Skip to main content

Full text of "Rubayat Of Sultan Part 2"

See other formats




১1]19]) ৬]11112711111290 7২79.7791 


১1091 1৬101191111180 1২972781৮5৪ 


90110 1) 1959 1) & 0010018] (81101]5 01 











1[১91019. 110 00111919150 1015 1৬1891615? 
+1)9569 7:01 [0101৬915119 01 10119109 
8170 0101811790. 10161151 90110811011 011 
1959810]) 010 ৮1119] 90010861017 ৫6৬০]- 
| 010111617 8170 9109011৮9 001101700017109- 
10101) 017 [1900 72১1001.4, 
91081, 8100 [77900 10179119170 9100 
ড811009 1175179010179] 11501010115. 
1) 115 010159910118] 116, 116 189 ড/011550 1 016197 [0 
101019015 017 06৮91010111917 0011111111701086101 8110 90008101. 
[70 1795 00100170890 60 016 09910100167 01 13811019099] 
0010085]) 076 50190999001 7156 06 90102110118] 01:817195, 011 
10019108100 ৮1905. 1715 170191016 0119 111017106 1২010859107 
১1117, 1১101109501)1129, 111015015 7101109901010120, 01009 1,805 8170 
4১917709011 7105/619, 95/210118, [01100901017 8100 ৪. 1018] 01 14 
101959. 1719 ড/0115 8150 11101710918179186107 01102101715 
591810 8110 01181 11855811019 1২01081, 1৬11779. 01181108100 
13911900 91181) 18175 1010119501010108] [90291179, 8170 100 190- 
91709 0% 10 09919 [010 0116 1২011817610 918. 176 1195 (200517 81 
ড811009 111691718110118] 01191510199 89 191116 10101595501. 176 
1189 0991] 19009501290 8110 ৪৮/81090 18610179115 8170 117691118- 
610109115 177817% 0110195 101 1019 019811৮০ ৬0] 8110 8০001৮91019 


01 5110981] 90100901017 





সুলতান মুহম্মদ রাজ্জাক 
সর্বস্বত্বঃ ড.আফরোজা পারভীন 
ই বুক প্রকাশনাঃ মে ২০২১ 
অলংকরণঃ নিজ 
প্রচ্ছদঃ ইন্টারনেট থেকে নেয়া 
সৌজন্য ও কৃতজ্ঞতা স্বীকার হলো। 


মূল্যঃ ৫৫০/ 


301029/910501091 

8: 91191] 11011811780 382291 
01121 & 0951017: 91 

20001 00011090011 : 301) 2021 
/91110115: 01. /ধ1019 1221] 
00%110909:1991017 19191] ি0ো? 
11151761101. 00011539. 

71106: 09-10/ 








আগেই কেন করলিরে তুই সরাইখানার আমোদ শেষ? 
সরল পথের হিসাব ফেলি- ফকির হয়ে রাত কাটালি- 
কোথায় পেলি সাক্কা হিসাব-পাবিই যে তুই হুরের দেশ? 


১০০২ 
স্বপ্নে দেখি মুঘল শাহী, জালালুদ্দিন আকবরে, 


আবার আমায় মানব জনম লিখে দিও দুই 'করে'!! 


কাজলা আঁখির সুন্দরি গো তোমার সুরেই দিল মাতে! 
সেই যে গজল সুর ও বাণী- চোখের যেন নোনা পানি 


১০০৪ 
কথা বলি নিজের সাথেই রাত্রি তখন শেষ প্রহর, 
পরকালে মজুদ তোমার-দিল আমোদী শরাব নহর! 
মন বলে তুই রাখ বাজানা, আমার থাকনা মাটির ঘর! 





১০০৫ 
বন্ধুমহল চারপাশে তোর, বিশ্বে তবুও তুই একা, 
হাজার কিছু শিখলি যে তুই, তাও হলোনা তোর শেখা! 
এইযে জীবের আজব জগত,হাজার মতের হাজার পথ 
জীবন ভরে দেখেই গেলি তাও হলনা তোর দেখা!! 


১০০৬ 
বুকটা তোমায় খুলেই দিলাম, দেখ আমার দিলের গান, 
বুকের উপর কান পেতে রও, গাইছি দেখ তোমার শান! 
বদ নসীবের দু:খ কত, গুণে দেখো শত শত- 
ঝড়ো হাওয়ার সাগর যেন-আছড়ে পরে ঢেউয়ের প্রাণ!! 


১০০৭ 
জ্ঞানবেত্তা বন্ধু আমার, বাগানভরা তোমার ফুল, 
ঝরেই পরে ঝড়ে যদি- বল তোমার কোথায় ভূল! 
কাতর তুমি অল্প হাওয়ায়- ঝড়ে যিনি সবই খোয়ায়- 
ঝড়ের সাথে বসন্ত বায়- কেমন করে করবে তুল!! 


১০০৮ 
জীবন নিয়ে হিসাবখানা, তোমার নাহয় অনেক বড়, 
আমি নাহয় জীবন বলে খড়কুটোকে করছি জড়ো! 
লাল সিরাজী পেয়ালাখানা,পারবে গিলতে তা জানোনা, 
এমন তুচ্ছ জীবন যদি- তা নিয়ে ক্যান বড়াই করো!! 





১০০৯ 
যে মাতালটি ভাটিখানায় পড়েই থাকে সব সময়, 
বৃথাই তোমার জ্ঞান সাধনা, রুবাঈকারে ভেবে কয়!! 


১০১০ 
রাত জেগে ভাবছি বসে, জীবন যাবে কি অংক কষে? 
বিরান আমার রুবাইখাতা, মাতাল কলমও রয়েছে বসে! 
তোমাকে শুধু মনে পড়ে প্রিয়,মেঘলা রাতের মধু বৃষ্টিও 
আমার সাথে রয়েছে জেগে ও- ঘাস ফুল মনে চষে! 


১০১১ 
প্রিয় ভালোবাসা বন্ধু ওগো, জ্যোৎম্না ঢালা রাতআকাশ, 
অলিন্দে মোর বেলীর ঝোপে- বূনো রাতি ফুল সুবাস! 
এক চিলতে মেঘ যেন তুমি, প্রান্তে চাঁদের কিরণ চুমী- 
হেমন্ত সাঁঝে শীতল করা-বাঁশীর সুরেলা মিহি বাতাস!! 


১০১২ 
নিশীথ রাতের পাহারাদার, হুইসেল দেয় অন্ধকার, 
আমার ভেতরে তুমি জ্বলে আছো,আলোকিত চারিধার! 
ভালোবাসা তুমি জ্যোৎন্া মত মিহি কুয়াশা যেন অবিরত 
নক্ষত্রের অচেনা বাঁশী- বহুদূর থেকে দিয়ে যাও সাড়..!! 





১০১৩ 
তুমি যে আমার চাঁদনী রাত, অঞ্জলী ভরা বেলীর ঘ্বাণ, 
তুমি আমার ঝড়ের সাগর, উছলে ওঠা ঢেউয়ের প্রাণ! 
তুমি যে আমার অঝোর বৃষ্টি, গলা ছেড়ে গাওয়া গান- 
তুমি যে আমার ঘাসের গালিচা- ছল করা অভিমান!! 


১০১৪ 
স্বপ্নে দেখি অলিন্দেতে, দাঁড়িয়ে আছো জ্যোত্শ্লাতে, 
সুবাস ভরা, কেবলি ফোটা, গুচ্ছখানেক ফুল হাতে- 
বলছো তুমি চাঁদের রাতে- বন্ধু আমার এসো সাথে- 
দিনের যত দূ:খ আছে- থাক না দূরে আজ রাতে!! 


১০১৫ 
একবিংশ শতকে এসে, লিখছো রুবাঈ চাঁদ নিয়ে 
বিশ্ব যখন হাতের মুঠোয়, কি হবে বল গোলাপ দিয়ে! 
কবি বলে মানুষ আছে, প্রেমের জন্য মানুষ বাঁচে- 
জ্যোৎস্না এবং গোলাপ ছাড়া কাব্য বাঁচে কি দিয়ে!! 


১০১৬ 
তুমি আমি আর সকলে, ঘুমিয়ে যেন মাঝ রাতে! 
হাতের মুঠোয় জগৎ এলো, বলেন তিনি "সবই গেল"- 
কেয়ামত তো এসেই গেল- হয়তো শুরু কাল রাতে!! 





১০১৭ 
এইযে দেহ ভাটিখানা শরাব তৈরি কারখানা, 
ইন্দ্রপ্তলোর সরাইখানা, সেতো আমার বেশ জানা! 
ইন্দ্রপ্তলো মাতাল হয়ে, কত কথা যায় যে কয়ে- 
চেতন থাকিস রুবাই কবি- উল্টাপাল্টা তার হানা! 


