেবেন না, তাহলে তো আরো চারটে স্বামী 
জোগাড় করতে হবে। হাসতে হাসতে মুখে আঁচল চাপা 
দিয়ে মন্টুর মা বাড়ি ফিরে গেলেন। 

আসলে পাঁচুদা একটা পঞ্চরত্বু, তাই সবাই ওনাকে নিয়ে 
মজায় থাকে, আর তাই পীঁচুদার কর্তব্যবোধও একেবারে 
ভীষণ ভীষণ টনটনে। কারোর কোন বিপদ-আপদ সামাজিক 
প্রয়োজন ঘটলে, একমাত্র উপায় “কল' পাঁচুদা। এই তো 


গুঞ্জন - অগাস্ট ২০২১ ২৭ 


জীবন 


সেদিন নীহার জার্মানি থেকে ফিরল রাত আড়াইটেতে। 
পাঁচুদা এয়ারপোর্টে একাই হাজির। নীহারকে নিয়ে ভোর 
চারটের মধ্যেই বাড়িতে হাজির। 

ব্যস, তারপর কাপের পর কাপ চা আর গাঁজানি। নীহার 
প্রণাম করে, পাঁচুদাকে একটা ল্যাপটপ দিল । পাঁচুদার 
আনন্দ আর ধরে না। চিৎকার করে তিনি বলে উঠলেন -_ 
ওরে এটা যে আমার অনেক দিনের শখ। কি করে বুঝলি 
নীরু? নীহার বলল - বা'রে বাড়িতে অঙ্ক কষাতে কষাতে 
বসে তুমি কতদিন ল্যাপটপের গল্প বলতে না... 

দু'চোখ জলে ভরে এল, পীঁচুদার বিশ্বাস হচ্ছে না 
কিছুতেই যে তার কাছে পাটিগণিত, বীজগণিত আর 
জ্যামিতি শেখা নীহার আজ জার্মানিতে একজন বড় 
ইঞ্জিনিয়ার । যাই হোক, এই গাঁজানি যখন তুমুল পর্বে চলছে, 
তখন সবাই জানল যে নীহার কোম্পানির প্রেসিডেন্ট হতে 
চলেছে। আসরে একটা খুশীর জোয়ার বয়ে গেল। এমন 
সময় আসর ভঙ্গ হলো নীহারের বাবার হাঁকে। উনি বললেন 
নীর এখন থেকে দিন পনের তুই তোর ওই চিলেকোঠার 
নিজের ঘরটাতেই থাকবি, কোন ওজর আপত্তি শুনলেন না 
উনি। এখন থেকে চলবে দূরত্ব বিধি কানুন। 

নীহার ভিজে বেড়াল, সে মনে মনে খুশি, এই ভেবে যে 
পাশের বাড়ির গুনগুন-এর সাথে জমিয়ে আড্ডা মারা যাবে। 
ওরা শিগগিরই শুভ কর্ম সেরে জার্মানি ফিরে যাবে । ছাব্বিশ 


২৮ গুঞ্জন - অগাস্ট ২০২১ 


জীবন 


বছরের প্রেম, ছেলেখেলা নয়। 

সে যা হোক, পাঁচুদা নীরু আর গুনগুনের ব্যাপারটা 
সমর্থন করেন। দু'জনেই ওনার কাছে অঙ্ক শিখত, তাই 
অঙ্কের নিয়ম মেনেই ওদের প্রেম, ওদের ভালোবাসা । এক 
বর্ষার বিকেলে দু'জন গান ধরেছে “আমার জ্বলেনি আগুন...” 
দূর থেকে পাঁচুদা ওদের উদ্দেশ্যে বললেন - ভগবান তোদের 
সুখী করুন। মিটে গেছে কোভিদ পর্ব, দূরত্ব বিধি এখন 
শিথিল, হঠাৎ নীরুর ডাক পড়ল জার্মানিতে। 

কি একটা জরুরী কাজে কোম্পানিতে রিপোর্ট করতে 
হবে বাহাত্তর ঘণ্টার মধ্যে। সবার মন খারাপ করে দিয়ে 
নীরু চলে গেল। গুনগ্তনকে সে বলে গেল _- আমি 
শিগগিরই ফিরে আসব, তারপর আমরা খুব আনন্দে বাঁচব। 

