Skip to main content

Full text of "History Of Bengali Script By Abu Sayed Tulu"

See other formats


14৮7). ৩৮০৯ -8, 
২০ উর 1 ৯:+১১১৮ 
৮5৭ ৮৮১1৯ 


| এট 8. ১ 88:15, 


৮4 
2522-48-৮2 
ড-৮৮৯-:১১4০1% 





$হ 814। 177 ৪০817 &) 
8০০০ +1-1-2%:44 
সানির 8. কা» 8 

এনা রখ রি 112 31121 
7 প্র "ইটা ৪২৮12 
37৭4 ৬ ক 831 ০ ০ - 
৯৮ 815 জু 


তি, জা. ₹৮্ত। 








লিপির উদ্ভব, ক্রমবিবর্তন 
ও বাংলা লিপির পরিণত পর্যায় 


লিপির উদ্ভব, ক্রমবিবর্তন 
ও বাংলা লিপির পরিণত পর্যায় 


আবু সাঈদ তুলু 


অন্তরীপ পাবলিকেশন 
ঢাকা, বাংলাদেশ 


লিপির উ্ভব, ক্রমবিবর্তন 
ও বাংলা লিপির পরিণত পর্যায় 
আবু সাঈদ তুলু 


প্রকাশক 

রওশন জাহান 

অন্তরীপ পাবলিকেশন 

২৭৫ বিশ্ববিদ্যালয় মার্কেট 
কাঁটাবন, ঢাকা ১০০০ 
ফোন : ৯৬৬৬৭৪৭ (অফিস) 
মোবাইল : ০১১ ১৫৯৩৯৫ 


একুশে বইমেলা ২০০৭ 


অন্তরীপ পাবলিকেশন 
বর্ণ বিন্যাস শুদ্ধকরণ 
অন্তরীপ কম্পিউটার 


১০০ টাকা 


1581 :984-70037-007-7 


উৎসর্গ 





আমার শ্রদ্ধেয় বাবা আলহাজ আবদুর রহমান 
এবং 
মা সারা বেগমকে 


ভূমিকা 


বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের শিক্ষকতা করতে গিয়ে নানা সময় নানা প্রশ্নের সম্মুণীন 
হতে হয়েছে। তারমধ্যে উল্লেখযোগ্য -“বাংলা ভাষার উৎপত্তি কোথা থেকে 
কীভাবে হল' “বাংলা লিপি কীভাবে এলো" “বাংলা ভাষা কী সংস্কৃতির দুহিতা' 
ইত্যাদি নানা প্রশ্ন । তখন সহজ করে যতটুকু বোঝানো যায় আর কি। বাংলা 
ভাষার উৎপত্তি কিংবা বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস নিয়ে পূর্ণাঙ্গ গ্রন্থ থাকলেও 
বাংলা লিপির ইতিহাস নিয়ে কোনো গ্রন্থ নেই। বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদের বিবৃতি, 
বাংলা একাডেমির ছক, তান্তিক পর্যালোচনামূলক দু একটি গ্রন্থ ও বাংলা 
সাহিত্যের ইতিহাস গ্রন্থের মধ্যে স্বল্প পরিসরে বিছিনন বিছিনরভাবে কিছু তথ্য 
সন্নিবেশিত আছে। তা দিয়ে পূর্ণাঙ্গ ইতিহাস পর্যালোচনা করা যায় না। এ রকম 
মনোবৃত্তি থেকেই শিক্ষার্থীদের কিংবা সাধারণ পাঠকের লিপির ক্রমবিকাশ 
সম্পর্কে ধারণা দেবার জন্যই এ গ্রন্থটির জন্ম 


প্রসঙ্গ যে, বাংলা অনার্স-মাস্টার্সের একাডেমিক পড়াকালীন বাংলা লিপির ওপর 
আলাদাভাবে কিছু পাঠ্যসূচি ছিল না। এমনকি লিপি বিবর্তনের কোন বইও ছিল 
না। যা টুকটাক জেনেছি সে বিভিন্ন বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস গ্রন্থের দু-এক 
পৃষ্ঠা লেখা থেকে । পাণ্ুলিপি পাঠ অংশে বর্ণ ধরে ধরে পাগুলিপি পাঠ গলাধঃ- 
করণ করানো হত। মূলত এ অতৃপ্তিও এ পঠনে আমাকে তাড়িত করেছে। এ 
গ্রন্থে মানব জীবন যাত্রার শুরুতে কীভাবে ভাষার জনন; কীভাবে লিপির উডভব 
হলো; তার একটি কালানুক্রমিক রেখা টানা হয়েছে । কখনো নৃতান্তিক নানা 
নিদর্শনঃ কখনো সাহিত্য নিদর্শন কখনো বা ইতিহাসের নানা ঘটনা উপঘটনা, 
তথ্য ভিত্তি করে ক্রমবিবর্তন তুলে ধরা হযেছে। আর বিভিন্ন উল্লেখযোগ্য 


6 


সামাজিক-রাজনৈতিক ঘটনার মধ্য দিয়ে বর্তমান বাংলা লিপির পরিণত পর্যায় 
পর্যন্ত এসে পৌঁছেছে। এ গ্রন্থের শেষাংশে প্রদত্ত বইয়ের তালিকা ও স্থান-কালের 
প্রেক্ষাপটে আমার নিজস্ব চিন্তা-ধারণাকে কেন্দ্র করেই বইটির মূল ভাষ্য । এ গ্রন্থে 
কথ্যভাষাকে স্থায়ীরপকরণ, লিপিযুগ, লিপির আঞ্চলিকতা, পার্ুলিপি যুগের 
অবসান ইত্যাদি আমার পাঠগত অভিজ্ঞতা । স্থান-কালের প্রেক্ষিতে এমনটিই মনে 
হয়েছে। এই গ্রন্থটি রচনায় অনেকেই আমাকে নানাভাবে সাহায্য করেছেন তাদের 
দীর্ঘ তালিকা উল্লেখ করে পাঠককে ভারাক্রান্ত করতে চাই না। বইটিতে মুদ্রণ 
সংক্রান্ত হয়ত নানান ভুল আছে। পরবর্তী সংস্করণে তা সংশোধিত হবে আশা 
করি। সর্বোপরি বইটি যদি কারো বিন্দু পরিমাণ মনের তৃষ্তা মেটায় তাহলে 
আমার শ্রম সার্থক হবে মনে করি। 


আবু সাঈদ তুলু 
(118110))/9100-00 
10: 01733747830 


পৃথিবী ও আদিম মানব 
সভ্যতার সূত্রপাত 
ভাষার উৎপত্তি 
সভ্যতার গোড়া পত্তন 
লিপির উন্মেষ 
চিত্রলিপি যুগ 
ভাবলিপি যুগ 
বর্ণলিপি যুগ 
পৃথিবীর প্রথম বর্ণমালা 
কথ্যভাষ্যের স্থায়ী রূপ 
লিপির অনুবর্তন ও বিভিন্ন সভ্যতায় লিপি 
প্রাচীন ভারতীয় সভ্যতা 
সিন্ধু সভ্যতায় ব্যবহৃত লিপি 
লিপির আঞ্চলিকতা 
্রাহ্মী লিপির উন্মেষ ও জনপ্রিয়তা 
ব্রাহ্মী লিপির বিবর্তন 
বাংলা লিপির সূত্রপাত 
বাংলা লিপির বিবর্তন 
পাগুলিপি যুগের অবসান 
“বাংলাদেশ” স্বাধীন রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠা ও লিপি প্রসঙ্গে 
বাংলা লিপির পরিণত পর্যায় 


০৮ পৃষ্ঠা 
২০ পৃষ্ঠা 
২৩ পৃষ্ঠা 
২৮ পৃষ্ঠা 
৩৪ পৃষ্ঠা 
৪০ পৃষ্ঠা 
৪৩ পৃষ্ঠা 
৪৪ পৃষ্ঠা 
৪৬ পৃষ্ঠা 
৪৭ পৃষ্ঠা 
৪৯ পৃষ্ঠা 
৫২ পৃষ্ঠা 
৬১ পৃষ্ঠা 
৬৪ পৃষ্ঠা 
৬৮ পৃষ্ঠা 
৭৫ পৃষ্ঠা 
৭৮ পৃষ্ঠা 
৭৯ পৃষ্ঠা 
৮৭ পৃষ্ঠা 
৯৩ পৃষ্ঠা 
৯৬ পৃষ্ঠা 





পৃথিবী ও আদিম মানব 


পৃথিবীতে কখন, কীভাবে মানব জাতির যাত্রা শুরু হলো তা নিয়ে আধুনিক 
মানুষের ভাবনার অন্ত নেই। আধুনিক বিজ্ঞানের কিছু তত, আদিম মানব 
সম্পর্কিত কিছু তথ্য নিয়ে আধুনিক সচেতন মানুষের মধ্যে মহাজাগতিক কল্পনার 
এক বিশাল সৌধ গড়ে উঠেছে। পৃথিবী ও মানব সৃষ্টি নিয়ে আবার ধর্ম, দর্শন ও 
বিজ্ঞানের মধ্যে ভিন্ন ভিন্ন মত দেখা যায়। একেক ধর্ম, একেক ভাবে বা 
দৃষ্টিকোণ থেকে মানুষের জীবন ও জগতকে বিশ্লেষণ করেছে। ধর্মের দৃষ্টিতে, 
এক মহাশক্তি পৃথিবী সৃষ্টি করেছেন এবং পরীক্ষার জন্য সে মহাশক্তি মানুষকে 
পৃথিবীতে পাঠিয়েছেন। কয়েকটি ধর্ম ব্যতীত প্রতিটি ধর্মই বিশ্বাস করে, একদিন 
পৃথিবী ধ্বংস হবে এবং মানুষের পুনরুথান হবে; সবশেষে কর্মবিচারের ওপর 
নির্ভর করে এক নিরপেক্ষ বিচারের রায়ে তাকে চিরসুখস্থান অথবা চিরদুঃখস্থানে 
যেতে হবে। অনেক ধর্ম আবার এ মতের বাইরে । বিশেষত বৌদ্ধ ধর্ম, জীব ও 
জগৎ সম্পর্কে চিন্তা না করে সতভাবে নিজেকে পরিচালিত করার প্রতিই গুরুত্ব 
দিয়েছেন । আবার দর্শনও বস্ত জগৎ সম্পর্কে নানাভাবে বিশ্লেষণ করেছে। প্রাচীন 
মিশর, গ্রীস, ভারত সভ্যতার শুরু থেকে দর্শন আশ্রিত ভাবে জীবন ও জগতকে 
বিশ্লেষণ করেছে। 


বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিগত সভ্যতার পূর্বে দর্শনই ছিল বস্ত জগৎ বিশ্লেষণের একমাত্র 
প্রক্রিয়া । বিজ্ঞানের ক্রমাগত অগ্রগতির ফলে দর্শনও অনেকাংশে বিজ্ঞান নির্ভর 
হয়ে দীড়িয়েছে। জীবন ও জগৎ সম্পর্কে আধুনিক বিজ্ঞান পরীক্ষা-নিরীক্ষা 
কেন্দ্রিক প্রমাণ সাপেক্ষে দিয়েছে অকাট্য যুক্তি। ধর্মের দৃষ্টিকোণ থেকে বিজ্ঞানের 
দৃষ্টিভঙ্গি সীমাবদ্ধ; যা তর্কাতীত। আবার বিজ্ঞানের দৃষ্টিকোণ থেকে, ধর্মের দৃষ্টি 
নিতান্তই বাতুলতার সামিল। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির অগ্গতির যুগে এসে সমকালীন 
চিন্তা, ধ্যান ও ধারণা অনুসারে এ কথা অস্বীকার করার উপায় নেই যে, মানুষের 
বাসস্থান-এ পৃথিবী, সুর্য জগতের একটি গ্রহ। এরকম সূর্য জগৎ মহাশুন্যে আছে 
হাজার হাজার, আবার এমন গ্রহও আছে অগণিত। আমাদের এ পৃথিবী নামক 
গ্রহটি সূর্য থেকে জন্ম । পৃথিবী শুধু একা নয়, আমাদের প্রতিবেশি প্রতিটি গ্রহও 
এ সূর্য থেকে জন্ম। সম্প্রতি একটি গ্রহ বাদ যাওয়ায় সাতটি রয়েছে। যা হোক 
বিজ্ঞান মনে করে, সূর্যের থেকে কোটি কোটি বছর আগে অগ্রিক্ষুলিঙ্গ বিচ্ছিন 


হয়ে আমাদের এ পৃথিবী সৃষ্টি হয়েছে। অনুমান করা হয়, প্রায় পাচ শ কোটি 
বছর আগে সূর্য থেকে আগুন পিগ্ডের বিচ্ছিন্নতা ঘটেছিল। সূর্য থেকে বিছিন্ন 
হওয়ার পরও আমাদের পৃথিবী ছিল গনগনে আগুনের টুকরা । ধীরে ধীরে তা 
ঠাপ্তা হতে শুরু করে, এ ঠাণ্ডা হতেও সময় লাগে কোটি কোটি বছর । বিজ্ঞানীরা 
বলেন, বিচ্ছিন্ন হওয়ার পর এভাবে আগুনের টুকরা হিসেবে পৃথিবীর প্রায় একশ 
পঁচিশ বছর কেটে যায়। গনগনে আগুনসম পৃথিবী ঠাণ্ডা হবার পর পৃথিবী আর্দ্র 
হতে থাকে। তারপর জন্মাতে শুরু করে গাছগাছালি, বনবাদাড় ইত্যাদি। 
বিজ্ঞানীরা বলে থাকেন, বিস্ফোরণের জন্য যে হাইড্রোজেন বিক্রিয়া হয় তা থেকে 
এমোনিয়া জাতীয় এক প্রকার গ্যাস আর্্র পরিবেশের মধ্যে তৈরি হয়। ক্রমশ 
পৃথিবী শীতল থেকে শীতলতর হতে থাকলে তখন এ এমোনিয়া গ্যাস থেকে 
আযামোইনো এসিড তৈরি হয়। এ পৃথিবী নামক গ্রহে এটিই প্রথম প্রাণের স্পন্দন 
সৃষ্টি করে বলে আধুনিক বিজ্ঞান মনে করে । যার ফলে এককোধী প্রাণীর উদ্ভব 
ঘটে। পৃথিবীতে জন্মজাত এই এককোষী প্রাণীর জন্মের মধ্যে দিয়ে শুরু হয় 
জীবের যাত্রা । এককোষী প্রাণীগুলো হচ্ছে ঝিনুক, পতঙ্গ ইত্যাদি। 





বৈজ্ঞানিক তথ্যের ভিত্তিতে শিল্পীর চোখে আদিম মানুষ 
10 


এ এককোষী প্রাণী বিকাশের পরবর্তী ধাপে জন্ম হয় সরীসৃপ প্রাণীর । যেমন- 
টিকটিকি, সাপ, কুমির ইত্যাদি । এভাবেও লাখ লাখ বছর কাটতে থাকে । বিভিন্ন 
প্রতিকুল পরিবেশের মধ্য দিয়ে এগিয়ে চলে জীবের যাত্রা। কালের যাত্রায় 
পৃথিবীতে জন্ম হয় পাখি, ঘোড়া, ছাগল, বানর ও প্রাক-মানবের। আধুনিক 
বিজ্ঞান বলে যে, প্রতিকূল পরিবেশে প্রতিটি প্রাণীই নিজেকে বাচানোর জন্য, 
বংশধর সৃষ্টি ও রক্ষা করার জন্য নিজকে পরিবর্তনের ফলে প্রাণী বৈচিত্র্যের সৃষ্টি 
হয়। 


আজকের পৃথিবীর সমগ্র মানবজাতির দেহরূপের উৎপত্তি হয়েছিল একটি মাত্র 
উত্স থেকে। বিজ্ঞানীরা মনে করেন, প্রাইমেট নামে এক প্রকার বৃক্ষবাসী প্রাণী 
থেকেই আজকের আধুনিক মানবে রূপান্তরিত হয়েছে। এ প্রসঙ্গে প্রাটীন 
ভারতীয় অবতারবাদের মতবাদ প্রসঙ্গটি উল্লেখ করা যেতে পারে। প্রাচীন 
ভারতীয় পুরাণে বিষ্কুর দশ অবতারের কথা প্রচলিত । বিষ্ত্ুর অবতারগুলো 
হচ্ছে- মৎস্য, কুর্ম, বরাহ, নৃসিংহ, বামন, পরশুরাম, রাম, কৃষ্ণ, বুদ্ধ ও কন্ছি। 
অর্থাৎ ভগবান ঝিষ্চু প্রথম পৃথিবীতে আগমন করেন মাছরপে, দ্বিতীয়ত পৃথিবীতে 
আগমন করেন কুর্মরূপে, তৃতীয়বার পৃথিবীতে আগমন করেন বরাহ বা চারপায়ী 
প্রাণী হিসেবে, চতুর্থবার আগমন করেন নৃসিংহ-অর্ধেক মানব ও অর্ধেক সিংহের 
রূপ ধারণ করে এবং তারপর থেকে বিষ্ণু পৃথিবীতে ধারাবাহিক মানুষের রূপে 
পৃথিবীতে আগমন করেন। প্রাচীন ভারতীয় এ ধারণা থেকেও অনুমান করা যায়_ 
প্রথমেই মানুষ নামক প্রাণীর জন্ম পৃথিবীতে হয় নি। বিবর্তনের মধ্য দিয়েই 
আজকের মানবজাতির উদ্ভব হয়ে ছিল । 


বিজ্ঞানীরা মনে করেন, প্রাইমেটর নামে এক প্রকার বৃক্ষবাসী প্রাণীই মানুষ 
প্রজাতির উৎস। এ বৃক্ষবাসী প্রাইমেটর প্রাণীই বিবর্তনের মাধ্যমে আজকের 
আধুনিক মানুষ । বিজ্ঞানীরা আদি প্রাইমেটদের বংশধর হিসেবে মনে করেন- 
বানর, শিম্পার্জী, গরিলা ইত্যাদিকে। কেনিয়ায় এবং ভারতে প্রাপ্ত ফসিল নিয়ে 
গবেষণা করে এ তন্টের ধারণা দিয়েছেন। দৈহিক বৈশিষ্ট্যের ওপর ভিত্তি করে 
বিজ্ঞানীরা এদের নামকরণ করেছেন রামাপিথেকাস । আধুনিক মানুষে রূপান্তরিত 
হওয়ার বৈশিষ্ট্যগত উৎসমূল এ রামাপিথেকাস। বিজ্ঞানীরা মনে করেন, পৃথিবীর 
ভূতান্তিক ও ভৌগোলিক অবস্থা ক্রমশ পরিবতিত হতে থাকে । এ ভূ-পরিবর্তনের 
সময়কাল হিসেবে কল্পনা করা হয় আজ থেকে প্রায় দেড় থেকে দুই কোটি বছর 


11 


আগের। এ পরিবর্তনের ফলে পৃথিবীর জলবায়ু শুষ্ক হয়ে উঠে। এ ভূ- 
পরিবর্তনের সময় বনভূমি ক্রমশ কমে আসে এবং তৃণভূমির বিস্তার ঘটতে 
থাকে। ফলে বনভূমি থেকে হাতি, ঘোড়া, শুকর, জিরাফ, হরিণ প্রভৃতি 
প্রাণীগুলোও আশ্রয় নিতে থাকে তৃণভূমিতে । মনে করা হয়, কিছু কিছু প্রাইমেট 
এঁ সময় গাছ থেকে নেমে আসে তৃণভূমিতে | যে সব প্রাইমেট গাছ থেকে নেমে 
আসে তৃণভূমিতে মূলত তারাই আধুনিক দেহরুপী মানুষের মূল। আবার কিছু 
কিছু প্রাইমেট গাছেই রয়ে যায়। যে সকল প্রাইমেট তৃণভূমিতে নেমে আসে 
তারা সম্ভবত দু'পায়ে দীড়াতে চেষ্টা করে। কারণ তৃণভূমিতে গাছ-পালা না 
থাকায় এ প্রাইমেটরা পায়ে হেটে চলা-ফেরা করার জন্য বাধ্য হয়ে পড়ে । এ 
সময় তারা হাতের সাহায্যে খাদ্য সতঘ্বহ করতেও চেষ্টা করে। 


এ রামাপিথেকাসের এ হাঁটুয়া শ্রেণীর বংশধরেরা সম্ভবত আর গাছে ফেরত যায় 
নি, তারা তৃণভূমি বা মাটিতেই বাস করতে থাকে । এ হাটুয়া রামাপিথেকাস 
ভৌগোলিক ও জলবায়ু বায়ু পরিবর্তনের ফলে দৈহিক বিবর্তনের একটি পর্যায়েই 
আধুনিক মানুষে রূপান্তরিত হয়। এ আদিমবাসী রামাপিথেকাসদের স্থায়ী কোন 
বসবাসের জায়গা ছিল না। তারা কোন নির্দিষ্ট স্থান বা নির্দিষ্ট অঞ্চলে বাস 
করতো না। যখন দিকে যেতো সেখানেই যতদিন খাবার-দাবারের সন্ধান পেতো 
তত দিন বাস করতো। এ এলাকায় খাবারের অভাব দেখা দিলে আবার অন্যত্র 
স্থানে চলে যেতো । কখনও কখনও গাছের ডালে, জঙ্গলে কিংবা পাহাড়ের গায়ে 
তারা রাত কাটাতো। এ সময় বসবাসরত অন্যান্য প্রাণীদের সঙ্গে তাদের কোন 
বসবাসজনিত পার্থক্য ছিল না। তারা অন্যান্য প্রাণীদের মধ্যে আলাদা কোন 
বৈশিষ্ট্যেও উজ্জল ছিল না। 


আধুনিক সভ্যতায় মানুষ অন্যান্য প্রাণীর মধ্যে শ্রেষ্ঠ বিবেচিত হয়। কিন্তু আধু- 
নিক মানুষের প্রাক পর্যায়ের এ রাথাপিথেকাস ও অন্যান্য প্রাণীরা একই 
রকমভাবে জীবন ধারণ করতো । এ সময় বন্যস্থানে বাস বা শ্বাপদ-সঙ্কুল 
পরিবেশে তাদের অস্তিত্ব টিকেয়ে রাখার জন্য কৃত্রিম প্রতিরক্ষা কর্মের উদ্ভাবন 
করে । এ কৃত্রিম প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় স্বাভাবিক হাতের পরিপূরক হাতের ব্যবহার 
শুরু করে। এ পরিপূরক হাতকেই সমাজবিজ্ঞানীরা “হাতিয়ার” হিসেবে আখ্যা 
দেন। এ ধারণার বিজ্ঞানীরা নির্ভর করেছেন দক্ষিণ আফিকার বিভিন্ন অঞ্চলে 
আবিশ্কৃত প্রাইমেটদের কিছু ফসিলের উপর । 


12 


গত কয়েক শতাব্দী আগে এক উন্নততর প্রাইমেটের ফসিল আবিষ্কৃত হয়। 
আবিষ্কৃত এ প্রাইমেউদের কোমরের হাড়, হাত, পা, চোয়াল ইত্যাদি প্রায় আধু- 
নিক মানুষের মতোই ছিল। আবিষ্কৃত এ শ্রেণীর প্রাইমেট ও আধুনিক মানুষের 
মধ্যে দেহগত পার্থক্য শুধু একটি স্থানেই আর অন্যান্য দৈহিক বৈশিষ্ট্য আধুনিক 
মানুষের মতোই । এ প্রাইমেটদের মাথার আকৃতি আধুনিক মানুষের মাথার চেয়ে 
তুলনামূলক অনেক বড়। বিজ্ঞানীরা মনে করেন, তৃণবাসী প্রাইমেটদের এটি 
দ্বিতীয় ধাপ। বৈশিষ্ট্যের ওপর ভিত্তি করে প্রথম ধাপটির নাম দিয়েছেন যেমন 
রামাপিথেকাস তেমনি এ ধাপের নামকরণ করেছেন অস্ট্রালোপিথেকাস। 
বিজ্ঞানীরা এ শ্রেণীর প্রাইমেটকে প্রাইমেট বিবর্তনের দ্বিতীয় স্তর হিসেবে 
বিবেচনা করেছেন। প্রাপ্ত ফসিল বিশ্লেষণ করে অনুমান করা হয়, এ প্রাইমেটদের 
অস্তিত্ব প্রায় চল্লিশ লাখ বছর আগের বলে বিজ্ঞানীরা মনে করেন। দক্ষিণ 
আফ্রিকায় প্রাপ্ত এ ফসিলের ওপর নির্ভর করে বিজ্ঞানীরা মনে করেন, আদি 
মানবের উৎপত্তি স্থল ও বাসভূমি হচ্ছে আফিকা । অনুমান করা হয়, তাজ্জানিয়ার 
হদের পাড় এ শ্রেণীর অর্ধমানবের বসবাসস্থল। প্রায় সতের লক্ষ বছর আগে 
ত্রদের পাশে এ আধা মানুষ শ্রেণী অস্ট্রালোপিথেকাস বাস করতো । খুব সম্ভবত 
তারা ব্যাঙ, গিরগিটি, খরগোস, হাস ইত্যাদি বিভিন্ন প্রাণী ধরে ধরে খেতো। 


এ অস্ট্রালোপিথেকাস মানুষেরও বিবর্তন হতে থাকে । বিবর্তনের এক পর্যায়ে 
তারা সোজা দীড়িয়ে চলাফেরা করতে থাকে । এ সোজা বা খাড়া হয়ে চলাফেরা 
করতে পারে বলে এ শ্রেণীর প্রাইমেটকে খাড়া মানুষও বলা হয়। এ পর্যায়ে 
আদিম মানুষগুলো সর্বদা খাড়া হয়ে চলাফেরা, শিকার করতো । বৃক্ষবাসী বা 
ছন্নছাড়া জীবন থেকে তারা ক্রমশ সংঘবদ্ধ হওয়া শুরু করে । উল্লিখিত হয়েছে, 
এ শ্রেণীর মানুষদের সঙ্গে শুধু মাথার আকার ছাড়া আধুনিক মানুষের সঙ্গে আর 
কোন পার্থক্য দেখা যায় না। এ পৃথিবীর তৎকালীন প্রতিকূল পরিবেশের মধ্যে 
অস্ট্রোলোপিথেকাস সংগ্ামের মধ্য দিয়ে নিজেরা বেঁচে থাকে । তাদের বিবর্তনের 
সঙ্গে সঙ্গে পৃথিবীর অন্যান্য প্রাণীরও বিবর্তন হতে থাকে । এ মানুষদের আশে- 
পাশে বাস করতো হিংস্র ও অভ্ভব সব জানোয়ার । উল্লেখযোগ্য হচ্ছে- ঘোড়ার 
চেয়ে দেখতে বিরাট আকার বা দেহধারী ভেড়া, গরিলার মতো বা তার চেয়ে 
বিকট দেহের বেবুন, বড় কুকুরের সমান সজারু আর বড় আকারের গণ্ডার। সম্ভ 
বত, এ প্রতিকূল পরিবেশের মধ্যে মানুষকে বেঁচে থাকার তাগিদে হতে হয়েছে 
পূর্বের চেয়ে অনেক বেশি চালাক, চতুর ও অত্যন্ত দক্ষ শিকারী ৷ মনে করা হয়, 


13 


এ সময় থেকেই শিকারী জীবনের যথাযথ যাত্রা । প্রতিকূল পরিবেশে আত্মরক্ষা 
ও শিকারী জীবনের বৈচিত্র্যের ফলে আবিষ্কার করে নিত্য নতুন পাথরের 
হাতিয়ারের। 


মানুষ সভ্যতা ও বিবর্তনের ইতিহাসে এ পর্যায়ে এসে মানুষের সংস্কৃতি গড়ে 
উঠতে শুরু করে। আদিম সংস্কৃতি হিসেবে ধরে নেওয়া হয়, পুরান বা প্রথম 
পাথর যুগের শিকারী সমাজের সংস্কৃতি। এ পুরান পাথর যুগ বা প্রথম পুরাপলীয় 
যুগে মানুষ তৃণভূমিতে মানুষ বাস করলেও তা ছিল বিচ্ছিন্নভাবে বাস। প্রকৃতির 
মধ্যে তখন তারা মুক্তভাবে ঘোরাফেরা করে বেড়াত। যেখানে এসে তারা ক্রান্ত 
হতো সেখানেই হয়ত রাত যাপন করতো । অথবা যে এলাকায় শিকার বেশি 
পাওয়া যেত সে এলাকাতেই তারা বাস করতো। আদিম মানুষ নিরীহ 
প্রাণীদেরকেই মূলত খাদ্য হিসেবে গ্রহণ করতো। তখনও তাদের মধ্যে 
যথার্থভাবে দলবদ্ধ জীবন যাত্রার সুচনা হয় নি। 