১০১৮ 
পার তো সবাই হবেই হবে, অপার তো নয় কেউ ভবে, 
নশ্বরতার এই ভূবনে- অমর বল কে কবে? 
ভেবে দেখো এই জীবনে, কি লাভ এতো স্বার্থ রণে- 
প্রতারণাই নিজের সনে-যা করেছি পড়েই রবে!! 


১০১৯ 
সাগরে আমার দৃষ্টি হারায়, তোমার চোখে যখনি চাই, 
অপ্সরা জ্যোৎস্না রাতে তোমার চোখেতে চাহিতে চাই! 
সুখ বিলাসী জীবনখানি, দুই দিবসের ওগো রানী- 
ভাবি আমার একটি কথাই- হৃদয় মাঝে তোমাকপাই!! 


১০২০ 
বেঁধে নে তোর তানপুরাটা, গাইবি রাতে বিলাস খান! 
পায়ে আমি ঘুংগুর বেঁধে- নাচবো রাতে তোরে সেধে- 
বাহুডোরে বাঁধিস আমায়- তুই যে আমার দিলের জান! 





৯০২১ 
পথের বাউল কাঁদছে পথে- হারালো কি স্বপ্ন তার! 
তাকিয়ে থাকে আকাশ পানে- আকাশতারা সৃষ্টি যার! 
বলে *খোদা তোমার আশে"-জীবন গেল পথের পাশে- 
তোমার তরে তাকিয়ে থাকি- দাও প্রভূ দাও দিদার!! 


১০২২ 
বেহেশত দিয়ে কি হবে মোর-তুমিই যদি নাই থাকো, 
পার হবোনা একা একা পুলসিরাতের সেই সাঁকো! 
চাইবো আমি রোজ হাসরে- জীবন কাটুক এই বাসরে- 
তুমিই থেকো আমার পাশে - হুর পরীদের চাই নাকো! 


রাজ রাজাদের হেরেমখানায় থাকে যদি শতেক নারী, 
সরাইখানায় থাকলে ক'জন, তাতে কি ভাই বাড়াবাড়ি! 
মাতাল কবি ভাটিখানার, সাকীর হিসাব করিস যে তার- 
এলোমেলো জীবন যে তার, নয়তো জীবন সুক সারী! 


১০২৪ 
সেই যে চারণ পথের পাশে, ঘুংগুর পায়ে নাচ করে, 
চৈতি রাতে-লক্ষ তারার সামনে কেমন গান ধরে! 
সেই যে পাগল নষ্ট মাথা- বলছে তোমায় সদাই যা তা- 
সেই সে পাগল, শুকনো বকুল মালার সাথেও মান করে! 





১০২৫ 
বেদিল সাকী, বেদরদী, শুন্য আমার গেলাসখান, 
তোমার আশে কাঁপি আমি, কাঁপছে না তোমার প্রাণ! 
শরাবদানী উপুড় কর, আমার প্রাণের গেলাস ভরো- 
আজকে রাতে, তোমার সাথে কলাবতী গাইবো গান! 


৯০২৬ 
তোমার জন্য রইলো গোলাপ, ভালবাসা বেশুমার! 
শুভেচ্ছাতে আজকে দিনে, বাধলে ভালোবাসার খণে- 
হাজার সালাম বন্ধুরা মোর-হাজার জ্যোৎস্না রাত তোমার! 


বকুলতলার ফুলের বাঁশী.আপন মনেই কথা কয়; 
কুঁড়িগুলো চোখ মেলে চায়, ঝরে পরে বাসন্তী বায়- 
বন্ধু আমার বল এবার, ভালোবাসা এরে কয়? 


১০২৮ 
আজকে রাতে অলিন্দেতে, রাত কাটাবো তোর সাথে, 
টবের ঝারে গুচ্ছ বেলি ফুটলি তোরা জ্যোতস্নাতে! 
কালো টীপের সেই যে নারী, আজকে চল চাঁদের বাড়ী- 
তোমার সাথে রাত্রি কাটুক মদির রাতের হান্নাতে! 





১০২৯ 
আমার খুশী ফুলেরা যেন তোমার বাগানে থাকে ফুটে, 
তোমার নিশির শিশিরজলেরা সুবাস যে তার নেয় লুটে! 
বন্ধু তুমি যে চাঁদের রাত্রি, দুজনেই মহাকালের যাত্রী - 
মরু তৃষা জাগা বুকে প্রিয়- হে প্রিয় চাঁদ এসো ছুটে! 


১০৩০ 
অম্বর আজ রাতের বেলা- স্নিগ্ধ চাঁদ ও মেঘের খেলা, 
ঝিরি ঝিরি বৃষ্টি-জ্যোতন্নায় ভেসে যায় মন ভেলা! 
কত ফুল ফোটে এই মনে, এই রাতে বনে বনে- 
কোনদিন দেখো নাই এই রুপ- মধুরাত- কত অবহেলা! 


১০৩১ 
তুমি যেনো জ্যোহস্নাময়ী ক্ষীণ কটী মেদ হীন, 
আমার ছড়ানো শরীর কিরণে হয়েছো আসীন! 
সেই তুমি, সেই আমি-মাঝখানে কেটেছে কতদিন!! 


১০৩২ 
যে গোলাপটি দিয়েছিলে, বইয়ের ভাঁজে রেখেছিলাম, 
পুরোন বইয়ে পড়লো চোখে- আবার সে সুবাস পেলাম! 
কত কালের সেই যে স্মৃতি, জেগে আছে আজও শ্রীতি - 
মুগ্ধ আমি আজও বন্ধু- তোমার চুলের ঘ্বাণ পেলাম!! 





আমার পুরোন ডাইরিটাতে হঠাৎ তোমার নাম লেখা, 
সেই যে কবে লিখেছিলেম, স্পষ্ট যে নেই তার রেখা; 
আর কিছু নেই লেখা সেথায়-তোমার নাম একটি পাতায় 
হাজার রাতের কান্না সেথায়- যে কথা তো নেই লেখা!! 


১০৩৪ 
জ্ঞান মার্গে উঠেই গেছিস- ভাবিস কেন সুলতান, 
মিছেই যে তোর অহংকারের বেলুনভরা জাত্যমান) 
বুকের কাছে হাত দিয়ে বল, থামবে কখন চলছে যে কল 
জানিস কি তুই জীবনের এই রহস্যময় অভিযান! ! 


জীবন গেল অহোরাত্রি নির্ঘুম কত অংক কষে, 
কতই আলো জ্বললো হৃদে- প্রাণের সাথে পাথর ঘষে; 
বৃথা প্রেমের ঝরলো বকুল-তোমার যাবার পথ পাশে! 


১০৩৬ 
তোমার খোঁপায় বেলি'র গাজরা, পুব আকাশে রংধনু, 
ঘাগরা পরা ক্ষীণা কটির - ধুন বাজানো সুর বেনু! 
সুন্দরি গো কাজলা টীপের- কাঁচ দিঘীতে সুবাস নীপের 
বিছিয়ে দিলাম শরীরখানি- ছড়িয়ে দাও গো ফুলরেনু!! 





১০৩৭ 
ঘৃম জাগরণে, তুমি যে স্বপ্নে, মধুরিমা বাঁশীওয়ালা, 
হেসে ওঠে প্রাণ, যাদুগীর তুমি- জেগে ওঠে শতকলা; 
আমি নাচি রাতের তারায়, জটাজুট মোর পাগল প্রায়- 
বিবশ হাতে মদির কলম, শুরু করে পথ চলা!! 


১০৩৮ 


মালতীর বনে ফুল একাকার- ডাকে এসো এসো সাথী ; 
জানি গো জানি ওরে বেভুল, কান্নায় ঝরে বিরহী বকুল- 
সে ব্যথার নেই কোন তুল, তা নিয়ে কাঁদে জ্যোৎস্না রাতি 


১০৩৯ 
পথের চারণ পথের পরে, নাচছি দেখো ডাইনে বাঁয়ে, 
তোমার নজরে পড়বো বলে, বাঁধছি ঘৃংগুর এ দু"পায়ে; 
এই শহরের কোন গলিতে- হারিয়ে গেলে পথ চলিতে- 
তোমার নামে জপছি সদা,বেরিয়ে এসো নিঃশব্দপায়ে! 


১০৪০ 
মদ চোলাইয়ের আড্ডাখানায়, রইলি পড়ে রে সাকী, 
জীবন গেলো হেলায় ফেলায়, নামাজ রোজা রয় বাকী; 
মাফ চেয়েনে তাঁর ই কাছে- আল্লাহ নামে দিল রাখি! 





তোমার পাশে আজকে যেন চাঁদ জ্যোতি লাগছে মলিন, | কহিল মাটির ফুলদানী এক, শুনগো কবি রুবাঈকার, 
দ্রাক্ষারসে প্রানের জোসে রাতখানাকেও লাগছে রঙিন! 


জ্যোতম্না রাতে শিষ বাজিয়ে-খেলছে এ তনুর সঙিন! 