বিধির অমোঘ বিধান, ফ্রাঙ্কফুর্টের কাছেই প্লেন ক্র্যাশে 
নীরু চলে গেল নাম না জানা দেশে। সেই থেকে গুনগুন 
নীরুর বাবা-মার কাছেই থাকে । নিজের বাড়িতে কম যায়। 
সে নীরুর মাকে বলে - তার পক্ষে অন্য কোথাও বিয়ে করা 
সম্ভব নয়। কলেজে সে ইতিহাসের অধ্যাপিকা । নীরুর মা 
বলেন - তুই বাঁচবি কি করে? সলাজে গুনগুন বলে _ 
তোমার ছেলে আমার শরীরে তার একটা চিহ্ন রেখে দিয়ে 
গেছে। সেটাকেই বড় করে আমি বাঁচতে চাই। 
77 77 77 77 


না, আজ এতিহাসিক নিরুপমা ওরফে গুনগুন দেবীর 


গুঞ্জন _ অগাস্ট ২০২১ ২৯ 


জীবন 


চোখে জল থামতে চায় না। সত্তরের কাছাকাছি বয়সে, আজ 
তিনি কলকাতার বিশ্ববিদ্যালয় থেকে দশ লক্ষ টাকা মুল্যের 
একাডেমি পুরস্কার পাচ্ছেন। তাঁর গবেষণার বিষয় হল 
জার্মান গণতন্ত্র । 

করলেন। অধ্যাপিকা ছেলেকে বললেন - এর নাম 
ভালোবেসে বেচে থাকা। তোর বাবা বলেছিল, আমরা 
আনন্দে বেঁচে থাকব। আচ্ছা খোকা, বুকে হাত দিয়ে বলতো 
- এটা কি বেঁচে থাকা নয়? তোর বাবাকে তো আমি 
কোনদিন ভুলতে পারব না... আস্তে আস্তে গুনগুনের 
আঁচলটা চোখ মুছতে ব্যস্ত হয়ে পড়ল... ্ 








আপনারা ফটো পাঠানোর সময় খেয়াল রাখুন, আমাদের 
যথাযথ ফটোর সাইজঃ ৩৫ 7017 (চওড়া) % ৪8৫ 10017 
(উচ্চতা); রিসল্যুশনঃ 300 701 হওয়া চাই । 


৩০ গুঞ্জন - অগাস্ট ২০২১ 








যা কখনও হয়না বাসী... 


05055825055 8597-058 
এ] 
110005://91%11.1010107911.0017/0091/202818/10105- 


০১১) 


প্রশ্ন 
খোদার কাছে খোলা চিঠি 


দালান জাহান (বাংলাদেশ) 


লে দাও হে, মহান খোদা 

কিভাবে আমরা শোক উৎযাপন করব 
প্রতিটি বুলেটের সাথে 

মিশে যায় মাটির প্রাসাদে 

অগণিত এই মৃত্যুর লড়ি ছেড়ে 

আমরা কেমন অথবা 

কোন জীবনের দিকে এগিয়ে যাব? 


হাজার প্রশ্ন নিয়ে কোথায় চলে যায় 
নিঃশ্বাসে প্রবাহিত রক্তধলা 
কোথায় জড়ো হয় রক্তজলা? 
কতকাল কতো অবুঝ মৃত্যুর পর 

বলে দাও! বলে দাও হে, মহান খোদা 
কিভাবে আমরা এই শোক উত্যাপন করব? 





আমরা শুধুই কী মৃত্যুর জন্য জন্মি 
মৃত্যুর জন্য বড়ো হই? 

না, আমাদের রক্তে বহমান সোনার খনি 
বিপুলা পৃথিবীর আনন্দ হৈচৈ। ্ 


৩২ গুঞ্জন - অগাস্ট ২০২১ 


চলতি 


প্রশান্তকুমার চট্টোপাধ্যায় (পি কে) 





র দিকে চেয়ে, ঘরের দালানে অনেকক্ষণ 
২২ | দাঁড়িয়ে ছিল মোহানা, দিন সাতেক জ্বরে ভোগার 

পর আজই প্রথম বাইরে বেরিয়েছে দীননাথ, 
ওরফে দিনো। সেই দুপুরে বেড়িয়েছিল, বলেছিল তাড়াতাড়ি 
ফিরবে, কিন্তু বিকাল গড়িয়ে এখন সন্ধ্যাও ঢলতে চলল, 
মানুষটার দেখা নেই। কোথায় যে গেল! 