ভূতত্তবিদদের মতে, পৃথিবীতে যখন মানব যাত্রার এ স্তর বিরাজমান, তখন সম্ব 
পৃথিবীর উপরে নেমে আসে উত্তর গোলার্ধ থেকে বরফের বন্যা । এ বরফ যুগের 
সময় হিসেবে কল্পনা করা হয় আজ থেকে প্রায় প্রায় ছয় সাত লাখ বছর পূর্ব। 
সে বরফের বন্যায় আচ্ছাদিত হয়ে যায় প্রায় সমগ্র পৃথিবী। ঢেকে যায় আজকের 
পরিচিত ইউরোপ মহাদেশ, আফ্রিকার উত্তরাঞ্চল আর এশিয়া মহাদেশ । অনুমান 
করা হয়, কয়েক'শ হাজার বছর বরফে আচ্ছাদিত হয়ে থাকে পৃথিবী । তখন 
আদিম মানুষ বরফ থেকে জীবন বাচানোর তাগিদে একটু শুক্কতার সন্ধানে ছুটতে 
থাকে । ছুটতে ছুটতে অপেক্ষকৃত কম বরফ আচ্ছাদিত স্থানে আশ্রয় নেয়। 


সম্ভবত, এ বরফ আচ্ছাদিত হওয়ার পূর্ব পর্যন্ত আদিম মানুষ পৃথিবীতে আফ্রিকা 
অঞ্চল কেন্দ্রিক বাস করতো । বরফ যুগে এভাবে ছুটতে ছুটতে চারদিকে ছড়িয়ে 
ছিটিয়ে পড়ে । প্রথম বরফ যুগ শেষ হলে হয়ত আদিম মানুষ আর পূর্বের স্থানে 
ফেরত যায় না। এভাবেই আদিম মানুষরা ছড়িয়ে ছিটিয়ে পড়ে পৃথিবীর সর্ব্র। 
ফলে শুরু হয় বিভিন্ন স্থান কেন্দ্রিক আদিম মানুষের জীবন-যাত্রার সূত্রপাত । 
পরিবর্তন ঘটে তেমনি সংস্কৃতির পরিবর্তনও ঘটতে থাকে । সময় এগিয়ে যেতে 
থাকে ভবিষ্যতের দিকে। প্রথম বারের মতো দ্বিতীয় বারও বরফে আচ্ছাদিত হয়ে 
যায় পৃথিবী । দ্বিতীয় বরফ যুগের আদিম মানুষের বসবাস সংক্রান্ত তেমন কোন 


14 


তথ্যই পাওয়া যায় নি। পুনরায় তৃতীয় ও চতুর্থ বারের মতো বরফে আচ্ছাদিত 
হয়ে যায় পৃথিবী । সম্ভবত তৃতীয় বরফ যুগেই আদিম মানুষ গুহাবাসী হওয়া শুরু 
করে । এভাবে চার চার বার বরফে আচ্ছাদিত হয়ে যায় পৃথিবী । চারবার পৃথিবী 
হয়েছে। খুব সম্ভব, এ বরফপূর্ব যুগের মানুষ এক স্থানেই বসবাস করতো । বরফ 
যুগের শুরু থেকেই মানুষ পৃথিবীর বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে পড়তে শুরু করে। 


আদিম মানুষেরা প্রথমে উত্তর আফ্রিকার বিভিন্ন স্থানে এবং পরে ইউরোপ ও 
এশিয়ায় ছড়িয়ে পড়ে । আদিম মানুষদের বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে ছিটিয়ে পড়া নিয়ে 
ভিন্ন ভিন্ন মত লক্ষ্য করা যায়। কেউ বলেন বরফ আচ্ছাদিত হিমাবস্থা থেকে 
মুক্তির জন্য আদিম মানুষরা বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে পড়ে । আবার অনেকে মনে 
করেন, প্রাকৃতিক প্রতিকূল অবস্থায় এ আদিম মানব হয়ত জীবন যুদ্ধে জয়ী 
হয়েছিল এবং হয়ত বা দ্রুত বংশ বৃদ্ধি ঘটেছিল বলে তারা নিজ বাসভূমি ছেড়ে 
বাইরে যেতে বাধ্য হয়। যা হোক, বিভিন্ন পরিবেশে গিয়ে টিকে চেষ্টায় মানুষের 
হয়েছিল । বিজ্ঞানীরা প্রায় পঞ্গাশ হাজার বছর পূর্বে মানুষের উন্মেষ বলে অনুমান 





15 


১৮৯১ সালে ড. ইউজেনী দুবিসের আবিস্কৃত একটি কষ্কালের কিছু খণ্ড অংশের 
মধ্যে দিয়ে উদঘাটন হয়ে যায় মানব বিবর্তনের ইতিহাসের তথ্য । আদিম 
মানুষের মাথার খুলি, খুলির উপরের অংশ, চোয়াল, আর উরুর হাড় এবং তিনটি 
দাত পরীক্ষা নিরীক্ষার মাধ্যমে জানা যায় ইন্দোনেশিয়ার জাভা অঞ্চলে বরফ 
যুগে মানুষের অস্তিত্বের কথা । তার কিছু দিনের মধ্যে পুনরায় আদিম মানুষের 
ব্যবহার্য জিনিসপত্র, পায়ের ছাপ, কঙ্কাল ইত্যাদির প্রাপ্তি ঘটে। এর মাধ্যমে 
আরও প্রমাণ মেলে চীনের পিকিং অঞ্চলে, জার্মানির হাইডেলবার্ণের নিয়ান্ডার্থাল 
অঞ্চলেও বরফ যুগে মানুষের অবস্থান ছিল। বিজ্ঞানীরা নিয়ান্ডার্থাল অঞ্চলের 
মানুষদের বসবাস তৃতীয় বরফ যুগের অর্থাৎ প্রায় পৌনে দুই লক্ষ বা দুই লক্ষ 
বছর আগে বলে কল্পনা করেন। 





শেষ পুরোপলীয় যুগের পাথুরে অন্তর 


নিয়ান্ডার্থাল মানুষ বাইসন, লোমশ, ম্যামথ, লোমশ গগ্ডার, বন্য ঘোড়া, হিস 
বন্য মহিষ প্রভৃতি শিকার করতো বলে মনে করা হয়। প্রত্রতান্তিকরা অনুমান 
করে থাকেন বরফ যুগের দ্বিতীয় এবং তৃতীয় পর্যায় পর্যন্ত মানুষ পশুর মতো 
জীবন-যাপন করতো । এ সময় পুরুষেরা বাইরে শিকার করতো আর নারীরা 
সন্তান দেখাশুনা এবং ফলমূল সংগ্রহ করতো । শিকারকৃত পশুর মাংস কীচাই 
খাওয়া হতো বেশি। শিকারে যা পাওয়া যেত এবং মেয়েরা যা সংগ্রহ করতো, 


16 


সবই ছিল সবার মিলিত সম্পত্তি প্রাকৃতিক ঝড়, বৃষ্টি, রোদ এবং বন্য হিংস্র পশু 
থেকে নিজেদের রক্ষা করার জন্য ক্রমশ যৌথ জীবনের দিকে এগিয়ে যায় এবং 
নির্বিয় স্থান খুজে বের করতে তৎপর হয়ে ওঠে । সম্ভবত, এ নিয়ান্ডার্থাল মানুষই 
প্রাকৃতিক ঝড়-বৃষ্টি, রোদ ও বন্য হিংস্র জানোয়ার থেকে নিজেকে রক্ষা করার 
জন্যই প্রথম গুহাবাসী হয়। পূর্বেই বলা হয়ে সম্ভবত তৃতীয় বরফ যুগেই মানুষ 
গুহাবাসী হওয়া শুরু করে। হিংস জানোয়ারদের গুহা থেকে তাড়িয়ে তারা গুহা 
দখল করে নিতো । এ স্তরের মানুষদের প্রত্বতান্তিকরা নামকরণ করেছেন নতুন 
পরোপলীয় যুগ । এ স্তরের মানুষগুলো সবসময় শিকার করতে পারতো না বলে 
সম্ভবত কৃষির আবিষ্কার করে । নৃতত্নুবিদরা বরফযুগের দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্তরকে 
প্রথম পুরোপলীয় যুগ বা পুরান প্রস্তর যুগ হিসেবে এবং এ গুহাবাসী কৃষিজীবী 
যৌথ জীবনের স্তরের মানুষকে নতুন পরোপলীয় যুগ হিসেবে কল্পনা করেছেন। 
ভূতান্তিকরা মনে করেন, বরফ যুগের অবসানের পর আমেরিকা মহাদেশ ও 
889180910488878859515585151854815 





আনাচে কানাচে, বরফাচ্ছনন অঞ্চল ররর ররর 
সব জায়গাতেই বসবাস শুরু করেছিল । তাই নতুন পলীয় যুগে স্থানীয় প্রেক্ষাপটে 


17 


পৃথিবীর সর্বত্র একই ধারা বা চেতনার সংস্কৃতি গড়ে উঠেছিল। 


এসময়, এসব গুহাবাসী মানুষ গুহার ভিতরের দুর্গম অংশে সুন্দর সুন্দর ছবি 
আঁকতো । অনুমান করা হয়, গুহার অভ্যন্তরের অন্ধকার অংশে সম্ভবত পাথরের 
প্রদীপে, শিকারকৃত পশুর চর্বিতে ভেজানো শ্যাওলার পলতের আলো জ্বালিয়ে 
আদিম মানুষেরা ছবি আঁকতো । গুহার ভিতর ছবি আঁকার শুরু থেকেই মানব 
জীবনের ইতিহাসে ভাষা, শিল্পকলা, লিখন পদ্ধতির শুরুর প্রক্রিয়া বলে অনুমান 





আদিম মানুষের গুহাচিত্র 


18 


করা হয়। পগ্তিতেরা মনে করেন, এ ছবি তারা শিল্প সৃষ্টি বা কোনরূপ সৌন্দর্য 
বৃদ্ধির জন্য আঁকতো না, বরং যাদু অনুষ্ঠান অথবা পরবর্তী বংশধরদের শিক্ষা 
দেওয়ার জন্যই এ সব ছবি আঁকতো। 


হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। 


নিয়েনডারথেল মানুষ আগুন ব্যবহার করতো । জার্মানির হাইডেলবার্ণে তাদের 


৮ ৮: উনি কক 


টিটি 1715 :.130172%১ »১দ 





বসবাসস্থানে ছাই, কয়লা, পোড়া-হাড়গোড় প্রভৃতির চিহ্ন পাওয়া গেছে। সম্ভবত 
এ আগ্তন তারা তড়িতাহত গাছ কিংবা দাবানল থেকে সংগ্রহ করতো; নিজেরা 
তখনও আগুন উৎপাদনের কৌশল আয়ত্ব করে নাই। আগুন তারা নিভিয়ে 
ফেলতো না; দৈনন্দিন কাজের জন্য কাঠের পর কাঠ পুড়িয়ে তা রক্ষা করতো । 
রাতেও আগুন জ্ীলিয়ে রাখতো যাতে বন্য জন্তর উপদ্রব থেকে নিজেদেরকে 
রক্ষা করতে পারে। নতুন নতুন আবিষ্কার এবং আগুনের ব্যবহার আদিম 
মানুষের মধ্যে এক নব্যচেতনার কাজ করে। ক্রমশ আগুনের ব্যবহারে মাংস 
পুড়িয়ে খাওয়া; হাতিয়ার ব্যবহার করে বাসস্থান তৈরি এবং পরিধেয় আচ্ছাদনও 
বানায় । এভাবেই পুরোপলীয় যুগের শেষের দিকে এ শিকারী মানুষগুলো বিভিন্ন 
দলে দলে বিভক্ত রক্তের সম্পর্কের ভিত্তিতে ক্ল্যান গঠন করে। একটি কল্যানে 
ছেলে মেয়ে থেকে শুরু করে নাতি নাতনী পর্যায়ের মানুষও থাকতো । এভাবেই 
পরবর্তীতে তারা কয়েকটি ক্ল্যানটি মিলে আবার একটি ট্রাইব গঠন করে । 


নৃতত্বিদরা পৃথিবীর প্রাচীনতম জাতিকে চারটি মুল শ্রেণীতে বিভক্ত করেছেন- 
১) অন্ট্রলয়েড (/451191010) ২) মঙ্গলয়েড (1017001010) ৩) নিগথ্োয়েড 
(501010) ৪) ককেশীয় (008089181)। 


পূর্বেই উল্লিখিত হয়েছে বরফ যুগের শেষে যে আমেরিকা মহাদেশ ও অস্ট্ট্রোলিয়া 
এশিয়া থেকে ভূভাগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছিল । আমেরিকা ও অস্ট্টরোলিয়ার মানুষ 
অবশিষ্ট মানব সমাজের একীভূত চেতনা থেকে সম্পূর্ণ আলাদা আলাদা সংস্কৃতি 
গড়ে তুলেছিল। নৃতত্রবিদরা মনে করেন, এ সময় থেকেই মানুষের বিভিন্ন 
জাতির সৃষ্টি হয়। তাই আবদুল হালিম ও নূরুন নাহার বেগম তাদের “মানুষের 
ইতিহাস গ্রন্থে বলেন, “পৃথিবীর সব মানুষ একই প্রজাতির অন্তর্গত এবং তাদের 
মধ্যে জাতিগত পার্থক্য নিতান্তই একটি বাহ্যিক বিষয় ।” স্থানিক প্রেক্ষাপটে 
মানুষের সংস্কৃতির বিকাশ ঘটতে থাকলেও কালের যাত্রা তাদেরকে ক্রমশ জীবন 
-জীবিকার উন্নতর অবস্থায় পৌঁছে দেয়। এভাবে আদিম সমাজের মানুষ ক্রমশ 
সভ্য হতে শুরু করে। 


20 


সভ্যতার সূত্রপাত 


আদিম মানুষ ক্রমাগত উদ্ভাবন ও আবিষ্কারের মাধ্যমে বর্বর স্তর থেকে সভ্য স্তরে 
উন্নীত হতে থাকে । সভ্যতার সূত্রপাত নিয়ে পণ্ডিতদের মধ্যে নানা মতভেদ 
রয়েছে । আমরা আদিম মানুষ বসবাসের কোন স্তর থেকে বলব সভ্য? এ নিয়েই 
বিত্কের শেষ নেই। ড. রফিকুল ইসলাম তার “বিশ্ব সভ্যতা ও শিল্পকলা" গ্রন্থে 
বলেন “মানুষ যখন তার স্থল প্রয়োজনকে মিটিয়ে তার পরিবেশ ও প্রতিকূলতাকে 
জয় করতে সক্ষম হয় এবং তার জীবনযাত্রাকে একটি “মাত্রায়* উন্নীত করতে 





চাষের কাজে লাঙল এবং পশু 


সক্ষম হয়, যখন তার নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যাদি এবং তার মূল্যবোধকে নির্মাণ 
করে এবং একটি সাধারণ সামাজিক এতিহ্যকে প্রবাহমান করতে প্রয়াসী হয়, 
তখনই আমরা তাকে “সভ্যতা” (01129100171) বলে আখ্যায়িত করতে পারি ।' 


21 


জার্মান দার্শনিক অসওয়ান্ড স্পেঞ্জলার বলেছেন “সভ্যতা (01129001) হচ্ছে 
উন্নত সংস্কৃতির অবক্ষয়ের রূপ। কোন জাতির উন্নত অবস্থাকে সংস্কৃতি বলে। 
আবার যখন সংস্কৃতি উন্নতির একটি স্তরে পৌঁছে যায়, তখন তাকে বলে সভ্যতা 
(011271101), | 

এ কে এম শাহনাওয়াজ তার “বিশ্ব সভ্যতা" গ্রন্থে বলেন “কোন অঞ্চল বা 
অঞ্চলসমূহে যখন একটি জনগোষ্ঠী নগর পত্তন করে, উন্নততর জীবনব্যবস্থা 
গড়ে তোলে, তখন তার অগ্রগতির সহায়ক নিয়ামক হিসেবে উদ্ভাবিত হয় লিখন 
-পদ্ধতি, আইন, সরকার ব্যবস্থা, বাণিজ্য এবং সুস্পষ্ট ধময়ি দর্শন, তখন তাকে 
বলা হয় সভ্যতা ।" 

সভ্যতার সূত্রপাত প্রসঙ্গে লুইস হেনরি মার্গানের দৃষ্টিভঙ্গি প্রণিধানযোগ্য । সুইস 
মার্গন সভ্যতার বিকাশকল্পে সাতটি তন্তের উভভাবন করেন। সেগুলো হলো- ১) 
আদিম মানুষ যখন জীবন রক্ষার্থে নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিসের উড্ভাবন করেছে। 
২) যখন নগর ব্যবস্থা বা সমাজ ব্যবস্থার কাঠামো দীড়িয়েছে। ৩) সমাজে 
জীবনের চলা- ফেরা বা সামাজিক জীবন যোগাযোগ রক্ষার্থে ভাষার সৃষ্টি 


শীত, 


পশুর কাঁধে মাল চাপিয়ে সে যুগের মানুষ ছুর্গম পথে 2৯ দিতে শুরু করলে 





করেছে। ৪) পরিবার প্রথার সৃষ্টি হয়েছে ৫) সমাজের ধর্ম ও দর্শন প্রথার উদ্ভব 
হয়েছে। ৬) গার্হস্থ্য জীবন ও স্থাপত্য জীবনের শুরু হয়েছে ৭) সম্পত্তি বা 
পরনির্ভরশীলতাকে কাটিয়ে নিজের সামর্থের মধ্যে বাচার প্রেষণা অনুভূত 
হয়েছে । তখনই আমরা তাদেরকে সভ্য হিসেবে আখ্যায়িত করবো । 


নতুন পাথরের যুগের শেষের দিকে মানুষ গ্রাম্যসমাজ থেকে যে নগরকেন্্রিক 


229 


সমাজের উত্তরণ ঘটায় সে সময়টাকেই সভ্যতার সূত্রপাত হিসেবে কল্পনা করা 
হয়। খরস্টপূর্ব ৬০০০ থেকে ৩০০০ পর্যন্ত সময়কাল সভ্যতার সুত্রপাত বলে 
্রত্রতান্তিকরা মনে থাকেন প্রত্রতান্তিকরা অনুমান করেন, খ্রিস্টপূর্ব ৪০০০ দিকে 
ভূমধ্য সাগরের পূর্ব অংশের তীরভূমি থেকে শুরু করে ভারতীয় উপমহাদেশ 
পর্যন্ত সর্বত্র নতুন পাথরের যুগের সংস্কৃতি ছড়িয়ে পড়েছিল। এ সময় মানুষ 
পশুতে চাকা লাঙল, চাকাওয়ালা গাড়ি, পালওয়ালা নৌকা, কুমারের চাক, 
প্রাথমিক ধাতুশিল্প অর্থাৎ তামার আকর থেকে তামা নিষ্কাশন, প্রাথমিক ধরনের 
সৌর পঞ্জিকা প্রভৃতির আবিষ্কার করেছিল । নগরসভ্যতা যুগে উত্তরণের মধ্যবর্তী 
কালকে “তাশ্রযুগ' বা “তাম্তরোপলীয় যুগ' বা “তাগ্র প্রস্তর যুগ" হিসেবে 





প্রাচীন মিশরের একটি কামারশাল 


্রত্রতান্তিকরা অভিহিত করেছেন। আবিষ্কারের মাধ্যমে মানুষ প্রথমে মিশর ও 
পরে ব্যাবিলনেই প্রথম নগর সভ্যতা স্থাপন করেছিল বলে পণ্তিতরা মনে করেন। 


বরফ যুগের সেই আদিম মানুষ বা তাদের উত্তরসূরি বন্য গুহা ছেড়ে উন্নততর 
জীবন-যাপনের তাগিদে নগর পত্তন করে, খাদ্যের জন্য পশ্ড শিকারের উপর 
নির্ভরশীল না থেকে কৃষিজ জীবন পদ্ধতি ও নগরকেন্দ্রিক জীবন যাপনে এগিয়ে 
যায়। সামাজিক জীবন বোধের মধ্য দিয়ে এগিয়ে যায় শিল্প-সাহিত্য, ধর্ম-দর্শন, 
স্থাপত্য ইত্যাদি ক্ষেত্রে সভ্যতার দিকে । এভাবেই শুরু হয় সভ্যতা যাত্রা । 


23 


ভাষার উৎপত্তি 


করে এবং সন-তারিখ নির্দিষ্ট করে তা বলতে পারেন না। ভাষার উৎপত্তি 
সম্পর্কিত প্রতিটি তথ্যই অনুমান সাপেক্ষ । কারণ ভাষা উৎপত্তি সম্পর্কে তো 
আর আমরা কোন প্রস্তরখণ্ড বা চিহ্ন আবিষ্কার করতে পারি না। লেখ্যরীতি 
আবিষ্কারের পূর্বে ভাষা সম্পর্কিত কোন তথ্য উদ্ঘাটনের কোন প্রক্রিয়াও নেই। 
এক্ষেত্রে বিভিন্ন ভাষা বিজ্ঞানীরা মানব বিবর্তন ও সমাজ-সংস্কৃতির ক্রম বিকাশের 
ওপর ভিত্তি করে সিদ্ধান্ত নিয়ে থাকেন । তবে অনুমান করা হয়, পুরাপলীয় যুগে 
ভাষার সৃষ্টি। কারণ এ প্রস্তর যুগেই মানুষের প্রতিকূল পরিবেশে জীবন-যাপনের 
জন্য একে অন্যের সাথে ভাব বিনিময়ের দরকার হয়ে পড়ে । সম্ভবত এসময় 
অস্তিত্ব রক্ষার প্রয়োজনের মানুষ একে অন্যের নিকট তার মনোভাব প্রকাশ 
করতে চাইতো । হিংস্র বন্য জানোয়ার থেকে রক্ষা ও শিকার করে বাচার তাগিদে 
মানুষ তার মনোভাব প্রকাশ করার জন্য বিভিন্ন ধ্বনি উচ্চারণ করতো । ক্রমশ 
সেই ধ্বনি যখন কোন বন্ত বা বিষয়কে চিহ্নিত করে তা ভাষার শুরু বলে অনুমান 
করা যেতে পারে । অনুমান করা হয় বরফ যুগের দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্তরে এসে 
মানুষের জীবন রক্ষা ও বাঁচার তাগিদের সুবর্ণ প্রভাতে ভাষার উন্মেষ ঘটে 


প্রিসটোসিন (181500616) কালের মহাবরফ যুগে ভাষার যাত্রায় মানুষের 
ভাবের বিনিময় পদ্ধতির সুগঠিত বিকাশ ঘটতে থাকে বলে ভাষাবিজ্ঞানীরা মনে 
করে থাকেন। ভাষার উৎপত্তি সম্পর্কে যথার্থ প্রামাণ্য না থাকলেও বিভিন্ন 
ভাষাবিজ্ঞানী বিভিন্নভাবে ভাষার উৎপত্তি সম্পর্কে বিভিন্ন মত ব্যক্ত করেছেন । 


116 190-8/0$/ 11601%- মতে, প্রাকৃতিক শব্দ, পশু-পাখির চিৎকার, গর্জনের 
অনুকরণে মানুষ আদিম ভাষা সৃষ্টি করেছিল । এ তন্তু মতালম্বীরা বিভিন্ন শব্দকারী 
প্রাণীর সঙ্গে তার নামের মিল দেখে এ সিদ্ধান্তে উপনীত হন। গ্রীক দার্শনিকগণ 


24 





25 


বিশেষ করে প্লেটো এ মতবাদের সর্মঘন করেন। এ মতের সমর্থনকারীরা মনে 
করেন পৃথিবীতে আমরা যে শব্দ শুনি সে শব্দ অনুসারেই সে বস্তর নামকরণ করা 
হয়েছিল। কিন্তু ধ্বনি পরিবর্তন বা অন্যান্য কারণে পরবর্তী সময়ে এ নামের 
বিকৃত হতে পারে । এভাবেই ভাষার জন্মু। ভাষাবিজ্ঞানীরা এ মতবাদকে অনুকার 
শব্দ মতবাদ বা শব্দ-প্রতীক মতবাদ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন । 


1116 [00901 0001 01601%-মতে, আদিম মানুষের সহজাত আবেগ, উচ্ছাস, 
আনন্দ, বেদনা প্রভৃতি প্রকাশের মুহুর্তেই ভাষার সৃষ্টি। আদিম মানুষেরা এসব 
মানসিক অবস্থা প্রকাশ করা থেকেই ভাষার উদ্ভব ঘটান বলে এ সুত্রপন্থীরা মনে 
করেন । ম্যাক্সমূলার বলেন “সচেতন পদ্ধতিতে সৃষ্ট ভাষার শুরু সে মুহুর্তেই 
হয়েছিল-যখন সহজাত আবেগ প্রকাশক শব্দকে (11091190001) মানুষ নিয়ন্ত্রণ 
করে সুসংস্কৃত রূপ দিল। এক কথায় আবেগ-প্রকাশক ভূমিকা যেখানে শেষ 
হয়েছে, সত্যিকার ভাষার অভিযাত্রা শুরু হয়েছে ঠিক সেক্ষণে ।” 


1116 0170 10010 711601%-মতে, আদিম মানুষ তাদের নতুন প্রজন্মকে 
জীবনসংগ্রামে টিকে থাকার জন্য যে শিক্ষা দিত তা থেকেই ভাষার সৃষ্টি । আদিম 
করতো । এবং নিজে সে শব্দ বা আওয়াজের দ্বারা তা বোঝানোর চেষ্টা করতো । 
ভাষাবিজ্ঞানীরা অবশ্য এ তত্তুকে তেমন গুরুত্ব দেন নি। 


1116 ০4164110711601%-মতে, আদিম যুগে মানুষ যৌথভাবে পরিশ্রম করার 
সময়ে দৈহিক মানসিক শক্তিকে উদ্দীপ্ত করার জন্য নানা ধ্বনি উচ্চারণ করতো 
এবং এসব ধ্বনি থেকেই ভাষার উৎপত্তি । আদিম সমাজের মানুষের দলগতভাবে 
শিকারের জন্য বা যাদু নির্ভরশীলতার জন্য বিভিন্ন রকমের উত্তেজক ধ্বনি 
উচ্চারণ করতো এ থেকেই ভাষার উৎপত্তি বলে এ মতালম্বীগণ মনে করেন। 
ম্যারিওপী (দি স্টোরি অব ল্যাংগুয়েজ), এস ডায়ামন্ড (দি হিস্ট্রি এন্ড অরিজিন 
অব ল্যাংগুয়েজ), চার্লস বারবার (দি ইনফ্লাক্স অব ল্যাংগুয়েজ) আধুনিক বলে 
মনে করেন। 


26 


এছাড়াও প্রচলিত আছে 16 96910161160, 1716 11019108| 111601, 
1116 00108071901 নামে ভাষার উৎপত্তি সম্পর্কে নানা মতবাদ । যা হোক 
নিঃসৃত যে ধ্বনি উচ্চারিত হতো তা থেকেই ভাষার সৃষ্টি । 


ভাষার উৎপত্তি নিয়ে এখনো রহস্যই রয়েই গেছে আশা করি ভবিষ্যতে বিজ্ঞান ও 
প্রযুক্তির অগ্রগতির ফলে একদিন প্রমাণসাপেক্ষ সবাই জানতে পারবো । যা হোক 
ভাষার সৃষ্টি হতে থাকে। এভাবেই পৃথিবীতে হাজার হাজার ভাষার উদ্ভব ঘটে। 
ভাষা মূলত সৃষ্টি হয়েছিল মানুষের সামাজিক জীবন রক্ষার তাগিদে। জন বা 
সমাজ বিচ্ছিন্ন কোন ভাষাই দীর্ঘদিন টিকে থাকে না। যেমন বর্তমান ল্যাটিন 
ভাষা, হিব্রু ভাষা, সংস্কৃত ভাষা ইত্যাদি। মানুষ সমাজ জীবনের জন্যই ভাষার 
সৃষ্টি করেছে। প্রসঙ্গত উল্লেখ্য যে, আধুনিক ভাষা বিজ্ঞানীরা গবেষণা করে 
দেখেছেন, প্রায় প্রতি ১০ কি. মি. পর পর ভাষার পরিবর্তন ঘটে থাকে। 
আজকের আমাদের চারপাশে তাকালেও আমরা দেখবো, বাংলাদেশ একটি ছোট্ট 
দেশ অথচ এখানে বহু ভাষার ব্যবহার লক্ষ্য করা যায়। সাধারণত সংখ্যা লঘু 
জনগোষ্ঠী উপজাতিদের মধ্যেই বর্তমানে প্রায় ৩২টি ভাষা প্রচলিত আছে। অত- 
এব, পুরোপলীয় যুগে ভাষা আবিষ্কারের পর বিভিন্ন অঞ্চল ও জাতিগোষ্ঠীর 
ভিত্তিতে ভিন্নরূপ ভাষার সৃষ্টি হতে থাকে। 





151218158) 





সভ্যতার গোড়া পত্তন 


নৃতন্টুবিদরা মনে করেন পৃথিবীর প্রথম সভ্যতা গড়ে উঠেছিল উত্তর আফ্রিকা ও 
এশিয়ায় । পুরান পলীয়যুগের গ্রাম্যসংক্কৃতির বিলোপ ঘটিয়ে যে নগরসভ্যতার 
সূত্রপাত ঘটে তা দিয়েই মূলত সভ্যতার গোড়া পত্তন হয়। সভ্যতার গোড়া পত্তন 
ধরা হয় আনুমানিক আজ থেকে সাত হাজার বছর পূর্বে । মনে করা হয় মিশরীয় 
সভ্যতা ও মেসোপটমীয় সভ্যতা প্রায় একই সময়ে বিদ্যমান। মেসোপটমীয় 
অঞ্চলভূক্ত সুমেরু সভ্যতা প্রাচীন হলেও নগর সভ্যতার দিক থেকে মিশরীয় 
সভ্যতা সবার আগে । সুমেরু সভ্যতা দিয়ে পৃথিবীর সভ্যতা শুরু হলেও মিশরীই 
প্রথম নগর সভ্যতা গড়ে ওঠে। পরে সুমেরু ও তার পাশ্ব্তী প্রায় কয়েকটি 
জাতিগোষ্ঠী নিয়ে মেসোপটমীয় নগর সভ্যতা গড়ে ওঠে। পশ্চিম এশিয়ার 
টাইগ্রীস ও ইউফ্রেটাস নদীর তীরে এবং উত্তর আফ্রিকার নীল নদের অববাহিকায় 
যে সভ্যতা ও সমাজ গড়ে উঠেছিল পুরাতন্তবিদরা সে সম্পর্কে বেশ জুড়ালো 
তথ্যই উদঘাটন করেছেন । ভারতবর্ষের সিন্ধু-গঙ্গার তীরে এবং চীনের 


হোয়াংহোর তীরে যে সভ্যতার বিকাশ ঘটেছিল তাও সুশ্রাটীন বলে অনেক 
্রত্তান্তিক মনে করেন। কিন্তু যথেষ্ট সভ্যতা সম্পর্কিত তথ্যের অভাবে তা বেশ 
রাষট্প্রথা ও সংস্কৃতির বিকাশের কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে বিবেচনা করা হয়। 


১) কালক্রমে এক যাযাবর আদিম জাতি উন্নততর জীবন-যাত্রার তাগিদে 
নবোপলীয় যুগ থেকে বের হয়ে খরিস্টপূর্ব ৫০০০ থেকে ৫২৫ অব্দ পর্যন্ত নীল 
নদের অববাহিকায় সে সভ্যতা গড়ে তুলেছিল তাই মিশরীয় সভ্যতা নামে 
পরিচিত। এশিয়া, আফ্রিকা ও ইউরোপের সন্নিকটে নীল নদের অববাহিকায় 
গড়ে ওঠে মিশরীয় সভ্যতা । উপত্যকা এলাকাকে উচ্চ মিশর ও ভূমধ্যসাগর 
পর্যন্ত যে বছীপ অঞ্চল তা নিম্ন মিশর হিসেবে পরিচিত ছিল। মিশরের 
অভিহিত করেছেন। প্রাক-রাজবংশীয় যুগের শুরুতে মিশরে কোনো রাষ্ট্রীয় 
সংগঠন ছিল না। পরবর্তীকালে বনু ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র নগররাষ্ট্রের উদ্ভব ঘটে । মেনেস 


29 


নামীয় এক রাজা সমগ্ মিশরকে এক্যবদ্ধ করে এক জাতি ও এক রাষ্ট্রের আও- 
তাভুক্ত করেন। তার সময় থেকেই রাজবংশের সূত্রপাত ঘটে । মিসরের বং- 
শানুক্রমিক রাজদের 'ফারাও' বলা হতো । “ফারাও' শব্দের অর্থ বৃহৎ গৃহ বা 
রাজবাড়ি। এ বংশের রাজাগণ বড় বড় রাজপ্রাসাদে বাস করতেন বলে 
তাদেরকে “ফারাও' বলা হতো । খ্রিস্টপূর্ব ৫২৫ পর্যন্ত ফারাওদের শাসিত মিশর 


“উপরি ৩. 