দুই দিবসের অতিথি তুমি, জীবন হেথা সব অসাড়! 
হয়ত এ দেহ মাটিতে ফুলদানী হবে কুমোরের হাতে 
সেখানে রবে তাজা ফুল - ছিন্ন হয়েছে জীবন যার! 


১০৪২ ১০৪৪ 
মৃত্তিকালীন হওয়ার আগে, প্রাণে আমার ইচ্ছা জাগে, জন্ম এবং মৃত্যু হেথায়- ফুল পাখীদের মাটির ঘর, 
হাজার গোলাপ ফুটিয়ে যাবো, বন্ধু আমার তোমার বাগে! বৃথাই ভালোবেসে গেলাম, রয়েই গেলাম তোমার পর! 
ইচ্ছা আমার আরো জাগে, কোন একদিন জ্যোৎস্না ফাগে গোলাপ রং সুতো দিয়ে, "তোমায় ভালোবাসি প্রিয়ে" 
রাত্রি জেগে পড়বো রুবাঈ, তোমার বাগে অনুরাগে! লিখেছিলাম রুমালখানায়- ছিন্ন তা আজ জর জর!! 





উষ্ণতাকে লুকিয়ে রাখিস- সুবাস মাখা খোঁপার নীড়ে! 
প্রাণ প্রিয়া তুই আসমানী চাঁদ,বিছিয়ে রেখ জোছনাফাঁদ 


বিছিয়ে রাখিস ভালোবাসা- আসবো ফিরে ফিরে! 


১০৪৬ 
আজকে নাহয় শিরাজীতে- পেলেম কিছু স্বর্গ সুখ, 
ভাসলো না হয় চোখের তারায়, হুরপরীদের মাতাল মুখ) 
নেশা যখন ছুটবে সাকী- ভুলে যাবো কাজলা আঁখি - 
তারচে ভালো গেলাস ভরো- থাকতে নেশা দেই চুমুক! 


১০৪৭ 
কাজলা আখির প্রিয় সাকী-লাল শিরাজি পেয়ালা ভর! 
বিশ্বখানাও তোকেই দেবো- ঢাল শিরাজী সয়না তর! 


১০৪৮ 
কোলাহল নেই হেরেমখানায়, শাজাহান চুপ গোরে, 
লক্ষ মানুষ বুকে হেঁটে যায়- তাজ রয় চুপ করে! 
এই পৃথিবী দু'দিনের খেলা- দিন যায় হেলা অবহেলা 
ভাগ্যও গেছে মৃত্যুর সাথে - সব কিছু আছে পড়ে! 





লাল শিরাজিএখনো ভিজে, স্পন্দন জাগে মোর বুকে! 
মদালসা তোর আঁখির বাণে, বিদ্ধ করে আমার প্রাণে- 


১০৫০ 
আজ ফাগ্তনে আমার মনে, রঙিন সুবাস দেয় যে দোল, 
ঝিলের পারে আমার ঘরে, চাঁদখানা যে রয় বিভোল! 


উদোম হাওয়ায় যায় নাচিয়ে- এমন জীবন চাইযে প্রিয়ে- 


দুখের সুরে তাল বাজিয়ে- বাজিয়ে দে না সুখের বোল!! 


জ্ঞানবেত্তা বন্ধু আমার, তোমার সাথে তর্ক থাক, 
চলছে আমার সময় যেমন, এমন করেই জীবন যাক; 
পেয়ালাখানাই আমার গতি- গুঢ় তত্ব মুক্তি পাক! 


১০৫২ 
সবকিছু হেথা জ্ঞানের আঁধার ভাবিস কেন তুই একা, 
জন্ম থেকে মৃত্তিকাকালীন হবে না তবু তোর শেখা! 
এইযে হেথায় প্রাচীন রাত্রি, তুই তো কবি নবীন যাত্রী- 
রাত্রি রবে আরো কতকাল- মিলিয়ে যাবে তোর রেখা! 





১০৫৩ 
তারা কি জানে রাতের ফুলেরা রাতে ফুটে যায় ঝরে! 
রাতের গল্প এমনি কত, যায় মিলে- যে হাজার শত - 


১০৫৪ 
পেয়ালা ভরা শিরাজি থাকুক, জ্যোতম্না রাতে উছল প্রাণ; 
বুক ভরে আজ টানিবো সাকী, চাঁদ কিরণে মাটির ঘ্বাণ! 
এখানে কত ফুলের বেসাতি- পদে পদে কত রঙিন সাথী 
তোকে ছেড়ে যাবো চিন্তা এলে-কেদে ওঠে আমার প্রাণ! 


১০৫৫ 
জন্ম মৃত্যু এক হেরেমে, কি মূল্য তোর বল সাকী? 
আসা যাওয়াই সার শুধু তোর ইচ্ছা সকল রয় বাকী! 
মৃত্তিকাকালীন হওয়ার আগে, কর খেলা এ জীবন ফাগে 
রাঙালি কত নতুন রাগে, ছুটলি কত পথ হাঁকি! 


১০৫৬ 
পেয়ালাখানি নতুন আমার- পুরোন শরাব ঢাল্লে সাকী, 
জ্যোৎস্না মাখা চাঁদনী রাতি বেহুশ আমার দুই আঁখি! 
শরাব নদী বইছে দিলে- তার দেহেরই রোশনি মাখি! 





১০৫৭ 
মেঘবতী এলানকেশী কন্যা কেন চোখে জল 
বুকের ভিতর সাগরদীঘি হাজার ফোটা শতদল; 
আমি মরু তপ্ত ধরা- লু হাওয়াতে জীর্ণ জরা- 
তোমার কাছেই খুঁজে ফিরি ভালোবাসা সুখ অতল! 


১০৫৮ 
কালকে যখন মৃত্যু আমার, বন্ধু তোমরা যে যেথায়, 
বুকের ভেতর বাজবে বাঁশী, কান্না যেন কি ব্যথায়! 
আমি তখন অনেকদূরে- হয়তো কাঁদবে ব্যথার সুরে 
মনে রেখো বন্ধু তুমি- আসছো সেথা- আমি যেথায়! 


১০৫৯ 
জ্বলছো তুমি আগরবাতি, সুগন্ধ তার চারদিকে, 
মন যে সাবার ভালোই লাগে- তুমিই নাহয় হও ফিকে! 
ভাগ্য তোমার আগরবাতি, জ্তবল্পে যখন পেলে সাথি- 
শেষ স্ফুলিঙ্গ নিভে যখন- কে বা তাকায় তার দিকে? 


১০৬০ 
নাইবা ভাবলি সুলতান তুই, জন্ম মৃত্যুর এই ধরা, 
নাইবা ভাবলি এই জীবনের কষ্ট দু:খ শোক জরা! 
এই যে জীবন সরাইখানা, ফুল ফোটাতে নেইতো মানা- 
হোক না জীবন ফুল বাগানের রঙিন ফুলে মৌ ভরা! 





১০৬১ 
ফুটলো অতি সংগোপনে, পারস্যেরই গোলাপ মনে, 
ংলা ভাষায় লিখছো রুবাঈ, পড়ছে তা সব বঙ্গজনে! 
গোলাপ ফোটাও রুবাঈকার, বঙ্গ দেশের চারিধার- 
ভালোবাসার মাতম তোল-গোলাপ গোলাপ সম্ভাষণে! 


১০৬২ 
আঁধার হতে কারা যেন ডাকছে ধরে আমার নাম! 
মরলে মানুষ থাকেনা তার এক পেয়ালা মদের দাম! 


১০৬৩ 
ঘৃম হতোনা সেই যে প্রিয়া- না শুলে তুই তারই পাশ, 
মরে গিয়ে নাম হারালি, হয়েই গেলি নামের লাশ! 
শুইয়ে দিল গোরের ভিতর- এইতো নিয়ম-দু:খ পাস? 


১০৬৪ 
ভাটিখানার চোলাই ভাঁড়, জীবনখানা অধম তার, 
এইতো আছি আলোর দেশে এইতো চির অন্ধকার! 
থাকলে জীবন মূল্য আছে-না থাকলে তো সবি গেছে, 
জীবন যেন পুতুল খেলা- সুতার ঘুটি হাতে তাঁর। 





ভাংগা গড়া খেলছো খেলা, সব খেলা তোমার একার! 
আমরা শুধু পাশার ঘুটি, দম ফুরালেই হয় যে ছুটি 
সব খেলাতো খেলছো একা-আমি কেমনে গোনাহগার! 


১০৬৬ 
হাস্ুহেনার গন্ধ ভাঙে, মধ্য রাতের জ্যোতশ্নাতে, 
কালের চাকা ঘুরছে দ্রুত জীবন ঘোরে তার সাথে! 
জীবন যে এক আগরবাতি, গন্ধে সবাই থাকে মাতি- 
ফুরিয়ে গেলে গন্ধ তোমার, মিশবে তুমি মাটির সাথে! 