77 77 77 77 


ছিল। বর্ষা কালে এক হাঁটু জল জমত, এখন আর তা হয় 
না, দু'পাশে মাটি কেটে নর্দমা বানিয়ে দিয়েছে পধ্গয়েতের 
লোকেরা । রাস্তার ওপর সিমেন্টের কনক্রিট ঢেলে দেওয়ায়, 
আর তত পিছলও এখন নেই। গ্রামে স্বাস্থ্য কেন্দ্রও খোলা 
হয়েছে, সব মিলিয়ে এক উন্নয়নের ছোঁয়ায় গ্রামের সেই 
পুরান ছবিটা খুব তাড়াতাড়িই পাল্টে যাচ্ছে। অবশ্য স্বাস্থ্য 
কেন্দ্রে রোজ একজন লিপিক থাকলেও ডাক্তার বা নার্সদের 
দেখা মেলে মাসে দু'একবারই। আর কখনও কখনও ভাগ্য 
ভাল থাকলে দু'একটা জ্বর-সর্দির বড়ি মিলে যায়। 
নর্দমাগ্ুলো বড় গভীর করে বানিয়েছে পঞ্ায়েত। বর্ষা 
কালে কোন মানুষ পড়ে গেলে জলের তোড়ে যে কোথায় 


গুর্ভজান রি অগাস্ট ২০২৯ 39015500170 [07956 00 01161-759-৬ 900০1-1079595 70107 চ০৮০/৩৩ 


চলতি 


ভেসে যায়, তার খবর আর কেউ পায়না। এইতো গত 
বছর, বাউন পাড়ার গোপেন মুখুজ্জের দেহটা ওই নর্দরমা 
দিয়ে ভেসে গিয়েই আটকাল মোড়ের মাথার কাছে। 

রাতে পার্টি অফিস থেকে মিটিং সেরে ফিরছিল গোপেন, 
হালকা বৃষ্টি পড়লেও, সবাই জানে সেদিন নর্দমার জল 
তেমন গভীর ছিলনা, কিন্তু কি করে যে গ্রামের সাঁতার জানা 
ছেলে গোপেন নর্দমায় পড়ল - আর অতদুর ভেসে গেল, 
সেটাতো রহস্যই হয়ে রয়ে গেল চিরদিনের জন্য। 


77 77 77 77 


গোপেনের মৃত্যুর আগেও এ সর্বনেশে নর্দমায় আরও 
কয়েকটা লাস ভেসে এসেছিল। কয়েকটাতো বেশ শুকনো 
খটখটে দিনে । কিন্তু কোন ক্ষেত্রেই মৃত্যুর কোন বিশ্বাসযোগ্য 
কারণ পাওয়া যায়নি। লোকে বলে এ নর্দমাটাই নাকি 
অভিশপ্ত মানৃুষকেও টেনে নেয়। 

মোহানার আজকাল বড় ভয় হয়। সে তো বাড়ির বাইরে 
বেরোয়না, কিন্তু দিনোকেতো যেতেই হয়। মাঝে মাঝেই সে 
পার্টি অফিস থেকে ফিরতে রাত করে। সামনেই নির্বাচন, 
ছোটখাট গোলমালতো লেগেই থাকে। প্রতিবেশীরা আজকাল 
ওদের সাথে কথা বলে না। সবাই দল পরিবর্তন করে নিয়েছে, 
কিন্তু দিনো তার আদর্শে অটল, অনেক প্রলোভন তাকে 
দেখান হলেও, সে কিছুতেই দল বদল করতে রাজী হয়নি। 


