Skip to main content

Full text of "Rubayat Of Sultan Part 4"

See other formats







ৃ 9701197) ৬1111)9777190 
ও ৃ ৃ 1২27791. 


১1৪1) 1৬101191111180 1২82281 

৮489 00110 1] 1959 1) ৪. ০01- 
ও আোঞ! |810115 01 1১810179. 176 
00100191960. 1015 1৬1890915 1)০- 
896. 01) [01019151 07 
110101 9100 00811790 10151101 
90010861011 01] 19998101) 011 
11019] 90101020101 06৮9101- 
1091] 810 9169061৮9 ০00101100101081101]) 201 [07১০9 
1791-01-4৯, 90817, 870 [7900 11078118170 8170 ৬৪11005 
100911181101191 111510110110115. 
[1] 1015 010159910118] 116, 116 1185 ড/011550 1 01619170018 
101019015 010 06610101197 10911951017 01181150 00110110111021101) 
810 90710861017. 119 1799 0010011071690 10 019 09৮%91010111911 01 
13811619095] 11051) 10169 90109099910] 7159 0: 9000081010118] 018- 
10789, 101] 10001510 8170 10905. 1715 17019019 ৮0119 111010100 
[২0058 07 91091], 1011990101)129, [1109015 [১1)119301010129, 
0016 1809 8170 4১917709011) [10%7915, ৯5/810118 10100017011) 
8170 ৪. (0121 01 14 71855. 1715 ড/0115 8150 1701009118179181107 
9110%/810 17102891910 8110 01181 75119558110 1২70081, 1৬11729 
0179110 9110 1391790101 11911 08081775 101)1195010101021 1091179, 
8170 100 [09175 179 10 10919 গিট) 1116 1২0177911610 218. 179 
1189 (৪05]76 ৪ ৮৪110109 110017191101181 01019151199 83 515110175 
10101055501. 719 1189 10991) 19005171250 8170 ৪৬781090178610179115 
8110 111661118110119115 10817% (10195 101 1015 019801%9 ড/01] 170 


80101591019 091 ৮1108] 90100911017 






& 


০৯, 


৩৪ 
)7.. বশ ঠা 16১৮২ 








06765579657 





৮২৩17 8 


রুবাইয়াৎ-ই- সুলতান 

পর্থ খণ্ড 

সুলতান মুহম্মদ রাজ্জাক 

সর্বস্বত্বঃ ড.আফরোজা পারভীন 

ই বুক প্রকাশনাঃ জুলাই ২০২১ 
ংকরণঃ নিজ 

প্রচ্ছদঃ ইন্টারনেট থেকে নেয়া 
সৌজন্য ও কৃতজ্ঞতা স্বীকার হলো। 
মোবাইলঃ ০১৭১১২২০০৬৬৭ 


০০০০ সিউল 


২009/910901121 

41117911 

3: 90111 11011211201382291 
7017181 & 053101: 99 

210001€ 00011091001 : 01) 2021 
/91110115: 01. /1019 1721] 
0০0৬6110809:199101 (91691 গি0ো। 
11115176110 0001153১. 

11010116: 01712200667 








শত 


(৯০৮১ 


আছেই নাহয় মৃত্যুজরা, তাও তো ধরা পাগল করা, 
হেথায় আছে ফুলের বাগান, আছে নেশা জীবন জাগান- 
আছে হেথায় চাঁদনীরাতে দ্রাক্ষা রসে সোরাই ভরা! | 


১৪০২ 
হয়তো অবাক ফেরেশতারাও, জীবন দেখে আনন্দের, 
কেমন করে মৃত্যু জেনেও তুচ্ছ মানব- হাসে ফের? 
মরণটাক তুচ্ছ করে, ভালোবাসে ঘুরে ফিরে- 
মাতাল হয়ে জ্যোৎস্না লুটে, তারায় ভরা আকাশের! 


০০ এন 


শ, 


€১০্ 


১৪০৩ 
দোষ কি বল দ্রাক্ষারসের, নেশায় ভরা তোমার আঁখি; 
তোমার চোখে চোখ পড়লেই, মাতাল হয় যে মন পাখী! 
গেলাসে মোর শুধুই সুরা, তোমার চোখে ঝড় মদিরা- 


১৪০৪ 
গোলাপ যদি না ফোটে পাশে, কিসের তুমি রুবাঈকার! 
উদাসী কলম হাতে নিয়ে শুধুই চাওয়া আকাশপার! 
ফুটুক না হয় হাজার গোলাপ- তারার আকাশ যেমন উদার! 


রা 


৯৮৮১ 


জা 
১৪০৫ 
জ্যোৎস্না রাতে বকুল বেণী, বাঁধো প্রিয়ে তাতো জানি, 
মোটা করে কাজল পরা, কালো টীপের কালো রানী! 
ভোমরা কাজল ডাগর চোখে- বাণ মেরে যায় আমার বুকে- 


আমি হারাই কিযে সুখে, নাইবা হলো জানাজানি! 


১৪০৬ 
| নীল খামেতে সেই চিঠিটি খুলেই পেলাম তারার আকাশ! 
মুগ্ধকরা সঞ্জীবনী- বকুল ফুলের তাজা সুবাস! 
আকাশ ভরা তারার রাতি, আজো প্রিয়ে আমার সাথী- 
আমার মনের অলিন্দতে - আজো তুমি করছো বাস! 


া 


০০টি উনি, 


রুবাইয়াৎ-ই- সুলতান 


১৪০৭ 
দু:খ শুধু একাই তোমার, নেইতো কোন ভাগীদার; 
বিরহী কৰি একাই কাঁদো, কান্নাটুকুই সব তোমার! 
তোমার যখন সুখের দিনে-অর্থহীন তুমি বিনে- 
সবাই ছিল চারপাশেত নেই তো এখন কেউ তোমার! | 


১৪০৮ 
জ্যোৎস্না হেসে বল্প রাতে, দু:খ থাকনা তোমার সাথে; 
থাকলো নাহয় অশ্রু সাগর তোমার দুটি আঁখির পাতে! 
জুইয়ের উপর শিশির যেমন-সুবাস এবং অশ্রু তেমন 
কাঁদলে তুমি রাতে রাতে- জ্যোতন্না আমি রইবো সাথে! 


(৫১৯৮ 


হয়তো হাতেই রইলো গোলাপ- নিভছে বাতি জীবনের! 


্ 
১৪০৯ 
এইতো এখন আছো তুমি, এটাই সত্য জীবনের- 
এইতো আমি বলছি কথা, গোলাপ হাতে যথাতথা- 


১৪১০ 

| আর কি পাবি চাঁদের রাতি, তারায় ভরা নীল আকাশ? 
এমন হৃদয় আর কি পাবি, আছে কি তার পূর্বাভাস? 
আর কি পাবি সরাইখানা, দু:খ সুখের এই বাসনা- 
চাঁদনী রাতের সাগর আঁখি- ফুলেল রঙিন বারোমাস? 


রুবাইয়াৎ-ই- সুলতান 


১৪১১ 
কেন ভাবো উঠবেনা আর, যে চাঁদ ডুবতো রাতে! 
কেন ভাবো খুঁজে পাবে, সেই সাকী যে ছিল সাথে! 
উঠবে চাঁদ সেই অমরাবতী, কণ্ঠে যার দুধ সাদা মতি 
আবার জ্যোৎস্না ঢালা রাতে- হাসিমুখে পান পাত্র হাতে! 


১৪১২ 
ফুটেছিলো বুনোজুই রাতে, খুলে পড়ে সোহাগ সুবাস, 
তার কাছে কি বেহুশ যেজন, অথৈ সাগরে ডোবা তার মন 
সুরহীন রাত্রি যার- বরষায় কাটে বারোমাস! 


জা 


)৩ 


দুখে তোমার কেউ কাঁদেনা, প্রেমিক ওগো ভাগ্যহত, 
নিন্দা এবং গীবতের তীর তোমার ভাগ্যে জুটলো কত! 


৯৮৮১ 


নীরব শুধু জ্যোৎস্না রাতি, আকাশ কাঁদায় রত! 


গোলাপ কাঁটায় ছিন্ন হৃদয়, তার কথা তো কেউ নাহি কয়- | 


১৪১৪ 
| মেঘলা আকাশ কেটেই গেল, আসলো আবার জ্যোৎস্না রাত- 
কাজল আঁকো হরিণ চোখে,গাইবে গজল আমার সাথ, 
ঘৃংগুর যেনো না খুলে যায়-আস্তে বেধো কোমল দু'পায়- 
দুধকুমারী নদী যেন বেলোয়ারীর এ দু'হাত! 


6১৮৮ 


১৪১৫ 
কেমনতর জীবন পেলে খুশী হতিস রে কবি? 
দিনযে চলে পলেপলে পরাজয়ের সব ছবি! 
জ্যোৎস্না রাতের এইযে ধরা-ফুল ফোটানোর লড়াই করা 
উদয়ককালে কে ভাবে রে ডুবেই যাবে এই রবি! 


১৪১৬ 
আঁধার যখন মধ্যরাতে, আরশিতে চাই একা একা, 
নিজের ভিতর হয়তো কারো অন্ধকারে পাবো দেখা, 
আমার আকাল চেয়ে থাকা, নেইতো সেথায় আলোর রেখা, 
কোথায় সবাই হারিয়ে গেছে, আমিই পথিক দাঁড়িয়ে একা! 


শ. 


(৪১৮৮১ (৮৮৮৯৮ 


এ) তির ৯৯ 


হাতড়ে বেড়াই জীবনখানা-ফেলে আসা দিনগু ১৪১৯ 

সু ৃ লি, জীবন যেন অনর্থকর নিকষ কালো আঁধার রাত, 
চাঁদনী রাতে কাঁদছো কেন মনের মাঝে বুলবুলি! 

সেই যে জীবন ভালোবাসার, দু:খ এবং স্বপ্ন আশার- 


অংকগুলো গোলমেলে সব, নয় কিছু নয় প্রতিভাত! 
অনর্থক এক আমি তুমি- চাঁদ সুরুজ আর বিশ্ব ভূমী 
কালের স্রোতে হারিয়ে গেলো দেখলে নাতো মন খুলি! 


কিসের জন্য জীবন সবার, থাকেই যদি মৃত্যু রাত! 