লুকানো এই সত্য শুধু; জানেন আমার প্রিয় রব! 
তাঁর ইশারায় শোকের মাতম- তাঁর ইশারায়ই উৎসব! 


হাজার রঙিন স্বপ্ন যে তোর, এই ধরাতেই হাওয়ায় ওড়ে! 





হোক বা না হোক চোখের দেখা; তোমর আমার ও প্রিয়, 
বেলীর গাজরা রইলো হেথায়, ভালোবাসাটুকু নিও! 
সারা জীবন সুখে থাকো - দূরের হলেও আশীষ নিও! 


১০৭০ 
পয়লা বোশেখ নব বর্ষ, রইলো আশীষ বন্ধু জন, 
এ বছরটা সফল হবেই, মনে প্রাণে করো পণ!! 
দেশের কল্যাণ হবেই হবে- সেই আশাতেই রবে মন!! 


ফাণ্তন গেলো নওরোজে আজ, মালঞ্ে গাও বুলবুলি, 
বদাখসানী গোলাপ তুমি, কেমনে তোমায় আজ ভুলি! 
জড়িয়ে আছো লাল শাড়ীতে, সুবাস খোঁপা গাজরাতে- 
পান্তা ভাতের চোলাই খেয়ে কাজলা আঁখি ঢুলটুলি!! 


১০৭২ 
পার্সি গোলাপ বন্ধু আমার, নওরোজী আজ জ্যোৎস্না রাত, 
তোমার স্মৃতি রইবে বুকে, সরাইখানায় সারারাত! 
দিল খোলা গো আজকে আমি- নহবতী সুর করছে মা! 





আজ এসো প্রাণের কাছে, গাজরা যেন খোঁপায় থাকে, 
বেলীর গন্ধে মাতাল হবো, নওরোজ এ জ্যোৎস্না রাতে! 
আনন্দটুক লুট করে নেই- নাই বাঁচি যদি কাল প্রাতে! 


১০৭৪ 
তোমাদের কাছে মিনতি আমার, বন্ধু ওগো দূরদেশী, 
আমায় জেনো আপন ভ্রাতা- নইকো দূরের প্রতিবেশী! 
এই যে তোমার পাগল ভ্রাতা, রুবাঈ নামে লেখে যাতা- 
তোমার কথা ভাবে বন্ধু জেগে জেগে জ্যোৎস্না নিশি! 


এই পৃথিবী প্রাচীন সরাই, হালখাতা হয় নওরোজে, 
অনেক বন্ধু চলেই গেছে, আমরা কি আর তার খোঁজে? 
আছি যারা জ্যোতম্নারাতে- তাদের শুধু দিল খোঁজে! 


১০৭৬ 
দেখলে কিনা চৌদ্দ শ তেইশ- বাংলাদেশের নতৃন সাজ! 
এইযে খুশীর জোয়ার ভাসা, রঙিন দেশের কৃষ্টি ভাষা- 
দেশ আমাদের শাসন করে জন গণের প্রিয় রাজ! 





বাজলো বাঁশী তুরু তুরু, আরেক বছর হলো শুরু, $ বিরহের আগুন ভ্বেলে আছি নিত্য তোমার প্রতীক্ষায়, 
সকালবেলা গোলাপ হাতে হাসলো তোমার বাঁকা ভুরু! কখন তুমি ডাকবে সাকী - উঠবো আমি তোমার নায়; 


চৌদ্দশত বাইশ গেল, চৌদ্দশত তেইশ এলো - গেলাস আমার শুন্য আজি- তোমার কাছেই সব শিরাজি 
সব কিছুতেই আমি রাজী- ডাকলে আমায় দখিন বায়! 


কখন তুমি বলবে কথা, বুকটা যে মোর দুরু দুরু! 


১০৭৮ ১০৮০ 
ভাগ্য দেবী খেলছে খেলা, তার সুতোতে দিচ্ছে টান, ভিতর বাহির যেখানে চাই- মন বলে যে সব অলীক, 
আমি শুধু নাচের পুতুল, তার খেলাতেই আমার মান! এই যে আছি, এই যে নেই, কালের রথে সব বেঠিক! 
সদাই বলি ভাগ্য দেবী, আমি তোমার চরণ সেবী- এই যে আমার গোলাপখানি- তোমার জন্য হে মোর রানী- 


ঘটছে যা এই জীবনে - সব কিছু তো তোমার দান! লুটিয়ে পড়ে দলগুলো তার কেমনে ভাবি নয় সঠিক! 





হরিৎ পাতার হৃদয় আমার- দুধকুমারী নদী কই, 
কাঁদছি আমি পথের ধারে, ঝরণা ঢেলে দাও গো সই! 


১০৮২ 
ধার করা মোর দেহ খানি, ধার করা এই প্রাণটা মোর, 
সরাইখানায় রয় যে পড়ে- বিষাদ বনের মাতাল চোর! 
নেই লুকোনোর জায়গা হেথায়- সব ঘরের ভাংগা দোর! 


হারিয়ে গেছে সে গাঁও আমার নতুন হাওয়ার এই দিনে। 
ভালোবাসা যদিও অপার- হারিয়ে গেছো তুমি আমার- 
মুখোর থাকে কেমনে স্মৃতি- হারানো সেই নদী বিনে!! 


১০৮৪ 
চাঁদখানা আজ নাইবা উঠুক তুমি যদি থাকলে পাশে; 
থাকলো শুধু বুনো বেলী অন্ধকারে ফাগুন মাসে! 
প্রিয়া তুমি আগুন লাগা - হাজার ফুলের সুবাস জাগা, 
এই বসন্তে অন্ধকারে থাকবো রাতি সবৃজ ঘাসে!! 





বুলিয়ে দিও কিরণ পরশ চাঁদ ও তারার নীল ঝালর! 
এই যে আমার কুঞ্জবনে দেখা হোল তোমার সনে- 
কালের পথে দুজন মিলে জীবন নামের এক সফর! 


১০৮৬ 


হে আমার সেই অসীম আলো, ভরিয়ে দিলে দিল আমার, 


ফুলের গন্ধে উঠলো ভরে- এই যে জীবন চরাচরে- 
দিলের জিকির তালে তালে- রাত্রিদিন হোক কাবার! 


কোথায় সাকী লুকিয়ে তুমি, মরছে আমার তৃষায় প্রাণ! 
শূন্য পেয়ালা আমার, দৌড়ে এসো পেয়ারা জান! 


১০৮৮ 
তুমি যেন এই মরুতে বইছো নদী খুব শীতল, 
নদীর পাশে ফুল বাগিচা, বুলবুলিরা রয় বিভোল! 


আমি হেথায় তরুণ কবি- শব্দে গাঁথি ফুলেল ছবি- 





বন্ধু বিবেক কোথায় তুমি, দেখতে তোমায় ইচ্ছে করে; 
মনের ভিতর একটি প্রশ্ন ঘুরে বেড়ায় বারে বারে! 

একটি মাত্র গোলাপ নিয়ে- আমায় তুমি দিলে বিকিয়ে- 

ভালোবাসার দাস যে হলাম সেই যে নারী তার করে! 


১০৯০ 
রোশনি ভাংগা ঢেউগ্তলি সব তলিয়ে দিলো মনের বাঁধ! 
চাঁদের আলোয় পড়ছি রুবাই, একা একা কেউ পাশে নাই 
নেই পাশে নেই তুমিও সাকী - পেয়ালা ভরা সব বিষাদ! 


আজকে কেন বিষাদ লাগে, পেয়ালা ভরা নীল আকাশ; 
আজকে যেনো অলিন্দে আর বেলী ফুলের নেই সুবাস! 
আজকে যেনো সেই তুমিও আগের মত নয় সুভাষ! 


১০৯২ 
তোমার দেহ দ্রাক্ষা বনের, হাজার সুধার কারখানা, 
হাজার মাতাল খাচ্ছে সে সব, তোমার কিছু নেই জানা! 
হায়রে আমার সুধার পাগল, ভাটিখানার নেই যে আগল- 
দেদারসে সব চলছে খাওয়া- বিবেকেরও নেই মানা! 





১০৯৫ 
এ দেহের ভিতর বাদীবিবাদী, আর কতদিন মোখতারী! 
জন্ম মৃত্যু চলছে হেথায় কাউকে কিছুই না বলে! অমরতার গল্প ফাঁদিস, দুই দিবসের সুক সারি! 
চলছে ধরা আপন মনে, নেই যোগাযোগ আমার সনে- আজকে যদি দেহ খানা লিল্লাহ নামে হয় যে ফানা- 
কখন যেন আমিই হারাই- তোমায় কিছু না বলে!! দেখবি তবে পদে পদে- আছে কত খবরদারী! 