ধ! 1 রং ্ঃ ) 1০. 


রি 


4 /ঃ এ নু 
7 চি [টং ১788১, 


০১ ১ এ কা &৫ এ 
ঙ ্ ক 
. ঘা 4/%ূ ন্‌ ৩ 





প্রাচীন মিশরে চাষবাসের কাজে মানুষ ব্যস্ত 


পাসীদের অধীনে চলে গেলে এ সভ্যতার ধ্বংস হয়। পরে আবার ৩৩২ খিস্ট 
পূর্বান্দে গ্রীক বীর আলেকজান্ডার মিশর অধিকার করেন । 


আলেকজান্ডারের মৃত্যুর পর তার এক ঘ্রীক সেনাপতি মিশর করায়ত্ত করে 
“লেমি রাজবংশ" প্রতিষ্ঠা করেন । মিশরের বিখ্যাত রাণী “ক্রিওপ্ট্রো এই গ্রীক 
অভিজাত, লিপিকর, ব্যবসায়ী, শিল্পী, কৃষক ও ভূমিদাস শ্রেণীর মানুষ বিদ্যমান 
ছিল। প্রাচীন সমগ্র সভ্যতার মধ্যে মিশরীয়রা কৃষি; শিল্প সাহিত্যে এগিয়ে ছিল। 
হাড়, কাদামাটি, হাতির দাত, চামড়া, কাপড়, প্যাপিরাস প্রভৃতির মধ্যে লিখে 
রাখতো । 


30 


মক্কোয় রক্ষিত “মস্কো প্যাপিরাস* এবং বৃটিশ মিউজিয়ামে রক্ষিত খিস্টপূর্ব 
১৫০০ থেকে ১৭০০ পূর্বাব্দের কাছাকাটি আহমেস নামে এক পুরোহিতের রচিত 
“রাইন্ড প্যাপিরাস* বা “আহমেস প্যাপিরাস' মিশরীয় সভ্যতার শিল্প-সাহিত্যের 
অনেক পরিচয় দেয়। মিশরীয় সভ্যতার একটি গুরুত্বপূর্ণ আচার মৃতদেহকে মমি 
করে রাখা । মিশরীয়দের বিশ্বাস ছিল মানুষ মরে যাবার পরেও যদি তার দেহকে 
সংরক্ষণ করা যায়, তবে এ দেহে তার আত্মা ফিরে আসে । তাই ব্যয়সাপেক্ষ 
বলে সম্রাট ও অভিজাত দাসমালিক শ্রেণীরা তাদের মৃত্যুর পর দেহকে মমি করে 
রাখতো । প্রথমে মৃত দেহের মাথা ফুটো করে মগজটা বের করে নিত এবং পেট 
ওষুধ দিয়ে ধুরে আলাদা কীচের পাত্রে ডুবিয়ে রাখতো । তারপর শরীরটাকে 
একটি ওষুধ ভর্তি কাচের পাত্রে গলা পর্যন্ত ডুবিয়ে রাখতো । ওষুধের প্রভাবে 





31 


শরীরের চামড়া ও চর্বি গলে যেত। মৃতদেহটিকে তখন বের করে ভালো করে 
শুকানো হত। তারপর এক ধরনের আঠালো ওষুধ শরীরের ভেতরে ভরে দেয়া 
হতো এবং গায়ের ওপর বিশেষ এক ধরনের মলম মেখে তাকে কাপড় দিয়ে 
ভালো করে জড়িয়ে বাধা হতো। এভাবেই মৃতদেহকে সংরক্ষণ করা হতো। 
নতুন পলীয় যুগ পর্যন্ত সমাজের প্রত্যেক স্তরের মানুষই ছিল সমান । কিন্তু প্রাটীন 
মিশরীয় সভ্যতায়ই প্রথম দাস প্রথার উদ্ভব ঘটে । 


২) একইভাবে নবপলীয় যুগ থেকে বের হয়ে আনুমানিক খিিস্টপূর্ব ৫০০০ থেকে 
৪০০০ অবন্দের পূর্বে একদশ যাযাবর জাতি টাইত্রীস ও ইউফেটাসের 
অববাহিকায় সেন্নার নাম স্থানে বসবাসের অনুকূল অবস্থা পর্যবেক্ষণ করে বসবাস 
করতে শুরু করে। এদের উৎপত্তিস্থল এখন পর্যন্ত অজানা, তবে অনুমান করা 
হয় মধ্য এশিয়ার মালভূমি থেকে এরা এসেছিল। এ সভ্যতাই সুমেরু সভ্যতা 
হিসেবে পরিচিত। পরবর্তীতে এর বিস্তৃতি ঘটে মেসোপটমীয় সভ্যতায় রূপ 
নেয়। মেসোপটেমীয় সভ্যতা সুমেরু দিয়ে শুরু হলেও পরবর্তীতে আক্কাদীয়, 
আমোদীয়, ক্যাসাইট, এসেরীয় ও ক্যালভীয় জাতিগোষ্ঠী মিলে এ সভ্যতা গড়ে 
০০৮০৮০০০৮০৮ 
৫ ০ ০ 
[থম 
দিকে 
চির 
সভ্যতায় প্রায় 
২০টি নগররাষ্ট্র 
গড়ে উঠেছিল। 





39 


সুমেরীয়রাই রচনা করেছিল । 


৩) ভারতীয় উপমহাদেশের বিভিন্ন স্থানে পুরান পাথরের যুগের বিভিন্ন নির্দশন 
সিন্ধু নদী অবিবাহিকায় সভ্যতার বিকাশ ঘটেছিল। প্রত্নতান্তিকরা বলেন, 





নবোপলীয় যুগের মৃতপাত্র 


ভারতের সিন্ধু নদীর অববাহিকায় খ্রিস্টপূর্ব ৪০০০ অন্দের দিকে গড়ে উঠেছিল 
সিন্ধু সভ্যতা । সিন্ধু সভ্যতার প্রথম দিকে সিন্ধু নদীর কুলবর্তী এলাকা নিয়ে 
গঠিত অংশই বোঝাতো কিন্তু কালক্রমে এ সভ্যতার বিস্তৃতি ঘটতে থাকে। 
এতিহাসিকরা খ্রিস্টপূর্ব ৩৫০০-২৫০০ অব্দের সময়কালকে সিন্ধু সভ্যতার 
স্বর্ণযুগ বলে অভিহিত করেছেন। সিন্ধু সভ্যতার দুটি গুরুত্বপূর্ণ নগরী 


33 


মহোঞ্জোদারো ও হরঙ্পায় প্রাপ্ত বিভিন্ন তৈজস বন্ত ও সীলের মধ্যে দিয়ে তারই 
প্রমাণ মিলে । সম্প্রতি জাহাঙ্গীর নগর বিশ্ববিদ্যায়ের প্রত্বতত্ত বিভাগ বর্তমান 
নরসিংদীর দুটি এলাকায় খনন কাজ শুরু করেছে। আশা করা যাচ্ছে সিন্ধু 
সভ্যতা সম্পর্কে অনেক তথ্যই উদ্ধার হবে এ খননের মধ্য দিয়ে । 


৪) চীনের হোয়াংহো নদীর তীরেও প্রাচীন কালে গড়ে উঠেছিল সভ্যতা । চীনে 
প্রাচীনতম মানুষের বা অর্ধমানবের ফসিল পাওয়া গেছে। চীনের পিকিং- অঞ্চলে 
প্রাপ্ত পুরোপলীয় যুগের মানুষের ফসিল অনুসারে কল্পনা করা হয় প্রস্তর যুগে 
চীনেও আদিম মানুষের বাস ছিল । চীনের ইয়াং শাও এবং লুং শান নামক স্থানের 
নগররাষ্ট্রের উভবের মধ্য দিয়ে চীন সভ্যতার উভ্ভব হয়। ২২০০ খিস্টপূর্বান্দে 
ইয়াং শান সংস্কৃতির বিকাশ ঘটেছিল বলে পণ্তিতরা মনে করেন। 


ইয়াং শাও সংস্কৃতির মানুষ ছিল কৃষিজীবী এবং তারা কুকুর ও শুকরকে পোষ 
মানিয়েছিল বলে পন্তিরা অনুমান করেন। চীন সভ্যতায় পলীয় যুগের এক স্তর 
থেকে অন্যস্তরে রূপান্তরের কোন চিহৃই চোখে পড়ে না। কিন্ত প্রাপ্ত নিদর্শনের 
ভিত্তিতে দেখা যায় চীন সভ্যতার সময়কাল অনেক প্রাচীন । মূল চৈনিক সভ্যতার 
সঙ্গে যুক্ত ছিল তিব্বত, সিংকিয়াং, মঙ্গোলিয়া এবং মাঞ্চুলিয়া। আবিষ্কৃত 
কচ্ছপের খোলে লিখিত ভাষ্য অনুসারে অনুমান করা হয় তাদের সভ্যতা অনেক 
প্রাচীন। সে সভ্যতায় লিখন রীতি ছিল। সে সভ্যতায় সিক্ষ তৈরি করার রীতি 
ছিল, চাষাবাদ ছিল এবং ছিল রাস্তাঘাট তথা নির্মাণ স্থাপত্যের বিভিন্ন কৌশল । 


34 


লিপির উন্মেষ 


ধ্বনি থেকে ভাষার সৃজন হলে স্বভাবতই ভাষার পরে লিপির সৃষ্টি । সভ্যতার শুরু 
ব্যবহার করতো । সে ব্যবহৃত প্রতীক দিয়ে মনের ভাব প্রকাশ করতো। এ 
ব্যবহৃত প্রতীকই পরবর্তী কালে লিপি হিসেবে পরিগণিত হয়। বর্তমানে আবিষ্কৃ 
ত বিভিন্ন গুহা চিত্রের মাধ্যমে এ বিষয়টি দেখা যায়। বিভিন্ন গুহায় অস্কিত চিত্রে 
বিভিন্ন মানুষ, পশুপাখির ছবির সাথে বিভিন্ন রকমের চিহ্ন দেখা যায়। এ চিহ্ৃই 
লিপির উন্মোষের প্রথম ধাপ বলে ভেবে নেওয়া যেতে পারে । এসব চিত্র থেকে 
সহজেই অনুমান করা যায়, তৎকালীন গুহাবাসী মানুষ কোন বিষয়কে বোঝানোর 
জন্য তার ছবি এঁকে অন্যকে বোঝাতো, এভাবেই লিপির জন্ম বলে ভাষাবিজ্ঞানী 
ও নৃতত্তবিদরা মনে করেন । এর সময়কাল সম্ভবত পুরান পাথর যুগ । 


পুরান পাথর যুগ থেকে বেরিয়ে ক্রমশ মানুষ নতুন পাথর যুগের দিকে বিকাশমান 
হতে থাকে । এ সময়কার মানুষের ব্যবহৃত এ প্রতীকগুলি ক্রমশ সাংকেতিক 
থেকে সাংকেতিক স্তরে পৌঁছে যেতে থাকে । এ সাংকেতিক স্তরে পৌছেই লিপি 
নামে আখ্যা পায় বলে মনে করা যেতে পারে। এ বিষয়ের ধারণা সম্পর্কে 
সত্যতার প্রমাণ মেলে বিভিন্ন গুহা চিত্রগুলোর মধ্যে একই ধরনের চিত্রসমন্বয় 
দেখে। প্রতিটি গুহাতেই দেখা যায় তাদের কর্মপদ্ধতি বা জীবনভূমিকা এঁকে 
এঁকে প্রকাশ করার মানসিকতা । এ থেকে স্থির সিদ্ধান্তে উপনীত হওয়া যায় যে, 
এ যুগের মানুষ ভাব প্রকাশ করার জন্য বা কোন বিষয় অন্যকে বোঝানোর জন্য 
চিত্র এঁকে এঁকে বোঝাতো । এ চিত্রের প্রতীকায়ন থেকে পরবর্তী সভ্যতায় লিপির 
উন্মেষ ঘটে বলে মনে করা যেতে পারে । এ গুহাচিত্রের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো 
স্পেন ও ফ্রান্সের গুহাচিত্রগ্ুলো ৷ 


এ কে এম শাহনেওয়াজ তার “বিশ্ব সভ্যতা" গ্রন্থে মন্তব্য করেন যে, আদিম 
মানুষ তাদের এ চিত্র আশ্রয়স্থলে সৌন্দর্যবৃদ্ধি, দর্শক মনোরঞ্জন কিংবা নান্দনিক 
চিন্তা থেকে আঁকে নি বরং জীবনসং্রামের কঠোর বাস্তবতা তথা পরবর্তী 
প্রজন্ুকে শেখানোর জন্য মনের ভাবগুলি এভাবে তারা এঁকে প্রকাশ করতো । যা 


35 


হোক মানুষ ইচ্ছা করে আবিষ্কার করে নি বরং জীবনযাপনের তাগিদেই নতুন 
কিছুর জন্ম নিয়েছে। 


এ প্রসঙ্গে একটি চমতকার উদাহরণ দিয়েছেন দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায় ও রমাকৃ 
ষ্ মৈত্র তাদের “পৃথিবীর ইতিহাস" গ্রন্থ । তারা দেখিয়েছেন মাত্র কয়েকশ বছর 
আগে আমেরিকার সাতটি আদিম রেড ইন্ডিয়ান উপজাতি একমত হয়ে 
আমেরিকা সরকারের কাছে উপরোক্ত আবেদন পত্রটি বেশ পেশ করেন। 
আবেদনটি কোন শব্দ বা বাক্য দিয়ে গঠিত নয়। কিছু রেখা টেনে একটি সম্পূর্ণ 
বক্তব্য প্রকাশ করা । উপরোক্ত চিত্রে প্রতিটি উপজাতির নিজ নিজ টোটেম প্রতীক 
অস্কিত করে প্রত্যেকের চোখ ও অন্তর একসূত্রে গ্রথিত করে সবার একমত ও 





একলক্ষ জ্ঞাপন করা হয়েছে । দলের মুখপাত্র হিসেবে সারস পক্ষীর টোটেম 
জাতিকে দেখা যাচ্ছে । আবেদনে সরকারের কাছে তারা বিশেষ এক এলাকায় 
মাছ ধরার অধিকার প্রার্থণা করেছিল । এ চিত্র থেকেই অনুমান করা যায় প্রাচীন 
কালে মানুষ তার মনের ভাব অন্যের কাছে বোঝানো জন্য এভাবেই হয়ত প্রতীক 
ব্যবহার করতো । যা বর্তমানে আমরা লিপি হিসেবে গণ্য করে থাকি। এভাবেই 
করেছিল। 


ব্রোঞ্জ যুগের পরবর্তী সময়ে মিশরে নগরসভ্যতার সূচনা হয় । কৃষিকাজকে প্রধান 


পেশা হিসেবে বেছে নিয়ে মানুষের জীবন যাত্রা নির্বাহ হতে থাকে । একটি প্রধান 
নগরকে কেন্দ্র করে মানুষ নাগরিক জীবন যাপন করতে থাকে । সামাজিক জীবন 


36 


যাপনের সুবিধার্থে মানুষের মধ্যে ভাব বিনিময়ের দরকার একান্ত আবশ্যক হয়ে 
পড়ে। পূর্বেই বর্ণিত হয়েছে এ সময় ভাষার ব্যাপক ব্যবহার হয়। কিন্তু লিখিত 
কোন বিষয়ও প্রয়োজন হয় । 


সামাজিক জীবনের এ চাহিদা থেকেই লিখন পদ্ধতির আবিষ্কার ঘটে। গুহা 
জীবনের যে চিত্র ব্যবহার হতো তারই অনুসরণে প্রতীকায়িত লিখন প্রক্রিয়া শুরু 
হয় বলে অনুমান করা যেতে পারে। এ সময় সামাজিক প্রয়োজনে মানুষ 
সম্পদের হিসাব রাখা, ব্যবসা-বাণিজ্য, খণ দেওয়া বা খণ ফেরত নেওয়ার জন্য 
যে চিহ্ন বা স্মারক ব্যবহার করতো তা থেকেই আজকের আধুনিক লিপির 
উন্মোষ। উদাহরণস্বরূপ বলা যায় - একজন অন্যকে দশটি পশু খণ দিবে, কিন্তু 
কীভাবে মনে রাখবে খণদাতা । তাই মনে রাখার বিকল্প হিসেবে লিখে রাখার 
প্রবর্তন হয়। হয়ত সে সময় খণদাতা সে দশটি পশুর ছবি এঁকে রাখতো । যাতে 
এ দশটি পশুর ছবি দেখলেই বোঝতে পারে যে, দশটি পশু খণ দেওয়া হয়েছে। 
খণদাতা যাতে ভূলে না গিয়ে খণ আদায় করতে পারে এ জন্যই এরূপ প্রক্রিয়ার 
প্রবর্তন । পপ্তিতরা মনে করেন, মিশরীয় সভ্যতায় এভাবেই লিপির উন্মেষ ঘটে । 


পৃথিবীর প্রাচীন সভ্যতা নিয়ে গবেষকগণ মনে করেন, সুমেরু সভ্যতাকে পৃথিবীর 
লিপির উন্মেষ ঘটে । এ পক্ষের যুক্তি আরও দৃঢ়মূল হয়েছে এভাবে যে, যেহেতু 
সুমেরু সভ্যতাই পৃথিবীর প্রথম সভ্যতা অতএব সামাজিক প্রয়োজনে তাদের 
মধ্যেই প্রথম লিপির উন্মেষ হয়েছে বলেই বেশি গ্রহণযোগ্য । আবার এ মতের 
বিপক্ষেও কোন কোন গবেষকদের অবস্থান দেখা যায় । 


যদিও সুমেরীয় সভ্যতাই পৃথিবীর প্রাচীনতম সভ্যতা কিন্তু নগরসভ্যতার দিক 
থেকে মিশরীয় সভ্যতাই প্রথম । অঞ্চল হিসেবে সুমেরু মেসোপটমীয় সভ্যতার 
অঙ্গীভূত একটি অঞ্চল। পরবতীকালে মেসোপটেমিয়ায় ব্যাবিলনীয়, এসেরীয়, 
ক্যালভীয় প্রভৃতি সভ্যতার উন্মেষ ঘটেছিল। এই সমুদয় সভ্যতা একযোগে 
অন্তর্ভুক্ত কিছু সভ্যতার চেয়ে মিশরীয় সভ্যতা প্রাচীন । অপরপক্ষে অঞ্চল বিচারে 


37 


মিশরীয় সভ্যতা এক ও অখণ্ড। নগরসভ্যতা ও শিল্প-সাহিত্য, দর্শন কেন্দ্রিক 
মিশরীয় সভ্যতা অগ্রজ । 


$05)835)41শাত লো 2১ 
১₹০-/58৮5-58101-2-ধ 
৪996- হে ।নু এ।৩তিচশু 
১৫/১%1% 11 42114 টপ 
56166545515 শন ৮ 
/$১01-৮22৭1-1100-2-11 ্ 
লিখ যা উ৯১30২16$5555 
৮11১৩11- ৭4. 2 এ 2০০১৮ 
22575 ৩%৮225-0655) 
৬৬ $4 1১2০ 552 ২৪৮ স্ ) 


05555 ও 51৯2515372৩ 











“মিশরের হায়ারোগ্রিফিক লিপি 


গ্রীফিথসের “দি স্টোরি অব লেটার এন্ড নাম্বারস্* এ মিসরীয় সভ্যতায় ব্যবহৃত 
লিখন পদ্ধতিকে পৃথিবীর প্রাচীনতম লিপি বলে উল্লেখ করেন। 


খিস্টপূর্ব ৪০০০-৩০০০ পূর্বে বোঞ্জ যুগে মিশরে এবং মেসোপটমীয়ার সুমেরুতে 
প্রায় একই সময় লিপির প্রচলন শুরু হয় বলে অনেকে অনুমান করেন । মিশরের 
লিপিকে বলা হতো 'হায়ারোগ্রিফিক" (1161001/01) যার অর্থ পবিত্র লিপি। 
সুমেরু ও পরবর্তীকালে ব্যবিলনীয়ার লিপিকে বলা হতো “কিউনিকর্ম' । 


পুড়িয়ে শক্ত করা হতো। লেখাগ্ডলোকে দেখতে কীলকের মতো মনে হতো । 


38 


তাই এ লেখাগুলোর নাম দেওয়া হয়েছে কীলকলিপি বা কিউনিফর্ম 
(০0176100111) 


পুরাতত্ুবিদ স্যার লেনার্ড উলি “হিস্ট্রি অব ম্যানকাইন্ত' গ্রন্থে পুরাতত্রের সাক্ষ্য 
থেকে সুন্দরভাবে প্রমাণ করেছেন যে, দক্ষিণ মেসোপটেমীয়ার সুমেরু অঞ্চলেই 
প্রথম লেখন পদ্ধতির উদ্ভব ঘটেছিল। তিনি আরও দেখিয়েছেন যে, সুমেরীয় 
ভাষা লেখন ও লিপির উদ্ভাবনের অনুকূল ছিল । 


চিত্রলিপি থেকে ভাবব্যপ্তক ও আক্ষরিক লিপির ক্রমবিকাশ 





সুমেরু ভাষার মূল শব্দ অধিকাংশই ছিল এক বা দুই সিলেবলবিশিষ্ট । ফলে এ 
সব শব্দের চিত্ররূপসমূহকে পাশাপাশি স্থাপন করলে এবং পর পর পড়ে গেলে 
নতুন শব্দ গঠিত হতে পারে, ঠিক যেভাবে পর পর ধ্বনি উচ্চারণ করলে শব্দ 
উচ্চারিত হয়। পণ্ডিতরা অনুমান করেন যে, সুমেরুতে প্রথম লিপির উদ্ভব হলেও 
তা আধুনিক যুগের মানুষের কাছে যথার্থভাবে পৌঁছে নি। তারা সংক্কৃতিগত ভাবে 
মিশরীয়দের মতো এতো সমৃদ্ধ ছিল না। ফলে ইতিহাসে মিশরীয় সভ্যতায় 
ব্যবহৃত লিপিই প্রথম লিপি হিসেবে পরিচিত লাভ করে । কিন্ত পৃথিবীর প্রথম 
মহাকাব্য সুমেরুরাই রচনা করেছিল । আনুমানিক খিস্টপূর্ব ২০০০ অব্দের দিকে 
“গিলগামেশ* নামে এক মহাকাব্য সুমেরীয় সাহিত্যে পাওয়া যায়। এ 
“গিলগামেশ* মহাকাব্যটি লেখা হয়েছিল কিউনিফর্ম লিপিতে । 


পরিপূর্ণ রূপ পায়। এ লিপির ওপর ভিত্তিরে মিশরে প্রথম চিত্রলিপির উ্ব ঘটে । 
ঘটে যায়। সুমেরুদের ভাষার অনুকূলের জন্য চিত্রলিপি থেকে সহজে অক্ষর 
লিপিতে রূপান্তরিত হয়েছে। যেমন- বর্তমান ইংরেজি শব্দ “বী” (ইবব) মানে 
মৌমাছি। হায়ারোগ্রিফিক লিপি মৌমাছির ছবি দিয়ে “বী' ধ্বনিটিকে বোঝানো 
হতো । কিন্তু সুমেরু ভাষায় “টি* শব্দের অর্থ ছিল দুটি: তীর ও জীবন । এখানে 
“টি' কে তীর টেনে বোঝাতো হতো। কিউনিফর্ম লিপি যখন চিত্রলিপি থেকে 
অক্ষরলিপিতে রূপান্তরিত হয় তখন তীরের ছবি এঁকে জীবনকে বোঝানো হতো । 


যা হোক প্রাচীন মেসোপটেমীয় সভ্যতার অঙ্গীভূত সভ্যতা সুমেরু সভ্যতায় প্রথম 
লেখন পদ্ধতি ও ধ্বনি লিপির উদ্ভব হয়েছিল । কালক্রমে তা তৎকালীন পৃথিবীর 
ইতিহাসবিদ মনে করেন শুধু লেখন পদ্ধতিই নয়, ব্রোঞ্জ যুগের সমাজ কাঠামো 
প্রথমে সুমেরুতে উদ্ভাবিত হয়েছে এবং সেখান থেকে মিশরে বিস্তার ঘটেছে। 
মিশর-মেসোপটমীয়া থেকে মহেঞ্জোদারো, চীন প্রভৃতি স্থানেও বিস্তার ঘটেছে। 
প্রাচীন সভ্যতার অনুকরণে মিশরে, বা মিশর-মেসোপটমীয়ার অনুকরণে 
ভারতীয় উপমহাদেশ ও চীনে লিপি সভ্যতার গোড়াপত্তন ঘটলেও তারপর থেকে 
স্থানীয় বৈশিষ্ট্যের সাথে সঙ্গতি রেখে এসব অঞ্চলে লিপি সভ্যতা কালক্রমে 
স্বতন্ত্রধারায় বিকাশ লাভ করে । 