১৪১৮ ১৪২০ 
কিসের বাগান করো মালী, কুসুম কবে ফুটবে তার! কোন বসন্তে কোথায় আবার, দেখা হবে কোন বনে! 
কিসের কাব্য লিখছো বসে দুই রজনী জীবন যার? মন কি জিনিষ তাও জানিনে, তাও রয়েছিস মন কোণে! 
ভাগ্য পেটাও লোহার মত, তাও তুমি রও ভাগ্য হত- শুধুই জানি এই জীবনে, তুইও ছিলি একই বনে- 
চাঁদনী রাতে গেলাস হাতে করছো শুধুই হাহাকার! রাত ঘনালে এই জীবনের- দিন পাবো আর কোন ক্ষণে! 
্) 


(৫১৯৩৮১ ১০৮১ 


টা এলো 
১৪২১ ১৪২৩ 
বলোনা আমায় ঘুমাতে প্রিয়ে, চাঁদ এখনো রয়েছে জেগে, আর কতকাল মেঘ আড়ালে,লুকিয়ে রাখবে জ্যোতত্লা মুখ! 
ভোমার অধরে শরম লালিমা, এখনো রয়েছে স্পষ্ট জেগে! আর কতকাল অথৈ সাগর-ভাসাবে আমার মাতাল বুক? 
শিউলি তলায় চাঁদনী রাতে-ফুলের ঘাণে উঠোন মাতে 


থাকি আজিচোখে চোখ রেখে, রেখো না মুখ নেকাবে ঢেকে 
এখনো গেলাসে শরাব বাকী অনুরাগে দিল রয়েছে জেগে! | নিদ্রা এবং স্বপ্নবিহীন- আঁখির মাঝে তোমার মুখ! | 


১৪২৪ 

১৪২২ | এখানে সবি মায়াবী 'কবি'-দুধেল চাঁদের জ্যোৎস্না রাত! 
নামলে যখন দরবেশীতে, ভন্ড তোমায় বল্প সব, মাথার চুলে বিলি কেটে যায়, কোন রুূপোসীর শীতল হাত! 

বিচার জ্ঞানে কেউ দেখেনা, শুধুই জানেন তোমার রব! প্রাণের ভিতর কে যেনো কয়, এইভূমী কেন স্বর্গ নয়- 

তুমিও প্রিয়া গোলাপ হাতে, দাঁড়িয়েছিলে আমার সাথে কোথা তুমি নিয়ে যাও সারথি,সেথা আছে কি লাল প্রভাতঃ 
কৃতজ্ঞতায় মন ভরে যায়- অশ্রু চোখে রই নীরব! 


শ. শ. 


(৯০৮১ 


১৪২৫ 
আজকে রাতে যাসনে ঘরে, থাকনা মাতাল ঝিলের পাড়ে, 
জ্যোৎস্না ঢালা দুধেল রাতি ডাকলে আমায় চুপিসারে! 


তুমি নাহয় আমার পাশে, শিশির কুড়াও নরম ঘাসে- 
গেলাস ভরা ভালোবাসা আজকে দিও মন উজাড়ে! 


৪০০টি উনি, 


১৪২৬ 
হেমন্তে আজ বেহেশতী রাত, পাগল করা মোহন চাঁদ, 
কণ্ঠে তোমার সোহাগভরা বাজলো গীতল প্রতিবাদ! 
ইষৎ রাঙা কাজলা আঁখি, আঁখি তো নয় বুনো পাখী - 
সরাইখানার ওগো সাকী, ভাঙলে আমার দিলের বাঁধ! 


শ. 


রুবাইয়াৎ-ই- সুলতান 


১৪২৭ 
্রষ্ট হলাম নষ্ট হলাম, সাকী তোমার আঁখির বাণে, 
ভালোবাসার ফুটবে কি ফুল, আবার আমার নষ্ট প্রাণে? 
কালকে রাতে চাঁদনী বলে- কবি রে তুই অস্তাচলে- 
আর কতদিন রইবি চেয়ে, বেদিল সাকীর নয়ন পানে? 


১৪২৮ 
তুমিই নাহয় লাগিয়ে দিও বকুল চারা মাথার পাশ, 
গন্ধে বিভোর চাঁদনী রাতে কবরখানা সেই সুবাস! 
মালা গাঁথার নেই প্রয়োজন, নাইবা র”লো কোন স্বজন 
জ্যোৎন্া রাতে ফুল সুবাসে বইবে কবির দীর্ঘশ্বাস! 


রুবাইয়াৎ-ই- সুলতান 


(৯৩১৮১ 


একদিন এই দেশের মাঠে - ঘাস ফুলেরাহেসে ওঠে হেসে- 
স্বাধীনতা হাতে নিয়ে এলো- লক্ষ লক্ষ এ মাটির চাঁদ! 


১৪৩০ 
হৃদয় নদী-যেথায় তোমার নিত্য চাঁদের আনাগোনা, 
হয়তো সেথায় নেই কোথায়ও রুবাঈকারের আলোচনা! 
হয়তো সেথায় এক বনফুল, নাম ঠিকানা নেই যার কুল- 
আপনি ফোটে আপনি ঝরে- আপনি আঁকে আলপনা!! 


্ 
১৪২৯ 
যেইপথে দুধ ঢেলে ঢেলে যায় হেটে নিত্যজ্যোৎ্না চাঁদ, 
সেই পথে যে হেটে গেছে কত যুবকেরা বুকে নিয়ে সাধ! 


শ 


রুবাইয়াৎ-ই- সুলতান 


স্পল 
১৪৩১ 
প্রাণের ভিতর নিবিড় আঁধার, কে তুমি সেথায় রও! 
দিল বোঝেনা কোন কিছুই - কেমন করে কথা কও! 
দীপ জ্বেলে যাই নিশি রাতে, আলো হারায় আঁধার সাথে 
| দ্বিধা মনে জাগে অস্তবেলায়- তুমি বুঝি আজ আমার নও! | 


১৪৩২ 
| মুখ ফিরিয়ে নিওনা প্রিয়ে, বেতাল করোনা তারার রাত, 
জানিনে যখন আসবে কিনা, এই জীবনে কাল প্রভাত! 
তারচে ভালো পিদিম জ্বালো, জীবনে ভ্বলুক মায়াবী আলো 
রংয়ে ঢংয়ে খেলবো রাতে-শেষ নিয়তি মৃত্যু সাথ! 


শ. 


৯৮৮১ 


গজ 
১৪৩৩ 
শ্নান হয়ে যায় পূর্ণিমা চাঁদ, তুমি যদি থাকো মোর পাশে, 
লক্ষ তারার রাতের আকাশ, ভ্রিয়মাণ হয় তার পাশে! 
কথাবলা এ ডাগরআঁখি, ইশারায় মোরে গেল যে ডাকি- 
এ রাতে যে মাতাল হলাম, তোমার বকুল বেণীর বাসে! | 


১৪৩৪ 
| মেঘ যদি হয় পুরো সাগর, মিটতে পারে মরুর তৃষা, 
কাটিয়ে দিলাম হাজার রাতি, মিটলো নাতো তোমার নেশা! 
এক দরিয়া দু:খ দিলে, রাতের স্বপ্ন কেড়ে নিলে- 
তবু তুমিই সরাব সম- জাগিয়ে রাখো ব্যাকুল নেশা! 


া 


(১১৮৯ 


১৪৩৫ 
পাঠালেই যদি নির্বাসনে, থাকনা অটুট নির্বাসন, 
বেহেশতখানা চাইনা আমার, দু:খ থাকুক আপনজন! 
হুরপরী আর শরাব তোমার-থাকনা খোদা-চাইনা আমার- 
আমার কালো সুন্দরীটাই তোমার হুরীর চেয়ে আপন! 


১৪৩৬ 
নাহয় থাকুক ভাটিখানার মাটির গেলাস এই হাতে, 
ঘাসের উপর শুয়েই নাহয় কাটলো রাতি জ্যোত্শাতে! 
মোটা কাজল সেইযে আঁখি, সেই হলো মোর জীবন সাকী- 
সুরা ও সারা মিললো সবি- যে কটা দিন আছে হাতে! 


া 


রুবাইয়াৎ-ই- সুলতান 


১৮৮১ ১৮৮১১ 
| 


মৃত্যু যেথায় পিছেপিছে, সুলতান তোর লোভ কিসে? 

জীবন হেথায় তিলেতিলে নি:শেষ হয় সেই বিষে! 

ভালোবাসার অমরতা, হেথায় সবই অলীক কথা- চাঁদনী যখন মাঝ গগনে, আমার কথা করো মনে- 
| তখনো আমি জেগে আছি, তারার মেলায় বেহদিস! | 


লিখলি রুবাঈ ভালোবাসার, হদ্দ বোকার বিশ্বাসে! 


১৪৩৮ ১৪৪০ 
তোমাকে দেবার নেই কিছু মোর, শুধুই আছে চাঁদখানা এ, | মিছেই আমার দরবেশী ঢং, জিকির ঘরে শুধুই তুমি, 
আঁখিভরা কোন কাজলি রাতে, খোঁপায় গুজে নিও সই! ফানাফিল্লা হলোনা মোর-টানে আমায় সবুজ ভূমি! 

জানি আমি জানি প্রিয়া, চাইয়না এ মন বেদিল হিয়া- জীবন নামের পানশালাতে, মেহেদী রাঙা তোমার হাতে- 


বকুল বিছানো নিশুতি কবরে-তোমারেই দেখি স্বপনে সই! 


, 


ভালোবাসার মদির ভরা- গেলাসখানি গেলাম চুমি! 


€ (১০ রুবাইয়াৎ-ই- সুলতান (১৯৫৮ রুবাইয়াৎই- সুলতান 
১৪৪১ ১৪৪৩ 

আসা এবং যাওয়ারখেলা, ভালো আমার লাগলো না সই, আমিতো শরাবে হইনি মাতাল, মাতাল করেছে সেই আঁখি, 

হৃদয় দিলে ভালোবাসার- সেই হৃদয়ের মূল্য কই? নীরবে চেয়ে আমার চোখে, কত কথা বলে সেই পাখী! 

প্রেমটা আমার যখন ঘন- বলছি খোদা তোমায় শোন- চাঁদকে বলেছি জ্যোত্্লা দিয়ে, মায়াবী আঁখিরে দাও মুছিয়ে 


ভেঙে দিলে বাসরখানি- রাখলে প্রেমের মূল্য কই! তবু জেগে থাকে যাদুকরী চোখ, চাঁদনী রাতের সেই সাকী! | 


০ উনি 


১৪৪২ ১৪৪৪ 

গেলাসে তখনো শরাব ছিল, মুছলে কাজল কেন সাকী? | এই এখানে হাতের তালুতে, লিখেছ কি খোদা ভাগ্য মোর; 
আমি এখনো হইনি মাতাল, কেন থাল্সে গানের পাখী? তাই কি আমি মাতাল হেথায়-কাটেনা প্রিয়ার নেশার ঘোর? 
থেমে গেলে প্রিয়ে তোমার হাসি, কেমনে কাঁদবে মনবাঁশী আমি জেগে থাকি রাত্‌ নিশীথে, চাঁদ জেগে বন বিখীতে 
আমার বিলাসী বাগানে আজো কত ফুল যে ফোটা বাঁকি! -হয়তো তুমি নিদ্রিত সুখে-পালস্ক পর- স্বপন চোর! 


শ. 