১০৯৪ ১০৯৬ 
পাঁড়মাতালের আড্ডাখানায় মনটা যে তোর দেয় দোলা! সৎ অসৎ সকল কাজের-শেষ ফলটা শুন্য পাই! 
কি পাবি তুই এই জীবনে - তোর কি রিস্তা কান্না সনে- নিম্ষলা এক জীবন নিয়ে, রাত্রিদিবা চলছি প্রিয়ে- 
স্বপ্ন এবং আশায় আশায়- করলি কত জল ঘোলা! বলছি মুখে, আছি সুখে- আমার কোন দু:খ নাই! 





জ্যোৎন্না ঝরুক তোর হাসিতে, মুখ না যেন রয় মলিন, 
আসছে কমে জীবন থেকে, মদির মাখা খুশির দিন; 

অসাড় শুন্যে খুঁজবি কিরে- যেদিন গেলো আর না ফিরে 
আয়না হেথায় শিরাজিতে- সদাই রাখি ঠোঁট রঙিন! 


১০৯৮ 


নানান ব্যাখ্যা দিল আমায় নানাপদের মোল্লাজী! 
তুই তো আবার বিবেকধারী, একটু খানি স্বপ্রচারী - 
এ কথাটা বুঝেই গেছি- জীবন নিয়ে নয় বাজী! 


সোরাহী তোমার ভরাই সাকী, বলছো কেন শুন্য আজ; 
হলেম না হয় সেরা মাতাল; পরে নিলাম সেরার তাজ! 
মৃত্যু লেখা ললাটে যার, কি হবে তার পড়লে বাজ! 


১১০০ 
শুন্য আমার দেহ পেয়ালা, দিলাম প্রিয়া তোমার হাতে; 
চাঁদনী তরল দাও গো ঢেলে- নাও যদি আর রাত্রি মেলে- 
দু:খ তো নেই শরাব হাতে- তুমি আমার আছো সাথে! 





১১০১ 
এইযে ক্ষণিক জীবন পেয়ে,ভালোবাসি তোমায় প্রিয়ে, 
জ্যোতন্না কত অস্তমিত বেলী ফুলের ঘ্বাণ নিয়ে, 
ধর্ম বলে কর্ম ফলে জীবন যাপন পরকালে- 


১১০২ 
মৃত্যু লেখা ললাট নিয়ে এসেছিস তো এই ধরায়, 
শ্যামল সবৃজ মনটা নিয়ে, দেহটা তোর রোগ জরায়; 
মাতলামী আর করবি কত, আজ হয়ে যা সেজদারত- 
কখন যেন দেহ নৌকা বেধে যায় যে কোন চরায়!! 


১১০৩ 
শোকাতুর দুখী সাগরে, জীবন খুঁজি যত শতবার, 
মৃত্যু এবং মৃত্যুই এসে, দাঁড়ায় সামনে বার বার! 
আমি ঘ্রিয়মাণ বন্ধু আমার-কেন দেখা পেলাম তোমার; 
কেন মিছে এ প্রেমের ধরায়- চাঁদ ওঠে ভালোবাসার! 


১১০৪ 
নেশা যখন তুঙ্গে আমার, ডাকছি তোমায় দরাজ দিল, 
আরশ তোমার বন্ধ নাকি, সব দরোজায় আঁটা খিল2 
আমি নাহয় গোনাহে কাজী - মনে প্রাণে দোজখে রাজি 
তাই বলে কি এই জীবনে পাবোনা তোমার দয়ার দিল? 





১১০৫ 
মফস্বলের সেই ছাদে, তুমি ও আমি চাঁদরাতে; 
পুরবীটা কণ্ঠে তোমার- বাঁশী ছিল মোর হাতে! 
টবের বেলীর ছুটলো ঘ্াণ, জ্যোতন্লা রাতে গজল গান 
ব্যাকুল সুরে মদালসায়-ভেসেই গেলাম আজ রাতে !! 


১১০৬ 
চাঁদের পানে চেয়ে প্রিয়ে, পঞ্চমীতে ধরলে সুর, 
হঠাৎ জ্যোল্লা বন্যা এসে ভাসিয়ে দিল অন্তঃপুর! 
ঝলসে গেল হৃদয়ে তার, বল প্রিয়ে কোন সে নূর? 


১১০৭ 
জ্যোৎস্না যেন মদিরা তরল, আকাশ থেকে পড়ছে আজ, 
বিছিয়ে দিলাম দেহপেয়ালা-থাক পড়ে সকল কাজ! 
পাল তুলে দাও আমার বুকে-মাথায় রয় প্রেমের সাজ! 


১১০৮ 
এইতো জীবন আলোর ভূবন-দু:খ এবং সুখ স্বাদে! 
সঠিক হিসাব নেইতো জানা, জীবন যখন হবে ফানা, 
তোমার হবে কোন ঠিকানা- কুঞ্জবন না কোন খাদে! 





এই যে জগৎ প্রাটান সরাই, সব সময়ই বেদরদ, 
জীবন নিয়ে জ্বলছে সবাই, মৃত্যু মানেই তামাম শোধ! 
জীবন ভরে খেলা শুধু- ভালোবাসার হাজার বোধ!! 


১১১০ 
মনের কাজীর দরবারে তো নিত্য করি কতই পাপ, 
সেথায়ও আছে জল্লাদ এক, তরবারি তার খোলা খাপ! 
জবুথবু বৃদ্ধ তিনি- সকল পাপের করেন মাফ!! 


১১১১ 


দু:খ সুখের মায়াবী রথে, চলছে তোমার পরিভ্রমণ! 


১১১২ 
মনে রেখো শোধ হয়না, ভালোবাসার কোন খণ! 
স্বপ্নে হয়তো দেখবে প্রিয়ে-তোমার তরে বাজাই বীণ! 





মিলবে মাফি সব পাপীদের-এই যে ধরা সরাইখানার! 
করিনা ভয় কোনসে পথ, কালকে হাসর রোজ কিয়ামত 
কিসের আমার বিচার বল- ঘুটি আমি তাঁর লীলার! 


১১১৪ 
এইতো তোমার কুঞ্জবনে-তুমিই হলে বেখবর, 
লুটলো তোমার ফুলগুলি সব, তোমার নামে গুপ্তচর! 


নীল চাঁদোয়ার তারার নভে-তোমায় খুঁজে ফিরি প্রিয়ে! 
বেলীর মালা আমার হাতে- এসো প্রিয়ে স্বপ্র রাতে 
তোমার হাজার রাতের গল্প এ জ্যোত্নায় যাও শুনিয়ে! 


১১১৬ 
আজকে রাতে নয় অভিমান, দুজন মিলে দেখবো চাঁদ, 
জ্যোত্শ্লা এসে লুটবে বনে, ভেঙে যাবে মনের বাঁধ! 
অলিন্দেতে রইবো বসে, মন ভিজাবো দ্রাক্ষা রসে- 
রইবো চেয়ে তোমার মুখে- দেখবো আমি মিটিয়ে সাধ! 





আমার মনের কুঞ্জবনে, কোন কোয়েলা যায় কেদে, 
কোন গোলাপের কাঁটা ওগো, তার পরাণে রয় বিধে! 
কে বিধালো আঁখির তীর তোমার কমল দিল সিধে! 


১১১৮ 
খুঁজবে যখন আমায় তুমি, আমি তখন বেখবর! 
কবরখানায় হারিয়ে যাবে, রুবাঈকারের সেই যে গোর! 
হঠাৎ ঝোপের গোলাপগুলি-যেথায় নাচে বুলবুলি- 
দাঁড়িয়ো সেথায় দন্ড খানিক- সেটাই বুঝি মোর কবর! 


কি খেলা যে খেলছো তুমি, তুমিও জানো আমিও জানি, 
তবু তুমি জ্যোৎস্না রাতি- ভালোবাসার গোলাপ মানি! 
আমার কাছে কলম শুধু- তোমার কাছেই সকল বাণী! 


১৯১২০ 
ফুলের খবর জানিনাতো, অধীর থাকে কার তরে 
নিশিদিন বন্ধু আমার, রাখো আমায় অধীর করে! 
দিনে রাতে জ্যোৎস্্া রাতি তুমি আমার মনের সাহী- 
বকুল যেমন মুগ্ধ করা-তেমনি আছো মন ভরে! 





আজকে যদি চাঁদ না উঠে রইলো না হয় মেঘেই ঢাকি, 
পেয়ালা কি আর শুন্য রবে- সুরাই থেকে ঢালো সাকী! 
গুনগুনিয়ে উঠবে না গো, রাতের যত ফুল পাখী? 


এলান কেশে দাঁড়িয়ে ছিলে, সাঁঝের বেলা ফুলবাগে, 
মাথার উপর ফাগুন রাতের মদির ভরা চাঁদ জাগে! 
বসন্ত রাগে গাইবো গজল, আজ তোমারি অনুরাগে! 