40 


চিত্রলিপি যুগ 


নবপলীয় যুগের পরবর্তী নগরসভ্যতায় মানুষেরা ছবি এঁকে এঁকে মনের যে ভাব 
প্রকাশ করতো লিপির বিবর্তনের ধারায় এ স্তরকে চিত্রলিপির যুগে হিসেবে কল্পনা 
করা যায়। পূর্বেই উল্লিখিত হয়েছে প্রাচীন মিশরীয়রা ছবি একৈ এঁকে হিসেব 
রাখতো । এ চিত্রলিপি স্তরে পাখি বলতে পাখির ছবি এঁকে বোঝানো হতো । 


০০০ ৯ ০৯ 
৬]5 ১৮৪০ ৭১ - দব 
বব র” স্‌. প্ত 
উঠে সুর্য মধ্যে আকাশ 
মিশরীয় লিপিচিত্র 
(বাঙ্গালায় লিপাস্তর ও অর্থসমেত) ডানদিক হইতে পড়িতে হইবে । 


মিশরীয় সভ্যতায় এ সব চিত্রলিপির জন্য ব্যবহার হত-হাড়, কাদামাটি বা মাটির 
ফলক, পার্চমেন্ট, ভেলাম, কডেক্স, হাতির দাত, কাপড়, পাথর ও প্যাপিরাস। 
প্যাপিরাসই শ্রেষ্ঠ বলে পপ্তিতরা মনে করেন। আজকের লিখন সামশ্বী “কাগজ' 
শব্দটি এ মিশরীয় “প্যাপিরাস' শব্দ থেকেই উডব। 


করে। প্রাক-রাজবংশীয় যুগে মিশরীয় লিপির প্রথম বিকাশ ঘটে । এই ধারার 
লিখন পদ্ধতিতে একটি চিত্র অক্ষরের বিকল্প হিসেবে মনের ভাব প্রকাশ করতো । 
প্রথমদিকে মনের ভাব প্রকাশ করতে এক একটি ছবি বিশেষ চিহ্ন হিসেবে 
ব্যবহার করা হত। ক্রমশ তা সাংকেতিক রূপ পেতে থাকে । ১৭৯৯ খিস্টাব্দে 
মিশরের রোজেটা বা রশিদ নামক স্থানে নেপোলিয়নের সৈন্যরা পরিখা খনন 
করতে গিয়ে একটি পাথরের সন্ধান পান। পরে তা পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে 
পাঠোদ্ধারে দেখেন এটি পঞ্চম টলেমি রাজবংশের সময় লেখা | এতে কিছু কিছু 
ভাববাচক অক্ষর ব্যবহার ছাড়াও মূলত চিত্রলিপির পরবর্তী ধাপ দেখা যায়। 
অনুসন্ধানে দেখা যায় এ রোজেটা পাথরে হায়ারোগ্নিফিক, ডেমোটিক লিপি ও 
গ্রীক ভাষার অক্ষর ব্যবহার করা হয়েছে। এ থেকে অনেক অজানা ইতিহাসের 


4] 


উদ্ধার ঘটে । রোজেটা পাথর থেকে অনুমান করা হয় প্রাচীন মিশরীয় সভ্যতার 
শুরু থেকেই চিত্রলিপির প্রচলন ছিল। টলেমী রাজবংশ প্রতিষ্ঠার পর সে 
চিত্রলিপি বা হায়ারোগ্রিফিক লিপির সঙ্গে বিভিন্ন জাতি-গোষ্ঠীর বর্ণের সংমিশ্রণ 
ঘটেছিল । খস্টপূর্ব ৪০০০ দিকে মিশরীয় সভ্যতায় চিত্রলিপির প্রচলন ছিল বলে 
পন্তিতরা মনে করেন। প্রাচীন মিশরে হায়ারোগ্রিফিক লিপি ছাড়াও আরও 
ডিমোটিক লিপি নামে একটি লিপি বিদ্যমান ছিল। এ লিপিতে একক ব্যঞ্জন 
ধ্বনি বিশিষ্ট ২৪টি ব্যঞ্জন এবং দুই ব্যঞ্জন ধ্বনি বিশিষ্ট ৭৫টি প্রতীক ব্যবহৃত 
হত। 





এই চিত্রলিপির সময়কাল কত শ বছর পর্যন্ত ব্যাপ্ত ছিল তা নিয়ে পণ্ডিতদের 
মধ্যে বিতর্কের অবসান নেই । পপ্ডিতরা মনে করেন টলেমি রাজবংশের পূর্ব পর্যন্ত 
হায়ারোগ্রিফিক লিপি প্রচলন ছিল। আলেকজান্ডার মিশর দখল করলে টলেমি 
শাসন প্রতিষ্ঠার শুরু হয়। তখন বহুভাষা-ভাষীর লোকসমাগম হতে থাকে । ফলে 
লিপি বিবর্তণের ধারায় বর্ণলিপির উন্মেষ ঘটে । অনেক পণ্তিত মনে করেন, 
মিশরীয় হায়ারোগ্রিফিক লিপি বেশি দূর এগোতে পারে নি। 


চিত্রলিপি পদ্ধতির আরো উন্নয়ন ঘটে এবং মনের সম্পূর্ণ ভাব বা কোন পূর্ণাঙ্গ 
শব্দ প্রকাশ করতে ক্রমশ চিত্রের বদলে সেই বিশেষ চিহৃই ব্যবহার হতে থাকে । 


42 


পরবতীতে ক্রীট, প্যালেস্টাইন, ফিনিশিয়া, লিডিয়া প্রভৃতি অঞ্চল মিশর কর্তৃক 
অধিকৃত হলে এ ধরনের হায়ারোগ্রিফিক লিপি এ সমুদয় অঞ্চলে ব্যবহৃত হতে 
থাকে। 


নি টি 
5148147 


৮] 4 44. 
টা শর আযাদ টা] 
- ০ 28551 
51115111981 
7 দাদ 
ট07755712 7 
] ০ ৩1 এ ১ 4 7 বা চা যা 


নিচ ৯. 
(০418১ ৯ ৮০7077-৮১2 কেরি হা 
শা পৃ 0৫2৮0 1৪, পা নং 4১১০১১৮১, ৮৮১4১714 
সাদী ১২041১০৯1১২) ২১২ চলা ৮১৮5 
যাতে ৮81 ৮৮14-77-71 21185577017 টিফিন এক 
দে 97৭ তুর [4 পিল ১৮৭০110 1 সে 4০৮০1 তম 
ইর্গ পপ৬7%77৮754817 / পিল ই 2৮77৮ [তক 
4 (৮১৮১১7-ি৬ ঘ০ টি 005 10315574452115191 পপ পরত 
17৮21) 0149516 টন 1০73 12৮1০,১1৯, 474৮-11-11 5৮ 22 7৮৮9৬ পরা 
বি 4/%দদনি খু লি ১১8৮17177৩8 148 [জজ ০০৮ 7৮1817 
জপ এ:-৮লাপ্থ ৮0৮7 পা 
০ বু 1:৮1 নে 4 ৫ উস 
১/জপপট-৯৮% ৮5: সম ০১৬৭ সিন 
শি ২. ১৭ পুষ্ট 1০174274728 শল্য লট পা সি 38 
৫ 2419 ৮76 455 ০৪৮০২০৮৮১০1 ৮০11 হা পেগ ১8 1৮৮ 
178 971 পা 1৮৮০০ ২52৮1274871 প্রাপীপ ল্য 711792877 
9 15477প%4 তাপ সে এপ শিপুলু পপ বস বি প ৮11 
+১৬১:১০১৮১৮৬৪৫ রব টিপি সন ১৮5দ দা 41874 ৮7৪১ 
সত সুিত ক ০৮ ৫ দর 1৮০2 
সিপিএম ৮ হক টা ৬২%1৮0৮৯১০)১ সত 3257৬4০৯৮) চা গ1 
1 দিবসটি এ খপ 17০৮5 7১ ধাবা ৭২১৯, ১৬২ 
তিক টিএ মান 1 টা রি পদ মা গা শি 
গে) দা রি 
৫2242 ৮2-৭৩শ 2 ১8004477 
রমন শিশ্যপ 7702844২87১ সা ৮ 8 
21 নি উর 79৮ দত 217খ৯ পতি 8 2004 
22১ [1২ পক, টা বাসি মপ ক] 
। পি ১ 17701527254 ঢাগ্ক শি ০৯ প1474৮1 7 ৮ টা 
চে হাস £ যা তখ [0 সপ্ন বন ৯ 
8, % 24:১8 ৮112৮ ৮৪৮31 0 ২১১৮::১1০1847১5 সিরা 
42 ০৮5০1 সি 407 1445 এয 7 1 /। 
ক নয ৮৮৪৮৭ সদন ০৯পবাব৯থাত মা 3 মধ 
৮7৮ ২ লাতিন এ 
০1:59 % 5 শা ৮ 2 টা 


রে 37 


৮১৬: 
277 5 


78 
রঃ ও 2 7 2 রা ৪ ১: ০ 
/ নি ১147 2: 


০৪৭8 


0৬17 না ঘ নর ৩ 
5 বে 075 এর 


24:74: 
৪৮০ 27 এ ৮ ১০৯ ৮ সি 
টে ঠা লি 


. 
0705/4752 ক 


টা 
খিশনয10 
না 1:০৭ 


রা 5 
2 
৭ বাধ 5917 
7 2787 
5: 2১৫ 


905579717 

2 
পয 
৮ & ৮৮ / সা সু 
রা এ 5 
ঠা ০4 

আসবার 
৮:৮7 চত 





ভাবলিপি যুগ 


চিত্রলিপিতে একটি চিত্র কোন বন্তর প্রতীকরূপে অংকিত হতো । পর পর অংকিত 
কতকগুলি বস্তচিত্র মানুষের মনের ভাব প্রকাশ করতো । এ প্রণালিতে স্থুল 
ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য বস্ত ছাড়া কোন সূক্ষ্ম ভাব প্রকাশ অসম্ভব ছিল। তাই পরবর্তী পর্যায়ে 
সৃক্স ভাব প্রকাশের তাগিদে ভাবলিপির (06001911) উন্মেষ ঘটে। ভাব লিপি 
অবশ্য কোন স্বতন্ত্র লিপি পদ্ধতি নয়- তা চিত্রলিপির পরিপূরক । এর ফলে চিত্র 
লিপির চিত্রপ্রতীকসমূহ ক্রমশ ধ্বনিব্যঞ্জক হয়ে ওঠে । এক একটা চিত্র দিয়ে 
মানুষের মনের ভাব সূক্ষভাবে বোঝাতো । উদাহরণস্বরূপ বলা যায় চিত্রলিপিতে 
মাছের চিত্র দিয়ে মাছ বোঝাতো কিন্তু ভাব লিপি সেই মাছের চিত্রের সঙ্গে তীর 
সম্পূর্ণরূপে প্রকাশিত হতো । এ কারণেই চিত্রলিপি সঙ্গে বিভিন্ন ভাববাচক চিহ্ন 
ব্যবহার করতো । এ চিহ্ের সমন্বয়ে চিত্রলিপি ভাব লিপিতে রূপান্তরিত হয় । 





84 এ & ক্র লে? 
পে 


স্থমের-এর কিউনিফর্ম লিপি 


হতো । যেমন-অর্ধবৃত্তের নিচে 'তারা" দ্বারা রাত্রি অথবা অর্ধ বৃত্তের নিচে 'সূর্ধ' 
দ্বারা দিন বোঝানো হতো । পরবর্তী পর্যায়ে এ প্রতিকৃতি সংক্ষিপ্ত ও সাংকেতিক 
হয়ে একটি বিশেষ চিন্তে রূপান্তরিত হয়। তখন কোন আক্ষরিক চিত্র এঁকে বিষয় 


44 


বা বস্তকে বোঝাতো না। প্রতিটি চিহ্ু সে বন্তকে না বুঝিয়ে বন্তর নামবাচক 
শব্দকে নির্দেশ করতো । যেমন, প্রাচীন সুমেরীয় লিপিতে প্রথমে “মাছ' বুঝাতে 
মাছের চিত্রই আঁকা হতো। পরবর্তীতে মাছের চিত্র একটি বিশেষ চিহ্ে 
রূপান্তরিত হয়ে যায়; যার সঙ্গে মাছের আকৃতির কোন মিল নেই। এই লিপি 
থেকে মানুষ তার কাক্জিত বিষয়টি বোঝানের জন্য চিহ্ু সংক্ষেপকরণ শুরু 
করে। 


এই চিহ্ন সংক্ষেণকরণ থেকেই পরবর্তীতে বর্ণলিপি বা আক্ষরিক লিপির সৃষ্টি 
হয়। মিশরীয় চিত্রলিপি বিবর্তনের আগেই সুমেরু সভ্যতায় ভাবলিপির উন্মেষ 
ঘটেছিল বলে পণ্ডিতরা মনে করে থাকেন। এ ধারার লিপি খিস্টপূর্ব ৩৫০০ 
দিকে সুমেরু সভ্যতায় প্রচলন ছিল বলে প্রত্রতান্তিকরা অনুমান করেন। 


বর্ণলিপি যুগ 


লিপি বিবর্তনের ধারায় চিত্রলিপি থেকে প্রথমে ভাবলিপি বা অক্ষরলিপি এবং 
তারপরে ক্রমশ বর্ণভিত্তিক লিপির উন্মেষ ঘটে । এই বর্ণভিত্তিক লিপিই বর্ণলিপি 
হিসেবে পরিচিত । পপ্তিতরা মনে করেন, বর্ণমালা ভিত্তিক লিপির উন্মেষ ঘটেছিল 
ফিনিশীয় জাতিগোষ্ঠীর হাতে । 


পণ্তিতরা মনে করেন ফিনিশীয় জাতিই প্রথম বর্ণভিত্তিক লিপির উদ্ভাবন করেন । 
এ লিপিতেই প্রথম বর্ণমালা সংঘটিত হয়। ফিনিশীয় জাতি ছিল মূলত 
বাণিজ্যগোষ্ঠী জাতি । তারা ব্যবসা-বাণিজ্যের জন্য বিভিন্ন অঞ্চলে গমন করতো । 
ফলে বিভিন্ন জাতি গোষ্ঠীর সঙ্গে তারা পরিচিতি লাভ করে । তারা বিভিন্ন জাতি 
গোষ্ঠীর সঙ্গে যোগাযোগের জন্য সব ভাষারই কিছু কিছু অংশ ধারণ করে স্বতন্ত্র 
লিপির প্রচলন করেন। যাতে যে কোন অঞ্চলের সঙ্গে ব্যবসা বাণিজ্য করতে 
বাধা প্রাপ্ত না হয়। এ ফিনিশীয় জাতির সাঙ্কেতিক চিহুগুলো সবজাতি গোষ্ঠীর 
মধ্যে যোগাযোগের বাহন হিসেবে উল্লেখ যোগ্য । এ জাতির এ স্বতন্ত্র লিপিতেই 
প্রথম বর্ণ ভিত্তিক লিপির উদ্ভাবন ঘটায় । 


45 


বিভিন্ন দেশের “ম' বর্ণ। 


মিশর-দেশীয় 
ফিনিসীয় 
পা 
খ্বীক সেমিরীয় ” আরামীয় সেবীয় 
45 ৮১ 1 ঠ। 
রোমান পিউনিক কপটিক এস্ট্রাংঘেলো | হিক প্রাচীন- ভারতীয় ইথিওপীয় 
111 ৩ লরি, 11:00 ০] তত 
৮ রশ 
ইংরেজী  এংলো-স্থ্যাকসন ঠ? শান আরবী তাষিল তিকাতীয় বার্থ 
চি রি | ] | 
সংস্কৃত জাভানী 
] | | আধুনিক- আরবী রি ৭ 
রজিয  আম্মনীয় মাক. (৫ গুজরাটা 
ক ০ 


লিপি বিবর্তনের ধারায় প্রথমে চিত্রলিপির জন্ম হয়। চিত্র লিপিতে মনের 
সুন্ষ্াতিসুক্্সভাব প্রকাশ পেতো না বলে ভাবলিপির উন্মেষ ঘটে । ভাবলিপিতে 
চিত্রের সঙ্গের একটি বিশেষ চিহৃ ব্যবহার করে পরিপূরক ভাব প্রকাশ করা 
হতো । পরবর্তীতে এ ভাবলিপিও ক্রমশ সাঙ্কতিক রূপ ধারণ করে । উন্মেষ হয় 


বর্ণলিপির | 


465 


পৃথিবীর প্রথম বর্ণমালা 


ফিনিসীয় বণিদের হাতে পৃথিবীর প্রথম বর্ণমালার উভ্ভব হয়। খ্রিস্টপূর্ব আঠারো 
শতকের “আন্দো* শিলালিপিতে এ বর্ণমালার আদিরূপ পরিলক্ষিত হয়। 


ফিনিশীয় জাতির আবাদযোগ্য জমির পরিমাণ কম থাকায় প্রাচীনকাল থেকেই 
তারা সমুদ্রপথে বাণিজ্য করতো এবং নতুন স্থানের সন্ধান করতো । পর্বতের 
গায়ে প্রচুর সিডার গাছ থাকায় তারা প্রাচীন কাল থেকেই জাহাজ নির্মাণ ও 
নৌকা চালনায় পারদর্শী ছিল। ফিনিশীয়া কোনো এক্যবদ্ধ রাজ্য ছিল না, এটা 
ছিল অনেকগুলো স্বতন্ত্র স্বাধীন নগররাষ্ট্ের সমন্বয়ে গঠিত সতযুক্ত রাজ্য ধরনের 
একটি দেশ ও সভ্যতা । 


১৫০০ খ্রিস্টপূর্বাব্দের পর থেকে ফিনিশীয় নগরসমূহ ছিল মিশরীয় বা হিষ্রাইট 
শাসনের অধীন। এসময় তারা মিশরীয় হায়ারোগ্রিফিক ও মেসোপটমীয় 
কিউনিফর্ম লিপির দ্বারা প্রভাবিত হন। খ্রিস্টপূর্ব ১২০০ অন্দে ফিনিশীয়রা 
স্বাধীনতা লাভ করে। পপ্তিতরা অনুমান করেন, খিিস্টপূর্ব ১২০০ অবন্দের দিকে 
স্বাধীনতাকালীন সমসাময়িক ব্যবসা-বাণিজ্যের ব্যাপক প্রসার এবং দ্রুত ও ঘন 
ঘন হিসাব ও দলিলপত্র প্রণয়নের আবশ্যকতা, বহুজাতিক যোগাযোগের জন্য 
অনুকূল সামাজিক পরিমণ্ডলে বর্ণমালার উদ্ভব করেন। 


সা৮শা %£৭ 


কন হন 


মণ (বাটখারা) রাজার 
ফিনিসীয় লিপি 


ফিনিশীয়রা অল্পসংখ্যক চিহ্রাশির সাহায্যে বহু সংখ্যক জিনিসের হিসাব রাখার 
জন্য কিউনিফর্ম ও হায়ারোগ্রিফিক লিপির ভিত্তিতে ২২টি ব্যঞ্জনবর্ণের এক 


7 


বর্ণমালা সৃষ্টি করেন। আশ্চর্যজনক হলেও সত্যি যে, এতে একটিও স্বরবর্ণ ছিল 
না। অনুমান করা হয় খ্রিস্টপূর্ব ১০০০-৭০০ অব্দের দিকে ফিনিশীয়রা ব্যবসায়ী 
কারণে তাদের এ বর্ণমালা প্রাচীন গ্রীস ও ভারতীয় সিন্ধু সভ্যতায় ছড়িয়ে 
দিয়েছিল। এ বর্ণমালা আবিষ্কারের ফলে পরবর্তীতে চিত্রলিপির সর্বত্র ব্যবহার 
কমে যায়। প্রতীকধর্মীতার গণ্ডি ছাড়িয়ে বিমূর্ত চিন্তার প্রসার ঘটতে থাকে। 
বর্ণমালার এক একটি অক্ষর মানুষের কণ্ঠ দিয়ে উচ্চারিত এক-একটি ধ্বনির 
প্রতীক হিসেবে ব্যবহৃত হতে থাকে। 


শিক্ষা প্রদান প্রভৃতি কাজে লেখ্য রূপের প্রচলন শুরু হলেও সাহিত্য-শিল্পকে 
প্রবর্তিত ছিল না। যে কোন শিল্প-সাহিত্য ছিল কথ্য নির্ভর । তখন তারা জীবন ও 
জীবিকার জন্য লিপিকে ভাব প্রকাশের মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করতো । কিন্তু 
তারা যখন জীবন ও বস্তু জগতের শৃনত্যা উপলদ্ধি করে, তখনই প্রয়োজন 
জন্য সংরক্ষণ করার প্রয়োজনীয়তা থেকেই শুরু হয় শিল্প-সাহিত্যের কথ্য 
রীতিকে স্থায়ী রূপ দেয়ার । তার যথার্থ প্রমাণ পাওয়া যায়, সুমেরীয় সভ্যতায় 
লেখা পৃথিবীর প্রথম মহাকাব্য 'গিলগামেশ'এ | 


এ মহাকাব্যের প্রধান চরিত্র গিলগামেশ ছিলেন একজন পৌরাণিক রাজা । তিনি 
অমরতৃ লাভ ও নিজের অপরিসীম আকাঙ্কা চরিতার্থ করার জন্য অনেক চেষ্টা 
করেও ব্যর্থ হন। এরূপ কালজয়ী হবার উদ্দীপনা থেকেই অনুসন্ধান চালাতে 
থাকে ভাষা সংরক্ষণ করার প্রক্রিয়া প্রথমে তারা পাথরের টুকরাকে লেখ্যস্থান 
হিসেবে ব্যবহার করা শুরু করে । কিন্তু তা বেশ শ্রমসাধ্য ও সময় সাপেক্ষ । তাই 
সহজলভ্য ও শ্রমস্বল্প লিখন পদ্ধতির সন্ধান করতে থাকে । আবিষ্কার করে 


48 


পোড়ামাটি, চামড়া, বাকল, পত্র পল্লব ইত্যাদিতে বিভিন্ন লিখন কৌশল। 
এসবের মাধ্যমে দেখা গেল একটি গ্রন্থ লিখে রাখতে প্রায় একটি ঘর বা ঘর 
সমপরিমাণ স্থানের প্রয়োজন পড়ে। তাই প্যাপিরাসের আবিষ্কার একটি 
যুগান্তকারী হয়ে ওঠে এ সময়ে। সেজন্য দেখা যায় মিশরীয়রা পরবর্তীতে মমির 
গায়ে তার পরিচয় পত্র লেখার জন্য বিশাল পাথরের খন্ডের পরিবর্তে প্যাপিরাস 
ব্যবহার করতে থাকে । কিন্তু সে প্যাপিরাসই অনেক বিশাল স্থান দখল করতো । 
কিন্তু প্যাপিরাসও তুলনামূলক বৃহত স্থান দখল করে থাকে । 


বৃটিশ মিউজিয়ামের সংরক্ষিত রাখা একটি প্যাপিরাসের আয়তন ১৩৫ ফুট বা 
৪১ মিটার লম্বা ও ১৭ ইঞ্চি বা ০.৪৩ মিটার চওড়া । পরবর্তী গ্রীক দার্শনিক 
এরিস্টটলের “পোয়েটিক্স গ্রন্থের পাণ্ডুলিপি একটি ঘর সমতুল্য । কিন্তু বিজ্ঞান ও 
প্রযুক্তির যুগে এসে হাজার তথ্যসমৃদ্ধ একটি বই লিখতে কয়েক পৃষ্ঠা কাগজের 
বেশি দরকার হয় না। ভারতীয় সভ্যতায় কথ্য রীতি থেকে লেখ্য রীতিতে 
রূপান্তর হয় খিস্টপূর্ব ১০০০-৬০০ পূর্বাব্দে। এ সভ্যতার লোকজন পাথরের 
টুকরা, স্ত্ত, দেয়াল প্রভৃতিতে লেখে রাখতো । বিজ্ময়কর হলেও সত্য যে 
খিস্টপূর্ব ৬০০ শতক আগের কোন লেখ্য নির্দশন পাওয়া যায় নি। অনুমান করা 
সংরক্ষণ করার রীতি প্রচলিত ছিল না অথবা এখানো সে সম্পর্কিত তথ্য 
আবিষ্কৃত হয় নি। 


অনেকে মনে করেন, প্রাচীন ভারতীয় সভ্যতায় লেখা হতো কাপড়ের উপর। 
ফলে স্থায়ীত পায় নি সেসব লেখা । এ প্রসঙ্গে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের একটি বাণী 
প্রণিধানযোগ্য “এই একান্ত আকাজ্্ষায় কত প্রাচীন কাল ধরিয়া কত ইজিত, কত 
ভাষা, কত লিপি, কত পাথরে খোদাই, ধাতুতে ঢালাই, চামড়ায় বাধায়, কত 
কেবল আমি যাহা ভাবিয়াছি, যাহা বোধ করিয়াছি, তাহা চিরদিন মানুষের ভাবনা, 
মানুষের বুদ্ধি আশ্রয় করিয়া সজীব সংসারের মাঝখানে বাঁচিয়া থাকিবে ।” 


49 


লিপির অনুবর্তন ও বিভিন্ন সভ্যতায় লিপি 


আদিম মানুষরা কালক্রমে সমগ্র পৃথিবীতে ছড়িয়ে পড়েছিল নতুন নতুন 
পরিবেশে ৷ ফলে পৃথিবীর বিভিন্ন জায়গায় মানুষের বসবাস শুরু হয়। নতুন 
নতুন পরিবেশ ও ভিন্নতর প্রতিকুলতায় অস্তিত্ব রক্ষার তাগিদে তাদের মধ্যে গড়ে 
উঠেছিল নতুন নতুন সংক্কৃতি। যেমন-যারা বনকেন্দ্রিক বাস করতে থাকে তাদের 
মধ্যে বনীয় সংস্কৃতি ও জীবনধারার বিকাশ ঘটে, তেমনিভাবে যারা নদী কেন্দ্রিক 
বাস করতে থাকে তাদের মধ্যে নদীয় সংস্কৃতি গড়ে তুলে । অর্থাৎ যে স্থানে বাস 
করে সে স্থানীয় ও কালিক প্রেক্ষাপটে নিজেদেরকে প্রস্তুত করে; ফলে গড়ে উঠে 
ভিন্ন ভিন্ন সংস্কৃতি। পূর্বেই বলা হয়েছে আদিম মানুষেরা বরফযুগীয় সময়ে 
এশিয়া, আফ্রিকা ও ইউরোপ মহাদেশে ছড়িয়ে পড়েছিল। মূলত এই মানব 
গোষ্ঠীর স্থানিক বিচ্ছিন্নতার দরুণ পরবর্তীতে নবপলীয় যুগের চেতনা থেকে বের 
হয়ে গড়ে উঠেছিল ভিন্ন ভিন্ন সভ্যতা । 


পৃথিবীতে প্রথম সভ্যতা গড়ে উঠেছিল সুমেরুতে। কিন্তু সুমেরীয় সভ্যতা 
নগরকেন্দ্রিক গড়ে নি। নগরকেন্দ্রিক সভ্যতা হিসেবে প্রথম গড়ে উঠেছিল 
মিশর। সেজন্য নগরসভ্যতা হিসেব প্রথম সভ্যতা মিশরকেই ধরে থাকেন। 
মিশরেই প্রথম চিত্রলিপির উদ্ভব ঘটে । পরে তা পৌঁছে যায় সুমেরীয় সভ্যতায় । 
মিশরীয় ও মেসোপটেমীয় সভ্যতায় মধ্যে যোগাযোগ বৃদ্ধি পায়। ফলে উভয়ের 
ওপর উভয় সংস্কৃতির প্রভাব বিস্তার করে । এ দুই সভ্যতার শংকর সংস্কৃতি আব- 
নর ছড়িয়ে পড়ে সিন্ধু, চীন, ব্যাবলনীয় ও গ্রীক সভ্যতায় । 


ফিনিশিয়া বণিক জাতিগোষ্ঠী ব্যবসায়িক কারণে বিভিন্ন অঞ্চলে গমন করলে 
তাদের উডাবিত লিপি তথা সামগ্রিক সংস্কৃতি বিভিন্ন সভ্যতায় ছড়িয়ে পড়ে। 
সেজন্য বিভিন্ন সভ্যতায় ব্যবহৃত লিপির মধ্যে মৌলকতৃ থাকলেও কিছুটা ছাচ 
ভিন্ন সভ্যতায় ব্যবহৃত লিপির মধ্যে পাওয়া যায়। পৃথিবীর প্রাচীন সভ্যতা 
কেন্দ্রিক বিকাশমান লিপির কিছুটা মৌলিকত থাকলেও প্রায় প্রতিটি 
লিপিকৌশলের সঙ্গে কিছু না কিছু ভিন্ন সভ্যতার অস্তিতু রয়েছে বলে পণ্তিতরা 
মনে করেন। এ দিক বিবেচনা করে রসটক বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক 