৯৮৮১ 


লজ 
১৪৪৫ 
তত্ব কথার তর্কেতে ভাই নাইবা হলেম অংশীদার, 
মাতাল হয়ে সরাইখানায়, নাহয় হলো রাত্রি পার- 
এটুক আমি গেছি বুঝে, লাভ হেথা নাই জীবন খুঁজে- 
নিভবে প্রদীপ যখন তখন-ভাগ্যে আছে যেথায় যার! | 


১৪৪৬ 
| দুঃখ পিদিম নেভে নাতো, হোকনা যতই ঝড়ের রাত! 
চিরবিচ্ছেদী হৃদয় যার, তার কি আসে সুপ্রভাত? 
বুলবুলি তুই কাঁদিস বনে-সাগরসম দুঃখ মনে- 
ভালোবাসার মাটি মাঝেই-তোর কবরের জাগছে রাত! 


া 


১০৮ রুবাইয়াৎই- সুলতান 
১৪৪৭ 
সুলতান তুই কেমন করে ফুল ফুটাবি এই বাগানে, 
যে বাগানে জ্যোতম্না রাতেও মৃত্যুর ভয় জাগে প্রাণে! 
শুধুই শোকের ফুল ফুটালি- দু:খ চাষের বনমালী- 
ভালোবাসার সুর বাজালি, জীবন নামের সকল গানে! | 


১৪৪৮ 
চার লাইনের শায়ের তুমি-চার লাইনের সালতানাৎ, 
রোদনভরা রাতের আকাশ, অশ্রুভরা আঁখির পাত! 
দুঃখের পিদিম ভ্বলছে ভ্বলুক, নিন্দুকেরা বলছে বলুক- 
তুমিই ছিলে তুমিই আছো- আজো আমার হৃদয় সাথ! 


শ, 


৩৬ 


৫৯৩০১ ৮৮০৫০ 


১৪৪৯ ১৪৫১ 
মাঝে মাঝে স্বপ্ন দেখি, দাঁড়িয়ে আছি সাগরপার, আজ নাহয় রইলো পড়ে, নেশার গেলাস অনেকদূরে; 
জ্যোৎস্না রাতে একা একা- তোমার আশায় একাকার! পাগল কবি গেল মরে-প্রিয়া তোমার বাহু ডোরে! 
উঠবো কখন তোমার নায়- ক্ষণ গুনে মোর সময় যায়- মনে রেখো ওগো প্রিয়, গোলাপ ঝোপে কবর দিও- 
প্রাণের পাখী বন্ধু আমার- কখন দেখা পাবো তোমার! জ্যোৎস্না যেন গলে পড়ে- নিশুতি রাতে তার কবরে! 


১৪৫০ 
| এইযে আমার ভন্ড লেবাস দরবেশী আলখেল্লাতে, | রর 
দুনিয়াদারীর নামের কেল্লাতে ্‌ 
তোমার ৪5578 টি বেহুশ কবি বলোনাতো কিছু, বেহুশ রয়েছে-থাকতে দাও, 
ভুলে- রঃ টু 
্‌ সামার,থ লা চাঁদের আলোতে গ্রাবিত বন্ধু, বেইশ কবির মাতাল নাও! 
ভেবে দেখো বন্ধু আমার, থাকবে কিনা মোর সাথে! বন্ধু, বেহু 


সেখানে আর কোন চাঁদ নাই, লাবণ্য ভরা তুমি আছো রাই 
তুমি যে তার জ্যোৎস্না রাতি- তুমিই তার দখিনা বাও! 


, শ. 


শত 


(৯০৮১ 


বিনিদ্র নিশি আকাশের পানে তাকিয়ে থাকি নিরন্তর, 
আকাশভরা বকুল তারারা কেউই আমার নয়তো পর! 


কতযে তারায় বাসর সাজাই, তবু রয়ে গেলে পর! 


১৪৫৪ 
বেহেশতখানার বেহেশতী নয়, জীবনবাগের হয়ে মালী- 
বেশতো আছি খোদা আমার-দিনগুলি সব স্বরণালী! 
সাকীর আঁখির মদির বানে- সরাব ভরা এ মন প্রাণে- 
কেন তবে বেহেশত আবার? - বল খোদা - বিশ্বমালী! 


০০ এস 


শ, 


রুবাইয়াৎ-ই- সুলতান 


১৪৫৫ 
তবু কেন জীবন দিলি, এই বাগানে মন ভুলালি! 
দিনের আকাশ সূর্য ভাতি, শরাব ঢালে জ্যোৎস্না রাতি 
দানই যদি করলি জীবন আবার কেন মৃত্যু দিলি! 


১৪৫৬ 
ফুল ফুটিয়ে গেলাম প্রিয়ে, তোমার বাগানে রাত্রিদিন! 
তোমার বাগানে মায়াবী জ্যোৎস্না, এখানে সব মেঘ আসীন 
পারের আশায় প্রহর গুনি- জীবন ভরা রইলো খণ! 


শ. 


১৮৮১১ ১০৮১ 


জাল দা 
১৪৫৭ ১৪৫৯ 
আমি ছিড়েছি কত যে গোলাপ,তোমার পথে বিলীন সব! স্বর্গ পারে, ঝর্ণা ধারে রুপবতীর রুপ আসরে, 
দেখলেনা তুমি বেদিল প্রিয়া, দেখলো সবিতো আমার রব! গেলাসখানি পূর্ণ রবে, দেদারসে মদ গিলবো ওরে! 
তুমিযে আমার আকাশ ভরা, শরাব জ্যোৎন্না পাগল করা- রুপসীরা দাসীর মতন, এই মদেলের করবে যতন- 
বকুল সুরভী মনের মাঝে, বিনিদ রাতের স্বপ্ন সব! | তুঙ্গে রবে নেশার মাতম- রইবে তারা বাহুর ডোরে! 


25 


১৪৫৮ ১৪৬০ 

| ভুলে গেলেম কেমন করে-চন্দ্রমুখী জ্যোৎস্না রাত, | আজ ফাগুনের জ্যোৎস্না রাতে শরাব বেহুশ অলিন্দতে, 
বকুলতলার সুরভ রাতে কথা হতো তোমার সাথ! খুঁজে ফিরি চিরঞ্জীবন, আকাশ গাঙের তারার পথে! 
আমার বাঁশী শুধুই কাঁদে-তবু যে দিল পাষাণ বাঁধে- ঝরণা ধারে সেথায় থাকে- রুপসীদের দেহের বাঁকে- 
শরাব নেশায় বিভোর থাকি আসবে বুঝি সুপ্রভাত! ! অফুরান এক গেলাস হাতে- রঙিন জীবন অলীক রথে! 


শ. 


৯৮৮১ 


শর 
১৪৬১ 
গোলাপ আমি ছিড়বোনাতো ভালোবাসার এইদিনে! 
কিচ্ছু এসে যায়না প্রিয়ে-থাকনা খোঁপা ফুল বিনে! 
আজকে বরং বেলোয়ারী-আর পরনে সুতির শাড়ী- 
ভালোবাসার শুধুই নারী - বাঁধা পড়ি সেই খণে! 


১৪৬২ 
| রাত্রি জাগা আকাশ তোমার, শুনবে কেমন বাজাই বাঁশী, 
মরবো যেদিন জ্যোৎন্না রাতে- বলবে তুমি ” ভালোবাসি” ! 
আমার ছিল পথ অজানা- তুমিই ছিলে বেহেশতখানা- 
আমি শুধু মাতাল হয়ে- কুঁজোর মদে গেছি ভাসি! 


া 


পরি 


(১৮১ 


১৪৬৩ 
অবাক হয়ে দেখি প্রিয়ে, আমার সাধের ফুলবাগান। 
সুরভ মাখা ফুলগুলি সব গাইছে কত নতুন গান! 


আমি যেন পুরোন গোলাপ, ফুরিয়ে গেছে প্রেমের আলাপ- 


হাওয়ার দোলায় পড়বো ঝরে- নতুনদেরই রইবে শান! | 


১৪৬৪ 
সুলতান তুই বিষাদ কেন, পান্থশালার এই দ্বারে? 
পেয়ালাখানি নে ভরে নে, জীবনতো নয় বারে বারে! 
যা চলে যা ফুলের বনে-সুরভী নে প্রতিক্ষণে- 
প্রিয়ার ঠোঁটে থাকনা মিলে-আসুক মৃত্যু চুপিসারে! 


শ. 


১৮৮১১ ১০৮১ 


জর দা 
১৪৬৫ ১৪৬৭ 
লাল মদিরায় পেয়ালা ভরো, সাগর তৃষা মোর বুকে- ধরো আমি গোলাপ বাগানে- আকাশ ভরা জ্যোৎস্না চাঁদ, 
রঙিন জীবন কোথায় পাবে, জীবন যখন যায় চুকে! তুমি আছো পাশে,গোলাপ সুবাসে চার চোখে স্বপ্ন সাধ! 
রাত ভোলানো জ্যোৎস্না যখন, মাতিয়ে তোলে তোমার মন নাহয় রইলো পেয়ালা হাতে, পেয়ালা বাজলো চুড়ির সাথে 
বুলবুলিকে দাও ছেড়ে দাও, রাখছো কেন খাঁচায় রুখে? হলোই না হয় কলঙ্ক মোর- হলোই নাহয় মধ অপবাদ! | 


১৪৬৬ ১৯৪৬৮ 
কি দাম বলো সেই গোলাপের হাওয়ায় ঝরে পাপড়ি দল; যে ফুল ফোটে রাতের আঁধারে, দেখছো তার রুপ বাহার? 
ৃ আকাশে তারা জানে কি কখনো কেমনে ছড়ায় দ্যুতি তার? 


গন্ধে রূপে পাগল থাকি - দেখিনা তার মন অতল! নি সিন 
মানুষ তুমি তুমিই সেরা - এ কথার আর নেইতো জেরা- ৪ জানো আমার হৃদয়ে, য়- 
ও দুঃখ হে তোমার আশায় নদী বয়ে, কত নিশিদিন হল যে পার!! 


সুখ ও দু:খ তোমার একার- ফুলের চোখে নেইতো জল! 


শ. শ. 