১১২২ রর ১১২৪ 
গোলাপ ডালে বুলবুলিটা গাইছে দেখ তোমার গান, জানিস যদি ভবের হাটে সওদাগিরি দুইদিনের, 
গেলাস চৌয়া মদিরা যেন- তারপরেও কি অভিমান! ৷ জ্ঞান পিপাসু কেনরে মন, জীবন কেন দীনহীনের! 
গুল বাগিচায় আজ প্রভাতে, গুনগুনিয়ে মধৃপ মাতে, ডাকছে তোরে চাঁদের রাতি, দ্রাক্ষারসে ওঠ রে মাতি- 
হৃদয়খানি মেলে আছি- কোথায় আঁখির মদির বাণ? মনের বাঁধন খুলে দে সব- জীবন তো নয় কোন খণের! 





পাঠক,এই রুবাঈগুলো, সুলতানের ই সালতানাৎ, 

হয়তো মদিরা ছন্দগুলো- কোন নিরালা করছে মাৎ! 
শব্দগুলো মনের মাঝে, বুনো বাঁশীর মতন বাজে- 
চাঁদনীরাতে দু:খ পাওয়া কবির যেন অশ্রুপাত! 


১১২৬ 
চাঁদনীরাতে দৃ:খ পাওয়া বন্ধু কবি কাঁদছো কি? 
দুই দিবসের এইযে জীবন, এতো কিছু ভাবছো কি! 
খাপড়া টুকরোর চেয়ে অধম, তোমার জীবন তোমার মন 
যে প্রদীপ জ্বলে না আবার-তার আলোটুক নিভলে কি? 


আজকে আবার খুলে গেলো, দরোজাগুলো যা অতীত, 

হেথায় এলাম কেমন করে, কোথায় ছিল আমার ভিত! 
তুমি আমি পাশে পাশে, ছিলাম গীতল এক আবাসে- 
পড়ছে মনে অনন্ত নামে একই সুরে গাওয়া গীত! 


১১২৮ 
সেথায় আছে হুরপরী সব, অপার সেরা সুন্দরী, 
শরাব নহর বইছে সেথা, হীরের প্রাসাদ চুমকুড়ি! 

এইযে আলোর জীবনখানা-চাইলি কত ক্ষমা ও পানাহ 

কি হয়েছে তাতে এমন, পাখী উড়ে যাবে ফুস করি! 





১১২৯ 
দখল এবং বেদখলের চলছে খেলা এই ভবে, 
বলতে পারো বন্ধু আমার চিরস্থায়ী কে কবে? 

আমরা যেন শীতের পাখী, কিচিরমিচির ডাকি ডাকি- 
অহেতুক এক বাদবিবাদে- এই ধরাতে রই সবে! 


১১৩০ 
বেলীর ঝোপে মুগ্ধ করা, যেমন সুবাস লুকিয়ে থাকে, 
তেমনি তুমি লুকিয়ে আছো, মন পাগলী নদীর বাঁকে! 
সেখান থেকেই ভাসিয়ে ভেলা, স্রোতের সাথে কর খেলা 


১১৩১ 
পান করে যাও জ্যোৎস্নারাতি সে নেশাতে হোক রুবাই! 
ওগো আমার জ্যোতস্নারাতি - তুমি আমার প্রাণের সাথী 
তোমার জন্য রইলো সুবাস, হাস্ুহেনা আর কিছু নাই! 


১১৩২ 
স্তব্ধ থাকে কি কোকিলের গান, যদি বসন্ত আসে বনে? 
কেমনে রুধিবে বাঁশরীর ব্যথা- যদি ধরে কারো মনে! 
কুলহীন হয়ে কুলেরা ভাসে, যখন সাগরে জোয়ার আসে 
আমিতো অকুল ভেসে ভেসে যাই, তোমার সাগর সনে! 





১১৩৩ 
আমি যে মানব বাঁশরী তোমার এই দেহে বাজাও সুর! 
বাঁশীওয়ালা ওগো মায়াবী-আলোকিত করো অন্ত:পুর! 
আমার ঠিকানা সরাইখানা- তুমিও সাথে আমি একা না 
আমার দেহ মাতাল তখন- যখন মাতাল তোমার সুর! 


১১৩৪ 
এই শহরের সব গলিতে, আজকে ছিলো চাঁদের রাত, 
বেতাল সুরে গাইলো গজল সঙ্গে ছিল অশ্রুপাত! 
সেইযে চারণ পাগল কবি, দিলের ভিতর তোমার ছবি 
রাত্রি দিনে জেগে জেগে- বলছে কথা তোমার সাথ! 


১১৩৫ 
দেখলি শুধু শরাব খাওয়া, দিল দেখেনা তোর আঁখি! 
ধূপদানীতে ভ্বলছি আমি, শুধুই জানে অন্তর্যামী- 
তোর বিরহে কাঁদছে সদাই-কুঞ্জবনে মন পাখী! 


১১৩৬ 
ফুল বাজারের সামনে এসে, দেখা করো শাহবাগে, 
দেখবে সেথায় গাজরা গলায়, পাগল তোমার অনুরাগে! 
মনেতে যার ফুলের সুবাস- সেই মানুষ তোমারই দাস- 
ফুরিয়ে গেছে জীবন আয়ু- তবুও তোমার প্রেম মাগে! 





১১৩৭ 

হুরপরী এক স্বপ্নে এসে বল্প কবি ভাবনা কি, 
শরাব নহর সে বাগানে- সেথায় সবাই পাঁড় শরাবী! 
জিকির কর খোদার নামে- দূর হবে মন খারাবী! 


১১৩৮ 
নতুন সোরাই আনো সাকী এখনো রাত আরো বাকী, 
চাঁদ এখনো রয়েছে জেগে, লাল হয়নি মোর আঁখি! 
যেমন শরাব ঢালো তুমি তেমন মাতাল হবো আমি- 
আমি শুধু খেলার পুতুলআমার কি সাধ আছে নাকি? 


১১৩৯ 
জ্যোতননা ভরা তরল লালি, গেলাস কুঁন্ত্ের সুকসারী! 
দেদারসে আজ ঢালবো লালি,সাকী ওগো কই পালালি 
গাইছি গজল চুনীর নেশায়-যাকনা কেটে মনভারী! 


মাথার কাছে গুচ্ছ গোলাপ- আমার সাথে করবে আলাপ, 
জিন্দা এবং মুর্দা জীবন, খোদা এবং প্রেম নিয়ে! 





আজ এ রাতে আধখানা চাঁদ, ঘুমিয়ে রয় আধি তার, 

আধ পেয়ালা চাইনা সাকী, চাইনা হতে আধ নেশার! 

দুই আঁখিতে অশ্রু কেন, কার বিরহে কাঁদছো যেন- 
কোন সে বল বেদরদী- বেরহমী দিল পেয়ার! 


১১৪২ 
হঠাৎ আমি ঘুমিয়ে পড়ি, স্বপ্নে দেখি তোমার মুখ, 
দিল দরদী ডাকলে আমায়- আমি কি তোমার মাশুক! 
পেয়ালা ভরা আমি হাজির, দরবারে এক কোন কাজীর- 
বললে কাজী খাও শারাবী-সারুক তোমার দিল অসুখ! 


কেউবা বলে খেলার ছলে এসেছি গো এই ভবে, 
আমরা খেলে চলে যাবো, দুনিয়াতো পড়েই রবে! 
তাইলে কেন রুবাঈ লিখি, জীবন চলার কর্ম শিখি- 
আয় চলে আয় খেলা করি- মৃত্যু মানি যার যবে! 


১১৪৪ 
জন্মমৃত্যুর ভেলায় ভেসে, গ্রহান্তরের যাত্রী কি! 
আঁধার মানে যাত্রা আমার, আলো মানে জীবন কি? 
এই যে আমার দেহখানা-মরণশীল তা হবে ফানা- 
লক্ষ কোটির পরম্পরায় মানুষ কিছু বুঝলো কি? 





গাছ পাথর আর মাটি ঘেরা, এইযে তোমার আবাসখান, 
ফুল ফসলের গুলবাগিচা, বিধাতার এক অপার দান! 
ভরা তোমার ফসল ডালা, গাইছো হেথা প্রেমের গান! 


১১৪৬ 
আমার প্রাণে জেগে থাকে কাজল টানা সেই আঁখি, 
সাঁঝেরবাতি জ্বলে যখন গেয়ে ওঠে সোনার পাখী! 
সেই যে আমার গানের বাণী, উঠলে গেয়ে বীণাপাণি- 
মন গহীনে জাগলো রাতি- হাজার ফুলের পরশ মাখি! 


আজকে নাহয় তুমিই নেশা নদীর পাড়ে জ্যোতস্াতে, 
হৃদয় নাহয় তুলেই দিলাম তোমার কমল দুই হাতে! 
দেহের গেলাস ভরে দিও, মধুর হাসির রুপ নেশাতে! 