50 


বর্ণলিপিকে ১২টি ভাগে বিভক্ত করেছেন। অধ্যাপক হ্যান্সজেনসেন প্রাচীন অঞ্চল 
ভেদে এ লিপির বিন্যস্ত করেছেন। আধুনিক পঞ্তিতগণ তার সাথে একমত হতে 
পারেন নি। 


তারা সাতটি লিপিকে পৃথিবীর প্রাটানতম লিপি হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন। 
সেগুলো হলো- 


১) সুমেরীয় লিপি 

২) মিসরীয় হায়ারোগ্রিফিক লিপি 
৩) ক্রিট ছ্বীপবাসীর লিপি 

৪) হিত্তি লিপি 

৫) চীনা লিপি 

৬) এলামবাসীর লিপি 

৭) সিন্ধুলিপি 


সুমেরু জাতি গোষ্ঠীর সভ্যতায় যে লিপি ব্যবহৃত হয়েছে তাই সুমেরীয় লিপি। এ 
সুমেরীয় লিপির নাম কীলকলিপি (001101)। নরম কাদামাটির চাকটি বা 
ফলকের উপর অগ্ভাগের ন্যায় বিভিন্ন দাগ কেটে বা ছবি এঁকে এ লিপি উৎকীর্ণ 
হতো। 


চিত্রলিপির অনুকরণে । প্রাচীন মিশরীয় সভ্যতায় হায়ারোগ্নিফিক নামে এক 
ধরনের চিত্রলিপির প্রচলন ছিল। প্রথম যুগে এ লিপির ব্যবহার কেবল মিসরীয় 
পুরোহিতদের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল। সেজন্যই এ লিপির নামকরণ করা হয় 
হায়ারোগ্রিফিক অর্থাৎ পবিত্র লিপি । 


51 


ন্ 808৯ [0 


২. দক 
যাক ...:240৫ডি২৩৯খ 


ক্রিট-এর লিপি- ॥ঙ 


কয়েকটি প্রাচীন লিপির নিদর্শন 


এ ছাড়াও পরবর্তীতে মিশরে ডেমেটিক নামে আরেকটি লিপির উন্মেষ ঘটেছিল । 
যার প্রমাণ “রোজেটা' পাথরে পাওয়া যায়। পঞ্তিতরা মনে করেন, পৃথিবীর 
প্রাচীনতম সব লিপিই একের সঙ্গে অন্যের মিশ্রণে সৃষ্টি হয়েছিল। আজকের 
পৃথিবীর সব লিপিই পূর্বোক্ত লিপিগোষ্ঠীর বংশধর । 


52 


প্রাচীন ভারতীয় সভ্যতা 


সভ্যতা । পরবর্তীতে এর বিস্তার ঘটে উন্মেষিত হয় প্রাচীন ভারতীয় সভ্যতার । 
আজ থেকে প্রায় দুই থেকে চার লক্ষ বছর পূর্বে প্রাচীন মানুষের বসবাসের চিহ্ন 
ভারতীয় উপমহাদের প্রায় সবখানেই কম-বেশি পাওয়া গেছে। 


দক্ষিণ ভারতে, কাশ্মীরে, এবং বাংলা ও আসাম অঞ্চলে নবোপলীয় কৃষি সংস্ক 
তির সন্ধান পাওয়া গেছে। পণ্তিতরা অনুমান করেন, মধ্য এশিয়া থেকে কাশ্মীরে 
এবং দক্ষিণ চীন থেকে আসামে নবোপলীয় সংস্কৃতির বিস্তার ঘটেছিল। 
পুরাতত্বিদরা মনে করেন, নবোপলীয় সমাজের মাধ্যমে মিশর বা মেসোপটমীয় 
সভ্যতায় যখন ব্রোঞ্জযুগের নগরসভ্যতার উদ্ভব ঘটেছিল ভারতীয় উপমহাদেশেও 
সেরূপ নগর সভ্যতার উদয় ঘটেছিল খিস্টপূর্ব ৩০০০ অব্দের কাছাকাছি সময়ে । 
সিন্ধু সভ্যতার ভৌগোলিক অবস্থান ছিল অত্যন্ত বৈচিত্র্যপূর্ণ। সাগর, পর্বত, বন, 
গড়ে উঠেছিল। 


এশিয়া মহাদেশের মধ্য দক্ষিণে ভারতের অবস্থান । এ সভ্যতায় তিন দিক ঘিরে 
আছে বিশাল সমুদ্র আর উত্তরে দণ্ডায়মান পৃথিবীর উচ্চতম পর্বতমালা হিমালয় । 
প্রাচীন কালে যখন সমুদ্র যাত্রা সীমিত ছিল তখন ভারতে প্রবেশের প্রধান পথ 
ছিলো ফির্থর ও সুলেমান পর্বতমালার বিশাল গিরিপথ। এই গিরিপথ উত্তর 
পশ্চিমের খাইবার গিরিপথ নামে খ্যাত। এই পথ দিয়েই এ বিশাল উপমহাদেশে 
প্রবেশ করেছে সশম্ব আক্রমণকারী বিভিন্ন উপজাতি, বণিক এবং পরি্ব্রাজকগণ । 


সিন্ধুর সভ্যতার দুটি নগর ছাড়া আর কোন উল্লেখযোগ্য তথ্য আবি্কৃত হয় নি। 
ফলে সিন্ধু সভ্যতা সম্পর্কে তেমন কোন তথ্য উপস্থাপন করা যায় না। বিম্ময়কর 
হলেও সত্যি যে, সিন্ধু সভ্যতায় ব্যবহৃত লিপির এখনও পাঠোদ্ধার করা সম্ভব হয় 
নি। 


53 





54 


সিন্ধু সভ্যতার অঞ্চলের আয়তন বিশাল । হিমালয়ের পাদদেশে সিন্ধু অববাহিকায় 
প্রায় ৯৫০ মাইল জুড়ে উত্তর থেকে আরব সাগরের উপকূল পর্যন্ত ছিল এই 
অঞ্চল। এই অঞ্চলের আয়তন প্রাটান মিশরের পুরাতন রাজবংশের সাম্রাজ্যের 
দ্বিগুণ এবং সুমেরু ও আক্কাদের প্রায় চারগুণ। হরপ্পা ও মহেঞ্জোদারো নামে দুটি 
বিশাল নগরীর সন্ধান পাওয়ায় অনুধাবিত হয়। এ অঞ্চলের রাজনৈতিক ও অর্থটৈ 
নতিক প্রাণকেন্দ্র হিসেবে সিন্ধু সভ্যতা গড়ে উঠেছিল । হরপ্লা ও মহেঞ্জোদারের 
দূরত্ব ছিল ৩৫০ মাইল । এতেই বোঝা যায় সিন্ধু সভ্যতায় বহু নগর গড়ে 
উঠেছিল যা এখনো আবিষ্কারের অপেক্ষায়। 





হয়ে থাকে। প্রথম ভাগ হচ্ছে-নর্মদা নদীর উত্তরাংশ সাধারণভাবে “হিন্দুস্থান' 
হিসেবে পরিচতি ছিল। কৃষ্ণা নদীর দক্ষিণের অঞ্চল পরিচিত ছিল দাক্ষিণাত্য 
নামে এবং ভারতের সর্ব দক্ষিণে অঞ্চল তামিল ভূমি হিসেবে পরিচিত ছিল। 


55 





সিন্ধু সভ্যতায় প্রাপ্ত মূর্তি 


মানুষের ক্রমবিকাশের ধারায় 78918601010-যুগের আদি মানুষ সিন্ধু সভ্যতায় 
বাস করতো বলে প্রত্মতান্তিকেরা মনে করেন। প্রাচীনতম মানুষের দেহাবশেষ 
পাওয়া যায় দাক্ষিণাত্যে ৷ এছাড়াও অধুনা মধ্য প্রদেশের নর্মদা নদীর উপত্যকায় 
পাথর যুগের হাতিয়ার পাওয়া গেছে। তাছাড়া মিশর ও মেসোপটমীয় সভ্যতায় 
যেসব দরকারি জিনিসের আবিষ্কার ঘটেছিল তা ভারতীয় সভ্যতায়ও প্রয়োগ 
দেখা যায়। যেমন- বোষঞ্জ যুগের কারিগরি, ইট, ওজন, ও মাপনী, লিপি। এ 
সকল জটিল আবিষ্কার যে একবার মেসোপটমীয়ার ঘটবে আবার ভারতে ঘটবে 
এমন হতে পারে না। 


লিখন পদ্ধতি ও বোঞ্জের দ্রব্যাদি আবিষ্কারের জন্য দীর্ঘ সময়ের এক সামাজিক 


56 


ব্রোঞ্জ যুগের সভ্যতার যে উদয় ঘটেছিল তা মিশর বা মেসোপটমীয় সভ্যতায় 
অনুকরণে বা প্রভাবে । 


অতএব অনুমান করা যায়, সমগ্র পৃথিবীতে খ্রিস্ট পূর্বাব্দ ৮০০০-৬০০০ অব্দের 
মধ্যে নবোপলীয় সংস্কৃতির বিকাশ ঘটে ছিল। যার মূল কেন্দ্র ছিল মেসোপটেমীয় 
ও মিশর । এরপর খিস্ট পূর্ব ৬০০০-২০০০ অন্দের মধ্যে এ সভ্যতাদ্য়ের সংস্কৃ 
তি ইউরোপ, চীন ও ভারত বর্ষে ছড়িয়ে পড়ে। 





হরপলা নগরার ধাংসাবশেষ 


বৃটিশ প্রত্বতান্তিক মর্টিমার হুইলার এবং গর্ডন চাইন্ড মনে করেন মেসোপটমীয় 
ও সুমেরীয় নগরগুলো থেকে এক সময় অভিবাসনকারীরা এসে সিন্ধু নদীর 
অববাহিকায় বাস করা শুরু করে। এরাই কালের স্তরোতে স্থান-কালের প্রবাহে 
নিজেদের মধ্যে একটা নিজস্ব সংস্কৃতি, সভ্যতাবোধ গড়ে তুলে । এটাই মূলত 
সিন্ধু সভ্যতা নামে খ্যাত। কালক্রমে আর্ধরা এসে এ সভ্যতার পুরী ধ্বংস করে 
দিয়ে সমস্ত নগরগুলো দখল করে নেয় । ফলে শুরু হয় শংকর সংস্কৃতির । এরপর 
আর্মীনিয়, ফিনিশীয় বিভিন্ন জাতির সঙ্গে এদের বাণিজ্যিক যোগাযোগ হতে 


57 


থাকে। ফলে সিন্ধু সভ্যতায় সৃষ্টি হয় শঙ্কর ভাষা, শঙ্কর লিপি। আর্ধরা এসেই 
মূলত সিন্ধু সভ্যতাকে নষ্ট করে দিলে এসভ্যতায় বসবাসরত বিভিন্ন মানুষ 
চারদিকে ছড়িয়ে ছিটিয়ে পড়ে বলে ইতিহাসবেত্তাগণ মনে করে থাকেন। 
পরবর্তীতে সিন্ধু অববাহিকা কেন্দ্রিক সভ্যতার বিলোপ হলে চারদিকে বিভিন্ন 
অঞ্চল কেন্দ্রিক সভ্যতার গতি এগিয়ে যায়। যার ফলে শুরু হয় ভারতীয় 
সভ্যতার । এসময় আর্ধরা রচনা করেন বেদ, সংহিতা, ব্রাহ্মণ, আরণ্যক, 
উপনিষদ, সূত্র ইত্যাদি গ্রন্থ । বৈদিক ধর্ম ও সাহিত্য চর্চা খ্রিস্টপূর্ব ১২০০ অব্দ 
থেকে ৫০০ অব্দ বলে অনেকে মনে করেন। এগুলোর কোন লিখিত রূপ উদ্ধার 
হয় নি। তথ্যের অভাবে অনেক পন্তিতই এ সিদ্ধান্তে একমত হয়েছেন যে, 
বৈদিক সাহিত্য মানুষের মুখে মুখে প্রচলন ছিল; লিখিত কোন রূপ ছিল না। 


খিস্টপূর্ব ৭০০ শতকের দিকে ব্রা্মী লিপিতে লিখতে শিখেছে। তবে তাতে 
ফিনিশীয় বর্ণমালার অনেক বর্ণ ব্যবহৃত হয়েছে বলে অনুমান করা হয়। 





বৈদিক যুগের পরবর্তী পর্যায়ে শুরু হয় পৌরাণিক সভ্যতা । আর্যদের প্রভাব 


58 


কালক্রমে কমে আসে । তখন আর্যদের ধর্মীয় নীতি অনুসরণে মানুষের মধ্যে সৃষ্টি 
হয় বর্ণবৈষম্য । বৈদিক যুগের ধর্মীয় সব ক্ষমতা থাকে দেবরাজ ইন্দ্রের হাতে । 
ইতিহাস বলে, আসলে ইন্দ্র কোন দেবতা নয়, মূলত ইন্দ্র ছিলেন আর্যদের 
উপস্থাপন করেছেন। কিন্তু পৌরাণিক যুগে এসে সেটা পরিবর্তিত হয়ে বিষ্্ুর 





সিন্ধু-উপত্যকার শীলমোহরের কয়েকটি নমুন]। 


59 


£৫ 7৫ 
এ 
২০৭ 


ঁ 
০ 


শি, 


টির 
১৮ পাশার 
৩:৮7 
১৫ 
৫ 
বট ও মহ 
২ ১৮৫ 
1 এ 
হা 1 
২ ঠা / রব 
১ বং 
সপ (০ 
৬২ 


/% ১ ৬১ 
0 
২ নি 748১৯ 
২ 





এগুলোরও কোন তত্কালীন লিখিত রূপ পাওয়া যায় নি। ভারতীয় 
উপমহাদেশের মানুষের মুখে মুখে দীর্ঘদিন ধরে প্রচলিত ছিল এসব 
মহাকাব্যগুলো । 


সিন্ধু সভ্যতার শ্রেণীভূক্ত জাতিগোষ্ঠী হচ্ছে কোল, ভীল, গণ্ড এবং সীওতাল, 
মঙ্গোলীয়, দ্রাবিড়, আর্য । আর্ধরা ভারতে এসে কোল, ভীল, গণ্ড এদেরকে অনার্ধ 
বা অসভ্য বলে আখ্যায়িত করেন। এ জাতিগোষ্ঠীকে নৃতত্ুবিদরা অষ্ট্রিক বলে 
অভিহিত করেছেন । এবং আর্ধরা নিজেদেরকে বলেন আর্ অর্থাৎ সভ্য । অনেক 
পপ্তিত মনে করেন, দ্রাবিড় সিন্ধু সভ্যতার মূল জাতি। ১৯২১ খিস্টাব্দে পাঞ্জাবের 
মন্টোগোমারী জেলার হরপ্লা অঞ্চলে এবং ১৯২২ খ্রিস্টাব্দে সিন্ধু লারকানা 
জেলার মহেনজোদারো অঞ্চলে প্রত্রতান্তিক খননকার্য চালিয়ে সিন্ধু সভ্যতার 
বিভিন্ন নিদর্শনের উদ্ধার করেন। 


সিন্ধু সভ্যতায় প্রাপ্ত নিদর্শনাবলিতে বেশ কিছু সিল (5681) পাওয়া যায়। তাতে 
প্রমাণিত হয়, পৃথিবীর অন্যান্য সভ্যতার মতো সিন্ধু সভ্যতায়ও লিখন পদ্ধতি 
ছিল। মূলত এ লিখন পদ্ধতিই ভারতীয় বিভিন্ন ভাষার লিখন পদ্ধতি । বিখ্যাত 
্রত্রতান্তিক স্যার জন মার্শাল মনে করেন, সিন্ধু সভ্যতার সর্বাপেক্ষা গৌরবময় 
অধ্যায় ছিল খ্রিস্টপূর্ব ৩২৫০ থেকে ২৭৫০ অন্দর মধ্যে। এতিহাসিক আইভার 
সিজনারের (719 11/110 13851) মতে, সিন্ধু সভ্যতার উৎসকাল ৩৬০০ খিস্ট- 
পূর্বাব্দ। সিন্ধু সভ্যতার খ্যাতিমান প্রত্বতান্তিক স্যার মরটিমার হুইলার এই 
সভ্যতার উৎসকাল হিসেবে ২৫০০ খিস্ট পূর্বাব্দ নির্দেশ করেন। 


61. 


সিন্ধু সভ্যতায় ব্যবহৃত লিপি 


সিন্ধু সভ্যতাকালীন ব্যবহৃত লিপিই সিন্ধু লিপি নামে পরিচিত । বিস্ময়কর হলেও 
সত্য যে পৃথিবীর প্রায় প্রত্যেক সভ্যতার লিপিরই কম বেশি পাঠোদ্ধার হয়েছে। 
ফলে জানা গেছে, সেই সব সভ্যতার অতীত এঁতিহ্য, জীবনযাপন প্রণালি, অর্থটৈ 
নতিক অবস্থান সম্পর্কিত নানা তথ্য । কিন্ত একমাত্র সিন্ধু লিপিরই পাঠোদ্ধার সম্ভ 
ব হয় নি বলে সিন্ধু সভ্যতার অতীত কোন তথ্য পাওয়া যায় না। তাছাড়া 
অন্যান্য সভ্যতার মতো সিন্ধু সভ্যতা সম্পর্কে প্রামাণ্য কোন উপযুক্ত তথ্যও 
আবিস্কৃত হয় নি। এ সম্পর্কে জন মার্শালের উক্তিটি প্রণিধান যোগ্য। 
পরত্রতন্টবিদ স্যার জন মার্শাল বলেন “মাটির ফলক বা সীলমোহরের বাইরে 
সিন্ধুলিপির ব্যবহারের বিশেষ নিদর্শন পাওয়া না গেলেও আমরা অনুমান করতে 
পারি যে, ভূর্জপত্র, তালপাতা, চামড়া, কাঠ বা কাপড়ে সিন্ধু লিপি লিখিত 
হয়েছিল। কিন্তু সে উপকরণগুলি অপেক্ষাকৃত কম টেকসই হওয়ায় তা কালের 
অতলে হারিয়ে গেছে।' মহেঞ্জোদারো ও হরপ্লায় প্রাপ্ত কিছু নির্দশন ও বৃটিশ 
মিউজিয়ামে রক্ষিত নিদর্শন থেকে এ সভ্যতার অস্তিতু বোঝা যায়। 


১৯২৫ খিস্টান্দের মধ্যে সিন্ধু সভ্যতায় ২৫০০টি সীলমোহরে চিত্রধর্মী লিপি 
পাওয়া গেছে। অনেক পণ্তিগণ অনুমান করেন শুধু মহেঞ্জোদারো, হরপ্পা নয় 
ভারতীয় উপমহাদেশের অনেক স্থানেই এখনো অনুসন্ধান চালালে সিন্ধু সভ্যতার 
বিভিন্ন তথ্য উদ্ধার হবে। এঁতিহাসিক, প্রত্বতান্তিক এবং ভাষাবিজ্ঞানীগণ সিন্ধু 
সভ্যতার লিপির পূর্ণাঙ্গ পাঠোদ্ধার করতে এখনো রীতিমত গবেষণা চালিয়ে 
যাচ্ছেন। অবশ্য ভারতীয় প্রত্তান্তিক শ্রী এস. আর. রাও এই লিপির কিছুটা 
পাঠোদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছেন। তার পাঠোদ্ধার আবার অনেকটা অনুমান 
নির্ভর বলা যেতে পারে। তিনি ৩৬০টি শব্দে মধ্যে ৩০টি শব্দের পাঠোদ্ধার করে 
দেখিয়েছেন, এ সভ্যতার অভিবাসীগণের একটা বড় অংশ ইন্দো-ইউরোপীয় 
ভাষাগোষ্ঠীর অন্তর্ভূক্ত, এবং অপর অংশ ভিন্ন ভাষাগোষ্ঠীর। অপর অনেক 
পপ্তিতগণই এ লিপির পাঠোদ্ধারে ব্যর্থ হয়েছেন। 


62 


) €8%% লিদাদ 0+ 


পচ দি ৬ ৬/ শু 9 057 


$) & 7 এ ও ক ছলনা ৮ 
? $ 64 ৮ এশা ৪ 1 
4. 2; 3 4 শন দ এ এ 





সিন্কু-উপত্যকার লিপি। এখনো পর্যন্ত এই লিপির পাঠোদ্ধার হয়নি । 


পগ্তিতগণের মধ্যে সিন্ধু সভ্যতার প্রাচীনতৃ, সমৃদ্ধি ও সভ্যতার বিকাশ নিয়েও 
মতানৈক্য দেখা যায় । অনেকে মনে করেন, সিন্ধু সভ্যতায় চিত্রলিপি ছিল এবং এ 
চিত্রলিপি থেকে ভাব লিপি; পরবর্তীতে বর্ণলিপির উদ্ভব হয়। আবার অনেকের 
মতে, সিন্ধু লিপি আর্ধরা আসার পর সুগঠিত হয়েছে। যা হোক সীল নিয়ে 
গবেষণায় দেখা যায়, সিন্ধু সভ্যতায় প্রথমদিকে লেখার জন্য ৩৬০টি চিহ্‌ 
ব্যবহার করা হতো । পরবর্তীতে এগুলোর বিলুপ্ত হতে থাকে । বহুজাতি মিশ্রণের 
ফলে এ চিহগুলো কমে বর্ণলিপিতে রূপান্তরিত হতে থাকে। সিন্ধু সভ্যতার শেষ 
সময়ে (হরপ্লার অন্তিম যুগে) চিহ্ের সংখ্যা এসে দাড়িয়েছিল ২০টিতে । 


63 





এ চিহ্গুলোও আবার সিম্কুলিপির মৌলিক কোন অস্তিত্ব স্বীকার করে না। এ 
২০টি চিহ্ের মধ্যে আর ১৪টিই প্রাচীন ক্যানানীয় অথবা প্যালেস্টাইনীয় এবং 
ফিনিশীয় চিহ্ৃ। অনুমান করা হয়, বহিরাগমনের ফলে এসব সংঘটিত হয়েছে। 
কালের স্রোতে তা পরিবর্তন ও পরিবর্ধনের মাধ্যমে ব্রাহ্মী লিপিতে রূপান্তরিত 
হয়। ব্রাহ্মী লিপির যথার্থ প্রমাণ পাওয়া যায় সম্রাট অশোকের অনুশাসনলিপিতে । 





64 


লিপির আঞ্চলিকতা 


সিন্ধু সভ্যতায় প্রাপ্ত লিপির যদিও পাঠোদ্ধার করা সম্ভব হয় নি; জানা যায় নি 
অতীত কোন ইতিহাসের সঠিক দিক নির্দেশনা, তবুও বিভিন্ন সীল, তৈজসপত্র, 
চিত্রকলা, লোকায়িত সাহিত্য ও ধ্বংসম্তুপের মধ্য দিয়ে এ সভ্যতার বিভিন্ন 
নগরীয় বৈশিষ্ট্যের পরিচয় মেলে । আর্য রাজ ইন্দ্র যখন সিন্ধু সভ্যতায় এসে পুরী 
ধ্বংসযজ্ঞ চালান। প্রায় সে সময়ই সিন্ধু সভ্যতার ধ্বংস ঘটে । শুরু হয় আর্য 
সভ্যতার । পণ্ডিতরা আর্যদের সংমিশ্রণের সভ্যতাকে বৈদিক সভ্যতা হিসেবে 
চিহ্নিত করেছেন। 


উর 
৮ 


ইত্বিছ্িক্ জ্ঞাব্সত্ত 
৫৮৭১ 
ঘা দে, ২৬৮ 
2 ২১ ১ 
পি ০9০ 
ইং কোশল 
যৎস ৪ কলি ; 
২৯০২:1০8 
-৯ 
* - € 8১ 
৫ ) 
রণ পা িবিদিশ । (২. ) 
| চক রি এ লিন্দ | পে /4. ৫ 
রর ৭. টং 
বিদর্ত € শবর ০1 
দক _.. মুতাবি সর ৬৯ 
উঃ টস ৬০৮১ 
মু স্স্ট শপ অক্ ৫ সঙ্গ তো সাশক 
(৬৯২ 
। ) ৬ 


আর্যরাজ ইন্দ্র নিজের প্রাধান্য বিস্তারের জন্য নিজেকে ঈশ্বর সমতুল্য হিসেবে 
আখ্যা দেন। এবং প্রচার করেন সমস্ত ক্ষমতার অধিকারী হিসেবে । সেই সময়ে 
আর্যদের নিশীড়নে আদি সিন্ধুবাসী কুগ্ঠিত হতে থাকে । ফলে এ সভ্যতার অনেক 
জাতিই বিভিন্ন অঞ্চলে ছড়িয়ে ছিটিয়ে পড়ে । বিশেষ করে দ্রাবিড় গোষ্ঠী অন্যত্র 
আশ্রয় নিয়ে স্বাধীনভাবে বসবাসের চিন্তা করতে থাকে । এভাবেই বিভিন্ন অঞ্চল 
কেন্দ্রিক তাদের নিজস্ব সংস্কৃতি-ভাষা ও লিপির সূচনা ঘটে ফলে শুরু হয় 
লিপিরও আধ্্লিকতা। এর ফলে ভাষার সংমিশ্রণ তো ঘটেই সাথে সাথে বিভিন্ন 
অঞ্চল কেন্দ্রিক লিপির ভিন্নমুখীতা সৃষ্টির সূচনা হয়। এ সময়ে যে অঞ্চলগুলোর 
প্রাধান্য পায় সেগুলো হচ্ছে- তক্ষশীলা, পার্লা, কোশল, কাশি, পুলিন্দ, বিদর্ভ, 
মুতাবি, কলিঙ্গ, অন্তর, দণ্ডক প্রভৃতি | 


পূর্বেই বলা হয়েছে, কালক্রমে লোক বাড়তে থাকলে শুরু হয় ভাষা ও লিপির 
আঞ্গলিকতা । সেজন্য দেখা যায় বৈদিক যুগের প্রচলিত একই পুথি বা ব্রতকথা 
যে অঞ্চলে পাওয়া যায় তা সে অঞ্চলের লিপিতেই উক্ত পুঁথিটি লেখা । প্রসঙ্গ 
উল্লেখযোগ্য যে, সংস্কৃত ভাষার কবি ও নাট্যকার ভাসের নাটকগুলো পাওয়া যায় 
মালোলিয়াম লিপিতে । স্বভাবতই প্রশ্ন আসে ভাসের নাটকগুলো ছিল সংস্কৃত 
ভাষার, কিন্তু তা এ মালোলিয়াম লিপিতে লেখা কেন? এ প্রশ্নের উত্তরে বলা যায় 
লিপির আঞ্চলিকতার জন্য এমন হয়েছে। একই ভাবে বাংলা ভাষার প্রথম 
নির্দশন চর্যাপদের ভাষা বাংলা হলেও তা লেখা পাওয়া গেছে নেওয়ারী লিপিতে । 





ও রি 
াকাএও)$ এ, ভিডি গ 
প্যান্ট: পাস সিগতকাঞঞাদা 





66 


মহামহোপাধ্যায় হরপ্রাসাদ শাস্ত্রী ১৯০৭ সালে নেপালের রয়েল লাইবেরি থেকে 
“চর্যাপদ' পুঁথিটি আবিষ্কার করে ১৯১৬ খরস্টাব্দে বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদ থেকে 
“হাজার বছরের পুরানো বৌদ্ধগান ও দোহা" নামে প্রকাশ করেন। ড. 
সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়ে ১৯২৬ উউইখ-এ প্রমাণ করেন, এ চর্যাগীতির ভাষা 
বাংলা । নেপালের রাজদরবারে রয়েল পাঠাগারে পাওয়া যায় বলে তা নেপালী 
লিপিতে লেখা । তাই মনে করা হয়, চর্যাগীতি গুলো নেপালে প্রচলিত ছিল। 
চলে যায়। মোটকথা একই ভাষায় রচিত একই বিষয় বিভিন্ন অঞ্চলে বিভিন্ন 
লিপিতে পাওয়া গেছে। একই ভাবে বৈদিক যুগে রচিত বেদ, সংহিতা, ব্রাহ্মণ, 
আরণ্যক, উপনিষদ, সুত্র ইত্যাদি বিভিন্ন ধর্ম ও সাহিত্যকর্ম বিভিন্ন অঞ্চলে বি 
ভন্ন লিপিতে লেখার প্রচলন ছিল । বৈদিক যুগের পরবর্তীতে শুরু পৌরাণিক যুগ । 