০০ উনাকে, 


৮ ৯১ (৫৮৮৮ 


১৪৬৯ ১৪৭১ 
সুলতান তোর সরাইখানা হোকনা যত শরাবময়, নশ্বর এই জীবন নিয়ে, কি আর ভালোবাসবো প্রিয়ে! 
জীবন শুধু মৃত্যুমুখী কালের যাত্রা বৈ তো নয়! ছাড়াছাড়ি হবোই দুজন - হাজার স্বপ্ন বুকে নিয়ে! 
ভাগ্যে বাঁধা এই দুনিয়ায়-তোর হাতে নেই সকল উপায় অর্থ খুঁজে পাইনা আমি- হেথায় কেন দিবস যামী- 
তাই বলে কি সবই ছেড়ে থাকবি হেথায় বিষাদময়? শুধুই ভালোবেসে গেলাম- মৃত্যু চিন্তা বুকে নিয়ে! 
১৪৭০ ১৪৭২ 
শোন সুলতান, আমাকে ডাকে-ঘাসের ভিতর ফুলগুলি, জয় পরাজয় নিয়ে এতো ভাবিস কেন রুবাইকার? 
আমাকে ডাকে জ্যোতন্লার রাত, গোলাপবাগের বুলবুলি! তাঁরই উপর দে না ছেড়ে, যিনি সবের রূপকার !! 
তুইতো শুধুই পুতুল ভবে-কি করেছিস কোথায় কবে? 


ভেসে যেতে চাই শরাবী নদীতে তোমার সাথে পাল তুলি! 


ভাগ্য নামের সুতোয় বাঁধা- খেলায় তোরে খেলোয়ার!! 


শ. 


ডি 
€₹)-৩ 


4১ রুবাইয়াৎ_ই- সুলতান 


টা 
১৪৭৩ ১৪৭৫ 
পেয়ালা হাতে সরাইখানায়-তোমার কথা যাইনা ভুলে, অবাক মানুষ জীবের মাঝে, স্বপ্ন দেখে মৃত্যু মাঝে! 
নিরাকার তুমি সবই জানো- নেশায় যখন পড়ি ঢুলে! 
হৃদয় নামের যন্ত্রখানি- চলছে সেধে তোমার বাণী- 


উঠবো ঠিকই কাল সকালে এই দৃঢ়তায় ঘুমায় সাঁঝে! 
মায়ামত্ত তুমি বিশ্ব নিয়ে- চন্দ্র সূর্য আকাশ ভুলে! 


হয়তো আমি কালও রবো-এই বাসনা সকল কাজে! 


১৪৭৪ ১৪৭৬ 

শান্ত ভোরে এই নগরে অস্টালিকার কাঁচের পরে, | জ্ঞানী তাপস বুঝলে কিনা এই জীবনের সত্য সার, 
মেঘমুক্ত পুবের আকাশ, রক্তরবির সোনা ঝরে- যে ফুল ভূয়ে লুটিয়ে পড়ে, ফুটবে নাতো আরেকবার! 
ক্ষণগুলি সব অনিশ্চিত, নয় কিছু নয় পরিমিত 

হতেই পারে পড়লো ভেঙে হঠাৎ আসা প্রবল ঝড়ে! 


চাঁদের আকাশ রইবে পড়ে, নিত্য সুরুজ উঠবে ভোরে 
পড়লে তুমি মৃত্যুকুপে- উঠবে না আর রুবাইকার! 


শ. 
২০০০ ৩০০ 


৮১ 


এ 


রা রথ 
১৪৭৭ ১৪৭৯ 
জ্ঞান মার্গে বিচরণের তোমার হয়তো আছে সাধ, গোরের ভয়ে কেউ থেমে নেই, পেয়ালা হাতে ছুটছে সব! 
আমার শুধু ইচ্ছে করে রাতের বেলায় দেখি চাঁদ। দুনিয়া যেন শুঁড়িখানা- শরাব লুটের মহোৎসব! 
ময়ুরপংঘী নেই প্রয়োজন, ছোট্ট পানসী চায় এ মন- দেখছো যার দরবেশী হাল, সুফী কিন্তু পাঁড়মাতাল- 
থাকলে তুমি গানের পাখী- তাতেই ভাসবে সুখের বাঁধ! | হোকনা মাতাল কি এসে যায়-কি লাভ করে কলরব! 


১৪৭৮ | 
তুই যে বোকার হদ্দ বোকা, মাথার ভিতর ঘুরছে গোর, 


০০০০ ১৯ লি 


১৪৮০ 
মৃত্যু ধাবিত মানুষেরা সব, অমীয় বাণীতে করে কলরব, 
চারপাশে দেখ খুঁজছে সুযোগ, মোল্লা সাধু ভন্ড চোর! কি আর ভালোবাসিবো প্রিয়া, পরকালে আছে সব! 
সবার হাতেই পেয়ালা আছে-হারাম হালাল কে আর বাছে- 


সেখানে শারাব তহুরা নহর, রুপসী হুরীর আছে যে বহর, 
সৎ হালালের তুবড়ি ছুটায়, আধার রাতের শরাব খোর! 


মৃত্যুহীন এক অঢেল জীবন, চিরদিন রবে উৎসব! 


(৪৯৮৮১ (১ ৯১( 


জজ 
১৪৮১ ১৪৮৩ 
তুমিতো আকাশে ধাবমান এক মিটমিটে জ্বলা তারা বাতি, দরবেশ এক স্বপ্নে বলে, ঘবমালি ঢের ওঠ শায়ের! 
করতলে লেখা ভাগ্যলিখন, দিন রাত্রিকে নিয়ে সাথী! ঘুমিয়ে ঘুমিয়ে অনুশীলন করলি রে তুই কাল ঘুমের, 
দেখা হয়েছিল কোন প্রাতে, আজও আছি তোমার সাথে- দরোজাগ্তলো খোলা আছে-সরাইখানা মসজিদের 
একদিকে টানে মৃত্যু আমারে-আর দিকে টানে মধুরাতি! | 


যেথায় খুশী যেতে পারিস ডাক শুনে তোর বিবেকের! 
| ১৪৮২ | 


শি... 


১৪৮৪ 
এইযে ধরার সরাইখানায়-কে কার খবর বলতো রাখে? আমিও অবাক আমায় দেখে, কি আর তোমায় বলি সাকী, 
তোমার কাছে মিনতি সাকী-আসর যেন জেগে থাকে! তাল মেলাতে দুনিয়াদারি, আমিও হাজার বুলির পাখী! 
জেগে থাকুক গজল গাওয়া, জোসনারাত আর দখিন হাওয়া 
দুঃখ সুখের শরাবে যেন জীবন পেয়ালা ভরা থাকে! 


শ. 


+ 
ডঃ ৬ 


এমনি করে হাজার মুখোশ- আমায় গিলে খেলো নাকি? 


রুবাইয়াৎ-ই- সুলতান 


৫৯৮১ 


রত 
১৪৮৫ 
স্বপ্ন দেখো প্রতিটি পলে, জীবনই সত্য হে প্রিয় মানুষ! 
জীবন মদিরার শেষ বায়ুটুক উড়ুক নাহয় কল্পফানুস, 
পিছে পিছে তোর ঘুরুক মরণ- তবুও স্বপ্নে চলুক চরণ- 
যাসনে থেমে পথের মাঝে,হোসনে মাতাল আর বেহুশ! 


১৪৮৬ 
| রুপ সুরভি গোলাপখানি গ্তজলে খোঁপায় সুন্দরি, 
শুকিয়ে গেলে পাপড়িগুলো, মাটির ধুলায় রয় পড়ি! 
কাল নদীতে রঙিন নাও-জীবন মানে খুজতে চাও, 
ঝড়বে ফুলেরা এটাই বিধান-আবার ফুটিবে মঞ্জরি! 


া 


রুবাইয়াৎ-ই- সুলতান 


১৪৮৭ 
প্রশ্ন অনেক আকাশ পানে-নীরব নিথর সব তারা, 
নির্ঘুম মোর রাব্বি কাটে, নীরব আকাশ নেই সাড়া! 
নির্দয় এক কুন্তকারে- রুপ দিলো মোর এই সাকারে 


দু:খ জরা মৃত্যু দিলেন- পাঠিয়ে দিলেন এই ভাগাড়ে! 


ূ 


[০০ ইউ 


১৪৮৮ 
তুমি আছো শরাবে বিভোর, পেয়ালা এখনো রয়েছে ভরা 
আকাশে এখনো হাসছে চাঁদনী, জোসনায় নাচে অপ্সরা 
তুমি জেগে আছো প্রিয় বন্ধু- কবিতায় ভরা হৃদয় সিন্ধু 
নিত্য ফোটাও শব্দের ফুল, বাঙালীর প্রিয় মনহরা! 


চোখ মুছে ফেলে উঠে দাঁড়া, দেখবি জগৎ দিচ্ছে সাড়া 
থামিস নে এই দুর্গমে ভাই- জয়ের মুকুট তোরই রবে! | 
| ১৪৯০ | 


০ 
১৪৮৯ 
দুঃখ কষ্ট যা বলিস ভাই, সব সাময়িক এই ভবে! 
বোকার হদ্দ ওরে কবি, দিন বদল তোর হবেই হবে! 


আমি নাহয় মজেই গেলাম- গোলাপ খোঁপার সুন্দরী 

যা ঢেলে দাও পেয়ালাতে মোর- চক্ষু বুঁজেই পান করি! 

তোমার প্রেমে মৃত্যু যদি, আসলো নাহয় হে মোর নদী- 
জ্যোৎস্না হয়ে প্রেম ছড়াবো তোমার বুকে নিরবধি! 


, 


৫৪৯৮১ ৪১৮১ 


রুবাইয়াৎই- সুলতান 


১৪৯১ 
জানলা দিয়ে লুটিয়ে পড়া জ্যোৎস্না মাখা সেইযে রাত, 
পড়তো খসে শেফালীরা, মন সুবাসে বাজিমাৎ। 

সেই যে কবের বুনো সাঁঝে- বাজতে তুমি বুকের মাঝে 
আমি ভাবুক কবির মত- কাটিয়ে দিতাম তোমার সাথ! 


০০ নিই 


১৪৯২ 
একাই ছিলাম কথা বলার, আর ছিলোনা কেউ পাশে, 
তারাগ্তলোও থাকতো নীরব কেউ জানেনা কার আশে! 
আজকে আমার অলিন্দতে টবের ভিতর বেলী ফোটে- 
জ্যোৎস্না পড়ে তার উপরে- কে যে কাকে ভালোবাসে! 


৯৮৮১ 


রাগ 
১৪৯৩ 
মৃত্যু যখন নিত্য সাথে- থাকনা তবে পেয়ালা হাতে- 
যে কটা দিন জীবন আছে রইলে না হয় শরাবে চুর! | 


১৪৯৪ 

| বিষের কি দোষ বল সাকী, আমি তো নিজেই করেছি পান! 
আমার শুধুই জ্যোতন্না আছে-আর আছে শুধু বিরহী গান! 
আজকে আমার জীবন সাঁঝে-তোমার বীণার যে সুর বাজে- 
সে সুর চেয়েছি নিজে আমি যে সুরে আমার কেঁদেছে প্রাণ! 


া 


রুবাইয়াৎ-ই- সুলতান 


১৪৯৫ 
উচ্চশিখর দাঁড়িয়ে আছে দালানকোঠার এই শহর 
কোথায় পাবো পুবের আকাশ মিটি মিটি তারার বহর! 
হারিয়ে গেল কোথায় আমার-সবুজ পারের জল নহর! 