১১৪৮ 
এই বাগিচার শীতল ছায়ে, আসবে তুমি পায়ে পায়ে, 
হেথায় আছে শীতল নহর, পরাণ জুড়ায় শীতল বায়ে! 
মুখোমুখি বসবো হেথা, পেয়ালা ভরা মদির কথা- 
জ্যোৎস্না রাতে চাঁদের পানে- ভাসবো মোরা প্রেম নায়ে! 





আরো সাকী ঢালো সুধা রাত্রি নাহয় হবে শেষ, 
দিনটা আমার গেলই নাহয় মাথায় বয়ে মদের রেশ! 


খোদা নামের মদ পিয়াতে, বলো কবি কোথায় ক্লেশ! 


১১৫০ 
আমি যদি আজকে মরি, কেঁদো নাকো বন্ধু মোর, 


আমি ছিলাম প্রাণের সাথী কাটিয়ে গেলাম জ্যোৎস্রা রাতি- 


খুঁজে নিও নতুন সাথী - আসলে তোমার নতুন ভোর! 


১১৫১ 
মনকে বলি দরবারে যা, যেথায় কাজী আছেন বসে, 
চলরে শুনে নীতির কথা, নইলে শেষে পড়বি রোষে! 
যেমন খুশী তেমন চলা, যেমন খুশী তেমন বলা- 
নয়রে কবি সঠিক সে পথ- অকালেতেই পড়বি দোষে! 


১১৫২ 
তুমিতো সাকী সদাই জেগে, আমার মন মঞ্জিলে, 
কুঞ্জবনে গাইছো গজল, অনুরণন মোর দিলে! 
তোমার দু'ঠোট ডালিম পেষা, আমার মনে ধরায় নেশা, 





১১৫৩ 
জ্যোৎস্লাগুলো পড়ছে ঢেলে- কুঞ্জবনে ফুল বাসে! 
বেদিল সাকী তোমার আঁখি, আজকে হল রাতের পাখী, 


১১৫৪ 
মধ্য রাতও হয়নি এখনো- সাকী তোমার সোরাই শেষ! 
পেয়ালা ভরা আধাখানি, দেওয়ানী হাফিজ কাব্য খানি 
আজকে রাতে তোমার সাথে-পড়বো বুকে নেশার রেশ! 


১১৫৫ 
মহান কবি ফেরদাউসের সেই লেখাটি বাজে দিলে! 
আমি লিখি বাংলাদেশে, মুগ্ধ আমি প্রিয়ার কেশে- 
বেচে দেবো জ্যোত্ম্নারাত, এক পেয়ালা শরাব পেলে! ! 


১১৫৬ 
তোমার চোখে দেখেছি যে, মায়াবী জ্যোৎস্না গভীর রাত, 
নেশা জাগানিয়া মদির চাহনি কইছে যেন বেতাল বাত! 
তোমার আঁখি দেখেছি যবে, মাতাল হয়েছি সেই যে কবে 
মরেই যাবো সুন্দরি গো- করো না যাদুর দৃষ্টি পাত ! 





জীবন নামের অল্প সময়, হেথায় কেঁদে লাভ কি বল? 

লাভ কি হেথা তাপস হওয়া, জীবন যেথা শোকের ঢল! 
শোক সাগরে গা ভাসিয়ে, যাসনা আমার মধু প্রিয়ে- 
চলনা হেথায় ছন্দ তুলে- পায়ে বেঁধে সোনার মল! 


১১৫৮ 
জীবন যে এক যুদ্ধ ক্ষেত্র, সময় হেথায় নেই কাঁদার! 
যতই চেষ্টা করিস সখা, অন্ত: শেষে তোরই হার! 


কর্ম দিয়েই রইবো বেঁচে, জীবন রে তুই যা হেরে, 
দু:খ শুধু, তোমার কাছে আসবোনাতো আর ফিরে! 
রইবে পড়ে পেয়ালাখানি, লিখবোনা আর নতুন বাণী- 
ঠিকানা যে মৃত্যু মিছিল, আসবো নাকো আর ফিরে! 


১১৬০ 
তেমনি দেখ ভীড় রয়েছে, মরণ পারের সাগর তীর! 
আয়ুর পাল্লা মাপছে কেমন, মৃত্যু এবং নতুন জনম- 
এই খেলাটিই সত্য কবি, মোছ তোমার আঁখির নীড়! 





নবাব সিরাজ শুয়ে আছেন, মুর্শিদাবাদ- খোশ বাগে, 
দুঃখী নবাব বাংলার সেই, তার জন্যেও শোক জাগে! 


উঁচিয়ে আছে তরবারীটা- তোমায় যদি পায় বাগে! 


১১৬১ 


জ্ঞানবেত্তা বুঝলে কিনা, প্রহেলিকার এই জীবন, 


মৃত্যু এবং জরা নিয়েই তোমার দেহের কুঞ্জবন! 
হঠাৎ কোরেই পড়ে ঝরে, পড়েই থাকে কত স্বপন! 


১১৬২ 2 ১১৬৪ 
পান করে নাও চাঁদের আলো, হৃদয় যদি চায় কবি, পানি তোমার করবে কিগো, মনটা যদি মরুভূমি; 
এই যে তোমার প্রিয়ার শহর, হেথায় তুমি আজনবী! শুরুপক্ষ থেকে কি লাভ, যেথায় আমার নেই তুমি! 
মৃত গোলাপের শহর এটা, চতুর্দিকে আলোর ছটা- মন যে আমার ঝড়ের নদী, বইছে তুফান নিরবধি- 

আজকে রাতে এসো প্রিয়ে মোর কপালে চাঁদ চুমি! 


সবকিছুতেই আছে ঘটা, বুঝে শুনে দেখ কবি! 





এইযে মরু হৃদয় আমার বৃষ্টি বিহীন বালির চর, 
দু:খ বিলাসী বন্ধু কবি, সেথায় তুমি বাঁধলে ঘর! 
তগ্ত দুপুর মাথার উপর-তবুও তুমি মুদ্ধকর- 
জ্যোত্না রাতে বেহেশত যেন, মন মরুতে একলা ঘর! 


আমিও তোমার কাব্য নিয়ে ডুবেই গেলাম দিলহারা! 


আজকে রাতের হান্ুহেনা সুরভী তার বাজায় বীণা- 
চুমুক দিলাম পেয়ালাখানায়- হলাম নাহয় মন হারা! 


১১৬৮ 
চাঁদ আমাকে ভালোবাসে, মুগ্ধ করা কিরণ তার, 
রুপোর গুড়ো জ্যোৎস্নাগ্তলো স্নিগ্ধ করে বুক আমার! 
তুমিও এসো মাধবী রাতে, রক্ত গোলাপ নিয়ে হাতে- 
যে ক'টা দিন আছি বেঁচে- দিনগুলি হোক সব সোনার! 


১১৬৬ 

₹কা বাজায় মুর্খেরা সব, চুপ করে রয় যারা জ্ঞানী, 
ভয়ের তাড়ায় আমি তুমি সবাই হলাম যোগী ধ্যানী! 

মনের ভিতর বলে কাজী - যা দেখিস সব ধাপ্পাবাজি - 
তার চে ভাল পান করে যা লাল শিরাজিরর পানি! 





১১৬৯ ঞ্ 
কত সভ্যতা কালের গর্ভে কে রাখে বল কার হদীস, বুঝতে পারিস ওরে পাগল- দেহ ছাড়া নেই গতি, 
চাঁদের কবিতা লিখছি বন্ধু, ভূবছি কিন্তু অহর্নিশ! এই দেহ তোর কাবা শরীফ, এই দেহ তোর সকল গতি! 
এই যে জীবন ক্ষণস্থায়ী, নয়তো তুমি কোথাও দায়ী- দেহ যদি না থাকে তোর, আর কোনদিন হবেনা ভোর- 
গোলাপ বনের কোয়েলা হয়ে-ফুল্প মনে বাজাও শিষ! রক্ষা করো দেহখানি-এই যেন হয় তোর সুমতি! 


১১৭০ 2 ১১৭২ 
জ্যোৎন্না রাতে কথা বলে, খুব গোপনে আমার সনে! তকমা লাগা জ্ঞানীরা সব যা খুশী তাই যায় বলে! 
বলে আমায় ওরে পাগল, খুলে দেখ মনের আগল আমি চিনি পেয়ালাখানি, আর তো চিনি শরাবদানি- 
সবই মায়া এই জগতে- তুইও পাখী এ মায়া বনে! ভালোমন্দ যা করি ভাই - নেইতো আমি এ দলে! 





কাকের পিছে ময়ূর পুচ্ছ লাগিয়ে যদি দাও ছেড়ে, 

ময়ূর পাখী বলবে তারে-এমন কি কেউ আছে ধেড়েঃ 
আমি থাকি ভাটিখানে, মত্ত থাকি গানে পানে- 

আমি যে কি খোদায় জানে- পাপী বলে কয় নেড়ে! 