৪ 77 77 77 


রাতের রান্নাবানী সেরে মোহানা আবার দালানে এসে 


৩৪ 73901500100 17956 ৮০ 01197-75-৬ 2০০৮-11098595 0010 71909 গুঞজন রঃ অগাস্ট ২০২৯ 


চলতি 


দাঁড়ায়। দিনো এখনও ফেরেনি । কয়েকটা ছেলে নর্দমায় টর্চ 
লাইট ফেলে কি যেন দেখতে দেখতে চলে গেল। একজন 
দু'একবার মোহানার মুখের ওপর তার হাতের টর্চটার থেকে 
আলো ফেলছিল। তারপর বাকীরা কিছু বলায়, সে টর্চটা 
অফ করে এগিয়ে গেল। 

হঠাৎ খিড়কির দরজায় কারুর ঠকঠকানি শুনে মোহানা 
চমকে উঠল। ত্রস্ত ভাবে দরজা খুলে সে দেখল - রক্তে 
আগেই, সে তার মুখটা চেপে ধরে ফিসফিস করে বলল - 
চল্‌ এ গ্রাম ছেড়ে আমাদের পালাতে হবে, আজ, এখনই, 
এই রাতের অন্ধকারের মধ্যেই... ্ 


'গুঞ্জন' কেমন লাগল তা অবশ্যই আমাদের জানাবেন। আর 
(আপনার বিচার অনুযায়ী) এবং লেখাটি আমাদের 
ই-মেল” (০0008000870011010)511911.011) এ 10555 

(02767855005 25110 





একটি পাসপোর্ট সাইজের ছবিও অবশ্যই থাকা চাই - সাইজঃ 
৩৫101 (চওড়া) % ৪৫ 101 (উচ্চতা); রিসল্যুশনঃ 300 

টা২505-4-901712-5545] 
57508515850515180:5-4158551 

৮৮0555555555575508 





বিদ্র.: অক্টোবর ২০২১ সংখ্যার লেখা পাঠানোর শেষ 
তারিখঃ ১৫ই সেপ্টেম্বর, ২০২১ 


বোধি 
স্বাধীন 


রিয়া মিত্র 


রর মোড়ে দাঁড়িয়ে একদৃষ্টে বড় হোর্ডিংটার 
দিকে তাকিয়ে ছিল ছোট ঝুমকি। কি সুন্দর 
দেখতে একটা মেয়ে কত গয়না পরে দাঁড়িয়ে 
আছে, কত টাকা ওদের! মায়ের কাছে “বর্ণ পরিচয়” পড়েছে 
ঝুমকি। বানান করে করে সে পড়ল, “স্বাধীনতা, দিবস 
উপলক্ষ্যে সোনার গয়নায় ৩০% ছাড়। 

পাঁচ বাড়ি বাসন মাজার কাজ করে ঝুমকির মা মলিনা। 
মায়ের হাত ধরে ঝুমকি আজ পাড়ার মোড়ে স্বাধীনতা দিবস 
উদযাপন করা দেখতে এসেছে। এখানে নাকি পতাকা 
এখনই জিভ দিয়ে জল গড়াচ্ছে ঝুমকির। 

দু'হাতে দুটো লাড্ডু নিয়ে খুব আয়েশ করে খেতে খেতে 
মার সাথে বাড়ি ফেরার পথ ধরে ঝুমকি। মায়ের লাড্ডুটাও 
মা তাকেই দিয়ে দিয়েছে। মা'র দিকে তাকিয়ে ঝুমকি 
জিজ্ঞাসা করল, “আচ্ছা মা, স্বাধীনতা দিবস মানে কী?” 

মলিনা মেয়েকে কি বোঝাবে ভেবে না পেয়ে বলল, “এ 
যখন নিজের খেয়াল খুশি মতো কাজ করা যায়, কারও কথা 
শুনে চলতে হয় না, তখনই আমরা স্বাধীন হই।” 

ঝুমকি লাডড্রর কিছুটা অংশ মুখে পুরে বলল, “মা, 
৩৬ গুঞ্জন _ অগাস্ট ২০২১ 





বোধি 


তাহলে রোজ কেন এরকম স্বাধীনতা দিবস হয় না?” 

মলিনা হেসে বলল, “কেন রে, ঝুমু?” 