১৪৯৬ 
মানুষ তুমি সৃষ্টি সেরা জীবের মাঝে কি অদ্ভুত! 
স্বপ্ন দেখো, স্বপ্ন গড়ো, যদিও পিছে মৃত্যু দূত! 


মরবে জেনেও বাসলে ভালো, এই আঁধারে জ্বাল্পে আলো 


তাজমহলও গড়লে হেথায়, কালের ভালোবাসার দূত! 


া 


রুবাইয়াৎই- সুলতান 


জকি 


রত: ) 
১৪৯৭ ৃ ১৪৯৯ 
রহস্য কি এই জীবনের ঘাঁটছে ঘাঁটুক জ্ঞানীরা, যেমনি ছিল তেমনি রবে, আকাশ ভরা তারার খই, 
সরাইখানার রাতের নাগর দিনের বেলার মানীরা- তেমনি রবে কবিতার চাঁদ, তুমি আর আমি রবোনা সই! 


এতো ভেবে কি লাভ বলো-বিবেক ধরে সোজা চলো সব জেনে প্রিয়ে বেসেছিভালো-ক্ষুদ্র জীবনে তুমি আলো, | 


কুতার্কিকের এ মজলিশে - নির্বাসিত বাণীরা! তুমি আমার শরাব পেয়ালা, তুমি ছাড়া মোর জীবন কই! 


০ উনি 


১৪৯৮ ১৫০০ 
| কাল রাতে কে বলে গেলো, আমিও রবোনা রবেনা তুমি! কত যে রুবাঈ লেখা বাঁকী, বসন্ত বাগে হাজার ফুল 
এই যে জগৎ মৃত্যু ভাগার, এইতো তোমার জন্মভূমি! তুমি ভেঙেভেঙে কত হয়ে ফোটো দেখে দেখে হই ব্যকুল 
গালি কাকে দেবে বেহুশ কবি, এ জগৎ শুধু ক্ষণের ছবি রাত্রির আলো শুধু দেখে সে, যে আকিল হয় ভালোবেসে 
অসহায় জন- মহামতিগণ বেহুশ থেকেছে পেয়ালা চুমি! ভালোবাসা হলো এমন সাগর যার নেই কোন কুল! 


রা 


রুবাইয়াৎ-ই- সুলতান 


মরণ যখন আসবে আমার, পরখ করে দেখিস সাকী! সুরার পেয়ালা রয়েছে তেমনি, বিরান হয়েছে সেই কবে! 
এইযে জগৎ নানা মতের - লক্ষ মানুষ লক্ষ পথের- জন্ম এবং মৃত্যুর খেলা- মানুষেরাই শুধু করে অবহেলা- 
সবাই ভাবে আমিই সহি -আর যত সব বেজায় ফাঁকি! মৃত্যুঞ্জয় নয় তা জেনেও- বেহেশত গড়ে এই ভবে! 


১৫০২ | ১৫০৪ 
বেহুশ কেন রুবাঈ কবি, দূর মিনারে দেয় আজান, শরাব তো নয় পেয়ালা ভরে মৃত্যু সুধা করছো পান; 
গুছিয়ে নেবার সময় যে তোর পরকালের মাল সামান! বদলে যাচ্ছে পলে পলে বসন্ত রাঙা জীবন গান। 
লাগাম টানা দুনিয়াদারি, দু:খ সুখে দেই যে পাড়ি- যে বাতি জ্বলে রাত ধরে-দিনের আলোতে কি মনে পড়ে? 


লাভ কিছু নেই, এই নিয়তি- কার কাছে তোর অভিমান? কেউ তো মনে রাখে না, রাতের বেলার বাতির শান! 


শ. 


রুবাইয়াৎ-ই- সুলতান 


জত 
১৫০৫ 
আকাশ পানে তাকিয়ে দেখ, মুগ্ধ নেত্রে রুবাঈকার; 
এইযে মধুর রাত রুূপোসী,মুদলে চক্ষু সব আঁধার! 
ফুরায় সবি নিংশ্বাসে হায়- তসবিহ গুনে কি করবি আর! 


১৫০৬ 
দরবেশী হাল তসবী হাতে, সরাইখানায় মন পড়ে, 
গোলাপ খোঁপা-কাজলা আঁখির সাকীর আসর মন ঘরে! 


শ. 
১৯৫০৮ 


চি 


7 


6১০৩৮ 
ত 


| 


ৰ 


রুবাইয়াৎই- সুলতান 


১৫০৭ 
পথের মাঝে পথ হারানো পাঁড় মাতালের ঘোর নেশা! 
দেহের ভিতর আরশি নগর, কোনটা আসল কোনটা ঘোর 
ধুব তারার নেই যে দেখা- চলছে মনে অমানিশা! 


১৫০৮ 
জন্ম এবং মৃত্যুর মাঝে বেঁচে থাকো তুমি ঈশ্বর, 
হাতের তালুতে ক্ষুদ্র জীবন তবু তো বেঁধেছি সুখবাসর! 
তবু ভাসি নীল জ্যোতস্নায়, সাকীর শরাবে সরাইখানায় 
তবু গেয়ে যাই বসন্তবিলাস, যদিও হৃদয় ভরা ভাদর! 


্ 


৯৮৮১ 


গজ 
১৫০৯ 
যাচ্ছে যতই দিনগুলি মোর, চোখের দৃষ্টি হোচ্ছে ক্ষীণ, 
জগৎ যেন দিনে দিনে - হোচ্ছে আরও বেশী রঙিন! 
এমন যদি হতো সাথী, সারা জীবন জ্যোৎস্না রাতি- 
তোমার চোখে চেয়ে চেয়ে মুগ্ধ মনে বাজাই বীণ! | 


১৫১০ 
| নশ্বর এই দেহের রথে পথিক তুমি কোথায় যাও; 
পেয়ালা ভরা শরাব হাতে কিসের খোঁজে উজান বাও? 
রাখলে যদি দেয়াল ঘিরে, বললে নাতো তোমার খেয়াল, 
বললে নাতো কোনদিনই আমার কাছে কিইবা চাও? 


(১৮১ 


১৫১১ 
এইযে আমার জন্মভূমি-স্মরণ করি হাজার খণ, 
কতই স্বপ্ন দেখি মাগো তোমায় নিয়ে রাত্রিদিন! 
আমার মনের অন্ত:পুরে, পাখীরা গায় মধুর সুরে 
বেহেশত যেন এমনি হয়- কামনা করি রাত্রিদিন! 


[০০ ইউ 


১৫১২ 
তিরিশ লক্ষ শহীদানের মূল্যে পাওয়া বাংলাদেশ 
বীর বাঙালীর যুদ্ধে জেতা রক্তে ভেজা বাংলাদেশ! 
ভাবতে পারো একাত্তরে, শোকের মাতম ঘরে ঘরে- 
আজকে এসো স্মরণ করি গণহত্যার সেসব দিন!! 


া 


৫৯৮১৯ ১০৮১ 


জা 
১৫১৩ ১৫১৫ 
অঢেল করে পেলিরে তুই, মনের থেকে চাসনি যা, ছেঁড়া মেঘের পূর্ণিমারাত, আজকে নাহয় তোমার হোক 
তোর চাওয়াকে তোর নিয়তি কোনকালেই রাখলোনা! জ্যোৎস্না রাতে ঝিরি বাদল, ভিজিয়ে দিলো তোমার চোখ! 
মিছেই মায়ার এই জগতে- ফিরলি খুঁজে নিয়তিকে- হয়তো ছিলাম এমন রাতে, হাজার বছর তোমার সাথে- | 


কিসের সওদা করলি রে তুই, রইলো পড়ে সব বাসনা! এই ধরাতে গোলাপ হাতে রাত জেগেছি - বুকে শোক! 


০০ উনি, 


১৫১৪ ১৫১৬ 
| আমি জানি ক্ষণিকের মেঘে হয়না আড়াল জ্যোৎস্না রাত; | নহর ঘেরা সেইযে বাগান, জ্যোত্শ্লা রাতে ঝিলমিলায়, 
জানি জানি প্রিয়ে রাত্রি পারেনা আঁধার রাখতে সুপ্রভাত! তুমি আমি সেই বাগানে, গোলাপগন্ধী দক্ষিণ বায়! 
তোমারো বদল প্রতি ক্ষণে, বদলে যাচ্ছে তোমারো ছবি মৃত্যু হাতে দুজন মোরা, পান করে যাই প্রেমের সুরা- 
স্বর্গ চেয়ে জীবন বড়- ভালোবাসার জীবন নায়! 


কাটেনা সময় রাত্রি তোমার, বিরাগী যেন ভাগ্য সাথ! 


শ. শ. 


জল 
১৫১৭ 
কে জানে যে কেমন করে কখন হবো নিরুদ্দেশ, 
তারা বিহীন রাত্রি যেথা, কেউ জানেনা কেমন দেশ! 
সে যাত্রা তো একা একা- রইবে নাতো কোন সখা- 
চিরতরে তোমার সাথেও ভালোবাসার হবে শেষ! 


| ১৫১৮ 


তুমিও প্রভূ দিলেনা মূল্য ভালোবাসার- এই ভবে; 
জীবন নামের ফুলেল বাগান তছনছ যেন হয় কবে! 
অমোঘ নিয়তি দিয়েছ আমায়-তবু চেয়ে থাকি নভে! 


া 


রা... 


১৫১৯ 
শিউলি ঝরা চাঁদনী রাতে, জ্যোৎস্না মদে মাতাল থাকি, 
মন গহনে কোন বনে যে, গেয়ে বেড়াও সুরের পাখী! 
ওষ্ঠে তোমার শরাব ঢালা, চাইনা বেহেশত চাইনা বালা 
হেথায় আমার ঠাঁই করে দাও- পরকালেও জীবন যাপি 


১৫২০ 
হাজার কবিতা লিখছে কবিরা তোমাকে নিয়ে বেদিল চাঁদ, 
শুধু দিয়েছো বিরহের রাত, মেটে নাই তাতে কারোসাধ? 
কতদিন আমি পথে যে তোমার, বুক পেতে গোলাপী ঝাত 
আকাশ আঁচলে তুমি যাও চলে- ভালোবাসা শুধু অপরাধ! 


শ. 
১৯৫৮ 


চি 


টি 


7 


(৯০০ 


গা... 


রুবাইয়াৎ-ই- সুলতান 


(৪১০৮ 
ূ 


শুন্য আমার পেয়ালাখানি, কোন নেশাতে তোমায় ডাকি? 