১১৭৪ 
কাজী বলে শোনরে পাজী, বন্দী তো তুই পেয়ালাতে, 
জীবনখানা কাটিয়ে দিলি সাকী সুরার আড্ডাতে! 
জীর্ণ দেহে পারবি কি আর বদস্বভাবী পাল্টাতে! 


কি হারিয়ে সাকী তুই- কাঁদিস কেন- ব্যাকুল মন, 
মূল্য কি তার বুঝিসনি রে- ছিল সে যে কাছে যখন! 
এইতো দু:খ ঘরে ঘরে- মুল্য খুঁজি মরার পরে- 
বন্ধৃতারই মূল্য খোঁজো -হারার আগেই পাগল মন! 


১১৭৬ 
সুলতান তুমি সরাইখানায়, আজ রাতে নাও অঞ্জলি, 
রঙিন লালা পেয়ালাখানি- দ্রাক্ষা রসে টলমলি! 
প্রিয়ার ওষ্ঠ এই পেয়ালা, মদির লালে করছে খেলা, 
আয় না প্রিয়ে ঝিলের পাড়ে- লাল গোলাপী পায়ে দলি! 





বাজাও যদি মোহন বাঁশী, কাশবনে আজ জোসনা রাতে, 
তুমি যদি আজ না চাও সাকী মরবো ডুবে নীল সায়রে- 
মরবে খুঁজে চেয়ে চেয়ে- র'বো না আমি কাল প্রাতে! 


১১৭৮ 
দেহের ভিতর কাজীর সাথে কথা বলি রাত্রি দিন, 
কাজী বলে খুঁজিস কোথায়, সে যে তোর দেহেই আসীন! 
মাতাল হলে তার নাম জিকিরে-যাবি না তুই জাহান্নামে- 
দেদারসে তুই পান করে যা- শুধবি হেথায় খোদার খণ! 


খাচ্ছি খোদা তোমার নামেই- জাহান্নামের নয় আশায়! 


১১৮০ 
কালো টিপের সুন্দরীগো জ্যোত্শ্লা রাতে আসবে কি? 
প্রেমের গজল গাইছি ছাদে, ভালো আমায় বাসবে কি? 
তুমি যদি পাশে থাকো আর কিছু মোর লাগবে কি? 





কাল রাতে ছিল মেঘলা, তুমিও ছিলে মেঘলাবতী, 

অলিন্দে টবের গাছে ফুল ফুটানোরর পায়নি গতি! 
আজকে আমার ভূবন আলো, স্সিদ্ধ বায়ু মন ভোলানো, 
ঢেউ খেলে যায় মন সায়রে, রুবাঈগুলো পান্না মতি! 


১১৮২ 
তত্ব কথার মার প্যাচে আর নাইবা গেলাম রে জ্ঞানী, 
দুকান আমার ঝালাপালা, শুনেই তোমার অমীয় বাণী! 
এমন ভাবে বলছো তুমি, মরণশীল শুধুই আমি- 
নরকের কীট আমি যেন, তোমার জন্য বেহেশত খানি! 


১১৮৩ 
জীবন নামের পথের উপর আমি যেন এক পথিক! 
সকল সৃষ্টি পথিক হেথা-কেউ জানেনা শেষ যে কোথায়- 


১১৮৪ 
মৃত্তিকালীন হবার আগে, মনের ভিতর প্রশ্ন জাগে, 
জীবন আমার কেনই হেথায় ভালোবাসার অনুরাগে! 
কেন তুমি আসলে বলো-কেনই আঁখি ছল ছল- 
জীবন থেকে চিরতরে বিদায় নেওয়ার আগে! 





এইতো আমার জীবন ঘিরে গোলাপগ্তলো করছে ভিড়, 
আমিও হেথায় ভালই আছি, মিষ্টি হাসি সুন্দরীর! 
যাত্রা শেষে-গোরস্থান- নাইকো সেথায় আঁখির বাণ- 
সেথায় শুধু কান্না আছে, বন্যা আছে শোক রুধির! 


১১৮৬ 
এইতো আমার জীবন ঘিরে গোলাপগ্তলো করছে ভিড়, 
আমিও হেথায় ভালই আছি, মিষ্টি হাসি সুন্দরীর! 
যাত্রা শেষে-গোরস্থান- নাইকো সেথায় আঁখির বাণ- 
সেথায় শুধু কান্না আছে, বন্যা আছে শোক রুধির! 


মরণ এবং কান্না যেথা-আনন্দও বইছে সেথা- 
মরণ হেথা তুচ্ছ খেলা- জীবন কিন্তু তুচ্ছ নয়! 


১১৮৮ 
আজকে খুশী পেয়ালাখানা, দেদারসেতে ভরছে মদ, 
খৃশীইই আমি দিবারাত্রি - মাথায় নেইতো চিন্তা বদ! 

লাভ কি বল এই জীবনে- মদ কে যদি করি রদ! 





১১৮৯ 


মাথা আমার ঘুরছে নেশায়, জাগছে শুধুই একটি বোধ, 
মৃত্যু দিয়ে হয় কি মোদের এই জীবনের তামাম শোধ! 


দুই দিবসের জীবনখানি ভোগ করে নাও ও মোর রানী 
জীবন হবে খোলামেলা- বইবে কেন পাপের বোধ? 


১১৯০ 
শেষ চুমুকটা দেবো আমি, দেখেই না হয় শুক তারা; 


সেজদা দেবো খোদার রাহে- নয় আমি তো জ্ঞান হারা! 
ঘুমিয়ে তখন স্বপ্ন দেখো- আমার কথা মনে রেখো - 


মনে রেখো বন্ধু তোমার- মাতাল- নয়তো পথহারা!! 


১১৯১ 
মাটির টবে এই অলিন্দে বুনো বেলী গাইছে গান, 


সুর যে তাহার সুগন্ধি গো জুড়িয়ে দিলো বিরহী প্রাণ! 
আজ রাতে মেঘের ফাঁকে, চাঁদ দেখ জ্যোৎস্না আঁকে 
হায় বিধাতা কোথায় তুমি-মুগ্ধ দেখে তোমার শান! 


১১৯২ 

আজকে আমি নেশার ঘোরে ভূলে গেছি সাকী তোরে, 
ভেঙেই দিলাম পেয়ালাখানি, খোদার নামে তৌবা করে! 
আজান শুনে ঘুম ভাঙে মোর- রহমতে খোদার সে দোর- 


খুলে গেছে ওরে মাতাল দেখনা চেয়ে তোর তরে! 





কুঞ্জবনে এসো প্রিয়, আঁচল ভরে ফুল নিও! 
জ্যোতস্নাময়ী সুন্দরি গো আজকে রাতে রস পিও! 
এমন যদি হয়গো প্রিয়ে, শেষের রাত তোমায় নিয়ে- 


অলিন্দে আজ রাতের বেলা- তোমার কথাভাবছি বসে, 
বেলীর গন্ধে মন মাতোয়াল, দেহ মাতাল দ্রাক্ষা রসে! 
ভালোবাসা প্রেম ডোরে, জ্যোৎস্না র'লো তোমার তরে 
চাঁদের মুখে তোমায় খুজে- অনন্তকাল রইবো বসে! 


১১৯৪ 
মনকে শুধাই বারে বারে, সুখে থাকার মন্ত্র কি, 
যন্ত্রণাকে কমিয়ে রাখার আছে কোন যন্ত্র কি! 
দুঃুখবোধ আছে কিছু, সেইতো বেড়ায় পিছু পিছু- 
ছাড়তে পারলে সেই বোধকে -তোর আবার দু:খ কি! 


১১৯৬ 

হুর পরীতে কি হবে গো, তুমিই থেকো মোর পাশে, 
দু'হাত তুলি খোদার কাছে, তোমায় পাবো সেই আশে! 
খুনসুটিতে কাটলো জীবন, আবার ফিরে চাই সে জীবন- 
নাইবা নিলেম হীরের প্রাসাদ - মাটির ঘরে তুমি কাছে!! 





মুগ্ধ আমার মনটা ছিল তোমার প্রেমেই মত্তরে! 
আজকে আমি মানবো তোমার সকল রকম শর্তরে! 


১১৯৮ 
আসবে তুমি হেথায় বন্ধুষজোছনার এই বিছানায়, 
নির্ঘুম যায় রাত্রি আমার- বন্ধু তোমার অপেক্ষায়! 

চাঁদ ও মেঘের দেখবো খেলা, জেগে র'বো রাত্রিবেলা- 


খেলবো দুজনে লুকোচুরি, যেথায় রাত্রি বন ছায়! 


আজ আবার পাগলা হাওয়ায়, লুটে পড়ে সাগর ঢেউ, 
চারদিকে যে আঁধার বুঝি, তোমার চোখেই আলো খুঁজি 


১২০০ 
আজকে যদি আঁধার এসে- যাই ডুবে গো এ আকাশে- 
তোমার স্মৃতি রাখবো আমি আকাশ গাঙে মন একে!!