ঝুমকি বলল, “তাহলে আমিও রোজ লাড্ডু খেতে 
পারতাম আর হোর্ডি-এর এ সুন্দর মেয়েটাও সবাইকে 
দিন খুব আনন্দের হত।” 

মলিনা হা হা করে হেসে বলল, “না রে, বোকা মেয়ে, 
সোনা কম দামে কিনতে পারলেই বুঝি স্বাধীন হওয়া যায়?” 
ঝুমকি অবাক হয়ে চোখ বড় বড় করে বলল, “তবে!” 


মলিনা রাস্তার ধারে নুইয়ে পড়া একটি ফুলের গাছ থেকে 
কাপড়ের কোঁচায় ভর্তি করে কিছুটা ফুল নিল, তারপর 
মেয়েকে বলল, “চল্‌, ঝুমকি, আজকে তোকে স্বাধীনতার 
মানে বোঝাব।” 


গাঁথল মলিনা। ঝুমকি অবাক চোখে তাকিয়ে রয়েছে, মা কি 
করে, তা বোঝার জন্য। মেয়ের গলায় ফুলের মালা পরিয়ে 
দিতে দিতে মলিনা বলল, “অন্যের কথা মতো দাম দিয়ে 
সোনার হার পরা তো স্বাধীনতা নয় রে মা, এই যে প্রকৃতির 
দান এই ফুলগুলো যে আমি কারও অনুমতি না নিয়েই 
তুলতে পারলাম আর তা দিয়ে বিনামূল্যে গয়নাও পরতে 
পারলাম, এ'টাই তো “ম্বাধীনতা'। প্রকৃতির কাছে সকলে 
স্বাধীন। প্রাকৃতিক দান গ্রহণ করতে অন্য কারও অনুমতি 
গুঞ্জন - অগাস্ট ২০২১ ৩৭ 


বোধি 


লাগে না। তাই, সোনার হারের চেয়ে এই ফুলের হারেই 
আমাদের স্বাধীনতা লুকিয়ে রয়েছে, ঝুমু।” ছোট ঝুমকির 
আনন্দ তখন দেখে কে! হোর্ডিং-এর গয়না পরে থাকা 
মেয়েটার থেকেও নিজেকে এখন যে বেশি সুন্দরী লাগছে 
তার। ফুলের গয়না পরে আজ যে সে 'স্বাধীন:... 





৯৫এরা আমার সহকর্মী আমি তাদের সাথে 
77 মাস্ক ছাড়াই কথা বলতে পারি। 


৯৫ এরা আমার ঘনিষ্ঠ বন্ধু তাদের সাথে 


2 ৮.2 ০ মাস্ক ব্যবহার ও শারীরিক দুরত্ব 
) | বজায় রাখার প্রয়োজন নেই। 


৯৫ উনারা আমার আত্মীয়, তাদের সাথে 
1.৪ মাস্ক ছাড়াই মেলামেশা করা যায়। 
501581050075-718158550চ৩ 
এবং সঠিক ভাবে মাস্ক পরুন, সি বু ও 








দুই প্রজন্মের দর্শনের ওপর ভিত্তি করে, বর্তমানের কিছু 
চিত্র শুধু ভাষার মাধ্যমে একত্রে উপস্থাপন করেছেন দুই 
প্রজন্মের দুই কবি। আধুনিক কবিতা প্রেমীদের জন্য 
একটি অসামান্য কবিতা সংগ্রহ। 
প্রাপ্তিস্থলঃ 1) ৬/৬/৬/.0101911.০017 
(5981:011 % ০005: 0001-100)0171161-1-90599811) 


2) 1711911: 001718000917001111010)5111911.00177 





থা" 581705715৮5 


সু. রি: সে স্্ঠ সপ সী ্্্পস্ সপ ্ সস সপ সপ 


9551118১(5110181218:0511111 


৪256 8678 1867517267১, 
[5751977158১ 081175 


০৬৮555556 765711552551511510025578 
27661177661) 74ট৫1 2651111151৮ 


ছা 6ট,$১0117551111878515157562115 


$6111৮-851751৮৮1 8৮8 85)5৮5 6)$711688| 








80510186111 
1578 50111110115৮-111 
8০111111581), 128211110)8 
01115111757 





১শ8111111111111,110175286741111 85111 
৬1: 791 93222286831 ৬৬1)9(54৯1)]1): +91 777১99১3977