শুক তারাটা ও জ্বলে ভ্বলে আযান সুরে পড়ছে গলে- 
আমার আঁখিও পড়ছে ঢুলে-আবার আমায় জাগাও সাকী! | 


১৫২২ 
আঁধার রাতে সরাইখানায় জ্ঞান পাপীদের জমছে ভীড়, 
মিথ্যা কথার জিহবা সচল, অহংকারে উচ্চশির! 
সব কিছু কি গেলে ভুলে- তকমা তোমার পড়বে খুলে- 
বয়স গেলে একাই তুমি- মিলিয়ে যাবে কোথায় বীর! 


শ. 


৫১৯০৮ 


রুবাইয়াৎই- সুলতান 


রত 
১৫২৩ 
মেঘলা আকাশ চাঁদনী রাতে, শরাব ভরা পেয়ালা হাতে, 
দাঁড়িয়ে ছিলাম অলিন্দতে-যেথায় সুবাসে *বেলীরা” মাতে! 
আমার হৃদয়ে বাজে বীণা - জানিনা স্বর্গ এমন কিনা- 


হোকনা আমার স্বর্গ এমন, কাটুক জীবন তোমার সাথে! | 


১৫২৪ 
| অদ্ভূত মালী ফুল যে ফোটাও, মাথার ভিতর গোরস্থান, 
প্রশ্ন জাগে কে তুমি কবি, মৃত্যুতে বাজাও সুরেলা গান! 
প্রেমের শরাবে পূর্ণ পেয়ালা- গলায় শোভিত মৃত্যুর মালা 
ঝড়ের রাতের দীপালী তুমি হাতের মুঠোয় বেহেস্ত বাগান! 


শ. 


(৮১৮১১ 


৫৮০ ৯১ 


৫ 
)৩ 


১৫২৭ 

আলোর জগৎ পেয়েছে যারা, মেধামননে বিকশিত তারা, সাঁঝ কাটেনা মনের ভিতর, এটাই বন্ধু দু:খ মোর 
নিজীব নয় আকাশভরা যত আছে গ্রহ তারা! রাত পোহানোর আগেই দেখি মৃত্যু এসে খুলছে দোর! 

তুমি শুধু নও এই গ্রহচারী - মহাবিশ্বে সব নভোচারী বাগান ভরা গোলাপ আমার- পড়বে ঝরে সকলি তার 

দেহের রকেটে জ্ঞানের বিশ্বে ঘুরে ঘুরে হই সারা! মালা গাঁথা হলোনা আর ফুরিয়ে গেলো স্বপ্ন ভোর! 

র্‌ ১৫২৮ 

হয়তো আমার শিয়র পাশেই নিশিরাতে ফুল ফোটে, কাল রাতে এক স্বপ্নে দেখি সুন্দরীদের দলে ভীড়ে 

হয়নি দেখা চোখ মেলে তা-আপনি ধুলোয় লোটে! রব 

চোখ মুদে তুই পথে পথে - কিসের নেশায় এই জগতে 

ঙ 


ত তি 
অপূর্ব এক বাগানবাড়ী - দ্রাক্ষা রসের নহর ঘিরে! 
টি ত 
মাতাল হয়ে রইলি ডুবে- বেতাল রুবাঈ পঙতিতে! 


তুমি সেথায় নেইকো প্রিয়া- নেই সেখানে প্রেমের দিয়া 


নিরেট শুধুই মাতাল হওয়া- দু:খ বিহীন নদীর তীরে! 


৯/৮০৫ 


চি 


৮১ 


এ 


০দ ৯ 


(45 


(৯০৮১ 


১৫২৯ 
যেমন করে চলবে তুমি, তেমনি তোমার এই জগৎ! 
পথের দিশা কোথায় পাবে, হেথায় আছে হাজার পথ! 


জ্ঞানবেত্তা জগৎ জুড়ে কয়নি কথা একই সুরে- 
পাশ কাটিয়ে মানব ধর্ম- তারাই গাইলো হাজার মত! | 


১৫৩০ 
ওঠোরে মন বিবেক রথে, ভেসে চলো জীবন স্রোতে, 
বিবেক যদি জেগে থাকে, শরাব পিয়ো দোষ কি তাতে! 

জ্ঞানবেত্তা থাকুক দূরে, বাজোরে মন আপন সুরে- 
জীবন নামের সরাইখানায় থাকনা সাকী তোমার সাথে! 


শ, 


(১১৮৯ 


১৫৩১ 
জ্ঞানবেত্তা উচিয়ে কেতাব গাইছে দেখো নিজের গান, 
বিশ্বজুড়ে ধুলোয় লুটায় মানবতার সকল মান! 
যুদ্ধবাজেরা যুদ্ধ করে- সরল মানুষ সেথায় মরে- 
মানবতার ধ্বজা ধরে-শাসন করে সব পাষাণ! 


০০ লিউ 


১৫৩২ 
জ্যোৎস্না ঢালা রাত্রিকালে হোস কেন তুই মনভোলা, 
ভুলেই গেলি তোর পেয়ালায় লেগেই গেছে আরশোলা! 
বুড়ো গাছে পানি ঢালি - ফুটবে কি ফুল বনমালী? 
ফেরেববাজির দরবেশী তোর- জেগে আছে সব নোলা! 


া 


রুবাইয়াৎ-ই- সুলতান 


জল 
১৫৩৩ 
জ্ঞানবেত্তা বলছে বাকী, দেখছি আমি নগদ সব, 
মরার পরে হালখাতা কি করবে আমার দয়াল রব? 
সুলতান তুই মাতাল হয়ে- আর কি কথা যাবি কয়ে 
জীবন মানেই আলোর ভূবন- মৃত্য আনে রাত্রি সব! 


১৫৩৪ 

| দু:খ সুখের মশলাদারী-নগদ জীবন দিলেন সাঁই 
দিলেন নগদ দিবারাব্রি-তোমার মতন নগদ রাই! 
রঙিলা এই ঢংয়ের ভবে, আর কি তোমার জন্ম হবে 
পরজন্মে মিলবে কি আর চাঁদ ও নদীর এই সরাই? 


া 


৪০০ িউিউনী ও 


১৫৩৫ 
তুমি ছাড়া জীবন যেন মরুর মাঝে একলা চাঁদ! 
জ্যোৎস্না ভাসা বিরানভূমি নেই সেখানে স্বপ্ন সাধ! 
তুমি যদি থাকো পাশে স্বপ্নপ্তলো এগিয়ে আসে- 
জেগে ওঠে সরাইখানায় ভালোবাসার উন্মাদ! 


১৫৩৬ 
একটি খোলা পাই যদিরে, বন্ধ দেখি হাজার দোর! 
অল্প নিয়ে তুষ্ট থেকে-কাটুক জীবন সুখে বিভোর! 


শ. 
১৯৫০৮ 


চি 


রুবাইয়াৎ-ই- সুলতান 


৬ 


[০০ ইউ 


৫ ১০৮ রুবাইয়াৎ-ই- সুলতান (১৯৫৮ রুবাইয়াৎই- সুলতান 
রি রি 
১৫৩৭ ১৫৩৯ 
তোমরা ভাবো রুবাঈ কবি, নেশার ঘোরে লেখে সব, খুশীই হতাম সবচে খোদা, না ফিরে গেলে বেহেশতে, 
চুমুক দিয়েই দ্রাক্ষারসে রাত নিশিতে জপছে রব? শরাব নহর হুরিপরীরা - গেলোই না হয় ভেস্তে! 
সরাই খানায় বসে বসে- শান্তি খোঁজে অংক কষে- দীর্ঘ কুটার দিলের সাথে- আকাশ ভরা জ্যোতল্লা রাতে 
এড়িয়ে জীবন জটালতা মাতাল হয়ে রয় নীরব? 


| মোর পরিবার রইলো সেথায়- গরীবখানায় দুধভাতে! | 
বজ্রপাত আর ঝড়ো রাতে, কাটাও সময় ভয়ের সাথে, জীবন হেথায় চাঁদনী রাতের অবাক করা বাঁশীর সুর, 
ভাবনা আসে কেয়ামতের-সময় বুঝি নেই আর হাতে! মধুর সুরে বেজে উঠে - হারিয়ে যাবে অনেক দূর! 
তাও কেটে যায় জীবন থেকে- হয়তো কিছু দু:খ রেখে রুবাঈ কবির মনের কালো-যায়না কভু ভ্বেলে আলো 
এমনি করেই জয় পরাজয় বয়েই চলে জীবন সাথে! রয়েই গেলো অমানিশা মূর্খ বোকার অন্তঃপূর! 


, শ. 


4১১ 


ছি 


১৫৪১ 
সন্ধ্যামালতি কাঁদিছে বিরহে, আকাশে তখনো ওঠেনি চাঁদ! 
আজ সাঁঝেই ফুরালো পেয়ালা, মেটেনি মনের কোন সাধ! 
নশ্বর এই জীবনখানি- কখন যে দেয় যবনিকা টানি- 
ঢালো পেয়ালায় শরাব সাকী-মৌজে কাটুক আজকে রাত। 


১৫৪২ 
পুরোন সরাই পুরোন শরাব-দেহের পেয়ালা নতুন মোর, 
খোল আঁখি ওলো সাকী, মদিরায় থাকি চুর-বিভোর 
এক চুমুকের নেই ভরসা, বুঝলে কিনা ওগো সরসা- 
তাইতো বলি খেয়ে যাও ভাই-কাটেনা যেন নেশার ঘোর! 


শ, 


চেন্জ &১৩০তাক্খ। 


-) 
১৫৪৩ 
হাজার মদের চোলাইখানা এইযে আমার দেহখানি! 
এই দেহ মোর জ্ঞানের কিতাব, এই দেহ শরাবদানী: 
এইযে দেহ সরাইখানা- হাজার রাতের স্বপ্নবোনা- 
এই দেহ মোর সাকীর আসর-গেয়ে সত্যবাণী! 


১৫৪৪ 

সব ভূলে গেছি পেয়ালা ওগো ভুলি নাই তার সজল আঁখি! 
মরি যেন সাকী জ্যোতস্নারাতে কাজল নয়নে নয়ন রাখি! 
আমার প্রাণের গোলাপ চুমি, গেয়েছিলে কোন গজল তুমি 
সে গজল যেন বকুল আকাশ সুবাসে রয়েছে আজও মাখি! 


শ. 


২ 


পা 
১৫৪৫ 
পুতুল নিয়ে খেলছো যদি, কেনই তাতে প্রাণ দিলে? 
বিড়াল যেমন শিকার ধরে মারার আগে যায় খেলে! 
কি আনন্দ এই খেলাতে- প্রশ্ন জাগে এই বেলাতে- 
আমি শুধু ভেবেই মরি- প্রশ্ন বিধান নাই মেলে! 


১৫৪৬ 
বকুল ছড়ানো আকাশরাতে তুমি ছুঁয়েছ প্রাণ আমার 
জ্যোৎস্না মাখা মেঘেরা তখন ভেসে যায় সারে সার! 
প্রতিঅলিন্দে মধ্যরাতে-কথা বলে যাই তোমার সাথে 
সুধার নহর বয়ে যায় প্রাণে-রাতের ফুলেরা ফুটে অপার! 