বর 112 
শ্রম: 
আাননধীল বন 





নাগরী অক্গরে জেখা চৈতম্যচরিতামৃতের পুরানো নারি একটি পৃষ্ঠ 


67 


প্রসঙ্গ উল্লেখ্য যে, অনুমান করা হয় খিস্টপূর্ব ৫০০ অব্দ পর্যন্ত কোন 
সাহিত্যকর্মেরই লিখার রীতি ছিল না । মুখে মুখে যা প্রচলিত ছিল পরবর্তীতে তা 
লেখা হয়। একটি পাণগুলিপি থেকে আবার একাধিক প্রতিলিপি তৈরি করা হয়। 
অনুমান করা হয় বৈদিক যুগে সিন্ধুলিপি থেকে ব্রাহ্মী লিপির উডব। বৈদিক 
সভ্যতার পরে পুরাণ সভ্যতা পাওয়া যায়। সেখানেও দেখা যায় অঞ্চল ক্রমশ 
বিস্তৃতি লাভ করছে। তখন অঞ্চল কেন্দ্রিক লিপি ভিন্নতা সৃষ্টি হচ্ছে। পরবর্তীতে 
প্রতিটি অঞ্চল আবার বিস্তৃতি হতে থাকে এবং কালের স্রোতে বিভিন্ন জনপদে 
পরিণত হয়। 


অঞ্চল কেন্দ্রিক লিপি যে বিন্যস্ত ছিল তার প্রথম প্রমাণ পাওয়া যায় আনুমানিক 
৬১৫ খ্রিস্টাব্দে বৌদ্ধসংস্কৃত ভাষায় লিখিত “ললিতবিস্তর” নামক বুদ্ধচরিতে | এ 
গ্রন্থে ৬৪টি লিপির নাম দৃষ্ট হয়- ব্রাহ্মী লিপি, খরোষ্ঠী, পুষ্করসারী, অঙ্গলিপি, 
বঙ্গলিপি, মগধ লিপি, মঙ্গোল্য লিপি, মনুষ্য লিপি, অঙ্গুলী লিপি, শকারী লিপি, 
ব্রহ্মাবল্লী লিপি, দ্রাবিড় লিপি, কিনারী লিপি, দক্ষিণ লিপি, উগ্র লিপি, সংখ্যা 
লিপি, অনুলোম লিপি, অর্ধ ধনু লিপি, দরদ লিপি, খাস্য লিপি, চীন লিপি, হুন 
লিপি, মধ্যক্ষর লিপি, পুষ্প লিপি, দেব লিপি, নাগ লিপি, যক্ষ্মা লিপি, গন্ধর্র্ব 
লিপি, কিন্নর লিপি, মহোরগ লিপি, অসুর লিপি, গরুড় লিপি, মৃগচক্র লিপি, চক্র 
লিপি, বায়ুমুখ লিপি, ভৌমদেব লিপি, অন্তরীক্ষদেব লিপি, উত্তর কুরুদ্বীপ লিপি, 
অপরগৌড়াদি লিপি, পূর্বাধদেহ লিপি, উৎক্ষেপ লিপি, নিক্ষেপ লিপি, বিক্ষেপ 
লিপি, প্রক্ষেপ লিপি, সাগর লিপি, বজ্ লিপি, লেখপ্রতিলেখ লিপি, অনুদ্রত 
লিপি, গণনাবর্ত লিপি, উৎক্ষপাবর্ত লিপি, অধ্যাহারিণী লিপি, সব্্বরুত সংগ্রহণী 
লিপি, বিদ্যানুলোম লিপি, বিমিশ্রিত লিপি, খষীতপত্তপ্তা লিপি, রোচমনা লিপি, 
ধরণী প্রেক্ষণ লিপি, নিক্ষেপাবর্ত লিপি, সব্রবোষধি নিষ্যন্দা লিপি, সব্বসার 
সংগ্রণী লিপি, গগনপ্রেক্ষণী লিপি, সব্বভূতরুত সংগ্রহণী লিপি, পাদলিখিত 
লিপি। এ লিপিগুলোর মধ্যে কোনটি শৈল্পিকতার দিক থেকে বিভাজিত আবার 
কোনটি বা অঞ্চলকেন্্রিক বিভাজিত । 

জৈনদের “নন্দীসুত্ত” গন্ে ছত্রিশ প্রকারের লিপির উল্লেখ পাওয়া যায়-হংস লিপি, 
ভূত লিপি, যক্ষ লিপি, রাক্ষসী লিপি, যাবনী লিপি, তুরস্কী লিপি, কীরী লিপি, 
দ্রাবিড় লিপি, সৈন্ধবী লিপি, মালবী লিপি, নাড় লিপি, নাগরী লিপি, পারসী লিপি, 
লাটি লিপি, চানক্বী লিপি, অনিমিত্র লিপি, মৌলদেবী লিপি, ল্যাটি লিপি, চৌড়ী 


68 


লিপি, ডাহলী লিপি, কানড়ী লিপি, গুজরী লিপি, সৌরক্টি লিপি, মরহঠী লিপি, 
কোক্কনী লিপি, খোড়সানী লিপি, মাগধী লিপি, সৈংহলী লিপি, হাড়ী লিপি, 
হাম্বিরী লিপি, পরতিরি লিপি, মসী লিপি, মহাযোগী লিপি ইত্যাদি। এ 
লিপিগুলোও কোনটি গঠনগত শৈল্পিক বৈশিষ্ট্য আবার কোনটি বা অঞ্চলকেন্দ্রিক 
বিভাজিত লিপি । 


্রাহ্মী লিপির উন্মেষ ও জনপ্রিয়তা 


বৈদিক সভ্যতার সময়ই সিন্ধু সভ্যতার সম্পদ সিন্ধুলিপি বিবর্তিত হয়ে ব্রাহ্মী 
লিপিতে রূপান্তরিত হয়। এর পরবতীঁতে পৌরাণিক যুগ শুরু হলেও ব্রাহ্মী লিপি 
বর্তমান থাকে । অনেক পণ্তিতগণ মনে করেন ব্রাহ্মী লিপি সিন্ধু সভ্যতার নিজস্ব 
সম্পদ। তবে ব্রান্মী লিপি সিন্ধু লিপির সন্তান কী না? এটি শংকর লিপি কী না? 
তা নিয়ে পপ্তিতদের মধ্যে মতভেদ লক্ষ্য করা যায়। প্রিন্সেপের মতে, প্রাচীনতম 
ভারতীয় লিপি গ্রীক লিপি থেকে জন্মলাভ করেছে। উইলিয়াম জোনসের মতে, 
(ঝধনরধহ, প্রাচীন উত্তর মেসোপটমীয় অন্তর্গত হারামের অধিবাসীদের সেবীয় 
বলা হতো) লিপি থেকে ভারতীয় লিপির উৎপত্তি হয়েছে । তাঁর মতে, দক্ষিণ- 
সেমেটিক প্রদেশই ব্রাহ্মী লিপির জন্নীড়। আবার ওয়েবার ও ব্যুলারের মতে, 
উত্তর সেমিটিক অঞ্চল থেকেই ব্রাহ্মী লিপির উৎপত্তি হয়েছে। কিন্ত কানিংহাম ও 
টমাস এই মতের প্রতিবাদ করেন। অসিতকুমার বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ব্রাহ্ম 
লিপি হচ্ছে ভারতীয় উপমহাদেশের নিজস্ব সম্পদ । তিনি প্রমাণ দেখান ১৮৯৮ 
সালে পিপরাওয়া স্তুপে কারুকার্যরা যে পাত্র আবিষ্কার করেছেন তার গাত্রে 
উৎ্কীর্ণ লিপি অশোক অনুশাসনের পূর্ববর্তী লিপি। 


্রাহ্মী লিপি কখন কীভাবে সৃষ্টি হয়েছিল তা কেউই স্পষ্ট করে বলতে পারে না। 
তবে এ লিপির প্রাচীনতৃ নিয়ে কারো কোন সন্দেহ নেই। লিপির উৎপত্তি সুদূর 
প্রাচীন কালে হলেও খিস্টপূর্ব পঞ্চম শতকের পূর্বেকার ব্রাহ্মীলিপির কোন নিদর্শন 
আজ পর্যন্ত আবিস্কৃত হয় নি। পণ্তিতরা মনে করেন প্রামাণ্য দলিলের যথেষ্ঠ 
অভাব আছে। এ লিপির প্রথম নিদর্শন পাওয়া যায় পিপ্রাবা ও বলী নাম দুটি 


69 


০5 
৮৩ 
নু 
চ্ী 

০5 
লু 
৮59 
কি 
ও 
্ 
৮৩ 

০ 
ও 

১৯০ 
৮3 
রী 

এ 


রি 
ন্‌ 

5 
৮9০ 
রে 
রী 
র্‌ 

ভা 
চে 
৮ 
টি 
৮ 
হট 
$ 

তে 

রি 
তা) 
-%6 


্- 


এ শন্চশ্রপ্ভাপ্গীত শভ্রানকট হু নও এখান 
&পত ০1৯45৬০৪ তাত শ্রঠাপাত০ 





70 


ন্‌ 


টু 
টি 
ত ঠ র্‌ ঠি রি 
* ) ৯১৩৬ ৬ 
টে | রণ 
ব ৫ 
- ্্‌ ১ 
১1: ৮২ ্ &্‌. 
7৮ ণ মী ম রর 
১ 1১ ০ ৫ 
/ ২ ৬, 2. ১ ্ট 
৮ চি ৬ 

১১ ) ৯২) 

েস্ত রি * ত 
২২৬ 
ঁ ্ & 
৫ 

২৯২৬ 
মা 
্ 9 


1, 


২ 





4 


ইউ 


পণ্ডিতদের মধ্যে 
সুত্র 


পরিচিত । পুরাণ 


অনুসারে জানা যায় খ্রিস্টপূর্ব ষষ্ঠ শতাব্দী ভারতবর্ষের প্রায় ষোলটি শক্তিশালী 
পূর্ব বিহার) মগধ (দক্ষিণ 


পালি লিপি” নামেও অভিহিত 
বিহার) কাশী, কোশল (অযোধ্যা) বৃজি (উত্তর বিহার) মল্লু (ত্তর প্রদেশের 


€ 


করে থাকেন। এই লিপি আবার “অশোক লিপি' নামেও 


পশ্চিমাংশ ছাড়া সর্বত্র ব্রাহ্মী লিপির প্রচলন ছিল। ইউরোপীয় 
অস্তিত পাওয়া যায়। সেগুলো হলো- অঙ্গ 


কেউ কেউ এই লিপিকে “পালি লিপি" বা 
রাষ্ট্রের 


71 


গোরক্ষপুর অঞ্চল) চেদী (যমুনা ও নমর্দার মধ্যবর্তী) বৎস (এলাহাবাদ অঞ্চল) 
কুরু (দিল্লী, মীরট, থানেশ্বর) পঞ্চাল (উত্তর প্রদেশের বরেলী, বুদাওন, ফরক্ক 
বাদ জেলা) মৎস (রাজস্থানের জয়পুর) শূরসেন (মথুরা) অশ্মক (গোদাবরীতট) 
অবন্তী (মধ্য প্রদেশের মালব অঞ্চল) গন্ধার (উত্তর পশ্চিমে পেশাওয়ার, বাওয়াল 
পিণ্ডি জেলা) এবং কম্বোজ কোশ্নীরের ও উত্তর পশ্চিম সীমানের কিয়দাংশ)। 
এসব রাজ্যগুলোর মধ্যে কুরু পঞ্াল বিখ্যাত হয়েছিল বিভিন্ন কারণে । 


পুরাণে বর্ণিত আছে শিশুনাগ বংশ খিস্টপূর্ব ষষ্ঠ ও পঞ্চম শতকে মগধ সাম্রাজ্যের 
অভ্যুদয় ঘটান। কিন্তু বৌদ্ধ বিবরণে জানা যায় তার উল্টো; শিশুনাগ মগধ 
সাম্রাজ্যের প্রথম রাজা ছিলেন না। তিনি অনেক পরে রাজা হয়েছিলেন । গৌতম 
বুদ্ধের কালে মগধে রাজত্ট করছিল হর্ষ-বংশজ বিশ্বিসার। এ সময় তক্ষশীলায় 
প্রতিষ্ঠিত বিশ্ববিদ্যালয়ের খ্যাতির চারদিকে ছড়িয়ে পড়েছিল । এ বিশ্ববিদ্যালয়ে 
পঠিত হতো- বেদ, চিকিৎসা শাস্ত্র, যুদ্ধ বিদ্যা ইত্যাদি সম্পর্কিত বিভিন্ন বিষয় । 


বিভিন্ন প্রস্তর-শিল্প, সত নির্মাণ, শিলালিপি থেকে অনুমান করা হয় তক্ষশীলায় 
তখন খরেষ্ঠী লিপির প্রচলন ছিল। এ সময় গ্রীক বীর আলেকজান্ডার ভারতবর্ষে 
আসেন। গ্রীকদের লেখনীতে জানা যায় চন্দ্রপ্প্ত সহানুভূতি ও সাম্রাজ্য দখলের 
হয়ে পলায়ন করেন এবং কিছুকাল পরে গ্রীকদের বিরুদ্ধে ভারতীয় সৈন্যবাহিনী 
গড়েও তুলেন । চন্দ্রগুপ্তের দুটি প্রধান বৈশিষ্ট্য হচ্ছে মগধের রাজ্য দখল ও 
গ্রীকদের বিতাড়ন। বিশাখ দত্তের “মুদ্রারাক্ষস* নাটক থেকে চন্দ্রপ্ুপ্ত ও চাণ্যক্য 
সম্বন্ধে অনেক তথ্য পাওয়া যায়। চন্দ্রগুপ্ত মৃত্যুবরণ করলে পুত্র বিন্দুসার 
সিংহাসনে বসেন। 


আনুমানিক ২৭৩ খিস্টপূর্বাব্দে বিন্দুসারের মৃত্যু হলে পুত্র অশোক মগধ 
সাম্রাজ্যের অধিপতি হন। সম্রাট অশোক কলিঙ্গ বিজয়ের সময় যুদ্ধের ভয়াবহতা 
উপলদ্ধি করে বৌদ্ধ ধর্মে দীক্ষিত হন। বৌদ্ধ ধর্মে দীক্ষিত হয়েই চারদিকে 
অহিংস বার্তা পৌঁছাতে থাকেন । বিভিন্ন স্থানে, পর্বতগায়ে ও প্রস্তর স্তম্তে সাধারণ 
প্রচলিত প্রাকৃত ভাষায় এবং ব্রাহ্মী লিপিতে ধর্মীয় বাণী লিখে দেন। শুধু 
তক্ষশিলায় প্রাপ্ত অশোকের শিলালিপিটি ছিল আর্মানীয় ভাষায় ও খরেষ্ঠী লিপিতে 


72 


?481165চা(]। 16%গ্বটগচা? 
5৮11 ৩৮7517৮02 


কিউই ৬ |প২,৭৬ ্তএজিতপ 
ভিখিলনস্না০3৮৭৩৬৬ 
. তিউিউহডহ৮৪৬৬ দিসি 
এভটিসিজজিনী৬ /৬৬১৩, 





দু্ধানা স্বর্ণ পাতে উৎকীর্ণ খরোল্টীলিপির নমুনা (তক্ষশীলায় প্রাপ্ত) 
এবং কান্দাহারে প্রাপ্ত শিলালিপিটি ছিল গ্রীক লেখ্য । আর সর্বত্র ছিল শিলালিপি 


ও তম ছিল ব্রাহ্মী লিপিতে উৎ্কীর্ণ। এসময় রচিত হয়েছে কৌটিল্যের 
“অর্থশাস্তর", বাৎস্যায়নের “কামসুত্র', জৈন সাধু ভদ্রবাহুকৃত “কম্পসূত্র' বৌদ্ধ 


73 


“কথাবন্ত' ইত্যাদি । সর্বস্বীকৃত যে, রাজ শাসনের সঙ্গে দেশের শিল্প-সাহিত্য, 
ভাষা-লিপি ইত্যাদির পরিবর্তন ঘটে ও রাজকীয় নীতি দেশের মধ্যে জনপ্রিয়তা 
লাভ করে। রাজকীয় ও ধর্মীয় কারণে তৎকালীন সময়ে ব্রাহ্মী লিপি জনপ্রিয়তা 
লাভ করে। অশোকের সাম্রাজ্যে ব্রাহ্মী লিপি জনপ্রিয়তা লাভ তো করেই বরং 
বৌদ্ধ ধর্ম প্রচারকগণ বিভিন্ন অঞ্চলে ধর্ম প্রচারের জন্য গমন করলে পালি ভাষা 
ও ব্রাহ্মী লিপি অশোক সাম্রাজ্য ছাড়িয়ে বাইরের অঞ্চল গুলোতেও জনপ্রিয় হয়ে 
উঠে । তখন প্রচলিত অন্যান্য সব লিপির মধ্যে ব্রাহ্মী লিপি জনপ্রিয়তা পায় ও 
সমস্ত লিপিই এই ব্রাহ্মী লিপি থেকে উদ্ভুত। 


ব্রাহ্মী লিপির নামকরণ নিয়ে অনেক মত প্রচলিত আছে । অনেকের মতে, দেবতা 
ব্রহ্মার কাছ থেকে প্রাপ্ত বলেই এ লিপির নাম ব্রাহ্মী লিপি। আবার কেউ কেউ 
মনে করেন, ব্রাহ্মণদের লিপি বলেই এর নাম 'ব্রাহ্মী লিপি'। আবার অনেকে 
মনে করেন, এ লিপি বাম দিক থেকে ডান দিকে লেখা হতো বলে এর নাম 
ব্রাহ্মী লিপি*। পৃথিবীতে লিপির উৎপত্তি সম্পর্কে অনেক জনশ্র্তি আছে। 
রোমানদের বিশ্বাস, তাদের লিপি দেবতা “মার্কারি*র কাছ থেকে তাদের ব্যবহৃত 
রোমান লিপি প্রাপ্ত । গ্রীকদের মতে, ক্যাডমাস নামক প্রাচ্য দেশীয় এক দেবতা 
যুরূপা নায়ী রমণীর সন্ধানে গ্রীসে আগমন করেন এবং তিনিই সাথে নিয়ে 
আসেন বর্ণমালা । মিসরীয়গণ মনে করেন, তাদের লিপির আর্বিভাব ঘটেছে 
তাদের লিপি দেবতা “থথ'এর দানে । 


অনুরূপভাবে ব্যাবিলনীয়রা বিশ্বাস করে, দেবতা “নেবো” এর কাছ থেকে তাদের 
বর্ণমালা প্রাপ্ত । চীনাদের মতে, তাদের লিপি “সাংচিয়েন* নামক চার চক্ষুবিশিষ্ট 
ড্রাগনমুখী দেবতার প্রদত্ত। তবে ব্রাহ্মী লিপি যে দেবতা ব্রন্ষা প্রদত্ত বা ব্রাহ্মণদের 
ব্যবহৃত বলে এরূপ নামকরণ করা হয়েছে সে বিষয়ে পণ্তিতগণ নিঃসন্দেহ নন। 
এর কারণ ব্রাহ্মী লিপির সুসংঘ পদ্ধতি । কেউ কেউ মনে করে, ব্রান্মী লিপি সিন্ধু 
সভ্যতার নিজস্ব কোন লিপি নয় কারণ সিন্ধু সভ্যতায় যথার্থ কোন চিত্রলিপি বা 
ভাবলিপি দেখতে পাওয়া যায় না। আবার কোন কোন পণ্ডিত এ লিপি সিন্ধু 
সভ্যতারই নিজস্ব অবদান বলে মনে করে থাকেন। কারণ সুগঠিত ও সুপরিণত 
লিপি সম্রাট অশোকের অনুশাসনে দেখতে পাওয়া যায়। বাইরে থেকে আগত 


74 





কোন লিপিই সুসংঘ ব্যবহৃত হতে পারে না । তারা ব্রাহ্মী লিপির ব্যবহার সম্পর্কে 
সঠিক ও যথার্থ তথ্য উদ্ধারের অভাব রয়েছে বলে মনে করেন৷ আবার অধিক- 
1ংশ পঞ্তিতগণই মনে করেন, সিন্ধু সভ্যতার লিপির সঙ্গে ফিনিশীয়, সেমিটিক 
লিপির সংমিশ্রণে ব্রাহ্মী লিপির উন্মেষ । তাদের যুক্তি, ফিনিশীয় জাতিই চিত্র বা 
ভাবলিপি থেকে প্রথম বর্ণমালা সৃষ্টি করেন এবং ব্যবসায়িক কারণে তারা বিভিন্ন 


75 


পড়ে । পপ্তিতগণ একমত হয়েছেন যে, বহির্গমনীয় বিভিন্ন লিপির সংমিশ্রণে 
ভারতীয় উপমহাদেশের প্রথম বর্ণমালা গঠিত হয়। 


১0101 0৬১৫1 61 £7/405 1 
দেবান পিয়েন পিয়দসিন লাজিন বীসতিবসাভিসিতেন 


স)18/4 8৫৫7 6৮96) ৬৬ 
অতন আগাচ মহীয়তে হিদ বুধে জাতে সক্যমুণীতি 


অশোকের ব্রাহ্মী লিপি (বাঙ্গালা লিপ্যস্তর সমেত) 


্রাহ্মী লিপির বিবর্তন 


অসিতকুমার বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ব্রাহ্মী লিপি হচ্ছে ভারতীয় উপমহাদেশের 
নিজস্ব সম্পদ । অশোকের অনুশাসনের অনেক পূর্ব থেকেই ভারতীয় সভ্যতায় 
্রাহ্মী লিপির প্রচলন ছিল এবং সেই লিপিই পরবর্তীকালে অশোক লিপির 
সুগঠিত রূপ লাভ করেছে। সম্রাট অশোকের সময় প্রচলিত ব্রাহ্মী লিপির 
বিবর্তিত রূপ কুটিল লিপি থেকে বাংলা লিপির উদ্ভব হয়েছে বলে পণ্তিতগণ মনে 
করেন। 


মহোমহোপাধ্যায় হরপ্রসাদ শাস্ত্রী ১৩২৭ বঙ্গাব্দের সাহিত্য পরিষদ পত্রিকায় 
“বাংলার পুরাণ অক্ষর" প্রবন্ধে লিপি বিবর্তনের ছক তুলে ধরে দেখান কালক্রমে 
কীভাবে ব্রাহ্মী লিপি থেকে পরবর্তীকালে বাংলা লিপির আকার লাভ করল, তার 
সংক্ষিপ্ত পরিচয়ও দেওয়া আছে। তার ছকটির মাধ্যমে দেখা যে, ব্রাহ্মী লিপি 
চারটি পর্যায়ের মধ্য দিয়ে বিবর্তিত হয়ে পঞ্চম স্তরে বাংলা অক্ষরে পরিণত 
হয়েছে। ব্রান্মী লিপির বিবর্তনের ইতিহাসে পরবর্তী দুটি প্রধান স্তরের নাম কুষাণ 
লিপি (১০০-৩০০ খরস্টাব্দ) এবং গ্প্ত লিপি (খিস্টায় ৪র্থ থেকে ৫ম শতক)। 


76 


্রাহ্মী লিপি 
(খষ্পূর্ব বিডিও খিষ্টাব্দ) 


কুষাণ লিপি 
হিস্ঞ্ বিষ্টাব্দ) 
গুপ্ত লিপি 
(৪র্থ-৫ম শতক) 
উত্তরাঞ্চল লিপি পূর্বাঞ্চল লিপি দক্ষিণাঞ্চল লিপি 
ধেষ্ঠ শতক) ষেষ্ঠ শতক) (ষষ্ঠ ন 
শারদা লিপি পশ্চিমী বা পূর্বী বা পল্পব লিপি 
»(৭ম শতক) নাগর লিপি কুটিল লিপি (৭ম শতক) 
| ৭ম শতক ' (৭ম শতক) 
(কাশ্নীর ও, | (তামিল, 
পাঞ্জাবের (দেবনাগরী, (বাংলা, তেলেগু, 
গুরুমুখী গুজরাতী মৈথিলী, কানাড়ী 
| ভৃতি) ওড়ি়া তি) 
নেপালী 
ভৃতি) 


কুষাণ লিপি স্তর 


মৌর্যোন্তর কালে মধ্য এশিয়া থেকে ইউ চি নামে এক জাতির লোক ভারতবর্ষে 
এসে আস্তানা ফেলে । এই জাতি পাঁচ ভাগে বিভক্ত হয়ে বিভিন্ন দিকে ছড়িয়ে 
পড়ে। কালক্রমে এই পাচ শাখার মধ্যে এক অনুন্নত যাযাবর শাখা মাথা তুলে 
এশিয়া থেকে বারাণসী পর্যন্ত সাম্রাজ্য গড়ে তুলে । এরাই কুষাণ জাতি নামে 
ইতিহাসে খ্যাত। এ কুষাণ জাতির ব্যবহৃত লিপিই কুষাণ লিপি । খস্টীয় প্রথম 
থেকে তৃতীয় শতক পর্যন্ত কুষাণ রাজাদের আমলে কুষাণ লিপি প্রচলিত ছিল । 
কুষাণ রাজাদের নামানুসারে ব্রাহ্মী লিপি বিবর্তিত হয়ে কুষাণ লিপিতে রূপ নেয়। 
কুজুল কদফিস (৫6800011969) নামে এক দলপতি বাকি চার শাখাকে পরাজিত 


77 


করে নিজেকে ওয়াং বা রাজা বলে ঘোষণা দেন। যা হোক এই কুজুল কদফিস 
(কধফটুযরংবং) বৌদ্ধ ধর্মে দীক্ষিত হন এবং বৌদ্ধের বাণী চারদিকে ছড়িয়ে 
দেন। পূর্বেই বলা হয়েছে, এরা ছিল বরহ্হিভারতীয়। এদের ধর্মীয় ও রাজকীয় 
প্রচারের জন্য গ্রীক, রোমান ও ব্রান্মী লিপির মিশ্রণে এক নব লিপি পদ্ধতির সৃষ্টি 
হয়। এ কুষাণ জাতি প্রচারিত ও প্রচলিত মুদ্রা ও লেখা নাম দেন “কুষাণ মুদ্রা" 
এবং 'কুষাণ লিপি'। ব্রান্মী লিপি বিবর্তনের এসে পর্যায়ে এসে দীড়ায় কুষাণ 
লিপিতে । এ লিপিতে “ক" “চ* ঝ' “ড' “দ" ন' “প' “য" বর্ণের সংক্ষিপ্ত মাত্রার 
ব্যবহার দেখা যায়। 


গুপ্ত লিপি স্তর 


বহিভারতীয় কুষাণদের পরবর্তী সময়ে গুপ্ত সাম্রাজ্যের অভ্যুদয় ঘটে । প্রথম 
চন্দ্রপ্ুপ্তকে গুপ্তরাজ বংশের প্রতিষ্ঠাতা হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়ে থাকে । আনু- 
মানিক তিনি ৩২০ খিস্টাব্দের দিকে প্রথম চন্দ্রগুপ্ত যার মূল নাম ছিল সমুদ্র গুপ্ত 
সিংহাসনে আরোহন করেন। ভিনসেন্ট স্মিথ সমুদ্র গুপ্তকে “ভারতীয় 
অনুসরণ করে সমুদ্ব গুপ্ত পূর্ববর্তী লিপি ও মুদ্বাকে পরিবর্ধন ও পরিমার্জন করে 
গুপ্ত লিপি ও গুপ্ত মুদ্রার প্রচলন করেন। সমুদ্র গুপ্তের সভাকবি হরিষেণ এ 
গুপ্তরাজকে জনপ্রিয় ও ক্ষমতাশালী বোঝানোর জন্য সমুদ্রগুপ্তের প্রশংসা বিষয়ক 
রচনা “সর্বরাজোচ্ছেত্তা' চারদিকে প্রচার করতে থাকেন । সমুদবপ্তপ্ত কয়েকটি রাজ্য 
জয় করে অশ্বমেধযজ্ঞের অনুষ্ঠান করেন এবং সেই অনুষ্ঠান উপলক্ষে 
বিশেষাঙ্কিত স্বর্ণমুদ্রার প্রচলন করেন । তাতে লেখা ছিল “অশ্বমেধ পরাক্রম” এবং 
এটি লেখা ছিল তাদের নিজস্ব স্টাইলে । এখান থেকেই গুপ্ত লিপির প্রচলন শুরু 
হয় বলে পপ্তিতগণ ধারণা পোষণ করেন । এরপর দ্বিতীয় চন্দ্রগুপ্ত হন সমুদ্রগ্ুপ্তের 
পুত্র রামগ্ুপ্ত। বিশাখ দত্তের “দেবীচন্দ্র গুপ্ত" এবং বাণভন্টে “হর্ষচরিত' থেকে 
জানা যায় রামগুপ্তই “সিংহবিক্রম' “বিক্রমাদিত্য' নামে বংশীয় উপাধি সৃষ্টি 
করেন। 