শ, 


6৯০০ 


১৫৪৭ 
হয়তো সেথা বেশ ছিলাম-বোধহীন সেই শৃণ্যদেশ! 
নেই তারা আকাশভরা, নেই সেখানে আলোর রেশ! 
হেথা আলো-জীবন নিয়ে- তোমার ভালোবেসে প্রিয়ে 
মৃত্যুকে পান করেই চলি সরাইখানায় অনিমেষ! 


১৫৪৮ 

অবাক হওয়ার নেইতো কিছু এই ধরাতে রুবাইকার, 
জীবনের চেয়ে মৃত্য কাছে- কেউ জানেনা কেমন কার! 
কিসের এতো অংক কষিস- দুই দন্ডের জীবন যার! 


া 


৫ ১০৮ রুবাইয়াৎ-ই- সুলতান ও 4১০৮ রুবাইয়াৎই- সুলতান 
0৮৮৮১ 

১৫৪৯ ১৫৫১ 

যেখানে মৃত্যু নিশ্চিত জানি,কিবা প্রয়োজন অভয়বাণী? তুমি নেই বলে বিমর্ষ সব বকুল তারার জ্যোহস্নারাত; 

ভেবে দেখ মন মানব জীবন শুধু বয়ে যায় অশেষ গ্লানি জানলা দিয়ে যাই হারিয়ে-গন্ধে পোড়া ধূপের সাথ! 

সেইযে বাদশাহ শাহজাহান, কে আর গায় তাদের গান- সরাইখানার বাতিগুলি- ঘুমে ঘুমে পড়ছে ঢুলি- 


তুমিও তেমনি মুছে যাবে কবি- হও যত অভিমানী! | উপুড় থাকা পেয়ালা যেন- অভিমানী সাকীর সাথ! | 
১৫৫০ | ১৫৫২ 

তোমার হাতেই শরাবদানি আমার হাতে পেয়ালাখান, আকাশে যত তারা আছে প্রিয়ে, সবাই জানেতোমার কথা! 

যা দিবে এই মদির রাতে, শুকরিয়া,তাই করবো পান! আমার হৃদয়ে দীঘল চিঠিতে লেখা আছে সব সেই কথা! 

মরবো জানি সেই সরাইয়ে-স্বপ্ন শুধুই তোমায় নিয়ে- তুমিতো অপার সাগরের মত, বুকে ধরে রাখো ঝঞ্জা কত 

তোমার মনের আকাশজুড়ে রইবো ফুটে ফুলবাগান! আমি যে হেথায় না বলা কথার আকাশের নীরবতা! 


0 0 


রুবাইয়াৎ-ই- সুলতান 


তোমার স্মৃতি বুকে করে-মৃত্যুপারের আরেক ফাগে! 


রঃ 
১৫৫৩ 
মৃত্তিকালীন হওয়ার আগে জীবন নামের ফুলবাগে, 
প্রেম পিয়াসী না হয় হলাম, সাকী তোমার অনুরাগে! 
পেয়ালাখানি শুন্য করে- প্রাণ বিহঙ্গ যাবে উড়ে 


১৫৫৪ 

| স্বপ্ন দেখি তসবি হাতে জপছে তোমায় এক বুড়া, 
আরেক হাতে পেয়ালা তাতে চুমুক দেয়া লাল সুরা! 
সুরা এবং তসবিখানি- অন্তরে বয় তোমার বাণী - 


রুবাইয়াৎই- সুলতান 


১৫৫৫ 
বইছে সেথায় শরাবনহর, জ্বলছে সেথায় হিরার দীপ, 
না যদিপাই সেথায় তোমায় সেইতো আমার বদনসীব! 
হুরপরী তো চাইনি আমি- তুমিই ছিলে দিবস-যামী 
তাকেই আমায় দিও প্রভূ- যে ছিল মোর দিলের নীপ! 


১৫৫৬ 
দেহই যখন চোলাইখানা, কেমন করে করবি মানা, 

কেমন করে বলবো আমি তওবা কসম মদ খাবোনা! 
্রন্থগুলো যখন পড়ি- নিজে নিজেই লাজে মরি- 


কিসের দোজখ কিসের বেহেশত যেথায় তুমি মন জুড়া! 


0 


দেহ নিয়ে কিযে করি- সব ঝামেলার কারখানা! 


জল 
১৫৫৭ 
ঈমান আমান সবই গেল, দিনে দিনে সন্ধ্যা হলো, 
মন সাকী তোর লাজ করেনা, যখন তখন শরাব ঢালো! 
নাইবা আমার হলো বোঝা কোনটা খারাপ কোনটা ভালো! 


১৫৫৮ 
| কালের গর্ভে পঞ্জিকারাও মুছে গেছে বারংবার, 
ব্যাবিলন কবেই গেছে কেউ রাখেনি খবর তার; 
তুমি আমি এই জগতে পথের পথিক একই পথে 
কোন একদিন হারিয়ে যাবো-আর রবেনাখবর তার! 


া 


১০৮ রুবাইয়াৎই- সুলতান 
১৫৫৯ 
আমরা সবাই মাটির পুতুল একাই তুমি খেলোয়াড়, 
চুলি পরা কলুর বলদ- ঘানি টানা এ সংসার! 
থাকলে জীবন সরাইখানা- মরলে এটাই কবরখানা 
মৃত্যু হাতে প্রেমের গজল-গাইছে মানুষ কলাকার! 


১৫৬০ 
চলতে চলতে তোমার সাথে আমার যদি পথ ফুরায়.. 
বকুল ফুলের সুবাস রাতি আমার চোখে নিভে যায়! 
যদিও সাগর ভাংবে বুকে- বিদায় দিও হাসি মুখে- 
মনে রেখো তোমার আশে দাঁড়িয়ে রবো সে সীমানায়! 


শ. 


৪১৮১ 


জগ 
১৫৬১ 
শুধুই রুবাঈ লিখে গেলি পেলি নাতো আপন খবর, 
কোন মেওয়া পেলিনারে, শুধুই করে গেলি সবর! 
মধু এবং বিষে ভরা এইযে জগৎ মনহরা- 


একই জনের খেলা চলে, তোর এখানে নেই খবর! 


১৫৬২ 
মিষ্টি মুখে অপার সুখে কাটেই নাহয় খুশীর ঈদ, 
বুঝিস কবি আড়ালে তার মৃত্যু তোরে দেয় তাগিদ! 
পান করে নে পেয়ালা ভরা- থাকনা দূরে জীবন জড়া 


তবু দেখো সময় চোরা কেটেই চলে দেহে সিঁদ! 


7 


০ উনি 


6১৮৮ 


১৫৬৩ 
মহাকালের জহর ভরা পেয়ালা হাতে রুবাঈকার 
মিছেই খোঁজো দিবারাতে মূল্য এবং জীবন সার! 
তাজমহলও হারিয়ে যাবে- রইবে শুধু গল্প তার! 


১৫৬৪ 
হে মোর হৃদয় আমি দাঁড়িয়ে রক্ত গোলাপ দুহাতে ধরে, 
বিবসনা যেন বকুল গন্ধ- প্রেমের সাকী এলোনা ঘরে! 
তবে কি আমি মায়া জ্যোতল্নায়, উঠতে চেয়েছি মৃত্যুর নায় 
ঘন কুয়াশায় অচেনা কোথায় তারা হীন এক রাতের ঘরে! 


া 


রুবাইয়াৎ-ই- সুলতান 


(৮০০ ৮৯০৮ 
| 


গজ 
১৫৬৫ ১৫৬৭ 
তোমার খোঁজে পথের মাঝে, হলাম আমিই বেখবর! 
কে দেখাবে ঠিকানা মোর কাটছে নাতো ভুলের ঘোর! 
আকাশ পানে তাকিয়ে থাকি- যে কণ্টা দিন আছে বাকী 
থেকেই গেলাম হারিয়ে নাহয় তোমার প্রেমে মনোচোর!! 


শীত শ্রীন্ম মেঘবাদলের তুমি সেই কৰি বুলবুলি! 
কত সুবাসে গান গেয়ে যাও-জ্যোতন্লাজলে পাল তুলে দাও 


এইতো জীবনে যাদুকরী রাত, মোহন খতুর দিনগুলি 
যখন ভাসাবে মৃত্যর নাও, মনে কি রবে এই গানগুলি! | 


শূন্য হাতেই যাওয়া আসা , দেউলেয়ানা জীবন ভরে! 


| ১৫৬৮ 
কোথায় বল মাতাল হবো ফুল ফোটাবো কোন ঘরে! 


১৫৬৬ 


দুঃখ এবং শোকের কারণ- বন্ধ্যা করোনা মনোবাগান 

ফুটুক নাহয় নীলাভ ফুলেরা -বাতাসে বাজুক করুণ গান 

মনেরেখো ও পাগল হৃদয়-জীবনে কখনো নেই পরাজয় 
কি দাম হেথায় দু:খ সুখের “গান হলে অবসান"? 


শ. শ. 


ও ১০৮ রুবাইয়াৎ-ই- সুলতান ১০৮ রুবাইয়াৎ-ই- সুলতান 
১৫৬৯ ১৫৭১ 
কি হলো যে সুলতান তোর- সরাইখানায় গড়হাজির; বকুল তারার আকাশ সৃজন করলে কেন দয়াময়? 
মেঘলা মনে নীরব সাকী কাঁপছে বাতি থিরি থির! হেথায় আমি বেওয়ারিশ - জগৎ আমার রুপময়! 
পানি বিনা কি বৃক্ষ বাঁচে - সরাব বিনা কি আর আছে? খেলছো তুমি নগদ নগদ, আমার মনে জাগে সে বোধ 
খোদা নামের শরাব গিলে বাজিয়ে রাবাব বল হাজির! দিনের শেষে ভেবে দেখি- কোন কিছুই আমার নয়! 


১৫৭০ | ১৫৭২ 
| নাচবি তো নাচ বুড়োকালেই,পেয়ালা তুলে নে হাতে; স্বপ্ন যে তোর এই জগতে, হারিয়ে গেলো পথে পথে; 
হোকনা পাগল ঘুঙুরগুলো-প্রেমের গজল তার সাথে! 


বেভুল মাতাল পারলিনা তুই গা ভাসাতে চালু স্লোতে! 
নগদ বুঝে নে রে সাকী- রাখিস নাতো কিছুই বাকী- পেয়ালা ভরে খেয়েই গেলি-পাগল হয়ে লোক হাসালি 
প্তাবি যে সময় কোথায়?- ফেঁসে যাবি কোন রাতে!! মনকে বলি ও বেহায়া- চলিস ফিরিস কার মতে। 


, শ. 


৯৮৮১ 


৬ 
১৫৭৩ 
কে নিভাবে দুখের বাতি জ্বলছে যা তোর অন্তরে, 
কেমন করে পার হবি তুই বিষাদ সাগর - সন্তরে! 
দুনিয়াদারী তাকেই জানো শুভংকরের ফাঁকি যেন 
আসা যাওয়া শুন্য সবি- মিলায় যেন মন্তরে! | 


১৫৭৪ 
শায়ক বেঁধা হরিণ আমি - লুকাই দৃষ্টি শিকারীর! 
সাত আকাশের পর্দাখানি-তোমার কাছে স্বচ্ছ জানি; 
কি আর ভালো বাসবো বল - হৃদয় যেথায় ভাঙা নীড়! 


রা 


6৯০০ 


১৫৭৫ 
ছোরাতো জানেনা জখমের কথা, জানেনা সেকথা তরবারি; 

জিগেস কর তার কাছে কবি-গোলাপ খোঁপার সেই নারী! 

সেইতো জানে কোন খঞ্জরে-জখম করেছে মোর দিল পরে 

তাইতো আমার মনের আকাশে- জমেছে মেঘের সারি! 


১৫৭৬ 
শূন্য হাতেই আসলি ভবে - মরণকালে যাবি ফের! 
শূন্য সার এ জীবন জগৎ খুঁজিস হেথায় লাভ কিসের? 


(৯৮১ 


১৫৭৭ 
বাদাখশানের চুনির মত পেয়ালা ভরা সুরার রঙ, 
বেহায়া সাকীর মদির আঁখি বাতির আলোয় করছে ঢং! 


তুইও তেমন বেহুশ কবি- জাত বিজাতের ভুলে সবি; 
চাঁদনী রাতের সরাইখানা- বেহেশত ভেবে সাজলি সং! | 


১৫৭৮ 
পড়ছে খুলে দিনগুলি তোর, বকুল যেমন পড়ছে ঝরে, 
সুবাস এবং সুন্দরতাও যাচ্ছে মিশে মাটির পরে! 
হয়তো ধুলায় রুবাঈগুলো কালের পাতায় রবে পড়ে! 


শ. 


৫৯৩৮৯ 


১৫৭৯ 
কি দোষ তোমার খঞ্জরে বল-হানলে আঘাত তুমিতো সই! 
তবুও আমি জখম দিলে তোমারই পানে চেয়ে রই! 
নেই অনুযোগ আমার কোন- মান মাধুরী প্রিয়ে শোন 
প্রেমের এ ফুল ফুটছে দিলে- ফুল ফোটালে তুমিতো সই! 


১৫৮০ 
দেখলেনাতো হদয় খুলে, চন্দ্রালোকে মরুর ঝড়, 
আমার 'দিলে' ঘটে এসব, জানলোনা কেউ সে খবর! 
দেখছো আমার বাগান জুঁড়া, কত রঙিন ফুলে ভরা- 
তার সাথে যে আছে কাঁটা- ভাবলে নাতো গুণধর! 


শ, 


রুবাইয়াৎ-ই- সুলতান 


(৫১৯৫৮ রুবাইয়াৎ-ই- সুলতান ও 
্ রত 
১৫৮১ ১৫৮৩ 
একটি গোলাপ জন্ম নিতে হাজার কাঁটার জন্ম হয়; তুমি দিলে সব মিছেমিছি, জেনেই বেসেছি ভালো! 
একফোটা জল মিষ্টি হতে হাজার ফোটা নোনা হয়! এইটুকু শুধু অপরাধ মোর - আঁধারে চেয়েছি আলো! 
হাজার দু'খ সয়ে সয়ে- সুখের কথা গেলে কয়ে- রচিতে চেয়েছি গোলাপের ঝাড়-দিলে সেথা ঝড় দূর্বার 


দু:খ ভোলা ওরে কবি- জীবন সুখের দোলা নয়! | স্বপ্ন ছাড়া হে প্রিয় আমার- নেই আর কোন আলো! | 
১৫৮২ 
মুগ্ধ সাঁঝে আজো মনে, হাত রেখেছিলে এই হাতে, ১৫৮৪ 
আকাশের তারা বলে সে কথা নিরালা স্মৃতি সে মধু রাতে! জ্বলতে দেখেছো মশাল শুধু, মানুষ জ্বলতে দেখেছ কি? 
হৃদয়ে আমার স্বপ্নের নদী, নিশিথের চাঁদ খেলে নিরবধি ভস্ম পোড়া এ দিলের কাছে শুনবে পোড়া এ কবিতাটি? 
ভরা জ্যোতস্নায় পানশীর নায়- ভেসে যাই দূর স্রোতে! এসো তবে কোজাগরীতে সুবাসী গোলাপ কোমল হাতে; 


জ্যোতন্ারাতে শুনিয়ে দেবো দিল পোড়ানো সেই বাঁশী!! 


৩৬ 


রথ 
১৫৮৫ 
নিযৃত তারার আকাশগাঙে মনপবনের নাও ভাসাও, 
কবরখানার এই জগতে সরাইখানার তাল বাজাও! 
নিয়তি যা- নয়তো হারা- থাকনা অটুট জীবন ধারা- 
মরণ নিয়েই বুকের কাছে- জীবন প্রেমের সুর বাজাও! 


১৫৮৬ 
| 'খৈয়াম' তোমার কবর পরে - ঢাললেও সুরা উঠবেনা, 


"যে ফুল ভূঁয়ে পড়েছে লুটে সে ফুল তো আর ফুটবেনা' 


একবারই এই দুনিয়াদারি- জীবন যেথায় হয়েছে জারি 
তবে কেন সরাইখানায় জীবন সুধা লুটবেনা! 


া 


7৯০০ 


১৫৮৭ 

জহর মিশানো জীবনসুরায়,চুমুকে চুমুকে দিনযে ফুরায়, 
সুলতান বলে এইতো নিয়তি-তোর এখানে কিসের দায়? 
কি এসে যায় লতানো ঝাড়ে ফুটলে গোলাপ তোর কবরে 
কি লাভ লিখে কবরের গায় সকলি যেথায় বিলীন হায়! 


2০০০ তি 


১৫৮৮ 
অনন্তঘূম পড়েই আছে নির্ুমে আজ আসুক ভোর, 
হাজার গোলাপ ফুটুক বুকে পূর্ণ রাখো পেয়ালা মোর! 
সেথায় আছে হুরীর বহর- আছে মজুদ শরাব নহর- 
কেন তবে মিছেই আমায়- দুষছো বলে শরাব খোর! 


শ, 


১৩০২ ৯১ (৫৮৮১১ 


জনন 
১৫৮৯ ১৫৯১ 
স্বপ্নে দেখি জান্নাতি এক দরবেশ এলো মোর ঘরে, এমনভাবেই করলে সৃজন, তোমায় ছাড়া নেই গতি! 
বল্প আমায় অবহেলায় পেয়ালা কেন রয় পড়ে! হাজার পথে ঘোরাফেরা- তোমার পথেই শেষ মতি, 


ছি 


সুলতান তোর দু:খ কিসের জীবন জানিস তৈরি বিষের ভেবেছিলাম মাতাল হয়ে- নদীর মত যাবো বয়ে- 
প্রাণ খুলে রাখ সবার তরে- হাসতে হাসতে যাবি গোরে! কে যেন কয় মনের ভিতর- যা হয়ে তুই ব্রতী! 


১৫৯০ 
বেখবর তো কবেই আমি তোমার আঁখির মদির বানে, | বি 
27885 88187 মদির লতায় পাতায় ঘেরা এইযে জীবন নষ্ট নীড়, 
] 
তোমার কথাই বাজে প্রাণে বেভুল আমি খোদার গানে! চারপাশে তার স্মৃতির নদী মন্দ বায়ে বইছে ধীর! 


আমিও একা তুমিও একা, যদিও নিতুই হয় যে দেখা 
লক্ষ যোজন সবাই দূরে যদিও দেখো তারার ভীড়! 


/, 


রুবাইয়াৎ-ই- সুলতান 


৫৯৩৮১ ৫৯৮০০ 


আস্ত 
১৫৯৩ ১৫৯৫ 
সব সৃজনই মুদগ্ীকরা ভেতর ভেতর জহর বিষ, দিনযে গেল সাঁঝে সাঁঝে নয়তো আলোয় নয় আঁধার, 
হোকনা তাতে স্বাদের বাহার-বুঝতে পারি অহর্নিশ! বেসুরেতেই গেয়ে গেলাম- নেইতো সময় সুর সাধার! 
আমিও যেমন জ্যোতক্লা রাতে খেলা করি তোমার সাথে এইযে ধরায় সরাইখানায়-জন্ম এবং মৃত্যু মানায় 


সেথাও প্রিয়ে তোমার ঠোঁটে মিশেল থাকে মিঠা বিষ!! | দেহ নামের এই পেয়ালায় নেইতো আলো শুধু আঁধার! | 
১৫৯৪ 
তুমি যতটুকু পেয়ালাতে ঢালো আমি ততটুকু পান করি, ১৫৯৬ 
ইচ্ছে যেমন তেমন করেই সাজিয়ে দিলে দেহ ঘড়ি! 
জন্ম দেখে খুশীই লাগে- পেলে বিশাল বিশ্ব এক; 


তারার আকাশ বলে “বোঝো”, তোমার জন্য আমার ত্যাগ! 


শ. শ. 


৯৮৮১ 


জর 
১৫৯৭ 
এ বদনসিব আবার মালী গোলাপবাগে - নয়তো ভূল, 
সরাইখানায় জ্যোৎস্না রাতে উঠলো ফুটে হাজার ফুল! 
নয়তো কিছু স্বপ্ন ছাড়া- সুলতান তোর জীবনধারা - 
জীবনখানাও সত্য কিনা- মাঝে মাঝেই হয় যে ভুল? 


| ১৫৯৮ 
কার কথা যে করে মনে, কেঁদে বেড়াস বনে বনে, 
অশ্রুসিক্ত দুই নয়নে, নীরব কথন চাঁদের সনে! 
চেনা চেনা নয়তো চেনা- কেনা কেনা নয়তো কেনা- 
তার কাছে মোর কিসের দেনা- কিসেরই বা বন্ধনে? 


শ, 


৩... 


১৯৮ 


১৫৯৯ 
সৃষ্টির কাছে রষ্টা তুমি করলে গোপন সবকিছু! 
জীবন কমলে জাহেরি কিছু বাতেনিতে সব তারপিছু! 


বুঝিনা আমি জাহেরি বাতেনি মন কখনো তাতে মাতেনি 


পাঠালে আমায় আলোক ধরায়- আলো কি বুঝিনা কিছু! | 


১৬০০ 


তুমিও সেথায় সেই নিরালায় বকুল খোঁপায় সবৃজ পাড়ে! 


গাইছো তুমি শোকের গীতি - আমি যেন মরণ পারে! 


. 


৩৬ 





১০২ ১০২