ম্যাক্সমুলার মনে করেন, ব্রান্মণ্য ধর্ম এবং সংস্কৃত সাহিত্যের অভাবনীয় অগ্রগতি 
থেকে সিদ্ধান্ত করা যায় যে, গুপ্তযুগে হিন্দুধারার পুনর্জন্ম (জবহধরংংধহপব) 
ঘটেছিল । নারদ, বিষ্ণু, যাজ্্যবন্্য ও মনুসংহিতা ইত্যাদি স্মৃতিশান্ত্র এ গুপ্ত যুগেই 


78 


রচিত হয়েছিল। কালিদাসের “শকুন্তলা' “মেঘদূত' “রঘুবংশ' খতুসংহার", 
শুদ্রকের “মৃচ্ছকটিক' বিশাখ দত্তের “মুদ্রারাক্ষস” এ গুপ্ত যুগের রচনা । সম্ভবত 
গুপ্ত যুগেই “ভরতনাট্যশাস্ত্র' লেখা হয়েছিল বলে পণ্ডিতরা অনুমান করেন । অনু- 
মান করা হয় এসব রচনা সংস্কৃত ভাষায় হলেও প্রথমে গুপ্ত লিগিতে লেখা 
হয়েছিল । পরবর্তীতে অঞ্চলভেদে সে লিপির পরিবর্তন হয় । 


বাংলা লিপির সূত্রপাত 


ইতোমধ্যে উল্লিখিত হয়েছে, খিিস্টীয় চতুর্থ ও পঞ্চম শতক পর্যন্ত গুপ্ত রাজারা 
ব্রাহ্মী লিপি কিছুটা পরিবর্তন করে নিজস্ব স্টাইলে রাজ্যশাসন ও ধর্মীয় প্রচারণার 
জন্য ব্যবহার করতেন। গুপ্ত রাজাদের নামানুসারেই এ লিপির নামকরণ হয়েছিল 
গুপ্ত লিপি। অনেক ভাষা বিজ্ঞানী অনুমান করেন, গ্রপ্ত নামকরণের সাথে এ 
লিপির কিছুটা সাদৃশ্য রয়েছে । কেননা এ গুপ্ত লিপি স্তরে সংক্ষিপ্ত মাত্রার অধিক 
ব্যবহার দেখা যায়। পরবর্তীতে গুপ্ত লিপি বিবর্তিত হয়ে রূপ নেয় কুটিল 
লিপিতে ৷ দেখা যায়, লিপি সর্বদা রাজাদের নামানুসারে পরিবর্তিত হয়েছে। কিন্তু 
এ কুটিল লিপিই কোন রাজবংশের প্রভাব ছাড়াই ষষ্ঠ থেকে নবম খিস্টাব্দ পর্যন্ত 
ভারতবর্ষে প্রচলিত ছিল। এ লিপির অক্ষর ও স্বরের মাত্রা অনেকটা কুটিলাকৃতির 
বলেই সম্ভবত এর নামকরণ কুটিল লিপি করা হয়েছে। 


লক রিযখঠাঞপ্ভনমনে রি লেবু 
সুক্ৃতকর্মফনতেত্ঃসততপাময় ঘৃিলাকদুয়সাধনাধর্সঃ 


ষষ্ঠ শতাব্দের কুটিল লিপি আধুনিক লিপ্যস্তর সমেত) 


79 


গুপ্ত সাম্রাজ্যের পতনের পরবর্তীতে স্বাধীন, সার্বভৌম নরপতি শশাঙ্ক বাংলার 
সিংহাসেন অধিষ্ঠিত হলে লিপি রাজকীয় প্রভাব থেকে মুক্তি লাভ করে । ফলে 
রাজাদের নামানুসারে বা বংশ অনুসারে লিপি পরিবর্তনের হাত থেকে রক্ষা পায়। 
প্রকৃতির মানুষের ওপর চলে আসে তার পরিবর্তন। এরপর পাল বংশের নির্বাণ 
সাধনা কেন্দ্রিক চিন্তায় রাজপ্রাধান্য দেয় নি বলেই এ কুটিলাকৃতির লিপি নিজস্ব 
স্টাইলে প্রকৃতির উ্থান-পতনের মধ্য দিয়ে এগিয়ে যেতে থাকে । পরবর্তীতে 
সেন রাজাদের প্রাধান্য এলে সংস্কৃতি সাহিত্য চর্চার পথ দিগন্ত বিস্তৃত হয়। কিন্তু 
কুটিল লিপির ক্রমবিকাশ এগিয়েই যেতে থাকে। 


বাংলা লিপির বিবর্তন 


স্বাধীন কিন্ত প্রকৃতি শাসনাধীন কুটিল লিপি ভারতবর্ষেও বিভিন্ন অঞ্চলে প্রায় 
দুই'শ বছর ধরে প্রচলিত ছিল । কুটিল লিপির বিবর্তনের পর্যায়ে পরবর্তী ধাপে 
দুটি রূপ দাঁড়ায়- উত্তর ভারতীয় ও দক্ষিণ ভারতীয়। উত্তর ভারতীয় কুটিল 
লিপির পশ্চিমাঞ্চলীয় রূপ থেকে দেবনাগরী এবং পূর্বাঞ্চলীয় রূপ থেকে অর্থাৎ 
অঞ্চলের কুটিল লিপির থেকে বাংলা লিপির উৎপত্তি হয়। 


পাও স02০8ণ 


শ্রীরামেণরাবণবধঃ 


জীতাহিন৪ 


সীতাবিবাহঃ 


দ্বাদশতাব্দের বাঙ্গালা লিপি ॥ 


লিপির প্রথম সার্থক ব্যবহার দেখা যায়, দশম শতকে বিনায়ক পালের 
তাম্ফলকে । এ তাম্ফলকেই প্রথম বাংলা লিপি ব্যবহার হয়। কিন্তু সে বাংলা 


৪09 


লিপির বর্ণগুলো আজকের দিনের মতো পরিপর্ক নয়। এভাবে তা গুর্জর 
শাসনামলে আমাদের বঙ্গ এলাকায় প্রবেশ করে । পরবতীকালে এই বর্ণমালা 
স্বাধীনভাবে বহু বিবর্তনের মধ্য দিয়ে দশম শতকের শেষভাগে মূল বাংলা 
বর্ণমালায় পরিণত হয়। ড. রাখালদাস বন্দ্যোপাধ্যায়, ড. রমেশচন্দ্র মজুমদার, 
মহামহোপাধ্যায় হরপ্রসাদশাসী, অচিন্ত্য বিশ্বাস, দীনেশচন্দ্র সেনের প্রবন্ধের ভাষ্য 
অনুসারে বাংলা বর্ণমালার জন ক্রম প্রসঙ্গে একটি ছক তৈরি করা যায় এভাবে- 


নবম শতাব্দী | নারায়ণ পালের “বাদাল" স্তভ্ভলিপি 

দশম শতাব্দী এ প্রথম মহীপালের “বাণগড়' তামত্রশাসন 
একাদশ শতাব্দী : তৃতীয় বিগ্রহপালের “আমগাছি' তাত্রশাসন 
দ্বাদশ শতাব্দী : বিজয় সেনের “ দেওয়াপাড়া' শিলালিপি । 


লিপি বিবর্তনের এ পর্যায়ে এসে দীড়ায় বাংলা লিপিতে । খিস্টীয় ষষ্ঠ শতক 
থেকে পূর্বাঞ্চলীয় কুটিল লিপির বিবর্তন শুরু করে দশম শতকে এসে আধুনিক 
বাংলা বর্ণের আকারে রূপান্তরিত হয় । 


বাংলা লিপি সাহিত্যের ক্ষেত্রে তখনও পুরোদস্তর প্রচলিত হয়ে ওঠে নি। কিন্তু এ 
লিপির প্রথম সার্থক ব্যবহার দেখা যায়, দশম শতকে বিনায়ক পালের 
তাশ্রফলকে । এ তাম্ফলকেই প্রথম বাংলা লিপি ব্যবহার হয়। কিন্তু সে বাংলা 
লিপির বর্ণগুলো আজকের দিনের মতো পরিপর্ক নয়। এভাবে তা গুর্জর 
শাসনামলে আমাদের বঙ্গ এলাকায় প্রবেশ করে। পরবতীকালে এই বর্ণমালা 
স্বাধীনভাবে বহু বিবর্তনের মধ্য দিয়ে দশম শতকের শেষভাগে মূল বাংলা 
বর্ণমালায় পরিণত হয়। 


ড. সুনীতি কুমার চট্টোপাধ্যায় বলেন, পাল সাম্তরাজের অধিভূক্ততার সময়টাতেই 
মাগধী প্রাকৃত অবহটঠের সদ্যোনির্মোক মুক্ত রূপে জন্ম নেয় বাংলা ভাষার । 
আশ্চর্য হলেও সত্য যে, বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের প্রথম নির্দশন বাংলা লিপিতে 


৪1 


পাওয়া যায় নি। বাংলা ভাষার প্রথম নির্দশন “চর্যাপদ পাওয়া গেছে নেপালের 
নেওয়ারী লিপিতে। অনুমান করা হয় লিপির আঞ্চলিক প্রভাবজনিত কারণে তা 
নেওয়ারী ভাষায় পাওয়া গেছে। বাংলা বর্ণমালার প্রথম নির্দশন পাওয়া যায় প্রথম 
মহীপালের (৯৮০-১০৩৬ খর.) বাণগড় দানপত্রে এবং কম্বোজের রাজা নয়পাল 
দেবের (১০৩৬-১০৫৩ খি.) ইর্দার দানপত্রে। এ সময় উত্তর-পূর্ব ভারতে নাগরী 
লিপি এবং পূর্বে বাংলা লিপির প্রাধান্য বিস্তার করে। 


পুরাতন বাংলার যাবতীয় সংস্কৃত ও বাংলা পুঁথি সবই বঙ্গাক্ষরেই লেখা । কারণ 
এদেশে তখনও নাগরী লিপির প্রচলন হয় নি। তবে ফোর্ট উইলিয়াম কলেজ 
প্রতিষ্ঠার পর সংস্কৃত পুঁথিতে ক্রমে ক্রমে বাংলা লিপির বদলে নাগরী লিপির 
প্রচলন দেখা গেছে। এক্ষেত্রে অনুমান করা যায়, এ কলেজের সংস্কৃত বিভাগে 
কোন লিপি বোঝতেন না। তাই এসব পুঁথি নাগরী লিপিতে লেখা হয়েছিল। 


বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের ইতিহাসে এর পরবর্তী সময়টাকে অন্ধকার যুগ হিসেবে 
কল্পনা করা হয়। কারণ এ সময় বাংলা ভাষায় কোন সাহিত্যের নিদর্শন পাওয়া 
যায় না । কিন্তু মানুষের মুখে মুখে বৌদ্ধ গান, দোহা, ডাকের বচন, নাথ গীতিকা, 
পালগীতি প্রভৃতির প্রচলন ছিল। আর এগুলো মুখে মুখেই রচিত ও প্রচলিত ছিল 
বলেই ছিল লেখার কোন প্রয়োজন অনুভূত হয় নি। তবে পন্তিতগণ অনুমান 
করেন, এ সময়টাতে মূলত সংস্কৃত ভাষার চর্চা হয়েছিল। তাদের পক্ষে যুক্তি 
হচ্ছে কোন জাতির সংস্কৃতি একদিনে যেমন গড়ে ওঠে না তেমনি একদিনে তা 
বন্ধও হতে পারে না। এ সময় বিজয় সেনের (১০৯৮-১১৬০ খি.) দেওপাড়ার 
খোদিত লিপিতে এই মুল বাংলা বর্ণমালার আরও উত্ককর্ষ পরিলক্ষিত হয় । কিন্তু 
মুসলমান শাসকদের প্রভাবের দরুণ সাহিত্য-সংস্কৃতির ধারা বন্ধের কারণে 
বর্ণমালার বিবর্তনও প্রায় স্থবির হয়ে থাকে। 


পঞ্চদশ শতকে স্বাধীন সুলতানদের অনুপ্রেরণায় পুনরায় সাহিত্য-সংস্কৃতির চর্চা 
শুরু হলে আবার লিপির পরিবর্ধন হতে থাকে । তবে বাংলা লিপির আকৃতিগত 
তেমন কোন পরিবর্তন হয় নি। পঞ্চদশ শতকের বোধিচর্যাবতার গ্রন্থে বাংলা 
লিপির পূর্ণ বিকাশ লক্ষ্য করা যায়। এ সময় জনপ্রিয় হয়ে ওঠে শ্রীকৃষ্ণকীর্তন। 


৪2 





্রীষ্কীর্তনের পুথির ১৭৬৭ পৃষ্ঠা (তিন নম্বর হাতের লেখা) 


১৫শ-১৬শ শতাব্দীর শ্রীকৃ 
ষ্তকীর্তনের লিপিকে পূর্ণ 
বাংলা লিপিতে লেখা বলে 
গ্রহণ করা হয়ে থাকে। শ্রীকৃ 
ষ্তকীর্তন কাব্যের লিপিকর 
ছিলেন কৃষ্ণপঞ্ানন। ১৯০৯ 
খরিস্টাব্দে বসন্তরঞ্জন রায় 


সমাজে বেশ জনপ্রিয় হয়ে 
ওঠেছিল। পরে ১৯১৬ 
খিস্টাব্দে বসন্তরঞ্জন রায়ের 
সম্পাদনায় গ্রন্থটি বঙ্গীয় 
সাহিত্য পরিষদ থেকে 
প্রকাশিত হয়। 


১] ৮ ৬৫০ ১১১১]১০ &521১1৬ 








০৯০ এপাশ পপ সা পা এ ্পঞ্্ঞ্ন ৯ এর শালী পাপ পাশাপাশি 


108748) ₹ :9525558454358758 5, 2০ ৪ ৯ 

















7,২২১ ১42৯ 2 2:১1: রা 

38885 10৯৮526045২ 7৫ ৪০ ৩2 388, 
২০০2০৩৮১৮১৮ 44879, রং ৮৩৯৪: 10০ - ২২৫-২১১১58 টিন 

2 ১০৮১ ৮১ ১৯০4৮৫১79০৮ ২4১৬২ ৯৬৬, 5: এ নী 

/ ১ (৫ 15৮42২54954 ২৮১5 ॥ 

55 ইস 21 

112৮ ১৭ ৩, ভিত) 

১৬5০৮ রি 10000534855 ৮8 





2৮৭ ৯ 40৬11 ৃ ু & 
১৯44 ২. ০ সা ০১১2 


২৭ ৮১৯৫৮ ৬ ১৯:৯৮, মি টি 


৮৭ ৯ 
টি কু 




















দা দঃ চা, 
$ নি 3: সেও তি তে রর 
এ, 80১১1884505 ৮ রঃ 





ট্‌ 
২ 4508১ হি 2 


৮১ 2. চি * /৮০৯৯২১৫৭ 1 
1448 ২:88: লিও এট 12 


্া+ 


৮৯ 


এ 275 চি 


৮ ০8845758552) ৮ 
বন 547 ৯৮৯1 
৯! 





85255848452 ৮ 
০২7 এ তঞহসএ৯ যি 
/32014:3.1:8171681582 ১৮ “এম ৮৫4. ৬০ 


পিস 5৮ 


ন্‌ 





১. 


84 


তে 
এরিক ৯৯ 


1৫5 ৯৮ ৮৪৮ ৪০৫1৩ ১5:481$৫ 58015855 


হিরা নক ২, 
২53 51425 


৬০৮/4)//15/৬৯)1৮ 


| ডি £1৮১1৮৪১০। থু ৪১৮1১৮৮1১৮৮ ৮9189১১৪৮৮৯ 
(২৮19১০৮৮ঠ৬ুত ৮৮১॥ 87574 98৮) ৃ 


_ ৮১2১৬৪১৮৯৮৮ ৮4 
টু 





1৮15১95৯৯৮৮ 


৮৬৮৪০ 
2958555919 


প্ই 








উচ6চ- চট, 
17111711111) 
৮6617658565: 


১9৮১১৮৮1458 
দ৮৮৮৯। ঠ১ টা 
ক 1৮4৮ র্ বা 
5155115৬৯-90৯9 


্ 


৯ 


9/4৮1৮8৮ . 


এর 


এর 
জৈনুদ্দিন 


রচনা করেন “রসুল বিজয়' 
হুসেন শাহ 


পৃষ্ঠপোষকতায় মালাধর বসু 
রচনা করেন 'শ্রীকৃষ্ণবিজয়* 
শামসুদ্দিন ইউসুফ শাহ 
(১৪৭৪-১৪৮১) 
পৃষ্ঠপোষকতায় 
আলাউদ্দিন 


(১৪৫৯-৭৪) 


85 


(১৪৯৩-১৫১৯) এর 
পৃষ্ঠপোষকতায় বাংলা 
বিকাশ ঘটতে থাকে। 
ফলে বাংলা ভাষা ও 
লিপিতে ভিন্নতর মাত্রা 


জন্য একাধিক পাণগুলিপি 
দেয়। এ সময়ে বাংলা 
সাহিত্য বিভিন্ন ধারায় 
সমৃদ্ধ হতে থাকে । ফলে 
বাংলা লিপির যুগ 
উপযোগী পরিবর্তন 
ঘটতে থাকে । একটি 
পাগ্জুলিপি থেকে 
একাধিক প্রতিলিপি 
করায় বাংলা লিপি 
বিবর্তনের গতি বৃদ্ধি 
পায়। 


কবীন্দ্ পরমেশরের পাঙুবৰিভায়ুর পুথি 





আরাকান রাজসভা কেন্দ্রিক অনুবাদ ও মৌলিক রচনার প্রভাব বাংলা ভাষা ও 
সাহিত্যে এক দ্যোতনার সৃষ্টি করে। দৌলত উজির বাহরাম খান “লাইলী-মজনু' 
দৌলত কাজীর “সতী ময়না-লোরচন্দ্রানী” আলাওলের “পদ্মাবতী", “সপ্তপয়করণ, 
বাংলায় পালা-কীর্তন প্রভৃতির প্রাধান্য দেখা যায়। বিভিন্ন মঙ্গলকাব্য, ব্রতকথা, 
গীতিকা, অনুবাদ, পুঁথি পাঠ প্রভৃতি বিষয়ের প্রাধান্য বিস্তার করতে সর্বত্র। তবে 


86 








80840)484 সা ট 
10১১১১১৫৫৭০ /১৮০১১১১/১? 


১4 /80/105/88448 


১ 
04১) 48, ৪ 





১/৬১১৮১/১৮৭$১/১০%৯৪৪০ 


সাহিত্য 
তেমন 


শতকে বাংলা লিপির কোন উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন 


প্রভাবিত হয়েছিল বলে লিপির উল্লেখযোগ্য 


রীতিতে বেশি 


দেখা যায় না। এ কারণ হিসেবে অনুমান করা যায়, এ সময় 
ঙু 
কোন পরিবর্তন ঘটে নি। 


ষোড়শ, সপ্তদশ ও অষ্টাদশ 


87 


পাঙ্ুলিপি যুগের অবসান 


পৃথিবীর বিভিন্ন ভাষা ও সাহিত্যে পাণ্ুলিপির অবসানে সৃষ্টি হয় নব যুগের । 
প্রাচীনকালে একটি সাহিত্যকর্মের জন্য প্যাপিরাস, মাটির ফলক, পার্চমেন্ট, 
ভেলাম, কর্ডেক্স, তালপাতা, তেরেট পাতা, তুলট কাগজ, ভূজ্ পত্র, কাপড়, 
পাথর ইত্যাদি লিখে রাখার উপকরণ হিসেবে ব্যবহৃত হতো । এ পার্গুলিপি তৈরি 
যায়। কারণ তখন সাহিত্যের একমাত্র বাহন ছিল পারুলিপি । পূর্বেই উল্লিখিত 
হয়েছে প্রাচীন সভ্যতার লোকেরা একটি সাহিত্য কর্মকে লিখে রাখার জন্য অর্থাৎ 
পাঙুলিপির সংরক্ষণের জন্য একটি ঘর বা ঘর সমপরিমাণ স্থান ব্যবহার করতো । 


ভারতীয় উপমহাদেশে প্রাচীন কাল থেকে ব্যবহার হয়ে আসছিল ভূর্জপত্র, কাপজ 
বা কার্পাসিক পট, কাষ্ঠ-ফলক, তালপাতা, তেরেট পাতা, পশুচর্ম, ধাতব পাত, 
সঙ্গে কঞ্চি, শর, খাগড়া, ময়ূর বা শকুনের পালক, লোহা প্রভৃতির তৈরি লেখনী 
উভ্ভব হয়েছে। পণ্তিতরা অনুমান করেন, লিখার জন্য কালির ব্যবহারও ছিল 
প্রাচীন কাল থেকেই। মহোর্জোদারোতে প্রাপ্ত একটি দোয়াতাকৃতির পাত্র দেখে 
অনুমান করা হয়, সে যুগে কালির ব্যবহার ছিল । তাছাড়াও জৈন গ্রন্থাদিতে লাল 
হিঙ্ুলার রঙের ব্যবহার দেখা যায়। 


প্রাচীন কাল থেকেই ত্রিফলা, শিমুল গাছের ছাল, ছাগলের দুধ, লোহার গুড়া, 
লাক্ষা বা লাহা, জাবার কুঁড়ি, গাবের ফল, হরিতকী, ভূঙ্গাজর্জ্ন, গাছের ছাল, 
আমলকী, বাবলা গাছেল ছাল, জাঠের রস, ডালিমের রস, কাঠ-কয়লা ইত্যাদির 
তৈরি কালি ব্যবহার হচ্ছিল। প্রত্রতত্তবিদ স্যার জন মার্শালের বলেন “মাটির 
ফলক বা সীলমোহরের বাইরে সিম্ধুলিপির ব্যবহারের বিশেষ নিদর্শন পাওয়া না 
গেলেও আমরা অনুমান করতে পারি যে, ভূর্জপত্র, তালপাতা, চামড়া, কাঠ বা 
কাপড়ে সিন্ধু লিপি লিখিত হয়েছিল । কিন্তু সে উপকরণগুলি অপেক্ষাকৃত কম 
টেকসই হওয়ায় তা কালের অতলে হারিয়ে গেছে।” পার্ুলিপি যুগের কবি বা 
লেখক যে গ্রন্থ রচনা করতেন, তা পাঙ্ুলিপির মাধ্যমেই প্রচার লাভ করতো । 


৪৪ 


ধর্মীয় বাণীগুলো অনেক সময় শিলা লিপিতে উৎ্কীর্ণ হতো। আবার লেখকের 
মূল পার্ুলিপি থেকে হয়তো এক বা একাধিক প্রতিলিপি লেখা হতো এবং 
পরবতাঁকালে সে প্রতিলিপিগুলো থেকেই আরও অনেক পাঙ্ুলিপির উদ্ভব হত। 
এভাবেই পাঙুলিপি সৃষ্টির মাধ্যমে দেশ-দেশান্তরে ছড়িয়ে পড়তো কবির রচনা । 
শুধু সাহিত্যের বাহন হিসেবে নয়-ধর্মকার্য, রাজ্যশাসন এবং দৈনন্দিন বিভিন্ন 
কাজে এই পার্ুলিপির ব্যবহার দুর্লক্ষ্য নয়। সেকালে ধর্ম-অর্থ-মোক্ষ সাধনার 
জন্য প্রত্যেক ঘরেই পারুলিপি বা হাতে লেখা পুথি সযত্নে সংরক্ষিত হতো । 
মুদ্রণযন্ত্র প্রতিষ্ঠার আগে পার্ুলিপি শব্দটির ব্যবহার ছিল না। প্রাচীন কালের সব 
পাগুলিপি যুগের অবসান ঘটে । 


অনুমান করা হয় নবম খিস্টাব্দের দিকে চীনে প্রথম মুদ্রণ যন্ত্রের প্রচলন হয়। 
তবে তা আধুনিক মুদ্রণ যন্ত্রের মতো ছিল না। একধরনের অক্ষর তৈরি করতো 
তাতে রং লাগিয়ে চেপে ধরে ছাপাতো। চীনের এ প্রাক-মুদ্রণ প্রক্রিয়ায় 
পোড়ামাটির ফলক, ভেলাম, পাথর, ভূর্জ্যপত্র, ধাতুর পাত ইত্যাদির ব্যবহার 
হতো । অনুমান করা হয়, ১৪৪৮ খিস্টাব্দে জার্মানীর মেঞ্জ শহরে মুদ্রণ যন্ত্র 
স্থাপন করেন জোহান গুটেনবার্গ, জোয়ান ফাস্ট নামক এক ধনী স্বর্ণকারের কাছে 
থেকে অর্থ খণ করে ল্যাটিন ভাষায় ভালগেট বাইবেল নামে একটি গ্রন্থ মুদ্রিত 
করেন। এটিই ছিল ১৪৫৬ খিস্টাব্দে ইউরোপে প্রথম মুদ্রিত গ্রন্থ । এর প্রতি 
পৃষ্ঠায় ৪২টি লাইন ছিল বিধায় ৪২ লাইনের বাইবেল নামেও এটা পরিচিত। 


জার্মানীর পরে মুদ্রণের প্রসার ঘটে ইতালিতে । দুজন জার্মান মুদ্রক রোমের পথে 
একটি গ্রামে ১৪৬৫ খিস্টাব্দে একটা মুদ্রণ যন্ত্র স্থাপন করেন। ১৪৬২ খিস্টাব্দের 
ইতালির সুবিয়ান নামক স্থানে কনরান্ড সোয়েনহেম এবং আননন্ড প্যানার্জ নামে 
এই মুদ্রকদ্ধয় একটি গ্রামের গীর্জায় আশ্রয় নিয়েছিল। এদের উদ্দেশ্য ছিল 
ঈশ্বরের বাণীকে মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া । এই দুই মুদ্রক ১৪৬৭ খিস্টাব্দের 
মধ্যে ৪ খানা পুস্তক প্রকাশ করেন। স্বানসে স্থায়ীভাবে মুদ্রণ যন্ত্র স্থাপিত হয় 
১৪৭০ খ্রিস্টাব্দে । ১৪৫৮ খিস্টাব্দে রাজা সপ্তম চার্লস তার টাকশালের অধ্যক্ষ 
নিকোলাস জেনসেনকে চুপি চুপি মেঞ্জ শহরে মুদ্রণ কৌশল শেখানোর জন্য 


89 


পাঠান । কিন্তু অতি দুঃখের বিষয় যে, অধ্যক্ষ নিকোলাস ফ্রান্স থেকে ফিরে এসে 
দেখেন যে রাজা সপ্তম চার্লস মারা গেছেন। মুদ্রণ যন্ত্র আর স্থাপন করা হলো 
না। শেষ পর্যন্ত জা হেনলিন ও গুইলাস ফিচেট নামে সোরবোন বিশ্ববিদ্যালয়ের 
অধ্যাপক তাদের প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে মুদ্রণ যন্ত্র স্থাপন করেন। শুরু হয় 
পাগুলিপির যুগের চূড়ান্ত অবসান। দুই অধ্যাপক বিভিন্ন প্রাতিষ্ঠানিক বইপত্রও 
ছাপেন। এসময়ই বেলজিয়াম ও স্পেনে ১৪৭৩ খিস্টাব্দে, ডেনমার্কে ১৪৮২ 
খিস্টান্দে, সুইডেনে ১৪৮৩ খ্রিস্টাব্দে এবং পুর্তগালে ১৪৮৯ খ্রিস্টাব্দে মুদ্রণ যন্ত্র 
স্থাপিত হয়। এসময় ইংল্যান্ডের উইলিয়াম ক্যাক্সটন নামে এক মুদ্রাকর ১৪৭৫ 
থেকে ১৪৯১ পর্যন্ত ১৬ বছরে ১০০টি বই ছাপিয়ে রেকর্ড করেন। তার প্রথম 
মুদ্রিত বই ফরাসি ও ইংরেজি ভাষার । যার নাম “বুদ্ধিমানের বচন । তারপর 
১৬৪০ খিস্টাব্দে আমেরিকায় প্রথম বই মুদ্রিত হয়। ১৮৭৬ খ্রিস্টাব্দে বার্মার 
সাববিয়ান শহরে প্রথম ছাপাখানা প্রতিষ্ঠিত হয়। ১৭৩০ খ্রিস্টাব্দে শ্রীলংকা, 
১৮৭০ খিস্টাব্দে জাপানে মুদ্রযন্ত্র স্থাপিত হয়। এভাবেই সারা পৃথিবী ব্যাপী মুদ্রণ 
যন্ত্রের ব্যবহার শুরু হয়। ফলে হাতে পাণগুলিপির পরিবর্তে ব্যবহৃত হতে থাকে 
ছাপার অক্ষর; বন্ধ হয়ে যায় লিপির বিবর্তন । 


ভারতীয় উপমহাদেশে প্রথম মুদ্রণ যন্ত্র আমদানী করেন পর্তুগীজরা । পর্তুগীজরা 
১৪৯৮ খিস্টাব্দে জেরিয়াতে বসতি স্থাপন করার পর সেখানে দুটি ছাপাখানাও 
স্থাপন করেন। গোয়ায় মুদ্রিত প্রথম বইটি পর্তুগীজ ভাষায় রচিত যার নাম 
“কনুকসোজ'। ১৮০০ সালে ইংরেজরা যখন আগ্রা দখল করে তখন সেখানে 
একটি মুদ্রণ যন্ত্র পাওয়া যায়। মেজল ইয়নু নামে জনৈক ইংরেজ সেনাধক্ষ্যের 
বিবরণীতে জানা যায়, মোগল সম্রাট দ্বিতীয় শাহ আলম এই ছাপাখানা স্থাপন 
করেছিলেন। ভারতীয় উপমহাদেশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানী শাসনাধীন হলে 
পাশ্চাত্য থেকে সিভিলিয়ানরা এদেশ শাসন করার জন্য আসে । কিন্তু ভাষাগত 
কারণে শাসন কর্তৃত পর্যদস্ত না নয় সেজন্য সিভিলিয়ানদের বাংলা ভাষা শিক্ষা 
দানের ব্যবস্থা করা হয়। এ সূত্র ধরেই ব্রাসি ন্যাথানিয়েল হ্যালহেড রচনা করেন 
অ এতধসসধৎ ডুভ ঃযব ইবহমধষ খধহমধমব | এ রচনার বাংলা অংশ 
ছাপানোর জন্য তার বন্ধু সিভিলিয়ান ও প্রাচ্য তত্ুবিদ চার্লস উইকিনসকে দায়িত 
দেন বাংলা টাইপ তৈরি করার জন্য। চার্লস উইলকিন্সের জন্ম ১৭৪৯ খিস্টাব্দে 
ফরোমে। মাত্র ২১ বৎসর বয়সেই তিনি ভারতে চলে আসেন । বিদেশীদের মধ্যে 


90 


সংস্কৃতজ্ঞ পণ্ডিত হিসেবে তিনি বেশ পরিচিত ছিলেন । তিনি প্রাচ্য বিদ্যা বিষয়ক 
অনেক গ্রন্থের প্রণেতাও। চার্লস উইকিন্স বাংলা প্রাটান পাঙগুলিপির বর্ণকে 
অনুসরণ করে বাংলা অক্ষরের নকসা ও তাতে প্রথম পাঞ্জ খোদাই করেন। 
১৭৭৮ খ্রিস্টাব্দে লিসবন শহর থেকে প্রকাশিত হয় হ্যালহেডের /% 018111121 
01016 88109119100806 | এতেই প্রথম বাংলা বর্ণ ছাপা হয়। ছাপার ফলে 


হালহেডের ব্যাকরছে বাংলা ১৭৭৪ খঃ 





যোঙণুলাশ" শাপানা 
সেনী দোখি সোযদস্ত ওচিন ডখন ! * াবাস্িপায়ুপকা4। 
গাডাখড়ি যহা মুদ্ধ করে ছুই জন ॥ | শ্চিঘডে হাইদঘূত! 
ভরে সেনী! মহা কোপে ঈরে ভার চুনে। / 
খয়া হই [ঢড সভা ডন ॥ । 3 
দারা ০0১111,81২ 
রি রঃ 0 $ 701 
এক ৰহ 
টি 73041, 1.8২0005১0৮ 
উর সভে ৬টি সহ নিবাৰন কৈন | 
আউিমানে দোষদত্ত দেশেৰে চনিন & 1481718১411. /1)355% &508£0 
সভা মধ্যে সোমদত্ত পাইয়। যভিমান। ইদাদাযাল লারা প্দূঃ পঃরারিরে 
উপস্য। করিডে বনে কৰিন পয়ান & মির ₹তমলা ভামানত' লয় বাঃ 
দ্বাদশ বৰ সেই কৈন অনাহারে । 18৯78 0 
এক িন্তে সোষদ্ত সেরে মহেশ্থরে ॥ এ 
1700101,% 14 8১০৮৮ 
ব্স ছ্ইন দ্র দিগাম্বর! »&3:। & 8 ৯৪1. 
রূষভে চডিয়া। যাইন বনের ভিডর্‌ ॥ 
শিব বনে বর মাণা সুনহ ৰাজন। | হালহেডের ব্যাকরণে বাংলা ১৭৭৪ থ? 


লারা ল্াশপা, এল্লাললাশীলদালালাল্লালরা ল্লল্ীশাললা বীনা 1) 


বাংলা লিপি অক্ষয় রূপ ধারণ করে। তারপর ধীরে ধীরে ভারতীয় উপমহাদেশে 
বিকাশ ঘটতে থাকে মুদ্রণ শিল্পের । পরে শ্রীরামপুর মিশনারী কর্তৃক ছাপাখানা 
প্রতিষ্ঠিত হলে জাত লিপিকর পঞ্ধানন কর্মকার বাংলা অক্ষরকে বিন্যাস ও মুদ্রণ 
উপযোগী করেন। উইলিয়াম কেরীর তন্তাবধানে এ ছাপাখানার মূল লক্ষ্য ছিল 
যীশুর প্রচারিত বাণীকে মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া । প্রসঙ্গ উল্লেখ্য যে, এ 
পঞ্চানন কর্মকারের পরিবারের মধ্যেই বাংলা হরফ তৈরি তথা ছাপাখানার কাজে 
প্রায় ৭০ বছর প্রাধান্য ছিল। বংশানুক্রমে পঞ্জাননের পুত্র কৃষ্ণচন্দ্র কর্মকার এবং 
তার পুত্র রামচন্দ্র কর্মকার বাংলা ছাপাশিল্পের ব্যাপক প্রসার ঘটান । 


91. 





পথ্গানন কর্মকারের খোদাইকৃত বর্ণ 


আধুনিক মুদ্রণপ্রক্রিয়া আবিষ্কারের ফলে পৃথিবীর সমস্ত লেখ্য শিল্পের শুরু হয় 
নব পথ চলা । প্রাচীন হাতে লিখিত পাগুলিপি বদলে সর্বত্র বাহন হয়ে ওঠে 
ছাপার অক্ষর ৷ ফলে বর্ণ একটি নির্দিষ্ট অক্ষয় মাত্রা ধারণ করে । 


বাংলা স্বরবর্ণ 
অআইউঈউউখাএএঁওও 
বাংলা ব্যঞ্জনবর্ণ 
কখগঘঙ্ পফবভম 
চছজবাঞ্ যরলশঘ 
টঠডঢণ সহড়চয় 
তথদধন তং $ 


অধুনা বাংলা বর্ণমালা 


99 


পু দশম ও একাদশ, দ্বাদশ . ত্রয়োদশ | চতুর্দশ | পঞ্চদশ ; ষোড়শ | সপ্তদশ | বর্তমান 
পি খ্রিস্টাব্দ ; খ্রিস্টাব্দ | খ্রিস্টাব্দ খ্রিস্টাব্দ ; ধরিস্টাব্দ | ধ্িস্টাব্দ | খ্রিস্টাব্দ ; বাংলা 
1006 ৩010111000-11008)) 1200400 1 130040 1 140040) 1 150080 1160040) 1 17001) 11001 8 
| তি. ৩ টী 
| আ_. গ্নী। আ | আ_ 












প 

পা ৯ 
প্ 1/884৩৫ 
৩১] প্রাওধ 


ওঁ 
2১0২০:421০ 





৬ 


এএএ 
৪44 
নখ 
| 

খা 





শঃ 
ই: 4:28-8 
আন 


৩২:৯4 
২ 





রে 
এ এ ২০1০44৪ 
এ খা ধা খা 
৫11 9৮১ 
| সংগা খাখ এ 
শশা 


0173 
00134 


1৫ 
ঘাঞ 


4 | ৪ 1 7 প্র ক :808057 ক ০ 
বাংলা লিপির উৎপত্তি ও বিবর্তন (01গা। 80005510011 07411890100 












93 


“বাংলাদেশ” স্বাধীন ভূখণ্ডের প্রতিষ্ঠা প্রসঙ্গে 


অঞ্চলকেন্দ্রিক মানব সমাজের অস্তিতু পাওয়া যায়। সিন্ধু গাঙ্গেয় অঞ্চলটি 
“মহাদেশ' নামে পরিচিত । সরস্বতী নদী থেকে রাজমহল পর্যন্ত এ অঞ্চল বিস্তৃত 
ছিল৷ মহাদেশের পশ্চিমাংশ ব্রন্দর্ষি দেশ নামে পরিচিত ছিল । মধ্যদেশের উত্তরে 
বিস্তীর্ণ অঞ্চলটি উত্তরাপথ নামে পরিচিত ছিল। এর পশ্চিম, দক্ষিণ ও 
পূর্বাঞ্চলগুলো যথাক্রমে 'প্রতীচ্য' “দক্ষিণাপথ* ও প্রাচ্য* নামে পরিচিত ছিল। 
এক সময় উত্তরাপথ সমগ্র আর্ধাবর্তকে বোঝাত এবং কৃষ্ণনদীর উত্তরাংশ 
দক্ষিণাপথ নামে চিহিতত ছিল। সুদূর দক্ষিণ “তামিলদেশ' নামে পরিচিত ছিল। 
পুরাণে এই পাঁচটি অঞ্চল বিভাজনের সঙ্গে আরও একটি বিভাগের উল্লেখ পাওয়া 
যায়। যথা- পর্বতাশ্রয়িণ অর্থাৎ হিমালয় ও বিন্ধ্য অঞ্চল । 


আর্ধরা ইউরোপ থেকে এসে সমস্ত পুরী ধ্বংস করে দিয়ে ক্ষমতা নিতে গেলে 
সিন্ধু নদী অববাহিকাকেন্দ্রিক সভ্যতা বাইরের দিকে ছড়িয়ে পড়ে । তখন নতুন 
নতুন স্থানে বসবাস শুরু হয়। শুরু হয় বৈদিক সভ্যতার। এ সময়কার 
উল্লেখযোগ্য অঞ্চলগুলো হচ্ছে- বিদর্ভ, অন্ধ, অশ্বক, পাগলা, কোমল, পুলিন্দ, 
তক্ষশীলা, গান্ধার, দণ্ডক, কোশল ইত্যাদি । এ অঞ্চলকেন্দ্রিক ভাষার বিবর্তন ও 
নিজস্ব লিপি পদ্ধতিও চালু ছিল। পূর্বেই বলা হয়েছে এ সময় ব্রাহ্মী লিপি, খরেষ্ঠী 
লিপি ছাড়াও ভিন্ন ভিন্ন নগরকেন্্রিক ভিন্ন ভিন্ন লিপির প্রচলন ছিল। আর্য সভ্যতা 
বা বৈদিক সভ্যতার শৌর্য-বীর্ষের ভাটা পড়লে শুরু হয় পৌরাণিক সভ্যতার । 
তখণ বিভিন্ন স্বাধীন জনপদগুলো ক্রমশ বিস্তৃত হতে থাকে । নতুন নতুন জনপদে 
নতুন নতুন ভাষার সৃষ্টি ও লিপির বিকাশ ঘটতে থাকে । এ সময় এ ছোট ছোট 
জনপদগুলো স্বাধীন নৃপতি দ্বারা শাসিত হতো । প্রথম স্বাধীন শাসক হন শশাঙ্ক । 
মাত্র ২৫ বছর ছিল তার রাজস্ব কাল । শশাঙ্কের অবসানের পর সৃষ্টি হয় অরাজক 
পরিস্থিতির । সমস্ত জনপদগুলোর মধ্যে ক্ষমতাবাদন ও সম্পদশালীরা 
তুলনামূলক কমক্ষমতাধরদের গ্রাস করতে থাকে । এতিহাসিকগণ এ সময়কে 
মাস্যোন্যায় যুগ হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। মাস্যোন্যায় যুগের অবসান ঘটে 


94 


গোপালকে সিংহাসনে বসানোর মধ্য দিনেয় । শুরু হয় পাল শাসনের । 


পাল শাসন ভারতে পূর্বাঞ্চল কেন্দ্রিক ছিল। পাল বংশের অবলুপ্তির পর সক্রিষ 
যোদ্ধার জাত সেন বংশীয়রা শাসন ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হয়। সেন বংশীয়রাই 
প্রথম ভারতের পূর্বাঞ্চলে বাইরে থেকে এসে শাসন করেন। 


১২০৪ সালে বখতিয়ার খিলজী কর্তৃক নদীয়া দখল হলে শুরু হয় ভারতে 
মুসলিম শাসন । ক্রমশ মুসলমানরা দখল করতে থাকে বিভিন্ন জনপদ । মুসলমান 
শাসক শামসুদ্দিন ইলিয়াস শাহ (১৩৪২-১৩৫৬) সমস্ত জনপদকে একত্র করে 
একই শাসনে নিয়ে আসেন। এ অখণ্ড জনপদপগুলোর সমন্বিত নাম দেন 
বাংগেলা। তিনি গৌড় অঞ্চলে এর রাজধানী প্রতিষ্ঠা করেন। পরবর্তীতে সমতট, 
হরিকেল দখল করলে ভারতের সমগ্র পূর্বাঞ্চল তার অধীনস্থ হয়। তার শাসন- 
ধীন অঞ্চলগুলো ছিল বর্তমান বাংলাদেশ, ভঅরতের পশ্চিম বাংলা, বিহার, 
উড়িষ্যা, আসাম ও মেঘালয় এবং ত্রিপুরা । ইতিহাসবেস্তাগণ শামসুদ্দিন ইলিয়াস 
শাহকে মধ্যযুগের বাংলা জাতীয়তাবাদীর জনক হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন। 


১৫২৬ সালে বাংগেলায় মোঘল শাসন শুরু হয়। মোঘল সম্রাট আওরঙ্গজেবের 
মৃত্যুর পর ভারতবর্ষে মোঘল শক্তির দাপট কমে যায়। মোঘল রাজ্য পরিচালনা 
হতো দেওয়ানী ও সুবেদার ভিত্তিতে । বিভিন্ন প্রদেশের প্রধানকে সুবোদন বলা 
হতো। এ সময় মুর্শিদকুলী খা বাংলা প্রদেশের দেওয়ান বিভাগের প্রধান ছিলেন। 
মোঘল শক্তির ক্ষীণ অবস্থা পর্যবেক্ষণ করে মুর্শিদকুলী খা মোঘলদের প্রতিহত 
করে বাংলা বিহার উড়িষ্যা কেন্দ্রিক স্বাধীনতা ঘোষাণা করে স্বাধীন নবাবী শাসন 
প্রতিষ্ঠা করেন। মুর্শিদকুলী খার অঞ্চল ছিল বাংলা বিহার উড়িষ্যা। ১৭১৭ 
দেওয়ানী দপ্তর স্থাপন করে মাকদুদ পরে । মাকদপুরের নাম মুর্শিদকুলী খার নাম 
অনুসারে পরবর্তীতে হয়েছে মুর্শিদাবাদ ৷ রাজধানী মুর্শীদাবাদকেন্্রিক বাংগেলার 
শাসন নিয়ন্ত্রিত হতে থাকে । মোঘল আমলে বাংলা “সুবেহ বাংলা” নামে 
পরিচিতি লাভ করে । 


১৫৭৮ সালে পুর্তুণীজরা বাংলায় আসে । ১৬১২ সালে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানী 
বাংলা মাটিতে ঘাটি স্থাপন করে । ১৭৫৭ সালে পলাশী যুদ্ধের পরাজয়ের মাধ্যমে 
বাংলা বিহার ও উড়িষ্যায় শুরু হয় ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি শাসন। ইস্ট ইন্ডিয়া 


95 


কোম্পানি ক্রমশ বাংলার বিভিন্ন অঞ্চলগুরোকে অধীনস্ত করতে থাকে । সর্বশেষ 
মহীশুরের টিপু সুলতানকে পরাজিত করে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি সমণ্ব ভারতকে 
শাসনে আনেন । ১৭৯৩ সালে ইংল্যান্ডের ভূমি ব্যবস্থার আদলে লর্ড কর্নওয়ালিস 
বাংলায় চিরস্থায়ী ভূমি বন্দোবস্ত করেন। ১৮৫৭ সালে শুরু হয় সিপাহী বিদ্রোহ। 
এ বিদ্রোহ দমনে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানিকে বেশ বেগ পেতে হয়। ১৮৫৭ সালে 
ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির শাসন ক্ষমতার নিয়ন্ত্রণহীনতায় ইংল্যান্ড সরাসরি শাসন 
ক্ষমতা গ্রহণ করেন। শুরু হয় দেশে পাশ্চাত্য কেন্দ্রিক শিল্প-সাহিত্য চর্চা। ভারত 
বর্ষের প্রায় সর্বত্রই বৃটিশ বিরোধী খণ্ড খণ্ড আন্দোলন চলতে থাকে । ১৯০৫ সালে 
শাসনের সুবিধার্থে বৃটিশরা বাংলাকে দুটি ভাগে ভাগ করে । ভারতীয় জনগণের 
আন্দোলনের মুখে তা ১৯১১ সালে রদ করে নেয়। বিভিন্ন সময় ধরে যেসব 
আন্দোলন চলতে থাকে তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে ওহাবী আন্দোলন, 
আন্দোলন, সন্ন্যাস বিদ্রোহ, ফকির বিদ্রোহ ইত্যাদি। 


১৯৩৭ সালে সর্ব প্রথম বংগীয় পরিষদ নির্বাচন অনুষ্টিত হয়। ১৯৪০ সালে 
লাহোর প্রস্তাবের মাধ্যমে স্বাধীন জাতিরাষ্ট্র গঠনের পরিকল্পনা পেশ করা হয়। 
লাহোর প্রস্তাবকে সংশোধন করে ১৯৪৬ সালে পাকিস্তান প্রস্তাব প্রদান করা হয়। 
বিভিন্ন আন্দোলনের প্রেক্ষিতে ১৯৪৭ সালে ইবল্যান্ড ক্ষমতা ছেড়ে ভারতীয়দের 
স্বাধীনভঅবে রাষ্ট্র পরিচালনা করার ক্ষমতা দেন। ইংল্যান্ড শাসনের সর্বশেষ 
শাসক লর্ড মাউন্ড ব্যাটেন ভূমি বিভাজের মধ্য দিয়ে জাতিগত দ্বন্দের সুত্রপাত 
ঘটান। ইংল্যান্ড সরকার হিন্দুদের জন্য ভারত ও মুসলমানদের জন্য পাকিস্তান 
নাম স্বতন্ত্র রাষ্ট্র ক্ষমতা দেন। পাকিস্তানের দুটি ভাগ হয় পূর্ব ও পশ্চিম 
পাকিস্তান। ১৯৫২ সালে পূর্ব পাকিস্তানের সংখ্যাগরিষ্ঠের মাতৃভাষা বাংলা 
রাষ্ট্রভার দাবিতে সালাম, রফিক, বরকত ও অনেকে প্রাণ বিসর্জন। এ ভাষা 
আন্দোলনের জের হিসেবেই শুরু হয় পূর্ব পাকিস্তানকে স্বাধীন করার সংগ্াম। 
১৯৬২ সালে “নিউক্লিয়াস নামে এক গোপন সংগঠন গঠিত হয়। ১৯৬৬ সাল ৬ 
দফা দাবী পেশ করা এঞয়। এবং ১৯৭০ সালের ১২ আগস্ট স্বাধীন 
সমাজতান্ত্রিক বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার প্রস্তাব দেওয়া হয়। সর্বশেষ ১৯৭১ সালের 
এক রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের মাধ্যমে পশ্চিম পাকিস্তানের নিয়ন্ত্রণ থেকে মুক্ত হয়ে 
স্বাধীন সাবভৌম “বাংলাদেশ নামক রাষ্ট্র ও স্বাধীন ভূখণ্ডের প্রতিষ্ঠা লাভ করে । 


96 


বাংলা লিপির পরিণত পর্যায় 


মুদ্রণ যন্ত্র ব্যবহারের ফলে চিরতরে বন্ধ হয়ে যায় বাংলা লিপির বিবর্তন। বাংলা 
লিপিতে মুদ্রণ যন্ত্র ব্যবহারের ফলে বাংলা ভাষা ও সাহিত্যে আসে এক 
যুগান্তকারী পরিবর্তন। বাংলা ভাষার লিখন পদ্ধতি এক অপরিবর্তনীয় অবস্থায় 
দীড়ায়। এ অপরিবর্তনীয় লিখন পদ্ধতি ছাড়া আধুনিক জীবন প্রায় অচল। 
আজকের জীবনে আধুনিক লিখন পদ্ধতি ছাড়া আধুনিক জীবন কল্পনা করা যায় 
না। কারণ সামাজিক, রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক প্রত্যেক কাঠামোতেই এক ও 
অভিন্ন বর্ণবিন্যাস অবসন্ভাবী । প্রত্যেক যুগের মানুষই তাদের নিজেদের জীবন, 
হিসেবে ব্যবহার করে এসেছে । এ লিখন পদ্ধতি যদি অভিন্ন হয় তবে সামাজিক 
যোগাযোগে যে মাত্রা উনীত হয় তা বলে শেষ করা যায় না। এ অভিন্ন লিখন 
পদ্ধতির মাধ্যমে আমাদের হৃদয়ের গভীরতম প্রদেশের শতমুখী ভাবধারা সবার 
কাছেই মুকুলিত হয়ে ওঠে। মুদ্রণ যন্ত্রের ব্যবহারের ফলে শিক্ষা ব্যবস্থা সহজ 
হয়ে ওঠে ফলে শিক্ষার সার্বজনীনতা বৃদ্ধি পায়। শিল্প-ব্যবসা-বাণিজ্য এমন কী 
রাষ্ট্র পরিচালনার ক্ষেত্রেও এক ও অভিন্ন লেখ্য বিন্যাস আধুনিক সমাজে যথেষ্ট 
গুরুতু বহন করে। বর্তমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির যুগে সহজসাধ্য লিখন পদ্ধতিতে 
সম্প্রসারণ । লিখন পদ্ধতি ছাড়া আধুনিক যুগের সূচনাই হতে পারতো না। 


ব্যবহার । বর্তমানে মুদ্রণ যন্ত্র বাংলা লিপি ক্ষেত্রে সর্বত্রই ব্যবহৃত হচ্ছে। এর 
ফলে একটি সাহিত্য কর্মের জন্য যে পরিশ্রম ছিল তা কমে আসে ন্যুনতম 
পর্যায়ে। বর্তমানে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির অগ্রগতির কারণে বাংলা লিপির প্রকৃতরূপ 
অপরিবর্তিত রেখে ক্রমাগত বিভিন্ন প্রকার শৈল্পিক রূপ প্রদান করা সম্ভব হচ্ছে। 
বাংলা বর্ণ অভিন্ন রেখে শৈল্পিকতার দিক থেকে হয়েছে ভিন্ন এবং গঠন হচ্ছে 
ভিন্ন ভিন্ন লিপিসুষমা। বর্তমানে সুতুন্ননি, সেহরী, বিজয়, যমুনা, ব্রহ্মপুত্র প্রভৃতি 
নামে শৈল্পিক বর্ণ তৈরি হচ্ছে। 


97 


ক, খ, গ, ঘ, ও, চ, ছ, জ, ঝা, এ, ট, ঠ সুতুনী 
ক, খু, গ, ঘ, ও, 6, ছ, জ্‌, আ, এও, টি, ঠু ওরা 
লু, খু, গ, ঘ, ও, ঢ,হ, জ, আস, ঞু,ট, ত ভিন্ন 
ক, হু গীত ৬০ চি, ছি তৃ ঝা ৪০ হি, জু বুরিগিঙ্গা 
ক, খ. গ. ধ, ৩, ৮, হজ. ক, কউ. সোছেশ্বেরী 
ব% %? 5? হ৮ ৬৮ ৮৮ ছ» ভ্” কচ ৮ 2 চ্রাবকী 


আমার জটারব্যলা জানার শোনান খাজা পীগার ভী্ন নাংলা 
আমি ঁ়ায় ঙাভারাসি জানি শান্গ অজ্াখাতি' ভাগি তোমায় ভার্লোবাসি 


আনার জেলার বাহলা প্োমার (জানার বালা 

আর্মি তামায় ভগিলবার্সি তামাম গালীবার্ি 

রি ৪০৬ আমার স্মেনুর বুংলা 
িল্জ। দরজা পুত গ্দুমোবারক' রর রর নিরালিরর 

পলা বার উন আমি তে]মায় ভালোঝুসি 

দি ০০ ১৪ চীন 3 আমার সোলার বাংলা 


মুদ্রণযন্ত্র ক্রমশ আধুনিক থেকে আধুনিকতর হচ্ছে। বর্তমানের হাতে লেখা 
পাঙুলিপি পঠন-পাঠনের ক্ষেত্রে ব্যবহার হয় না। বিভিন্ন শৈল্পিক সুষমার ছাপার 
অক্ষর ব্যবহৃত হচ্ছে। কিছুদিন আগেও জনপ্রিয় মুদ্রণযন্ত্র গুলো ছিল- কর্ড, 
হাইডেলবার্গ ইত্যাদি। বর্তমানে ডিজিটাল প্রিন্টিং মুদ্রণ কাজের প্লেট মেকিং, 
প্রসেসিং ও অফসেট মুদ্রণের ঝামেলার দূর করে দিয়েছে। হয়ত কিছুদিন পরে 
দেখতে পাবো মানুষ মুখে কথা বললেই সঙ্গে সঙ্গে তা ছাপার অক্ষরে বের করা 
সম্ভব হবে। প্রযুক্তিগত যত উন্নয়ন হচ্ছে বাংলা লিপির মূল কাঠামো অপরিবর্তিত 
রেখে শৈল্পিক বিকাশের দিকেই ক্রমশ এগিয়ে যাচ্ছে। 


98 


সহায়ক গ্রস্থাবলি 


্ে 


৮০ 





৩ 


১১ 
১২ 
১৩ 
১৪ 
১৫ 
১৬ 
১৭ 
১৮ 


১৯ 


বাঙালি ও বাঙলা সাহিত্য-আহম্মদ শরীফ 

বাংলা সাহিত্যের ইতিবৃত্ত (১-৭ খণ্ড) অসিতকুমার বন্দ্যোপাধ্যায় 

বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস - শ্রীসুকুমার সেন 

বাঙালীর ইতিহাস (আদি পর্ব)- নীহারঞ্জন রায় 

ভাষা বিজ্ঞানের ইতিহাস-অধ্যাপক মোহাম্মদ নুরুল হক 
ইতিবৃত্ত-হিরোডোটাস, ইংরেজি অনুবাদ আউবে দ্য সিলিনকোর্ট, বাংলা 


অনুবাদ শাহেদ আলী 


ভাষা প্রকাশ বাংলা ব্যাকরণ-সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায় 
বাঙলা সাহিত্যের রূপরেখা- গোলাপ হালদার 

প্রাচীন পৃথিবী- এ. কে. এম. শাহনাওয়াজ 

বিশ্ব সভ্যতা- এ. কে. এম. শাহনাওয়াজ 

বিশ্ব সভ্যতা ও শিল্পকলা- রফিকুল আলম 

পাণ্ডুলিপি পাঠ ও পাঠ-সমালোচনা-মোহাম্মদ আব্দুল কাইউম 
পাণ্ুলিপি পঠন সহায়িকা-কল্পনা ভৌমিক 

বাংলা পাণুলিপি পাঠ সমীক্ষা-মুহম্মদ শাহজাহান মিয়া 
বাংলা পিডিয়া-এশিয়াটিক সোসাইটি 

এনকাট্রা এনসাইক্লোপিডিয়া-ইন্টারনেট ভারসন 
গ্রন্থাগার ও তথ্যবিজ্ঞান পরিচিত- মো. মিজানুর রহমান 





99 


২০। বাংলার ইতিহাস (প্রাচীন কাল থেকে ১৭৬৫ সাল পর্যন্ত)- ড. সৈয়দ 
মাহমুদুল হাসান 


২১। ভারতবর্ষের ইতিহাস (প্রথম খণ্ড)- হীরেন্দ্রনাথ মুখোপাধ্যায় 
২২। পৃথিবীর ইতিহাস- দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়/ রমাকৃষ্ণ মৈত্র 
২৩। ভারতীয় উপমহাদের ইতিহাস (প্রাচীন যুগ) এ কে এম শাহনাওয়াজ 


২৪। বর্ণমালার উত্তববিকাশ ও লিপিসভ্যতার ইতিবৃত্ত- দেওয়ান গোলাম 
মোতাজা 


২৫। আদিম সমাজ-লুইস হেনরি মর্গান অনুবাদ বুলবুন ওসমান 
২৬। সমাজ ও সভ্যতার ক্রমবিকাশ- রেবতী বর্মণ 





1009